Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চার বছরের অপেক্ষার অবসান আগরকর অধ্যায় শেষ হতেই কি টিম ইন্ডিয়ায় ফিরছেন ভুবনেশ্বর কুমার?

ভারতীয় ক্রিকেটে ফের আলোচনার কেন্দ্রে অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই সুইং বোলারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। একসময় ভারতের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিলেন ভুবনেশ্বর। নতুন বলে সুইং করানো, নিখুঁত লাইন লেংথ বজায় রাখা এবং চাপের মুখে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য তিনি বিশেষ পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দলে তাঁর জায়গা হারিয়ে যায়। এখন প্রশ্ন উঠছে, ফের কি নীল জার্সিতে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ বোলারকে? ভুবনেশ্বর কুমারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার একসময় ছিল যথেষ্ট উজ্জ্বল। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর বোলিং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বারবার সমস্যায় ফেলেছে। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ডেথ ওভারেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তবে চোট, ফিটনেসের সমস্যা এবং দলের পরিবর্তিত পরিকল্পনার কারণে জাতীয় দলে তাঁর সুযোগ ক্রমশ কমে আসে। নতুন প্রজন্মের একাধিক পেসার উঠে আসায় প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। দীর্ঘ চার বছর জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটমহলে আগ্রহ বাড়িয়েছে। তবে শুধু জল্পনার ভিত্তিতে তাঁর কামব্যাক নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, শারীরিক সক্ষমতা এবং নির্বাচকদের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ভারতীয় ক্রিকেটে নির্বাচক কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অজিত আগরকরকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা সামনে এলেও তাঁর অধ্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নির্ভর করে নির্বাচনী সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড়ের বর্তমান ফর্ম এবং দলের প্রয়োজনের ওপর। ভুবনেশ্বরের অভিজ্ঞতা এখনও ভারতের বোলিং বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সুইং সহায়ক পরিবেশে তাঁর দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। তবে তাঁকে দলে ফেরানোর ক্ষেত্রে বর্তমান পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বিবেচনা করতে হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে অভিজ্ঞ পেসারদের প্রসঙ্গ উঠলেই যে কয়েকটি নাম সবার আগে মনে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভুবনেশ্বর কুমার। একসময় নতুন বল হাতে তাঁর সুইংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তেন বিশ্বের তাবড় ব্যাটাররা। বলের দুই দিকেই সুইং করানোর ক্ষমতা, নিখুঁত লাইন ও লেন্থ এবং চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় বোলিং করার দক্ষতার জন্য ভারতীয় দলের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন এই ডানহাতি পেসার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর উপস্থিতি কমতে থাকে। একটা সময়ের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় দলের বাইরে থাকায় অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর মনেই তৈরি হয়েছিল সংশয়। তবে কি শেষ হয়ে গেল ভুবির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার? নাকি নীরবে নিজের প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন এই অভিজ্ঞ পেসার?

চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের কি জাতীয় দলের দরজা খুলতে পারে ভুবনেশ্বর কুমারের জন্য? অজিত আগরকরের অধ্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কি বদলাতে চলেছে ভারতীয় দলের নির্বাচনী সমীকরণ? এই প্রশ্নগুলিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। যদিও ভুবনেশ্বর কুমারের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বিষয়টিকে সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা উচিত। কারণ, ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের প্রয়োজন, নির্বাচকদের পরিকল্পনা, ফিটনেস এবং আসন্ন প্রতিযোগিতার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ভুবনেশ্বর কুমারের কেরিয়ার এমনই এক উদাহরণ, যেখানে প্রতিভা, পরিশ্রম, সাফল্য এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প একসঙ্গে মিশে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের জায়গা তৈরি করতে তাঁকে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। বল হাতে তাঁর নিয়ন্ত্রণ এবং দুই দিকেই সুইং করানোর ক্ষমতা তাঁকে অন্য বোলারদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নতুন বল হাতে তাঁর বোলিং ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পাওয়ারপ্লের সময় উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে রান আটকে রাখা, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী বোলিং করার ক্ষমতা তাঁকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছিল।

ক্রিকেটের দুনিয়ায় অনেক বোলারই গতির জন্য পরিচিত হন। কেউ আবার নিজের বাউন্স এবং আগ্রাসী শর্ট বলের মাধ্যমে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলেন। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বলের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা এবং ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করা। নতুন বলে তাঁর সুইং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠত। বিশেষ করে আর্দ্র পরিবেশে এবং বলের মুভমেন্ট পাওয়া গেলে তাঁর বোলিং আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠত। সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারার দক্ষতার কারণে তিনি শুধু উইকেটই নিতেন না, বরং প্রতিপক্ষের রান করার গতিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।

ভারতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বোলারে পরিণত করেছিল। তাঁর বোলিংয়ে ছিল ধারাবাহিকতা এবং পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা বদলে নেওয়ার ক্ষমতা। কোনও ব্যাটার আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে তাঁকে কীভাবে বোলিং করতে হবে, কখন গতি কমাতে হবে, কখন ইয়র্কার ব্যবহার করতে হবে এবং কখন অফ স্টাম্পের বাইরে বল রেখে ব্যাটারকে প্রলুব্ধ করতে হবে, এই বিষয়গুলিতে তাঁর দক্ষতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তাই ভুবনেশ্বর কুমারের মতো অভিজ্ঞ বোলারকে নিয়ে আলোচনা হলে শুধু তাঁর উইকেটের সংখ্যা নয়, দলের জন্য তাঁর সামগ্রিক অবদানও বিবেচনায় আসে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কোনও ক্রিকেটারের পক্ষেই সহজ নয়। বিশেষ করে পেসারদের ক্ষেত্রে চোট, ফিটনেস এবং কাজের চাপ বড় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পর অনেক বোলারকেই চোটের কারণে ছন্দ হারাতে হয়। ভুবনেশ্বর কুমারের কেরিয়ারেও ফিটনেস এবং চোটের বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাঁর বোলিংয়ের অন্যতম প্রধান সম্পদ ছিল নিখুঁত লাইন ও লেন্থের সঙ্গে সুইং করানোর ক্ষমতা। কিন্তু নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুযোগ কমে গেলে ছন্দ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জায়গা ধরে রাখতে হলে শুধু অতীতের সাফল্য যথেষ্ট নয়, বর্তমানের পারফরম্যান্সও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগে পরিবর্তন এসেছে। নতুন প্রজন্মের একাধিক পেসার উঠে এসেছেন। কেউ নিজের গতির মাধ্যমে নজর কেড়েছেন, কেউ আবার ডেথ ওভারে বোলিং করার দক্ষতা দেখিয়েছেন। আবার কেউ নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মাঝের ওভারেও কার্যকর বোলিং করেছেন। ফলে নির্বাচকদের সামনে বিকল্প বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভুবনেশ্বর কুমারের মতো অভিজ্ঞ বোলারের জন্য জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ নয়। তাঁকে নতুন প্রজন্মের বোলারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি ভারতীয় দলের জন্য কার্যকর হতে পারেন।

অজিত আগরকর ভারতীয় দলের নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় দল গঠন এবং ক্রিকেটার নির্বাচন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কোনও নির্বাচকের মেয়াদ শেষ হলে বা নির্বাচক কমিটিতে পরিবর্তন এলে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। কোন ক্রিকেটার সুযোগ পাবেন, কারা দলে ফিরতে পারেন এবং ভবিষ্যতের জন্য কোন খেলোয়াড়দের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেই বিষয়গুলি সামনে আসে। ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন নিয়েও এমন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচক পরিবর্তনের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট ক্রিকেটারের দলে ফেরার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রয়োজন।

জাতীয় দলের নির্বাচনী প্রক্রিয়া কোনও একজন ক্রিকেটারের নাম বা অতীতের জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করে না। দলের বর্তমান চাহিদা, ক্রিকেটারের সাম্প্রতিক ফর্ম, ফিটনেস, প্রতিপক্ষের শক্তি এবং নির্দিষ্ট ফরম্যাটে তাঁর কার্যকারিতা বিবেচনা করা হয়। ফলে ভুবনেশ্বর কুমার যদি আবার ভারতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়তে চান, তাহলে তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেট অথবা অন্যান্য প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে হবে। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বোলিংয়ের বৈচিত্র্য তাঁকে আলোচনায় রাখতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে নির্বাচকদের মূল্যায়নের উপর।

ভুবনেশ্বর কুমারের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, তিনি বিভিন্ন ফরম্যাটে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বলের সুইং এবং সঠিক লাইন ও লেন্থের মাধ্যমে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারতেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লের সময় তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে গতি পরিবর্তন, ইয়র্কার এবং নির্দিষ্ট জায়গায় বল রাখার দক্ষতা তাঁকে কার্যকর বোলারে পরিণত করেছিল। যদিও তিনটি ফরম্যাটের প্রয়োজন আলাদা, ভুবনেশ্বরের অভিজ্ঞতা তাঁকে পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে সাহায্য করত।

বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই ফরম্যাটে একজন বোলারকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজের পরিকল্পনা কার্যকর করতে হয়। ব্যাটাররা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হতে পারেন। পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়া এবং শেষের ওভারগুলিতে রান আটকে রাখা, দুটি কাজই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুবনেশ্বর কুমার নিজের কেরিয়ারে এই দুই ক্ষেত্রেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর সুইং বোলিং পাওয়ারপ্লেতে উইকেট পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে, আর অভিজ্ঞতা তাঁকে পরিস্থিতি বুঝে বোলিং করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে।

তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বর্তমানে প্রতিযোগিতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। একাধিক তরুণ পেসার গতি, বৈচিত্র্য এবং ডেথ ওভারের দক্ষতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আইপিএলের মতো প্রতিযোগিতায় ভালো পারফরম্যান্স করলে জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে আসার সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের জন্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও জরুরি। শুধু এক বা দুটি ম্যাচে ভালো বোলিং করলেই দীর্ঘমেয়াদি জায়গা নিশ্চিত হয় না। একজন বোলারকে দেখাতে হয় যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি কার্যকর থাকতে পারেন এবং দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।

এখানেই ভুবনেশ্বর কুমারের অভিজ্ঞতা একটি বড় সম্পদ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ কেমন, বড় ম্যাচে কীভাবে নিজের পরিকল্পনায় স্থির থাকতে হয় এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দুর্বলতা বুঝে কীভাবে বোলিং করতে হয়, এই অভিজ্ঞতা একজন সিনিয়র ক্রিকেটারের মধ্যে তৈরি হয় দীর্ঘদিনের খেলার মাধ্যমে। তরুণ ক্রিকেটারদের তুলনায় অভিজ্ঞ বোলাররা অনেক সময় পরিস্থিতি দ্রুত বুঝতে পারেন। তবে অভিজ্ঞতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তার সঙ্গে বর্তমান ফর্ম এবং ফিটনেসের সমন্বয় থাকে। তাই ভুবির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা বিচার করতে হলে এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে দেখতে হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের গল্প নতুন নয়। অতীতে একাধিক ক্রিকেটার দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকার পর আবার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন। কেউ ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজরে এসেছেন, কেউ আবার আইপিএলের মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। এই উদাহরণগুলি দেখায়, জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া মানেই কোনও ক্রিকেটারের কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তবে প্রত্যেক ক্রিকেটারের পরিস্থিতি আলাদা। বয়স, ফিটনেস, প্রতিযোগিতা এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যাবর্তনের সুযোগও বদলে যায়। ভুবনেশ্বর কুমারের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ভুবনেশ্বর কুমারের জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ তাঁর শান্ত স্বভাব এবং কার্যকর বোলিং। মাঠে তাঁকে অনেক সময় আক্রমণাত্মক উদযাপনের পরিবর্তে নিজের কাজের উপর মনোযোগ দিতে দেখা গিয়েছে। বল হাতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য সব সময় অতিরিক্ত গতি বা আগ্রাসন প্রয়োজন হয় না, তাঁর বোলিং সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। সঠিক জায়গায় বল ফেলে ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের পরিকল্পনা বদলে নেওয়া ছিল তাঁর ক্রিকেটীয় পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

news image
আরও খবর

ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের সময় অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ পেসারদের দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনই নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলানোর ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক সময় ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। ভুবনেশ্বর কুমার যদি নিজের বর্তমান পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে পারেন, তাহলে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের জন্য বিবেচনাযোগ্য সম্পদ হতে পারে। কিন্তু শুধু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দলে জায়গা পাওয়া সম্ভব নয়।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন হলে কোন ফরম্যাটে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে? টেস্ট ক্রিকেট, একদিনের ক্রিকেট এবং টি টোয়েন্টি প্রতিটি ফরম্যাটে বোলারের কাছ থেকে আলাদা দক্ষতা প্রত্যাশা করা হয়। টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে বোলিং করার ক্ষমতা, সুইং এবং ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। একদিনের ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে, মাঝের ওভার এবং শেষের ওভারগুলিতে কার্যকর থাকার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে টি টোয়েন্টিতে অল্প সময়ে প্রভাব তৈরি করা এবং ব্যাটারদের আক্রমণ সামলানো জরুরি। তাই কোনও একটি ফরম্যাটে তাঁর পারফরম্যান্স ভালো হলেই অন্য ফরম্যাটে সুযোগ নিশ্চিত হবে, এমনটা বলা যায় না।

বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভুবনেশ্বর কুমারের দক্ষতা নিয়ে আলোচনা বেশি হতে পারে। তাঁর বোলিংয়ের ধরন নতুন বলের ব্যবহার এবং ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট করার ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা, উন্নত শট নির্বাচন এবং বিভিন্ন ধরনের বোলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি অনেক বেড়েছে। ফলে অভিজ্ঞ বোলারদেরও নিজেদের পরিকল্পনায় নতুনত্ব আনতে হয়। ভুবনেশ্বর কুমারের মতো একজন ক্রিকেটারের কাছে অতীতের সাফল্যের পাশাপাশি বর্তমান ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আইপিএলও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ এই প্রতিযোগিতাকে বিশেষ করে তুলেছে। এখানে একজন বোলারের পারফরম্যান্স শুধু উইকেটের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা হয় না। তাঁর ইকোনমি রেট, পাওয়ারপ্লেতে কার্যকারিতা, ডেথ ওভারে রান আটকানোর ক্ষমতা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলের জন্য অবদানও বিবেচনায় আসে। ভুবনেশ্বর কুমার যদি এই ধরনের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করেন, তাহলে তাঁর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তবে আইপিএলে ভালো পারফরম্যান্স করলেই ভারতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত, এমন দাবি করা ঠিক হবে না।

জাতীয় দলের নির্বাচকদের কাছে ক্রিকেটারের ফিটনেস একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে পেসারদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের উপর চাপ পড়ে। দ্রুতগতিতে দৌড়ে এসে বল করা, বারবার একই ধরনের শারীরিক পরিশ্রম এবং ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। তাই প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ভুবনেশ্বর কুমারের ফিটনেস এবং নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি কতটা ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলতে পারছেন, কতটা কার্যকর বোলিং করছেন এবং দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় নিজের ছন্দ ধরে রাখতে পারছেন কি না, সেই বিষয়গুলি মূল্যায়নের অংশ হতে পারে।

একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সময় তাঁর অতীতের সাফল্যকে সম্মান জানানো যেমন প্রয়োজন, তেমনই বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও বাস্তববাদী থাকা জরুরি। ভুবনেশ্বর কুমার ভারতীয় ক্রিকেটকে একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় দলের বোলিং বিভাগে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। একাধিক পেসার নিজেদের জায়গা তৈরি করার জন্য লড়াই করছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ নতুন বলে কার্যকর, কেউ আবার শেষের ওভারগুলিতে ভালো পারফরম্যান্স করছেন। নির্বাচকদের এমন ক্রিকেটার বেছে নিতে হবে, যাঁরা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী দলের প্রয়োজন পূরণ করতে পারবেন।

অজিত আগরকরের অধ্যায় শেষ হওয়া নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। কোনও নির্বাচক বা নির্বাচক কমিটির পরিবর্তনের পর ভবিষ্যতের দল নির্বাচন নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও ক্রিকেটারকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নির্ভর করে নির্দিষ্ট মূল্যায়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর। নতুন নির্বাচক এলে দলের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে, আবার পূর্ববর্তী পরিকল্পনার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকতে পারে। তাই আগরকর সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভুবনেশ্বর কুমার জাতীয় দলে ফিরছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো নিশ্চিত তথ্য ছাড়া জল্পনাকে খবর হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।

ক্রিকেটের ইতিহাসে দেখা গিয়েছে, অনেক সময় কোনও ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি ভালো মরশুমই যথেষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়। কারণ, দলের ভারসাম্য এবং নির্দিষ্ট পজিশনের জন্য প্রতিযোগিতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বিষয়। ভুবনেশ্বর কুমারের ক্ষেত্রেও যদি এমন কোনও সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তাঁকে নিজের দক্ষতার পাশাপাশি দলের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা দেখাতে হবে। তিনি নতুন বলে কতটা কার্যকর, মাঝের ওভারে কীভাবে বোলিং করেন এবং শেষের দিকে কতটা নির্ভরযোগ্য, এই বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

ভুবনেশ্বর কুমারের ক্রিকেটীয় পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণ। অনেক পেসার গতি বাড়িয়ে ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলতে চান, কিন্তু ভুবি নিজের বোলিংয়ের সূক্ষ্মতা দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেন। বলের সিমের অবস্থান, কবজির ব্যবহার এবং রিলিজের মুহূর্তের উপর নিয়ন্ত্রণ তাঁর সুইং বোলিংকে কার্যকর করে তুলত। এই দক্ষতা এখনও ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাটারদের আক্রমণ সামলানোর জন্য বোলারদের অতিরিক্ত বৈচিত্র্যও প্রয়োজন। স্লোয়ার বল, কাটার, ইয়র্কার এবং লাইন পরিবর্তনের মতো কৌশল কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারা একজন বোলারের সাফল্যের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

জাতীয় দলে ফেরার জন্য একজন ক্রিকেটারের মানসিক প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকার পর আবার সুযোগ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করা সহজ নয়। প্রত্যাশা, সমালোচনা এবং নিজের পারফরম্যান্সের উপর চাপ—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা ক্রিকেটারকে সাহায্য করতে পারে। ভুবনেশ্বর কুমার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নানা পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। বড় ম্যাচের চাপ, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বোলিং এবং দলের প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তবে সেই অভিজ্ঞতাকে বর্তমান পারফরম্যান্সের সঙ্গে মিলিয়ে দেখাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের কাছে ভুবনেশ্বর কুমার এখনও এমন একজন বোলার, যাঁকে ভারতীয় দলের হয়ে আরও একবার দেখতে পাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। কারণ, তাঁর বোলিংয়ের ধরন ভারতীয় পেস আক্রমণে আলাদা বৈচিত্র্য যোগ করেছিল। নতুন বল হাতে সুইংয়ের মাধ্যমে উইকেট পাওয়ার ক্ষমতা এবং চাপের মুখে নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তবে সমর্থকদের আবেগ এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এক বিষয় নয়। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পেতে হলে তাঁকে বর্তমান ক্রিকেটের মানদণ্ডে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

এখন প্রশ্ন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর সত্যিই কি ভুবনেশ্বর কুমারের সামনে ভারতীয় দলের দরজা আবার খুলতে পারে? সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, আবার নিশ্চিত প্রত্যাবর্তনের কথাও বলা যায় না। যদি তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেন, নিজের ফিটনেস বজায় রাখেন এবং নির্বাচকদের কাছে বর্তমান দলের প্রয়োজন অনুযায়ী কার্যকর বলে বিবেচিত হন, তাহলে তাঁর নাম আলোচনায় আসতে পারে। অন্যদিকে তরুণ পেসারদের ধারাবাহিকতা এবং দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে ভুবনেশ্বর কুমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা ভারতীয় ক্রিকেটের একটি আকর্ষণীয় বিষয়। একসময় জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য পেসার হিসেবে পরিচিত এই ক্রিকেটারকে আবার ভারতের জার্সিতে দেখতে চান অনেক সমর্থক। তাঁর অভিজ্ঞতা, সুইং বোলিং এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দক্ষতা এখনও আলোচনার যোগ্য। তবে অজিত আগরকরের অধ্যায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয়েছে, এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা করা জরুরি।

ভুবনেশ্বর কুমারের ক্রিকেটীয় কেরিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় কী হবে, তা সময়ই বলবে। তিনি কি আবার জাতীয় দলের নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন? নতুন বলে তাঁর সুইং কি আরও একবার ভারতীয় দলের বোলিং আক্রমণে দেখা যাবে? নাকি তরুণ পেসারদের উপরই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আরও বেশি নির্ভর করবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর নির্ভর করছে তাঁর পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্তের উপর। আপাতত তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে জল্পনাকে নিশ্চিত খবর হিসেবে না দেখে সম্ভাবনার আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখাই যুক্তিযুক্ত। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেটে শেষ কথা বলে মাঠের পারফরম্যান্স, আর সেই পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ভুবনেশ্বর কুমারের সামনে জাতীয় দলের দরজা আবার খুলবে কি না।

 

Preview image