মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতরান, আর ৬৫ বলেই সেঞ্চুরি! বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভারতীয় বোলারদের চাপে ফেলে ইতিহাস গড়লেন জন ক্যাম্পবেল।
ভারতের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে দুরন্ত ইনিংস খেলে একাধিক রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ওপেনার জন ক্যাম্পবেল (John Campbell)। জাস্টিন গ্রিভস চোটের কারণে খেলতে না পারায় তাঁর জায়গায় ওপেন করতে নেমেছিলেন ক্যাম্পবেল। আর সুযোগ পেয়েই ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে এমন বিধ্বংসী ব্যাটিং করলেন যে ম্যাচের শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় তাঁদের হাতে। মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতরান এবং ৬৫ বলে শতরান পূর্ণ করে ক্যাম্পবেল শুধু নিজের দ্বিতীয় এক দিনের শতরানই করেননি, ভেঙে দিয়েছেন ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারদের একাধিক পুরনো রেকর্ড।
আগের ম্যাচে জাস্টিন গ্রিভস শতরান করেছিলেন। কিন্তু চোটের কারণে এই ম্যাচে তিনি মাঠে নামতে পারেননি। তাঁর জায়গায় ওপেন করার দায়িত্ব পান জন ক্যাম্পবেল। শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল আগ্রাসনের ছাপ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অন্য প্রান্তে কেসি কার্টি থাকলেও ক্যাম্পবেল দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে পাওয়ার প্লে-তেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে দ্রুত বড় রানের ভিত তৈরি করে দেন তিনি।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারত। ভারতীয় একাদশে একটি পরিবর্তনও করা হয়। আকিব নবিকে অভিষেকের সুযোগ দেওয়া হয়। ভারতীয় দলের লক্ষ্য ছিল শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ওপেনিং জুটি ভেঙে দেওয়া। পঞ্চম ওভারেই প্রসিধ কৃষ্ণ সেই সাফল্য এনে দেন। তাঁর বলে ৯ রান করে কেসি কার্টি ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। দুর্দান্ত ক্যাচ নেন নমন ধীর। কার্টির উইকেট হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান তোলার গতি বিন্দুমাত্র কমেনি। বরং অন্য প্রান্তে জন ক্যাম্পবেল আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন।
মাত্র ৬.১ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ৫০ রানে পৌঁছে যায়। ভারতের বিরুদ্ধে এর আগেও তিরুবনন্তপুরমে ৬.১ ওভারে ৫০ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। কিন্তু এ দিনের ইনিংসের বিশেষত্ব ছিল ক্যাম্পবেলের ব্যাটিং। প্রসিধ কৃষ্ণের পরের ওভারে একাই ২২ রান তুলে নেন তিনি। ভারতের বিরুদ্ধে এক দিনের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কোনও ব্যাটারের এক ওভারে করা সর্বোচ্চ রানের তালিকায় এই ইনিংস বিশেষ জায়গা করে নেয়।
ক্যাম্পবেলের ওই ওভারের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। একের পর এক বাউন্ডারি ও বড় শট খেলতে থাকেন তিনি। রান তোলার গতি এতটাই দ্রুত ছিল যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় পাওয়ার প্লে-তেই বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে যায়। ক্যাম্পবেল বুঝিয়ে দেন, সুযোগ পেলে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন।
এরপর আসে আরও বড় রেকর্ড। মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন জন ক্যাম্পবেল। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কোনও ব্যাটারের এটাই দ্রুততম অর্ধশতরান। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের কিংবদন্তি ব্যাটার ক্রিস গেইলের দখলে। ২০০২ সালে আহমেদাবাদে ভারতের বিরুদ্ধে ৩০ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন গেইল। সেই রেকর্ডকে এক বলের ব্যবধানে পিছনে ফেলে দেন ক্যাম্পবেল।
অর্থাৎ ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড এখন জন ক্যাম্পবেলের দখলে। ২৯ বলে ৫০ রান করার পথে তাঁর ব্যাট থেকে আসে একের পর এক বাউন্ডারি। ভারতীয় বোলাররা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও ক্যাম্পবেল ক্রমশ আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছিলেন।
প্রথম ১০ ওভারেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের রান রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। ১০ ওভার শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৯৬ রান। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ১০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। ২০১৯ সালে পোর্ট অফ স্পেনে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ১০ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১১৪ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। সেই রেকর্ডের পরই এ দিনের ৯৬ রান জায়গা করে নেয়।
এ দিনের ৯৬ রান আরও একটি পুরনো নজিরকে পিছনে ফেলে দেয়। ২০০২ সালে বরোদায় ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ১০ ওভারে ৮৬ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। সেই রানকেও টপকে যায় ক্যাম্পবেলদের দল। অর্থাৎ প্রথম ১০ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটিংয়ের গতি কতটা ভয়ঙ্কর ছিল, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই পরিষ্কার।
আর এই ৯৬ রানের মধ্যে জন ক্যাম্পবেলের অবদান ছিল একাই ৬৯ রান। অর্থাৎ দলের মোট স্কোরের বড় অংশই এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। ভারতের মাটিতে প্রথম ১০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে কোনও ব্যাটারের এর চেয়ে বেশি ব্যক্তিগত রান করার নজিরও বিরল। এই তালিকায় ক্যাম্পবেলের সামনে রয়েছে শুধু অস্ট্রেলিয়ার একটি ইনিংস, যেখানে প্রথম ১০ ওভারে ১১২ রান এসেছিল।
ক্যাম্পবেল অবশ্য সেখানেই থামেননি। অর্ধশতরানের পর আরও দ্রুত গতিতে রান করতে থাকেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে ছিল নিখুঁত টাইমিং, আক্রমণাত্মক শট এবং ভারতীয় বোলারদের উপর ক্রমাগত চাপ তৈরি করার ক্ষমতা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৫ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি।
৬৫ বলে শতরান করার পথে ক্যাম্পবেলের ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার এবং ৫টি ছক্কা। তাঁর এই ইনিংস ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের এক দিনের ক্রিকেট ইতিহাসে পঞ্চম দ্রুততম শতরান। একই সঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে দ্রুততম শতরান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটারদের তালিকাতেও তিনি উঠে আসেন এক নম্বরে।
এখানেই শেষ নয়। ক্যাম্পবেলের ৬৫ বলে শতরান ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্রুততম এক দিনের শতরানের সামগ্রিক তালিকাতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এনে দিয়েছে। তবে শীর্ষস্থান এখনও রয়েছে কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার দখলে। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাত্র ৪৫ বলে শতরান করেছিলেন লারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে দ্রুততম এক দিনের শতরানের তালিকায় সেটিই এখনও শীর্ষে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ক্রিস গেইল। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫৫ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। সেই তালিকায় ৬৫ বলে শতরান করে জায়গা করে নিয়েছেন জন ক্যাম্পবেল। অর্থাৎ ক্যাম্পবেলের এই ইনিংস শুধু ভারতের বিরুদ্ধে একটি বিধ্বংসী শতরান নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ওয়ান ডে ক্রিকেটের ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস।
ভারতের বিরুদ্ধে ক্যাম্পবেলের এই শতরানের আরও একটি বিশেষ দিক রয়েছে। এর আগে গেইলের দখলে থাকা দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। একই ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে এক ওভারে ২২ রান করে নজির গড়েছেন। এরপর ৬৫ বলে শতরান করে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্রুততম শতরানের রেকর্ডও নিজের নামে করেছেন। ফলে একই ইনিংসে একাধিক রেকর্ড ভাঙার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন এই ক্যারিবিয়ান ওপেনার।
জন ক্যাম্পবেলের জন্য এটি এক দিনের ক্রিকেটে দ্বিতীয় শতরান। নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারে এই ইনিংস তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেই ম্যাচের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়। বিশেষ করে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এত দ্রুত রান তোলার ঘটনা ক্যাম্পবেলের ইনিংসকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে।
এই ম্যাচের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের জন্য পরিস্থিতি খুব একটা সহজ ছিল না। কেসি কার্টি দ্রুত ফিরে যাওয়ায় ওপেনিং জুটি ভেঙে যায়। কিন্তু কার্টির আউটের পরও ক্যাম্পবেল আক্রমণের পথ থেকে সরে যাননি। বরং তিনি নিজের ব্যাটিংয়ের গতি আরও বাড়িয়ে দেন। ফলে একটি উইকেট হারিয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজ় পাওয়ার প্লে-তে বড় রান তুলতে সক্ষম হয়।
প্রথম ১০ ওভারে ৯৬ রান করার অর্থ হল প্রতি ওভারে প্রায় ১০ রানের কাছাকাছি গতি বজায় রেখেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। এর প্রধান কারিগর ছিলেন জন ক্যাম্পবেল। তাঁর ৬৯ রান প্রথম ১০ ওভারে দলের ব্যাটিংকে অন্য মাত্রা দেয়। ভারতীয় বোলারদের লাইন-লেন্থের সামান্য ভুলও কাজে লাগিয়ে তিনি দ্রুত রান সংগ্রহ করেন।
ক্যাম্পবেলের ইনিংসের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর বাউন্ডারি মারার ক্ষমতা। ৯টি চার এবং ৫টি ছক্কা তাঁর ৬৫ বলের শতরানকে আরও আক্রমণাত্মক করে তুলেছে। শুধু উইকেটের চারপাশে শট খেলে রান করেননি, প্রয়োজন অনুযায়ী বড় শটও খেলেছেন। ফলে ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ ক্রমশ বেড়েছে।
ক্রিস গেইলের সঙ্গে তুলনাও এই ইনিংসের পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে এসেছে। কারণ ভারতের বিরুদ্ধে দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ডটি এতদিন গেইলের দখলে ছিল। গেইল ৩০ বলে সেই রেকর্ড তৈরি করেছিলেন। ক্যাম্পবেল ২৯ বলে ৫০ করে সেই নজির ভেঙে দেন। অর্থাৎ ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের অন্যতম বড় তারকার একটি রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন তিনি।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্রুততম ওয়ান ডে শতরানের রেকর্ড এখনও ব্রায়ান লারার দখলে। ৪৫ বলে শতরান করে লারা যে নজির তৈরি করেছিলেন, তা এখনও অক্ষত। ক্রিস গেইলের ৫৫ বলে শতরানের পর এবার ৬৫ বলে শতরান করে সেই তালিকায় নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ক্যাম্পবেল।
ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটিংয়ের ইতিহাসেও এই ম্যাচটি তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথম ১০ ওভারে ৯৬ রান, ২৯ বলে ক্যাম্পবেলের অর্ধশতরান এবং ৬৫ বলে শতরান—প্রতিটি পরিসংখ্যানই ম্যাচের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ছবি তুলে ধরে।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে প্রসিধ কৃষ্ণ প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পরের ওভারেই ক্যাম্পবেল ২২ রান তুলে ম্যাচের গতি বদলে দেন। একটি ওভারে এত রান আসার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ব্যাটাররা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ক্যাম্পবেলের ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি দলের দ্রুত রান তোলার ক্ষেত্রেও এই ওভার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
অন্যদিকে ভারতের একাদশে অভিষেক হয় আকিব নবির। নতুন ক্রিকেটারকে নিয়ে ভারত মাঠে নামলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের শুরুটা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। ম্যাচের শুরু থেকেই ক্যাম্পবেলের ব্যাটিং ভারতীয় বোলিং পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
এই ইনিংসের মাধ্যমে জন ক্যাম্পবেল আরও একবার দেখিয়ে দিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সাদা বলের ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ঐতিহ্য এখনও কতটা শক্তিশালী। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের ইতিহাসে ক্রিস গেইল, ব্রায়ান লারা-দের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে রেকর্ডের তালিকায় এখন তাঁর নামও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে জন ক্যাম্পবেলের ইনিংস ছিল রেকর্ডে ভরা। ২৯ বলে অর্ধশতরান, ৬৫ বলে শতরান, ৯টি চার, ৫টি ছক্কা, প্রথম ১০ ওভারে ব্যক্তিগত ৬৯ রান এবং এক ওভারে ২২ রান—প্রতিটি পরিসংখ্যান তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা, ক্রিস গেইলের রেকর্ড ভেঙে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের দ্রুততম অর্ধশতরানের মালিক হয়েছেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে দ্রুততম এক দিনের শতরানের তালিকায় ব্রায়ান লারা ও ক্রিস গেইলের পরের সারিতে উঠে আসা ক্যাম্পবেলের এই ইনিংস ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ৬৫ বলে শতরান করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।
ভারতের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে জন ক্যাম্পবেলের ব্যাটিং তাই শুধু একটি শতরানের গল্প নয়। এটি একাধিক রেকর্ড ভাঙার গল্প, গেইলের পুরনো নজিরকে পিছনে ফেলার গল্প এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের নতুন এক অধ্যায়ের গল্প। তাঁর ৬৫ বলে শতরান এবং ২৯ বলে অর্ধশতরান ইতিমধ্যেই ম্যাচের অন্যতম আলোচিত পরিসংখ্যান হয়ে উঠেছে।