কলকাতা সহ গোটা বাংলাকেই আদতে পূর্ব ভারতের ‘ট্রেন্ড সেটার মার্কেট’ বলে মনে করছে হিরো মোটোকর্প গ্রুপ।
পশ্চিমবঙ্গের দু’চাকার গাড়ির বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চাইছে হিরো মোটোকর্প। কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন শহর, শহরতলি এবং গ্রামাঞ্চলে সংস্থার বাইক ও স্কুটারের চাহিদা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গ শুধু পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারই নয়, বরং গোটা দেশের দু’চাকার গাড়ির বাজারে নতুন প্রবণতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সেই কারণেই বাংলাকে ‘ট্রেন্ড সেটার মার্কেট’ হিসেবে বিবেচনা করছে হিরো মোটোকর্প গ্রুপ।
সংস্থার ভারতের ব্যবসার দায়িত্বে থাকা চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) আশুতোষ ভার্মা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের উৎসবের মরশুমে বাংলায় হিরোর বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দু’তিন বছরে পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার ব্যবসা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশাবাদী তিনি।
শুধু কলকাতা বা তার আশপাশের এলাকায় ব্যবসা বাড়ানোই সংস্থার লক্ষ্য নয়। গ্রামবাংলার বাজারেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার দাবি, রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে এবং নথিভুক্ত সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি, বৈদ্যুতিক স্কুটার ও বাইকের মতো বিকল্প নিয়েও আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
উৎসবের মরশুমে বিক্রির বৃদ্ধি, গ্রামীণ বাজারে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ি নিয়ে আগ্রহ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাজারকে ঘিরে নতুন করে আশাবাদী হিরো মোটোকর্প।
ভারতের দু’চাকার গাড়ির বাজারে উৎসবের মরশুম বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুজো, ধনতেরস এবং দীপাবলির মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে অনেক ক্রেতা নতুন বাইক বা স্কুটার কেনার পরিকল্পনা করেন। পরিবারের যাতায়াতের প্রয়োজন, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং দীর্ঘদিনের কেনার পরিকল্পনা—বিভিন্ন কারণে এই সময়ে নতুন গাড়ির চাহিদা বাড়তে পারে।
হিরো মোটোকর্পের ক্ষেত্রেও চলতি বছরের উৎসবের মরশুমে বাংলায় বিক্রির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন আশুতোষ ভার্মা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর পশ্চিমবঙ্গে সংস্থার বিক্রির পারফরম্যান্স ভালো হয়েছে।
এই বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থা।
তবে উৎসবের মরশুমে বিক্রি বাড়ার অর্থ এই নয় যে বছরের প্রতিটি মাসেই একই হারে বৃদ্ধি বজায় থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে বাজারের পরিস্থিতি, গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা, গাড়ির দাম, ঋণের সুদের হার এবং নতুন মডেলের চাহিদার মতো বিষয়ও বিক্রির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সেই কারণে উৎসবের মরশুমের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধিতে পরিণত করাই এখন সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
হিরো মোটোকর্পের ব্যবসায় পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে আশুতোষ ভার্মা রাজ্যকে ‘ট্রেন্ড সেটার মার্কেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সাধারণভাবে কোনও বাজারকে ট্রেন্ড সেটার বলা হয়, যখন সেই বাজারের ক্রেতাদের পছন্দ, চাহিদা এবং কেনাকাটার প্রবণতা বৃহত্তর বাজারের ব্যবসায়িক পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদায় বৈচিত্র্য রয়েছে। কলকাতা ও তার আশপাশে ব্যক্তিগত যাতায়াতের জন্য বাইক ও স্কুটারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মডেলের চাহিদা থাকতে পারে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলে দৈনন্দিন যাতায়াত, কর্মক্ষেত্রে পৌঁছনো এবং পরিবারের একাধিক সদস্যের চলাচলের প্রয়োজন দু’চাকার গাড়ির চাহিদাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকের কাছে পৌঁছনোর সুযোগই পশ্চিমবঙ্গকে সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের মোট ব্যবসার প্রায় ৪০ শতাংশ বাংলায় হয়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশব্যাপী হিরোর ব্যবসা এক বছরে প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলায় বৃদ্ধির হার প্রায় দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে।
এই পরিসংখ্যানগুলি সংস্থার আধিকারিকের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তবে ৪০ শতাংশের হিসাবটি কোন নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিমাপ, সময়কাল বা ভৌগোলিক ভিত্তিতে করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তাই আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া এই সংখ্যাকে সংস্থার মোট সর্বভারতীয় বিক্রির নির্দিষ্ট অনুপাত হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।
পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু কলকাতা ও শহরতলির উপর নির্ভর করতে চাইছে না হিরো মোটোকর্প। বরং রাজ্যের গ্রামীণ বাজারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামবাংলায় হিরোর বিক্রি বেড়েছে। পাশাপাশি, গ্রাহকদের মধ্যে সার্ভিসিং এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গ্রামীণ বাজারে দু’চাকার গাড়ির গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে উল্লেখযোগ্য। অনেক এলাকায় কর্মক্ষেত্র, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রে পৌঁছনোর জন্য ব্যক্তিগত যানবাহন সুবিধাজনক হতে পারে। গণপরিবহণের সহজলভ্যতা এবং যাতায়াতের দূরত্বের উপর নির্ভর করে বাইক বা স্কুটার অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত মডেল, বিক্রয়োত্তর পরিষেবা এবং যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সংস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রামাঞ্চলে ব্যবসা বাড়াতে শুধু নতুন গাড়ি বিক্রি করলেই হবে না। গাড়ি কেনার পর গ্রাহক যাতে সহজে সার্ভিসিং করাতে পারেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পান এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান, সেই ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে।
হিরো মোটোকর্পের বক্তব্যে নথিভুক্ত সার্ভিস সেন্টারে গ্রাহকদের যাওয়ার প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে গ্রাহকদের সঙ্গে সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরির সুযোগও বাড়তে পারে।
দু’চাকার গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শুধু গাড়ির দাম বা মডেল নয়, বিক্রয়োত্তর পরিষেবাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত সার্ভিসিং, ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ, ব্রেক পরীক্ষা, টায়ারের অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তন—এসবের উপর গাড়ির নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতা নির্ভর করে।
আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলার গ্রামীণ গ্রাহকদের মধ্যে নথিভুক্ত সার্ভিস সেন্টারে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এটি সংস্থার পরিষেবা ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রবণতা হতে পারে।
নথিভুক্ত সার্ভিস সেন্টারে সাধারণত নির্দিষ্ট পরিষেবা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। গাড়ির মডেল অনুযায়ী উপযুক্ত যন্ত্রাংশ, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিষেবার রেকর্ড সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলি গ্রাহকদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তবে গাড়ি কেনার আগে গ্রাহকদের উচিত নিজেদের এলাকার সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান, পরিষেবার খরচ, ওয়ারেন্টির শর্ত এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা সম্পর্কে জেনে নেওয়া।
বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় পরিষেবা কেন্দ্রের দূরত্ব এবং সেখানে পৌঁছনোর সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ফলে বিক্রির পাশাপাশি পরিষেবা নেটওয়ার্কের উন্নয়নও ভবিষ্যতে ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বাংলার গ্রাহকদের মধ্যে বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন আশুতোষ ভার্মা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামবাংলার ক্রেতারাও বৈদ্যুতিক স্কুটার ও বাইক কেনার কথা বিবেচনা করছেন।
ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রচলিত পেট্রলচালিত গাড়ির পাশাপাশি বৈদ্যুতিক স্কুটার ও বাইককে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করছেন অনেক ক্রেতা।
তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিচার করা জরুরি। প্রথমত, গাড়ির দাম এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের খরচ। দ্বিতীয়ত, একবার চার্জে কত দূর যাওয়া সম্ভব এবং বাস্তব ব্যবহারে সেই পরিসর কতটা কার্যকর। তৃতীয়ত, বাড়ি বা কর্মক্ষেত্রে চার্জ দেওয়ার সুবিধা এবং স্থানীয় চার্জিং পরিকাঠামোর অবস্থা।
এ ছাড়া ব্যাটারির ওয়ারেন্টি, মেরামতের ব্যবস্থা, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং ব্যাটারি পরিবর্তনের সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কেও ক্রেতাদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।
গ্রামীণ এলাকায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে চার্জিংয়ের সুবিধা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁদের প্রতিদিনের যাতায়াতের দূরত্ব নির্দিষ্ট এবং বাড়িতে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে, তাঁদের জন্য বৈদ্যুতিক স্কুটার উপযোগী হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁদের দীর্ঘ দূরত্বে নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে গাড়ির প্রকৃত রেঞ্জ ও চার্জিংয়ের সুযোগ বিবেচনা করা জরুরি।
তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে বলেই যে বাংলায় এই ধরনের গাড়ির বিক্রি ইতিমধ্যেই একই হারে বেড়েছে, তা বলা যায় না। আগ্রহ এবং বাস্তব বিক্রির পরিসংখ্যান আলাদা বিষয়।
হিরো মোটোকর্পের বিভিন্ন মডেলের মধ্যে বাংলায় ‘গ্ল্যামার’-এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন আশুতোষ ভার্মা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্ল্যামারের পরে রয়েছে ‘জুম’, ‘ডেস্টিনি’ এবং ‘এক্সসেন্ট’।
এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, সংস্থার বিভিন্ন মডেলকে ঘিরে গ্রাহকদের আগ্রহের ধরনও তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
একটি নির্দিষ্ট মডেলের চাহিদা বেশি থাকলে সংস্থাকে সেই মডেলের সরবরাহ, ডিলারদের কাছে মজুত এবং গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার বিষয়গুলিতে নজর রাখতে হয়।
অন্যদিকে, বিভিন্ন মডেলের ক্রেতাদের চাহিদা আলাদা হতে পারে। কেউ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য বাইক বেছে নিতে পারেন, কেউ আবার স্কুটারের সুবিধাকে গুরুত্ব দিতে পারেন। ডিজাইন, ব্যবহারিক সুবিধা, দাম, জ্বালানি সাশ্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
তবে গ্ল্যামার, জুম, ডেস্টিনি এবং এক্সসেন্টের চাহিদার যে ক্রম উল্লেখ করা হয়েছে, তা সংস্থার আধিকারিকের বক্তব্যের ভিত্তিতে। মডেলভিত্তিক বিক্রির বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশিত না হলে এই ক্রমকে নির্দিষ্ট বিক্রির সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব নয়।
পশ্চিমবঙ্গে হিরো মোটোকর্পের ব্যবসায়িক উপস্থিতির ক্ষেত্রে ডিলার নেটওয়ার্কও গুরুত্বপূর্ণ। আশুতোষ ভার্মার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে সংস্থার ৪০টি ডিলার এবং ১৫০টি অ্যাসোসিয়েট ডিলার রয়েছে।
বিক্রয়কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গ্রাহকদের কাছে নতুন গাড়ি পৌঁছে দেওয়া, মডেল সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং কেনার প্রক্রিয়া সহজ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় ক্রেতাদের কাছে পৌঁছতে স্থানীয় বিক্রয়কেন্দ্রের উপস্থিতি সহায়ক হতে পারে। ক্রেতারা কাছাকাছি ডিলারের কাছ থেকে গাড়ি সম্পর্কে জানতে, বিভিন্ন মডেলের তুলনা করতে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারেন।
তবে শুধু ডিলার বা অ্যাসোসিয়েট ডিলারের সংখ্যা দিয়ে পরিষেবার মান বিচার করা যায় না। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অবস্থান, কাজের সময়, পরিষেবার পরিধি, যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা এবং গ্রাহকদের অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে বিক্রি আরও বাড়াতে চাইলে সংস্থাকে বর্তমান নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বজায় রাখার পাশাপাশি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়ার উপর নজর রাখতে হবে।
ধনতেরসকে কেন্দ্র করে নতুন গাড়ি কেনার প্রবণতা ভারতীয় বাজারে পরিচিত। অনেক ক্রেতা এই দিনটিকে শুভ বলে মনে করেন এবং গাড়ি, গয়না কিংবা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা করেন।
আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, ধনতেরসেও হিরোর বিভিন্ন পণ্য কেনার দিকে আগ্রহ বাড়ছে।
উৎসবের সময় নতুন গাড়ির চাহিদা বাড়লে ডিলারদের জন্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়। তবে ক্রেতাদের কাছে গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত শুধু উৎসবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। দৈনন্দিন প্রয়োজন, পরিবারের বাজেট এবং পুরনো গাড়ি পরিবর্তনের পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তের পিছনে থাকতে পারে।
উৎসবের সময় কোনও বিশেষ ছাড় বা অফার থাকলে তার শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। গাড়ির অন-রোড মূল্য, বিমা, রেজিস্ট্রেশন, অতিরিক্ত আনুষঙ্গিক সামগ্রী এবং অর্থায়নের খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় হিসাব করা জরুরি।
শুধু উৎসবের আবেগে নয়, নিজের আর্থিক সামর্থ্য ও প্রয়োজন বিচার করে গাড়ি কেনাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাংলায় উৎসবের মরশুমে বিক্রির বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ বাজারে চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষিতে আগামী দু’তিন বছরে ব্যবসা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আশুতোষ ভার্মা।
এই আশার পিছনে রয়েছে শহর ও গ্রাম—দুই ধরনের বাজারেই গ্রাহকদের কাছে পৌঁছনোর সম্ভাবনা। শহরে নতুন মডেলের চাহিদা, গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত পরিবহণের প্রয়োজন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে আগ্রহ—সবই সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে ব্যবসা বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে বাস্তব ফলাফলে পরিণত করতে হলে সংস্থাকে একাধিক বিষয়ে নজর রাখতে হবে। গাড়ির প্রতিযোগিতামূলক দাম, সময়মতো সরবরাহ, বিক্রয়োত্তর পরিষেবা এবং গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
পাশাপাশি, বাজারে প্রতিযোগী সংস্থাগুলির উপস্থিতি এবং গ্রাহকদের পছন্দের পরিবর্তনও ব্যবসার গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গকে সংস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধির বাজার হিসেবে দেখছে। তবে আগামী দু’তিন বছরে ব্যবসা কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে প্রকৃত বিক্রি এবং বাজারের পরিস্থিতির উপর।
পশ্চিমবঙ্গে হিরো মোটোকর্পের বিক্রি বৃদ্ধির দাবি এবং আগামী দিনে ব্যবসা সম্প্রসারণের আশাবাদ রাজ্যের দু’চাকার গাড়ির বাজারকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। কলকাতা ও শহরতলির পাশাপাশি গ্রামবাংলার বাজারেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থা।
আশুতোষ ভার্মার বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের উৎসবের মরশুমে বাংলায় বিক্রি গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। দেশব্যাপী ব্যবসার প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বাংলায় বৃদ্ধির হার প্রায় দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
গ্ল্যামার মডেলের চাহিদা, ধনতেরসকে কেন্দ্র করে কেনাকাটার আগ্রহ, গ্রামীণ এলাকায় নথিভুক্ত সার্ভিস সেন্টার ব্যবহারের প্রবণতা এবং বৈদ্যুতিক দু’চাকার গাড়ি নিয়ে আগ্রহ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাজারকে গুরুত্ব দিচ্ছে হিরো মোটোকর্প।
রাজ্যে সংস্থার ৪০টি ডিলার এবং ১৫০টি অ্যাসোসিয়েট ডিলারের উপস্থিতিও এই ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এখন দেখার, উৎসবের মরশুমে বিক্রির এই বৃদ্ধি আগামী দিনেও বজায় থাকে কি না এবং গ্রামবাংলায় ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা কতটা সফল হয়। আগামী দু’তিন বছরে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে আরও বৃদ্ধির যে আশা সংস্থা প্রকাশ করেছে, তার বাস্তব প্রতিফলন নির্ভর করবে গ্রাহকদের চাহিদা, পরিষেবার মান এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির উপর।