ভোরের দিকে রাজ্যের কোথাও কোথাও দেখা মিলতে পারে হালকা কুয়াশার। তবে সকাল গড়াতেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে চড়া রোদের দাপট বাড়বে। এরই মাঝে আচমকাই আকাশ কালো করে নামতে পারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি।
ভোরের দিকে কোথাও কোথাও কুয়াশার পাতলা চাদর। বেলা বাড়তেই চড়া রোদ, আবার কখনও আচমকাই আকাশ কালো করে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার ছবিটা মোটের উপর এমনই। শরতের আকাশে রোদের ঝলকানি থাকলেও দিনের কোনও কোনও সময়ে আচমকা মেঘের আনাগোনা এবং বৃষ্টির জেরে আবহাওয়ার মেজাজ বদলে যাচ্ছে। পুজোর মুখে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা স্বাভাবিক ভাবেই নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন রাজ্যের আবহাওয়ায় বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। মোটের উপর এমনই আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। এই মুহূর্তে রাজ্যের কোথাও ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকটি জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে একদিকে যেমন ভারী দুর্যোগের আশঙ্কা নেই, তেমনই পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত দিনও পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
শরতের মরসুমে ভোরের দিকে বাতাসে আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশার দেখা মিলতে পারে। বিশেষ করে খোলা এলাকা বা শহরের বাইরের অংশে সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কিছুটা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই কুয়াশার আস্তরণ কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে রোদের তেজ। দিনের বড় একটা সময় আকাশে রোদের দাপট দেখা গেলেও আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি সব জায়গায় একরকম থাকবে না। স্থানীয় ভাবে মেঘ তৈরি হলে আচমকাই আকাশ ঢেকে যেতে পারে। সেই সঙ্গে কোনও কোনও এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও নামতে পারে।
ফলে পুজোর আগে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনশীল চরিত্রের কথা মাথায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সকালে রোদ থাকলেও দিনের পরের দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো কলকাতাতেও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার পরিস্থিতি মোটের উপর একই রকম থাকতে পারে। সকালে রোদ উঠলেও পরে মেঘের সঞ্চার হতে পারে। কোথাও কোথাও সাময়িক ভাবে বৃষ্টিও হতে পারে। তবে সেই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী বা প্রবল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
কলকাতার মতো ব্যস্ত শহরে আচমকা বৃষ্টি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, ব্যবসায়ী কিংবা পুজোর কেনাকাটায় বেরোনো মানুষ—সকলকেই সাময়িক বৃষ্টির কারণে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের পর বা বিকেলের দিকে আকাশের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
তবে এখনই ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস না থাকায় বড় ধরনের জলমগ্নতা বা দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগের আশঙ্কা নেই বলেই আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস থেকে স্পষ্ট।
দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। কোথাও আকাশ পরিষ্কার থাকবে, কোথাও আবার মেঘলা আকাশের দেখা মিলতে পারে। তারই মধ্যে বিচ্ছিন্ন ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অক্টোবরের শুরুতেই বর্ষার প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও বাতাসে আর্দ্রতার উপস্থিতি এবং স্থানীয় আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে এখনও বৃষ্টি পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। তাই শরতের রোদ এবং বৃষ্টির এই মিশ্র আবহাওয়া আরও কয়েক দিন চলতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে দিনের বেলায় রোদের তেজ অনুভূত হলেও বৃষ্টির পর সাময়িক ভাবে আবহাওয়া কিছুটা মনোরম হয়ে উঠতে পারে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ ও সময় সব জায়গায় এক হবে না। কোথাও সামান্য সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে, আবার অন্য কোথাও দিনের বেশির ভাগ সময়ই শুকনো আবহাওয়া থাকতে পারে।
পুজোর আর বেশি দেরি নেই। ফলে উৎসবের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। শহর থেকে জেলা—সব জায়গাতেই বাজার, মণ্ডপ এবং পুজোর কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে মানুষের ব্যস্ততা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল রয়েছে।
পুজোর আগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস না থাকাটা অবশ্যই স্বস্তির খবর। কারণ টানা ভারী বৃষ্টি হলে পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা নিয়ে যাতায়াত এবং বাজার—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হতে পারে। আপাতত তেমন কোনও পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই।
তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি একেবারে বাদ যাচ্ছে না। ফলে পুজোর কেনাকাটা কিংবা বাইরে বেরোনোর সময় সঙ্গে ছাতা রাখলে তা কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে যে সময় আকাশে মেঘের ঘনত্ব বাড়ছে, সেই সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আবহাওয়া দফতরের তরফে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হল, এই মুহূর্তে রাজ্যের কোথাও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। অর্থাৎ আগামী কয়েক দিনে বড় ধরনের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক থাকবে এমনটাও বলা যাচ্ছে না।
কোনও কোনও এলাকায় দু’-এক পশলা হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই বৃষ্টি স্থানীয় এবং অল্প সময়ের জন্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই একটি এলাকায় বৃষ্টি হলেও তার পাশের এলাকায় সম্পূর্ণ শুকনো আবহাওয়া থাকতে পারে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরতের সময়ে স্থানীয় ভাবে তৈরি হওয়া মেঘ থেকে আচমকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। রোদ থেকে মেঘলা আকাশ এবং তারপর বৃষ্টি—পরিবর্তনটা বেশ দ্রুত হতে পারে।
শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে। পাহাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় আবহাওয়ার চরিত্র সমতলের তুলনায় কিছুটা আলাদা হতে পারে। ফলে কোথাও মেঘলা আকাশ, কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
তবে রাজ্য জুড়ে আপাতত বড় কোনও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। আবহাওয়া দফতরের নজর রয়েছে পরিস্থিতির উপর। আগামী কয়েক দিনে নতুন কোনও আবহাওয়াজনিত পরিবর্তন তৈরি হলে সেই অনুযায়ী পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সব মিলিয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে বাংলার আবহাওয়ার চরিত্র বেশ পরিবর্তনশীল। ভোরে হালকা কুয়াশা, সকালে রোদ, পরে মেঘ এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টি—এই পরিস্থিতিই আপাতত বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা নেই। তবে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
পুজোর মুখে তাই আবহাওয়ার এই ওঠানামা সাধারণ মানুষের নজরে থাকবেই। বিশেষ করে পুজোর কেনাকাটা, মণ্ডপ পরিদর্শন কিংবা বিভিন্ন কাজে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে দিনের আবহাওয়ার আপডেট দেখে বেরোনোই বুদ্ধিমানের কাজ। সকাল থেকে রোদ থাকলেও পরের দিকে যে আচমকা বৃষ্টি হবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।
অর্থাৎ পুজোর আগে বাংলায় আপাতত বড় কোনও দুর্যোগের আশঙ্কা নেই, কিন্তু একেবারে বৃষ্টিমুক্ত আবহাওয়ার ছবিও দেখা যাচ্ছে না। শরতের রোদ এবং ছিটেফোঁটা বৃষ্টির এই মিশ্র আবহাওয়াই আগামী কয়েক দিন রাজ্যে বজায় থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের জন্য বাংলার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বড় কোনও দুর্যোগের ইঙ্গিত নেই। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় আপাতত স্বস্তিতে রাজ্যবাসী। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ারও সুযোগ নেই।
ভোরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা কুয়াশা, সকাল থেকে রোদ এবং পরে আচমকা মেঘ-বৃষ্টি—এই মিশ্র আবহাওয়াই আপাতত দেখা যেতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিস্থিতি মোটের উপর একই রকম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুজোর মুখে এই পূর্বাভাস নিঃসন্দেহে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কারণ ভারী বৃষ্টি না হলে পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে কেনাকাটা এবং মণ্ডপে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বাইরে বেরোনোর সময় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়াই ভাল।
অর্থাৎ পুজোর আগে বাংলার আকাশে আপাতত বড় দুর্যোগের কালো মেঘ নেই। বরং শরতের চেনা রোদ, মেঘের আনাগোনা এবং কোথাও কোথাও দু’-এক পশলা বৃষ্টির মধ্য দিয়েই এগোতে পারে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ। পুজোর প্রস্তুতি যত জোরকদমে এগোবে, ততই আবহাওয়ার দিকে নজর থাকবে সাধারণ মানুষের। আর আপাতত আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই—তবে ছাতা একেবারে গুছিয়ে রাখার সময় এখনও আসেনি।