Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিদেশিহীন ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে শুরুতেই গোলের লক্ষ্যে ইস্টবেঙ্গল! জয়ের ছন্দে ফিরতে মরিয়া লাল-হলুদ

বিসর্জনের বাজনায় বিষাদের সুর, তবু উৎসবের রেশ কাটেনি। শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রণাম, কোলাকুলি আর মিষ্টিমুখে পাড়ায় পাড়ায় চলছে বিজয়া দশমীর আনন্দঘন মুহূর্ত।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয়ের লক্ষ্যে ইস্টবেঙ্গল, হাবাসের নজরে ৩ পয়েন্ট

চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে মরশুম শুরু করেছে লাল-হলুদ। এবার লক্ষ্য ইন্টার কাশীকে হারিয়ে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে মরিয়া হাবাসের দল।

বিসর্জনের বাজনায় বিষাদের সুর। পুজোর আনন্দের রেশ এখনও কাটেনি। পাড়ায় পাড়ায় চলছে শুভ বিজয়ার প্রণাম, কোলাকুলি এবং মিষ্টিমুখের পালা। উৎসবের আবহের মধ্যেই শুক্রবার ফের মাঠে নামছে ইস্টবেঙ্গল। আইএসএলে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে লাল-হলুদের প্রতিপক্ষ ইন্টার কাশী। পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ম্যাচে তিন পয়েন্ট তুলে নিতে পারলে শুধু লিগের শুরুটা আরও মজবুত হবে না, আগামী সপ্তাহে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসও বাড়বে দলের।

প্রথম ম্যাচে চার্চিল ব্রাদার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্তভাবে আইএসএল অভিযান শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, ফুটবলারদের বোঝাপড়া এবং গোল করার ক্ষমতা সমর্থকদের মনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। এবার সেই ছন্দ ধরে রাখাই হাবাসের প্রধান লক্ষ্য। তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ইন্টার কাশীও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ফলে ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং সুযোগ কাজে লাগানোর উপর জোর দিতে পারে লাল-হলুদ শিবির।

দলের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় সুযোগ

ইস্টবেঙ্গলের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব যথেষ্ট। মরশুমের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার ফলে দলের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে আক্রমণভাগ যেমন কার্যকর ছিল, তেমনই দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক দিক নজরে এসেছে। ডেভিড, বিপিন সিংদের পারফরম্যান্স সমর্থকদের আশা বাড়িয়েছে। এবার সেই প্রত্যাশার মর্যাদা দিতে চান কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস।

দীর্ঘদিন ধরেই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের প্রত্যাশা, দল যেন শুধু একটি ম্যাচে ভালো খেলার মধ্যে নিজেদের আটকে না রাখে। বরং ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলে লিগে নিজেদের অবস্থান মজবুত করুক। প্রথম ম্যাচের জয় সেই পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে একটি জয় দিয়েই পুরো মরশুমের সাফল্য বিচার করা যায় না। প্রতিটি ম্যাচে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে হবে এবং প্রতিপক্ষের কৌশলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে তাই শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করার পাশাপাশি নিজেদের রক্ষণকেও সংগঠিত রাখতে হবে। আক্রমণে বেশি ফুটবলার তুলে দিলে পাল্টা আক্রমণে বিপদ তৈরি হতে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রেখে খেলার উপর জোর দিতে পারেন হাবাস।

শুরু থেকেই গোলের লক্ষ্যে লাল-হলুদ

ম্যাচের শুরুতেই গোল পেয়ে গেলে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে পরিস্থিতি অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে। দ্রুত গোল করলে প্রতিপক্ষকে আক্রমণে এগিয়ে আসতে হবে। তাতে পরবর্তী সময়ে আরও জায়গা তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকবে ডেভিড ও বিপিনদের সামনে। তবে শুরুতেই গোল করার তাড়াহুড়োয় যেন দল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে না ফেলে, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।

হাবাসের কোচিং দর্শনে দলগত সংগঠন এবং পরিকল্পনা মেনে খেলার গুরুত্ব বরাবরই বেশি। শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতার উপর নির্ভর করে ম্যাচ জেতার বদলে গোটা দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধেও সেই পরিকল্পনা কার্যকর করার চেষ্টা করবে ইস্টবেঙ্গল।

প্রথম ম্যাচে চারটি গোল করার ফলে আক্রমণভাগের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। কিন্তু প্রতিটি ম্যাচের পরিস্থিতি আলাদা। আগের ম্যাচে যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে একই ধরনের সুযোগ নাও মিলতে পারে। তাই প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙতে ধৈর্য, সঠিক পাস এবং আক্রমণের সময় নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশেষ করে দুই প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ গড়ে তোলা এবং বক্সের মধ্যে নিখুঁত পাস পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিতে পারে লাল-হলুদ শিবির। দ্রুত বলের দখল ফিরে পাওয়া এবং প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখাও ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।

রোটেশনের ভাবনায় হাবাস

টানা ম্যাচ খেলার ধকল সামলাতে দলের প্রথম একাদশে কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। মরশুমের শুরুতেই ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইএসএলের ম্যাচগুলির পাশাপাশি সামনে রয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। ফলে একই ফুটবলারদের উপর বারবার চাপ না দিয়ে স্কোয়াডের অন্য সদস্যদেরও সুযোগ দিতে পারেন হাবাস।

ম্যাচের আগে হাবাস জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শক্তিশালী স্কোয়াড প্রয়োজন। তাঁর দলে প্রত্যেক ফুটবলারই খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। সেই কারণেই একাদশে কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কোচের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, দীর্ঘ মরশুমের কথা মাথায় রেখে দলকে তৈরি রাখতে চাইছেন তিনি।

রোটেশন শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, দলের বিকল্প শক্তি যাচাই করারও সুযোগ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনও ফুটবলার চোট পেলে বা ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাঁর পরিবর্তে অন্য খেলোয়াড় কতটা কার্যকর হতে পারেন, তা বোঝা যায় এই ধরনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। একই সঙ্গে দলের মধ্যে প্রতিযোগিতার পরিবেশও তৈরি হয়।

তবে পরিবর্তন করলেও দলের সামগ্রিক ছন্দ বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে মাঝমাঠের ভারসাম্য এবং আক্রমণভাগের সঙ্গে রক্ষণের বোঝাপড়া ঠিক রাখা দরকার। প্রথম ম্যাচে যে দলগত সমন্বয় দেখা গিয়েছে, ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধেও তা ধরে রাখতে চাইবে ইস্টবেঙ্গল।

নজরে বিপিন সিংয়ের পারফরম্যান্স

চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বিপিন সিংয়ের। জোড়া গোল করে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। অভিজ্ঞ এই উইং ফুটবলারের পারফরম্যান্স লাল-হলুদের আক্রমণভাগকে বাড়তি শক্তি জুগিয়েছে। গোল করার পাশাপাশি আক্রমণের গতি বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরিতেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

গোল করার পর ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে—এটাই স্বাভাবিক। বিপিনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোল করা সবসময় আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং দলের পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করতে তাঁরা প্রস্তুত।

তবে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে বিপিনের সামনে চ্যালেঞ্জ আলাদা হতে পারে। প্রতিপক্ষের রক্ষণ তাঁকে বেশি জায়গা না দিলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কখন বল ধরে রাখতে হবে, কখন সতীর্থকে পাস দিতে হবে এবং কখন নিজেই গোলের চেষ্টা করতে হবে—এই সিদ্ধান্তগুলিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিপিনের অভিজ্ঞতা ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় সম্পদ। তাঁর সঙ্গে ডেভিড এবং দলের অন্যান্য আক্রমণাত্মক ফুটবলাররা যদি কার্যকর বোঝাপড়া তৈরি করতে পারেন, তা হলে ইন্টার কাশীর রক্ষণকে চাপে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে মাঝমাঠ থেকে সঠিক সময়ে বল সরবরাহ করাও প্রয়োজন।

বিদেশি ফুটবলারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

ইস্টবেঙ্গলের স্কোয়াডে বিদেশি ফুটবলারদের উপস্থিতি আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আইভরি কোস্টের একে লোবা এবং পোলিশ স্ট্রাইকার লুকাসকে বেশি সময় খেলার সুযোগ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে হাবাসের। এই দুই ফুটবলার মাঠে কতটা কার্যকর হন, তার উপর দলের আক্রমণের ধরনও নির্ভর করতে পারে।

নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া তৈরি করা এবং কোচের পরিকল্পনা বুঝে খেলা—বিদেশি ফুটবলারদের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের সময় বাড়লে তাঁদের সঙ্গে দলের অন্য খেলোয়াড়দের সমন্বয় আরও ভালো হওয়ার সুযোগ থাকবে।

news image
আরও খবর

এদিকে, আগের ম্যাচে প্রথম একাদশে জায়গা না পেলেও অস্ট্রেলীয় ফুটবলার ইকোনমিডিস এবার স্কোয়াডে ফিরেছেন। তিনি সুযোগ পেলে দলের আক্রমণভাগে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। তবে তাঁকে প্রথম একাদশে রাখা হবে কি না, তা নির্ভর করবে কোচের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

হাবাসের সামনে তাই একাধিক বিকল্প রয়েছে। কোন ফুটবলারকে কখন মাঠে নামালে সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যাবে, সেটাই হবে তাঁর কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে পরিবর্তন করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ইন্টার কাশীকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই

ইস্টবেঙ্গল প্রথম ম্যাচে বড় জয় পেলেও ইন্টার কাশীকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। ফুটবলে আগের ম্যাচের ফল সবসময় পরের ম্যাচের পারফরম্যান্স নির্ধারণ করে না। একটি দল হার দিয়ে অভিযান শুরু করলেও পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। আবার প্রথম ম্যাচে ভালো ফল করেও পরবর্তী লড়াইয়ে সমস্যায় পড়তে পারে শক্তিশালী দল।

ইন্টার কাশী কেরল ব্লাস্টার্সের কাছে পরাজিত হলেও ওড়িশার বিরুদ্ধে পয়েন্ট ভাগ করে নিয়েছে। ফলে তাদের পারফরম্যান্সে ওঠানামা থাকলেও প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা রয়েছে। পর্তুগিজ কোচ কার্লোস ভাজের অধীনে দলটি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে।

প্রতীক চৌধুরি, নিশ্চল চন্দন এবং মনবীর সিংয়ের মতো ভারতীয় ফুটবলারদের উপর ভরসা রাখছে ইন্টার কাশী। নিজেদের রক্ষণ সংগঠিত রেখে সুযোগ বুঝে আক্রমণে উঠে আসতে পারে তারা। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল যদি আক্রমণে অতিরিক্ত ফুটবলার তুলে দেয়, তা হলে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইন্টার কাশীর জন্যও এই ম্যাচ নিজেদের অবস্থান মজবুত করার সুযোগ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভালো ফল পেলে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তাই ম্যাচের শুরু থেকেই তারা সতর্ক ও সংগঠিত ফুটবল খেলতে চাইবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পুরনো লড়াই থেকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস

ইস্টবেঙ্গল ও ইন্টার কাশীর সাম্প্রতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গও এই ম্যাচের আগে আলোচনায় রয়েছে। কয়েক মাস আগে ইন্টার কাশীকে হারিয়েই প্রথমবার আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল—এমন স্মৃতি লাল-হলুদ সমর্থকদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষা কাটিয়ে শীর্ষ লিগের খেতাব জয়ের পর সমর্থকদের মধ্যে যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল, তা এখনও স্মরণীয়।

তবে অতীতের সাফল্য বর্তমান ম্যাচে সরাসরি সুবিধা এনে দেবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। নতুন ম্যাচে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে দুই দলকেই। পুরনো ফলাফল থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়া যায়, কিন্তু মাঠে পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই।

ইস্টবেঙ্গল যদি শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারে, তা হলে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে ইন্টার কাশী যদি প্রথম দিকে লাল-হলুদের আক্রমণ সামলে নিতে পারে, তা হলে ম্যাচের চাপ বাড়তে পারে হাবাসের দলের উপর। ফলে প্রথম ১৫ থেকে ২০ মিনিট দুই দলের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

টানা অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য

গত মরশুমের ম্যাচগুলিকে ধরলে ইস্টবেঙ্গল টানা ১১টি আইএসএল ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সমর্থকদের প্রত্যাশাও বাড়িয়েছে। তবে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখতে হলে প্রতি ম্যাচে একই রকম মনোযোগ এবং পরিশ্রম প্রয়োজন।

প্রথম ম্যাচে চার গোলের জয় অবশ্যই ইতিবাচক সূচনা। কিন্তু পরের ম্যাচে প্রতিপক্ষের কৌশল আলাদা হতে পারে। ইন্টার কাশী হয়তো ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণভাগকে আটকে রাখার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত পাস, জায়গা তৈরি করা এবং আক্রমণের বিকল্প পথ খুঁজে নেওয়া জরুরি।

রক্ষণভাগের দায়িত্বও কম নয়। আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিছনের জায়গা ফাঁকা পড়ে গেলে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে। তাই মাঝমাঠের ফুটবলারদের আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সংযোগ বজায় রাখতে হবে। বল হারানোর পর দ্রুত নিজেদের জায়গায় ফিরে আসাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আল সিব ম্যাচের আগে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি

ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচের পরই ইস্টবেঙ্গলের সামনে রয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। আগামী মঙ্গলবার ওমানে আল সিবের মুখোমুখি হবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। পরের রাউন্ডে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে জয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই ম্যাচের ফল শুধু আইএসএলের পয়েন্ট তালিকাতেই প্রভাব ফেলবে না, দলের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতিতেও ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নামার আগে আত্মবিশ্বাস অর্জন করা যে কোনও দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জয় পেলে ফুটবলাররা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে ওমানের উদ্দেশে রওনা হতে পারবেন। বিশেষ করে আক্রমণভাগ যদি ফের গোল পায় এবং রক্ষণভাগ নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, তা হলে দলের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

তবে সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে বলেই শুক্রবারের লড়াইকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং একটি ম্যাচের পর অন্য ম্যাচের কথা ভাবার আগে বর্তমান চ্যালেঞ্জে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। হাবাসও দলের ফোকাস ধরে রাখতে চাইবেন। ম্যাচের জন্য ফুটবলারদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ক্লান্তি এড়িয়ে চলা তাঁর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।

ম্যাচের সময় ও সম্প্রচার

শুক্রবার পুনের বালেওয়াড়ি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ইস্টবেঙ্গল ও ইন্টার কাশীর ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা বিকেল ৫টায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ অনুযায়ী, ম্যাচটি ইউটিউব এবং সোনি লিভে সম্প্রচার করা হবে। ফুটবলপ্রেমীরা সেখান থেকে লড়াইটি দেখার সুযোগ পাবেন।

উৎসবের আবহের মধ্যেই লাল-হলুদ সমর্থকদের নজর এখন মাঠের দিকে। প্রথম ম্যাচে বড় জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়ার প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবে প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করাই হবে ইস্টবেঙ্গলের প্রধান কাজ।

সব মিলিয়ে ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গলের কাছে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরীক্ষা। একদিকে আইএসএলে জয়ের ছন্দ ধরে রাখার লক্ষ্য, অন্যদিকে সামনে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ—দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে হাবাসকে। ডেভিড, বিপিন সিং এবং দলের অন্য ফুটবলাররা যদি প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি করতে পারেন, তা হলে লাল-হলুদের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।

তবে শেষ কথা বলবে মাঠের পারফরম্যান্সই। ইন্টার কাশী কতটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ইস্টবেঙ্গল কত দ্রুত নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায়, তার উপর নির্ভর করবে ম্যাচের গতিপথ। শুক্রবারের লড়াইয়ে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে ওমানের উদ্দেশে আত্মবিশ্বাস নিয়ে উড়ে যেতে পারবেন কি রশিদ, গিল, রামিরেজরা? সেই উত্তর মিলবে মাঠেই।

Preview image