Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিশ্ব বাজারের চাপ কাটিয়ে চলতি অর্থবর্ষেও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা ভারতের অর্থনীতির পূর্বাভাস দিল IMF

বিশ্ববাজারের চাপের মধ্যেও চলতি অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে এই পূর্বাভাস ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বার্তা দিচ্ছে তবে এটি সম্ভাব্য বৃদ্ধির হিসাব অর্থবর্ষ শেষে প্রকৃত বৃদ্ধির হার কত হবে তা পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হবে

বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা ও জ্বালানির বাড়তি খরচের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF। সংস্থাটি ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করেছে। জুলাইয়ে এই পূর্বাভাস ছিল ৬.৪ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন হিসাবে সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার ০.৬ শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের কার্যক্রমকে এই সংশোধনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এই পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হলেও, এটি অর্থবর্ষ শেষে অর্জিত বৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব নয়। বর্তমান তথ্য, অর্থনৈতিক প্রবণতা এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু অনুমানের ভিত্তিতে IMF এই মূল্যায়ন করেছে। পরবর্তী মাসগুলিতে উৎপাদন, ভোগব্যয়, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি বদলালে পূর্বাভাসেও সংশোধন আসতে পারে। কোন অর্থবর্ষের জন্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস  এখানে চলতি অর্থবর্ষ বলতে ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষকে বোঝানো হচ্ছে, যার সময়সীমা ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭। সংবাদমাধ্যমে একে FY27 বলেও উল্লেখ করা হয়। এটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যালেন্ডার বছরের হিসাবের সঙ্গে এক নয়। এই পার্থক্য মাথায় রাখা প্রয়োজন, কারণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দেশভেদে অর্থবর্ষ বা ক্যালেন্ডার বছরের তথ্য ব্যবহার করা হয়। ভারতের বর্তমান বৃদ্ধির পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে সময়সীমা স্পষ্ট থাকলে পুরনো ও নতুন হিসাবের তুলনায় বিভ্রান্তি কমে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানোর পেছনে দেশের ভেতরের চাহিদার ভূমিকা উল্লেখ করেছে IMF। The Economic Times-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ চাহিদার শক্তি এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ভালো কার্যক্রম অর্থনীতিকে সমর্থন করছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বলতে দেশের মানুষ, ব্যবসা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও পরিষেবা কেনার প্রয়োজন বোঝায়। এই চাহিদা বজায় থাকলে দোকান, উৎপাদনকারী সংস্থা এবং পরিষেবা ব্যবসার কার্যক্রমে সহায়তা মেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ থাকলেও দেশের বড় বাজার অর্থনীতির জন্য একটি সহায়ক ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। তবে সামগ্রিক চাহিদা শক্তিশালী থাকার অর্থ সব ধরনের ব্যবসায় একই হারে বিক্রি বাড়া নয়। পণ্যের ধরন, ক্রেতার আয়, স্থানীয় বাজার এবং খরচের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ব্যবসার অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে।

পরিষেবা ক্ষত্রের অবদান পরিষেবা ক্ষেত্র ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ক্ষেত্রের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্য, পরিবহণ, পর্যটন এবং নানা পেশাগত পরিষেবা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ক্ষেত্রের কার্যক্রম ভালো থাকলে উৎপাদন, আয় এবং অর্থনৈতিক লেনদেনে তার প্রভাব পড়ে। IMF-এর পূর্বাভাস বাড়ানোর ব্যাখ্যায় পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি অনুকূল জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য, বড় ও সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারকে ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনার সহায়ক কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে Indian Express জানিয়েছে। এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে রূপান্তর করতে কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং ব্যবসার কার্যকর পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। বড় বাজারের সুবিধা তখনই আরও বিস্তৃত হতে পারে, যখন মানুষ কাজের সুযোগ পান এবং প্রতিষ্ঠানগুলি দক্ষভাবে উৎপাদন ও পরিষেবা দিতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের অবস্থান ভারতের পূর্বাভাস বাড়লেও বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক গতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। IMF-এর নতুন হিসাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বৃদ্ধির হার ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের ২০২৭–২৮ অর্থবর্ষের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে; জুলাইয়ে সেটি ছিল ৬.৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে দেশ ও বিশ্বের বৃদ্ধির হার তুলনা করার সময় ব্যবহৃত সময়সীমা এবং অর্থনীতির গঠনও বিবেচনায় রাখতে হয়। একটি উচ্চ বৃদ্ধির হার অর্থনীতির সম্প্রসারণ বোঝায়, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি দিক সম্পর্কে সম্পূর্ণ ছবি দেয় না। জ্বালানির দাম ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকি ইতিবাচক পূর্বাভাসের মধ্যেও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি রয়ে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে IMF-এর মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, উচ্চ তেলের দাম, ঋণসংক্রান্ত চাপ এবং আবহাওয়ার ব্যাঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচে চাপ তৈরি হতে পারে। সেই খরচ ব্যবসা কতটা নিজেরা বহন করবে এবং কতটা ক্রেতার ওপর যাবে, তার ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব নির্ভর করে। একইভাবে বিদেশের চাহিদা দুর্বল হলে রফতানিমুখী ব্যবসা চাপের মুখে পড়তে পারে। তাই বিশ্ববাজারের চাপ কাটিয়ে বৃদ্ধি বলতে চাপ সম্পূর্ণ দূর হয়েছে বোঝায় না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতেও ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকবে পূর্বাভাসে সেই সম্ভাবনাই উঠে এসেছে।

news image
আরও খবর

৭ শতাংশ বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য কী বোঝায় জিডিপি বৃদ্ধির হার দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনের পরিবর্তন বোঝায়। বাস্তব জিডিপির বৃদ্ধিতে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাদ দিয়ে উৎপাদনের সম্প্রসারণ দেখা হয়। তাই ৭ শতাংশ বৃদ্ধির অর্থ প্রতিটি মানুষের আয় ৭ শতাংশ বাড়বে বা প্রত্যেক ব্যবসার লাভ একই হারে বৃদ্ধি পাবে, এমন নয়। সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুফল বোঝার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, মজুরি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং পরিষেবা পাওয়ার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসার ক্ষেত্রেও বিক্রির পাশাপাশি কাঁচামালের খরচ, ঋণের খরচ এবং পাওনা আদায়ের অবস্থা দেখতে হয়। সামগ্রিক অর্থনীতির ভালো পূর্বাভাস সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ফলাফল নির্ভর করে আরও অনেক বিষয়ের ওপর। পূর্বাভাসের পরে নজর থাকবে বাস্তব পরিসংখ্যানে IMF-এর নতুন মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভারতের অর্থনীতি চলতি অর্থবর্ষে আগের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি গতিতে বাড়তে পারে। এখন নজর থাকবে পরবর্তী ত্রৈমাসিকগুলির জিডিপি, ভোগব্যয়, বিনিয়োগ এবং উৎপাদনের তথ্যের দিকে। ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা একটি আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত। সেই সম্ভাবনা বাস্তবে কতটা অর্জিত হলো এবং তার সুফল কর্মসংস্থান ও মানুষের আয় পর্যন্ত কতটা পৌঁছল, তা অর্থবর্ষের চূড়ান্ত তথ্য এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকে স্পষ্ট হবে।পরিষেবা ক্ষত্রের অবদান পরিষেবা ক্ষেত্র ভারতের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ক্ষেত্রের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্য, পরিবহণ, পর্যটন এবং নানা পেশাগত পরিষেবা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ক্ষেত্রের কার্যক্রম ভালো থাকলে উৎপাদন, আয় এবং অর্থনৈতিক লেনদেনে তার প্রভাব পড়ে। IMF-এর পূর্বাভাস বাড়ানোর ব্যাখ্যায় পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি অনুকূল জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য, বড় ও সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারকে ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনার সহায়ক কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে বলে Indian Express জানিয়েছে। এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে রূপান্তর করতে কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং ব্যবসার কার্যকর পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। বড় বাজারের সুবিধা তখনই আরও বিস্তৃত হতে পারে, যখন মানুষ কাজের সুযোগ পান এবং প্রতিষ্ঠানগুলি দক্ষভাবে উৎপাদন ও পরিষেবা দিতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের অবস্থান ভারতের পূর্বাভাস বাড়লেও বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক গতি তুলনামূলকভাবে সীমিত। IMF-এর নতুন হিসাবে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক বৃদ্ধির হার ৩.১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩.৪ শতাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের ২০২৭–২৮ অর্থবর্ষের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে; জুলাইয়ে সেটি ছিল ৬.৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে দেশ ও বিশ্বের বৃদ্ধির হার তুলনা করার সময় ব্যবহৃত সময়সীমা এবং অর্থনীতির গঠনও বিবেচনায় রাখতে হয়। একটি উচ্চ বৃদ্ধির হার অর্থনীতির সম্প্রসারণ বোঝায়, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি দিক সম্পর্কে সম্পূর্ণ ছবি দেয় না। জ্বালানির দাম ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার ঝুঁকি ইতিবাচক পূর্বাভাসের মধ্যেও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি রয়ে গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে IMF-এর মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, উচ্চ তেলের দাম, ঋণসংক্রান্ত চাপ এবং আবহাওয়ার ব্যাঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচে চাপ তৈরি হতে পারে। সেই খরচ ব্যবসা কতটা নিজেরা বহন করবে এবং কতটা ক্রেতার ওপর যাবে, তার ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব নির্ভর করে।

Preview image