বিজয়ার দিনে মল্লিকবাড়ির ঐতিহ্যবাহী সিঁদুরখেলায় লাল আবিরে রাঙা হলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। উৎসবের আনন্দের মাঝে বিদায়ের বিষাদ আর আগামী বছরের অপেক্ষা—দুই আবেগই ধরা পড়ল মল্লিকবাড়ির সিঁদুরখেলার মুহূর্তে।
দুর্গাপুজোর শেষ দিন মানেই একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে মনখারাপ। চার দিনের উৎসব শেষে উমাকে বিদায় জানানোর সময় চোখের কোণে জমে জল, আবার সেই সঙ্গে মনে থাকে আগামী বছরের অপেক্ষা। বিজয়া দশমীর এই চেনা আবেগ ধরা পড়ে বাংলার প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পুজোমণ্ডপে। আর কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোগুলিতে সেই আবেগ যেন আরও বেশি করে অনুভব করা যায়। মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোও তার ব্যতিক্রম নয়। ঐতিহ্য, পারিবারিক রীতি এবং আন্তরিকতার মেলবন্ধনে প্রতি বছরই বিশেষ হয়ে ওঠে এই বাড়ির পুজো। বিজয়ার দিনে সেই মল্লিকবাড়ির সিঁদুরখেলায় সিঁদুরে রাঙা হয়ে উঠলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। উৎসবের শেষ মুহূর্তে আনন্দ আর বিদায়ের বিষাদ মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।
দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং আবেগ, স্মৃতি ও পারিবারিক মিলনের এক বিশেষ উপলক্ষ। পুজোর দিনগুলিতে নতুন পোশাক, অঞ্জলি, ভোগ, আড্ডা এবং ঠাকুর দেখার আনন্দে মেতে ওঠেন সকলে। কিন্তু দশমীর সকাল থেকেই পরিবেশে যেন একটু অন্য রকম সুর বাজতে শুরু করে। দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি, শেষবারের মতো প্রণাম এবং সিঁদুরখেলার মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে শেষ হয় উৎসবের রেশ।
কলকাতার বনেদি বাড়িগুলির পুজোয় এই বিদায়পর্বের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা রীতিনীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের সদস্যদের স্মৃতি। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম পরিচিত নাম মল্লিকবাড়ি। এই বাড়ির পুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই আগ্রহ থাকে দর্শক ও অনুরাগীদের। বিশেষ করে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের উপস্থিতি পুজোর মুহূর্তগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
বিজয়া দশমীর দিনে সিঁদুরখেলা বাঙালি নারীদের কাছে বিশেষ আবেগের বিষয়। দেবী দুর্গাকে সিঁদুর নিবেদন করে তাঁর কাছে মঙ্গল কামনা করা হয়। এরপর একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান অনেকে। এই রীতির মধ্যে যেমন রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, তেমনই রয়েছে নারীসমাজের পারস্পরিক বন্ধন ও উৎসবের আনন্দ। মল্লিকবাড়ির সিঁদুরখেলাতেও সেই চেনা বাঙালিয়ানার আবহ ফুটে ওঠে।
বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের সঙ্গে মল্লিকবাড়ির দুর্গাপুজোর সম্পর্ক বহু দিনের। তাঁর কাছে এই পুজো কেবল উৎসবের কয়েকটি দিন নয়, বরং পরিবারের ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ সময়। পুজোর দিনগুলিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, দেবী দুর্গার আরাধনায় অংশ নেওয়া এবং পুরনো রীতিনীতি পালন করার মধ্যে রয়েছে এক অন্য রকম আনন্দ।
বিজয়ার সিঁদুরখেলার মুহূর্তে কোয়েলের সিঁদুরে রাঙা হয়ে ওঠা সেই উৎসবেরই একটি পরিচিত ছবি তুলে ধরে। লাল সিঁদুরের রং যেন বিজয়ার আনন্দ, মঙ্গলকামনা এবং বিদায়ের আবেগকে একসঙ্গে প্রকাশ করে। উৎসবের শেষ দিনে সিঁদুরখেলার মধ্যে দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর রীতি বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে গভীর ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
দশমীর দিনে দেবীর সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই মনে মনে প্রার্থনা করেন, আগামী বছর যেন আবার ফিরে আসে এই আনন্দের দিনগুলি। পুজোর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অসংখ্য স্মৃতি। তাই বিজয়ার সিঁদুরখেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে যায় আরও একটি বছরের অপেক্ষার কথা।
কোয়েল মল্লিকের মতো পরিচিত অভিনেত্রী যখন পরিবারের পুজোর ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তখন সেই মুহূর্ত অনুরাগীদের কাছেও বিশেষ হয়ে ওঠে। তবে এই উৎসবের মূল আকর্ষণ কোনও এক ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; বরং পরিবারের সকলের অংশগ্রহণ, পুরনো রীতি এবং দেবীকে বিদায় জানানোর সম্মিলিত আবেগই মল্লিকবাড়ির পুজোকে আলাদা মাত্রা দেয়।
বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে সিঁদুরখেলার সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর নিবেদন করা হয়। অনেক পরিবারে বিবাহিত নারীরা দেবীর কপালে ও পায়ে সিঁদুর দেন। এরপর একে অপরের কপালে সিঁদুর পরিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কোথাও এই রীতির সঙ্গে মিষ্টিমুখ, প্রণাম এবং আলিঙ্গনের মতো পারিবারিক প্রথাও যুক্ত থাকে।
সিঁদুরের লাল রংকে অনেকেই শুভ, মঙ্গল এবং শক্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। সেই কারণে দশমীর দিনে সিঁদুরখেলা শুধু সাজগোজ বা ছবি তোলার উপলক্ষ নয়, বরং বিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত একটি আচার। এর মধ্যে রয়েছে দেবীর কাছে পরিবারের মঙ্গল কামনা এবং আগামী দিনগুলির জন্য শুভেচ্ছা জানানোর ভাবনা।
সময়ের সঙ্গে সিঁদুরখেলার প্রকাশভঙ্গিতে কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখন বনেদি বাড়ির পুজো থেকে শুরু করে আবাসনের পুজো, সর্বত্রই এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া হয়। ফলে স্থানীয় পুজোর আবেগ ছড়িয়ে পড়ে আরও অনেক মানুষের কাছে। তবু এই রীতির মূল অনুভূতি একই থেকে যায়—দেবীকে বিদায় জানানো, একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা করা।
কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোগুলির নিজস্ব ইতিহাস ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। কোথাও পুজোর আচার পালিত হয় বহু প্রজন্ম ধরে, কোথাও পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উৎসবকে বিশেষ করে তোলে। এই পুজোগুলিতে দেবী আরাধনার পাশাপাশি পারিবারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
মল্লিকবাড়ির পুজোও সেই সাংস্কৃতিক পরম্পরার অংশ। পরিবারের সঙ্গে পুজোর দিনগুলি কাটানো, দেবীর সামনে প্রণাম করা এবং বিজয়ার রীতিতে অংশ নেওয়ার মধ্যে দিয়ে পুরনো দিনের স্মৃতি ও নতুন প্রজন্মের অভিজ্ঞতা এক জায়গায় মিশে যায়। কোয়েল মল্লিকের মতো পরিবারের পরিচিত মুখের উপস্থিতি এই ঐতিহ্যকে আরও বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরে।
বাঙালির উৎসবের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল, এখানে ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে দেখা হয়, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া চলে, পুরনো স্মৃতি ফিরে আসে। বিজয়ার দিনে প্রণাম ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্কগুলিকে আরও একবার নতুন করে উদ্যাপন করা হয়।
মল্লিকবাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পরিবারের পুজো তাই শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়। এটি বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও একটি অংশ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রীতিনীতির মধ্যে দিয়ে উৎসবের স্মৃতি টিকে থাকে।
দুর্গাপুজোর শেষ দিন যত এগিয়ে আসে, ততই বাড়তে থাকে বিদায়ের মনখারাপ। যে বাড়িতে বা পাড়ায় কয়েক দিন ধরে আনন্দ, আলো, গান আর মানুষের আনাগোনা চলেছে, সেখানে ধীরে ধীরে ফিরে আসে স্বাভাবিক ছন্দ। প্রতিমা বিসর্জনের পরে মণ্ডপ ফাঁকা হয়ে যায়, পুজোর সাজসজ্জা সরিয়ে নেওয়া হয়, আর মনে থেকে যায় একরাশ স্মৃতি।
বিজয়া দশমীর সিঁদুরখেলা এই অনুভূতিকে আরও গভীর করে তোলে। সিঁদুরের লাল রং আনন্দের প্রতীক হলেও, তার সঙ্গে মিশে থাকে বিদায়ের আবেগ। দেবীকে প্রণাম করে অনেকেই বলেন, ‘আবার এসো মা’। এই কথার মধ্যে রয়েছে আগামী বছরের পুজোর জন্য অপেক্ষা, নতুন করে আনন্দে মেতে ওঠার আশা এবং পরিবারের সকলের ভালো থাকার প্রার্থনা।
কোয়েল মল্লিকের সিঁদুরে রাঙা মুহূর্তও সেই বৃহত্তর বাঙালি আবেগের সঙ্গে যুক্ত। পুজোর দিনগুলিতে যে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া হয়, বিজয়ার দিনে তারই স্মৃতিচারণ চলে। পরিচিত মুখের ছবি সেই উৎসবের মুহূর্তকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়, কিন্তু আবেগটি আসলে সবারই এক।
দুর্গাপুজোর শেষ দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উৎসব শেষ হলেও তার আনন্দ ও স্মৃতি থেকে যায়। সিঁদুরখেলা, মিষ্টিমুখ, প্রণাম এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে বাঙালি নতুন করে সম্পর্কের বন্ধন উদ্যাপন করে। মল্লিকবাড়ির পুজোয় কোয়েল মল্লিকের সিঁদুরে রাঙা উপস্থিতি সেই ঐতিহ্যবাহী আবহেরই একটি অংশ।
একদিকে দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদ, অন্যদিকে আগামী বছরের জন্য অপেক্ষা—এই দুই অনুভূতি মিলিয়েই তৈরি হয় বিজয়ার বিশেষ আবহ। পুজোর চার দিনের আনন্দ পেরিয়ে আবার শুরু হবে দৈনন্দিন জীবন। কিন্তু মনে থেকে যাবে ঢাকের শব্দ, ধুনুচির গন্ধ, অঞ্জলির মুহূর্ত, প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং সিঁদুরে রাঙা দশমীর স্মৃতি।
তাই বিজয়ার দিনে মল্লিকবাড়ির সিঁদুরখেলা শুধু একটি উৎসবের ছবি নয়, বরং বাঙালির আবেগ, ঐতিহ্য ও আশার প্রতীক। কোয়েল মল্লিকের সিঁদুরে রাঙা মুহূর্তের মধ্য দিয়ে আরও একবার সামনে এল সেই চেনা অনুভূতি—বিদায় মানেই শেষ নয়, বরং আবার ফিরে আসার অপেক্ষা। আগামী বছর ফের উমা আসবেন, আবার বাজবে ঢাক, আবার আলোয় ভরে উঠবে শহর। সেই আশাতেই বিজয়ার বিষাদের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে নতুন আনন্দের প্রতিশ্রুতি।