শরতের মনোরম আবহেও খেতাবি ম্যাচের আগে উত্তপ্ত মোহনবাগান ড্রেসিংরুম। গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে দলকে সাফল্য এনে দিতে চার ডিফেন্ডারের ছকে ফেরার ভাবনা কোচ পানোসের। ম্যাচের আগে কোন কৌশলে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিতে চাইছে সবুজ-মেরুন শিবির? নজর এখন সেই দিকেই।
শরতের সন্ধ্যায় মনোরম পরিবেশ। কিন্তু তার ছিটেফোঁটাও যেন নেই মোহনবাগান ড্রেসিংরুমে। বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। মরশুমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচকে ঘিরে সবুজ-মেরুন শিবিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ ব্যবধানে হারের ক্ষত এখনও দগদগে। তার উপর কলকাতা লিগেও সিনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে পূর্ণশক্তির দল নামিয়েও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি। ফলে আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল শুধু আর একটি ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগও।
শিল্ডের শিরোপা ধরে রাখার চাপও কম নয়। এই পরিস্থিতিতে কোচ পানোসের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঠিক দল নির্বাচন এবং কার্যকর রণকৌশল। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে তিন ডিফেন্ডারের ছকে দলকে খেলালেও ফাইনালের আগে চার ডিফেন্ডারের পরিকল্পনা নিয়ে অনুশীলন করিয়েছেন গ্রিক কোচ। ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। অন্যদিকে মাঝমাঠে মিগুয়েলের ভূমিকা এবং আক্রমণে স্কটিশ স্ট্রাইকার আরউইনের দায়িত্বও হতে পারে ম্যাচের অন্যতম নির্ণায়ক বিষয়।
ডার্বির ইতিহাসে জয়-পরাজয়ের হিসাব কখনও শুধু তিন পয়েন্ট বা একটি ট্রফিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। দুই দলের সমর্থকদের কাছে এই লড়াই সম্মান, আবেগ এবং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক। তাই ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে ১-৪ ব্যবধানে পরাজয় মোহনবাগানের কাছে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা ছিল।
সেই হারের পর থেকেই সমর্থকদের প্রত্যাশা, পরবর্তী বড় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াক সবুজ-মেরুন। কলকাতা লিগেও সিনিয়র ফুটবলারদের নিয়ে দল নামিয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি মোহনবাগান। ফলে আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে জয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তবে আগের ম্যাচের ফল মাথায় রেখে মাঠে নামলে চাপ বাড়তে পারে। বরং নতুন ম্যাচে নতুন পরিকল্পনা, রক্ষণে সমন্বয় এবং আক্রমণে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। ডুরান্ড ফাইনালের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দল কতটা সংগঠিত ফুটবল খেলতে পারে, তার উপর নির্ভর করবে মোহনবাগানের সাফল্যের সম্ভাবনা।
শিল্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় খেতাব ধরে রাখার চাপও খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই কোচ পানোসকে শুধু কৌশলগত দিক নয়, ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস এবং ম্যাচের আগে মানসিক প্রস্তুতির দিকেও নজর দিতে হবে।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই তিন ডিফেন্ডারের ছকে দলকে খেলিয়েছেন মোহনবাগানের কোচ পানোস। এই পদ্ধতিতে দুই প্রান্তের উইং-ব্যাকরা আক্রমণে উঠে গিয়ে দলের আক্রমণকে সাহায্য করেন। তবে প্রতিপক্ষের আক্রমণের ধরন এবং ম্যাচের গুরুত্ব বিবেচনা করে রক্ষণে অতিরিক্ত নিরাপত্তার প্রয়োজন হতে পারে।
সেই কারণেই ফাইনালের আগে চার ডিফেন্ডার নিয়ে অনুশীলন করানোর বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার সন্ধ্যায় যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময় চার ফুটবলারের রক্ষণাত্মক বিন্যাস পরীক্ষা করেন কোচ। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে আলবার্তো ও রাহুল ভেকের পাশাপাশি অ্যালেক্স সাজিকেও পরখ করে নেওয়া হয়। দুই প্রান্তের দায়িত্বে শুভাশিস ও মেহতাব সিংকে দেখা যায়।
এই পরিবর্তন চূড়ান্ত ম্যাচে কার্যকর হবে কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়। অনুশীলনে কোনও কৌশল পরীক্ষা করার অর্থ এই নয় যে ম্যাচেও একই পরিকল্পনা ব্যবহার করা হবে। তবে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ সামলাতে রক্ষণে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখছেন পানোস, এমন ইঙ্গিত মিলেছে অনুশীলন থেকে।
চার ডিফেন্ডারের ছকে খেললে রক্ষণে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের উইং থেকে আক্রমণ এলে দুই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ও দুই সাইডের ফুটবলারকে সমন্বয় রেখে খেলতে হবে। পাশাপাশি মাঝমাঠ থেকে রক্ষণে সাহায্য না এলে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানো কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে তিন ডিফেন্ডারের ছকে খেলার অভ্যাস থাকায় নতুন বিন্যাসে ফুটবলারদের ভূমিকা স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। রক্ষণে বাড়তি খেলোয়াড় রাখার সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনই মাঝমাঠে জায়গা তৈরি করা এবং আক্রমণে পর্যাপ্ত ফুটবলার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
ফাইনালের আগে রক্ষণে মেহতাব সিংয়ের উপস্থিতি নজর কেড়েছে। জাতীয় দলের শিবির থেকে ফিরে অনুশীলনে যোগ দেওয়া ফুটবলারদের মধ্যে তাঁকেই এদিন পুরোদমে গা ঘামাতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দেশের হয়ে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে বেঞ্চে থাকার পর ডার্বিতে তাঁকে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মেহতাবকে শুরু থেকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নিলে রক্ষণে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বড় ম্যাচে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলানোর পাশাপাশি বল দখলে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণ শুরু করার ক্ষেত্রেও তাঁর দায়িত্ব থাকবে।
তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলে ফিরে আসা ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থা এবং ম্যাচ ফিটনেসও বিবেচনা করতে হবে। বড় ম্যাচে অভিজ্ঞতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পুরো ম্যাচে একই তীব্রতায় খেলার ক্ষমতাও প্রয়োজন।
জাতীয় শিবির থেকে ছয় ফুটবলার দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে মনবীর ও আপুইয়ার মতো ফুটবলাররা এদিন কুল-অফ বা বিশ্রামের পর্বে ছিলেন। দীর্ঘ মরশুমে একাধিক প্রতিযোগিতায় খেলার ফলে ফুটবলারদের ক্লান্তি জমতে পারে। তাই চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানোসকে সতর্ক থাকতে হবে।
ডার্বির মতো ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে দল মাঝমাঠে বল দখলে রাখতে পারবে, প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙতে পারবে এবং দ্রুত বল আক্রমণভাগে পৌঁছে দিতে পারবে, তারা ম্যাচে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।
অনুশীলনে দীপক টাংরিকে ব্লকারের ভূমিকায় এবং জেলকোভিচকে লিংকম্যান হিসেবে ব্যবহার করেছেন পানোস। এই বিন্যাসে দীপক টাংরির প্রধান দায়িত্ব হতে পারে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভাঙা, রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের ফুটবলারদের জায়গা কমিয়ে দেওয়া। অন্যদিকে জেলকোভিচের কাজ হতে পারে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা।
মাঝমাঠে এই সমন্বয় সফল হলে মোহনবাগান আক্রমণে আরও সংগঠিত হতে পারে। প্রতিপক্ষ বল দখলে রাখলে টাংরির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আবার বল নিজেদের দখলে এলে জেলকোভিচের মতো লিংকম্যানের মাধ্যমে দুই প্রান্তে দ্রুত বল ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে কৌশল সফল করতে মাঝমাঠের ফুটবলারদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি। রক্ষণ থেকে বল পাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রতিপক্ষের চাপের মধ্যে বল হারানো এড়ানোও বড় চ্যালেঞ্জ।
মোহনবাগানের আক্রমণে দুই প্রান্তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অনুশীলনে ড্র্যাজিচ ও ছাংতেকে দুই উইংয়ে শুরু করার সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে দেখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
উইংয়ের ফুটবলাররা শুধু আক্রমণে গতি যোগ করেন না, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে দুই দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও করেন। এর ফলে মাঝখানে স্ট্রাইকারের জন্য জায়গা তৈরি হতে পারে। আবার উইং থেকে নিখুঁত ক্রস কিংবা কাট-ব্যাকের মাধ্যমে গোলের সুযোগও তৈরি করা সম্ভব।
তবে দুই উইংয়ের ফুটবলারদের দায়িত্ব শুধু আক্রমণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিপক্ষের ফুল-ব্যাক বা উইং-ব্যাকরা আক্রমণে উঠে এলে তাঁদের পিছনে ফিরে রক্ষণকে সাহায্য করতে হবে। বিশেষ করে চার ডিফেনারের ছকে খেললে দুই প্রান্তের ফুটবলারদের সঙ্গে রক্ষণভাগের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ডার্বির মতো ম্যাচে ব্যক্তিগত দক্ষতা অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উপর নির্ভর করলে চলবে না। সঠিক সময়ে বল ছাড়া, সতীর্থকে জায়গা করে দেওয়া এবং আক্রমণের সুযোগ তৈরি করার মতো বিষয়ও সমান জরুরি।
মোহনবাগানের মাঝমাঠে মিগুয়েলকে ঘিরে প্রত্যাশা রয়েছে। অনুশীলন শেষে মাঠ ছাড়ার সময় সমর্থকদের কাছ থেকে ডার্বি জয়ের পাশাপাশি দু'টি গোল করার আবদারও পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডিও। দু'হাত তুলে সমর্থকদের আশ্বস্ত করার পর গাড়িতে ওঠেন তিনি। তাঁর এই আত্মবিশ্বাস সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে।
তবে ফুটবলে আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। মিগুয়েল ছন্দে থাকলে মোহনবাগানের আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। অনুশীলনে তাঁকে নম্বর টেন পজিশনে রেখে দুই প্রান্তে বল ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এই ভূমিকা থেকে তাঁকে মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে হবে। কখনও সরাসরি ফরোয়ার্ডের কাছে বল পৌঁছে দেওয়া, কখনও উইংয়ে খেলা ছড়িয়ে দেওয়া, আবার কখনও নিজেই আক্রমণে উঠে আসা—সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মোহনবাগানে যোগ দেওয়ার সময় সব ডার্বি জয়ের অঙ্গীকার করেছিলেন মিগুয়েল। কিন্তু ডুরান্ড কাপের ফাইনালে পরিবর্ত হিসেবে নেমেও দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেননি। আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল তাই তাঁর কাছেও নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ।
তবে একজন মিডিওর পক্ষে একা ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁকে সাহায্য করতে হবে দুই উইংয়ের ফুটবলার এবং স্ট্রাইকারকে। একই সঙ্গে রক্ষণ থেকে বলের জোগান ঠিকঠাক না এলে মিগুয়েলের পক্ষে আক্রমণ পরিচালনা করাও কঠিন হতে পারে।
মোহনবাগানের আক্রমণভাগে স্কটিশ স্ট্রাইকার আরউইনের উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চোটের কারণে ম্যাকার অনুপস্থিতিতে গোল করার প্রধান দায়িত্ব সামলাতে হতে পারে তাঁকে।
একটি বড় ফাইনালে স্ট্রাইকারের কাজ শুধু গোল করা নয়। প্রতিপক্ষের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রাখা, সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করা এবং বক্সের মধ্যে সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় অল্প কয়েকটি সুযোগই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়। তাই সেই সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আরউইন যদি দুই উইং থেকে পর্যাপ্ত বল পান, তা হলে গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ যদি তাঁকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে, সে ক্ষেত্রে মাঝমাঠ থেকে অন্য ফুটবলারদেরও গোলের দায়িত্ব নিতে হবে।
ফাইনালে চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অযথা তাড়াহুড়ো না করে সঠিক সময়ে শট নেওয়া, বল ধরে রাখা এবং সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া বজায় রাখাই হবে আক্রমণভাগের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
ম্যাকার অনুপস্থিতিতে আরউইনের উপর দায়িত্ব বাড়লেও পুরো দলকে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ গড়ে তুলতে হবে। একজন স্ট্রাইকারের উপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে প্রতিপক্ষের পক্ষে তাঁকে আটকানো সহজ হতে পারে।
আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল মোহনবাগানের কাছে শুধু একটি ম্যাচ নয়, মরশুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। ডুরান্ড ফাইনালের বড় ব্যবধানে হার এবং কলকাতা লিগে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার পর সমর্থকদের কাছে এই ট্রফির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
কিন্তু শিরোপা ধরে রাখার চাপকে ইতিবাচক শক্তিতে পরিণত করতে হবে দলকে। অতীতের ফল নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে বর্তমান ম্যাচে মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। বরং প্রথম মিনিট থেকেই সংগঠিত ফুটবল, রক্ষণে সতর্কতা এবং আক্রমণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
কোচ পানোসের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করা। চার ডিফেন্ডারের পরিকল্পনা রক্ষণকে কতটা শক্তিশালী করতে পারে, মাঝমাঠে টাংরি ও জেলকোভিচের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয় এবং মিগুয়েল-আরউইনরা আক্রমণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, তার উপর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করতে পারে।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলও ডার্বির মঞ্চে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে নামবে। প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের ফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে ডুরান্ড কাপের হারের ক্ষত মুছে ফেলার তাগিদ, অন্যদিকে শিল্ড ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। চার ডিফেন্ডারের ছকে পানোস শেষ পর্যন্ত দল সাজান কি না, মিগুয়েল মাঝমাঠে কতটা জাদু দেখান এবং আরউইন গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলবে যুবভারতীর মাঠেই।