Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে আগ্রহ কমছে রিলায়েন্স জিওর, ২০৩০-এর গোড়াতেই বাণিজ্যিক ৬জি: আকাশ আম্বানি

দেশে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে আলোচনা যখন তুঙ্গে, তখন এই ব্যবসায় নিজেদের আগ্রহ কমার ইঙ্গিত দিল রিলায়েন্স জিও। একইসঙ্গে ২০৩০ সালের গোড়ার দিকেই ভারতে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি পরিষেবা চালুর সম্ভাবনার কথা জানালেন আকাশ আম্বানি।

দেশে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে যখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময় এই ব্যবসা নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার ইঙ্গিত দিল রিলায়েন্স জিও। ইলন মাস্কের স্টারলিংককে ঘিরে দেশজুড়ে আগ্রহের মধ্যেই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসায় আগের তুলনায় আগ্রহ কমার ইঙ্গিত দিয়েছে জিও। একইসঙ্গে ভবিষ্যতের মোবাইল প্রযুক্তি ৬জি নিয়ে বড়সড় পরিকল্পনার কথাও সামনে এসেছে। রিলায়েন্স জিওর চেয়ারম্যান আকাশ আম্বানির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের গোড়ার দিকেই ভারতে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি প্রযুক্তি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে টেলিকম দুনিয়ায় অন্যতম বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার সংযোগ যেখানে পৌঁছনো কঠিন, সেখানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে এই প্রযুক্তি ইন্টারনেট পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের বাজারেও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইলন মাস্কের স্টারলিংক ইতিমধ্যেই এই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে অন্যতম পরিচিত নাম। ভারতের বাজারে তাদের প্রবেশকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অন্যতম বৃহৎ টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিওর অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসাকে ঘিরে জিওর আগ্রহে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার এবং প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা নিয়ে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, স্যাটেলাইট পরিষেবার তুলনায় অন্য প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

রিলায়েন্স জিও ইতিমধ্যেই ভারতের টেলিকম বাজারে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। মোবাইল ডেটা, ৫জি পরিষেবা, ফাইবার ব্রডব্যান্ড এবং ডিজিটাল পরিষেবার পাশাপাশি সংস্থা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়েও বিনিয়োগ করছে। ফলে কোন প্রযুক্তিতে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে জিওর প্রতিটি সিদ্ধান্তই টেলিকম শিল্পে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই বাজার এখনও ভারতের জন্য তুলনামূলকভাবে নতুন। একদিকে স্যাটেলাইট পরিষেবা দুর্গম এলাকায় সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে এই পরিষেবার ব্যবসায়িক মডেল, খরচ, গ্রাহক চাহিদা এবং পরিকাঠামোগত বাস্তবতা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে।

প্রচলিত ফাইবার এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে ভারত ইতিমধ্যেই দ্রুত সম্প্রসারণের পথে এগিয়েছে। বহু এলাকায় ৫জি নেটওয়ার্ক পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি ফাইবার-ভিত্তিক ব্রডব্যান্ড পরিষেবাও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের জন্য কতটা বড় বাজার তৈরি হবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সম্ভবত এই বাস্তবতার কারণেই জিওর ভবিষ্যৎ কৌশলে ৬জি প্রযুক্তি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আকাশ আম্বানির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের গোড়ার দিকেই বাণিজ্যিকভাবে ৬জি প্রযুক্তি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে ভারতের টেলিকম শিল্পে পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল প্রযুক্তির প্রস্তুতি আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

৬জি প্রযুক্তি এখনও বিশ্বজুড়ে গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। ৫জি প্রযুক্তির তুলনায় আরও দ্রুত ডেটা পরিষেবা, অত্যন্ত কম লেটেন্সি, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর নেটওয়ার্ক এবং আরও বেশি সংখ্যক ডিভাইসকে একসঙ্গে সংযুক্ত করার মতো সম্ভাবনা ৬জির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

আগামী দিনে শুধু মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যেই ৬জির ভূমিকা সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন, স্মার্ট শহর, শিল্পক্ষেত্রে রোবোটিক্স, উন্নত ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়্যালিটি, ইন্টারনেট অব থিংস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর পরিষেবায় ৬জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

এই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি এখন থেকেই ৬জি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। ভারতও এই দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে চাইছে না। দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের টেলিকম মান নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ভারতের ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

রিলায়েন্স জিওর ৬জি নিয়ে আগাম পরিকল্পনা সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই অংশ। ৫জি পরিষেবার দ্রুত সম্প্রসারণের পর পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।

আকাশ আম্বানির বক্তব্যে ২০৩০ সালের গোড়ার দিকের সময়সীমা সামনে আসায় বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর অর্থ হল আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ৬জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার, গবেষণা, নেটওয়ার্ক প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ আরও গতি পেতে পারে।

অন্যদিকে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিয়ে জিওর আগ্রহ কমার ইঙ্গিতকে টেলিকম বাজারের বৃহত্তর পরিবর্তনের সঙ্গে দেখছেন অনেকেই। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির নিজস্ব সুবিধা থাকলেও শহর ও আধা-শহর এলাকায় উচ্চগতির ফাইবার এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ নয়। ফলে ব্যবসায়িক দিক থেকে কোন বাজারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, সেটি সংস্থাগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন সব এলাকায় যেখানে প্রচলিত টেলিকম পরিকাঠামো তৈরি করা কঠিন বা ব্যয়বহুল। পাহাড়ি অঞ্চল, প্রত্যন্ত গ্রাম, দ্বীপাঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা কিংবা দুর্গম অঞ্চলে স্যাটেলাইট সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

কিন্তু যেখানে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ফাইবার সংযোগ রয়েছে, সেখানে গ্রাহকদের জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এই বিষয়টিও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসার সম্ভাব্য বাজার নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতের মতো বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় দেশে অবশ্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের জন্য একটি বিশেষ বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের সব জায়গায় ফাইবার পৌঁছে দেওয়া বা মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করা সবসময় সহজ নয়। ফলে দুর্গম এলাকায় স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার সঙ্গে প্রযুক্তিগত এবং বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, স্পেকট্রাম, গ্রাউন্ড স্টেশন, ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি, পরিষেবার মূল্য এবং নেটওয়ার্কের ক্ষমতা—সবকিছুই এই ব্যবসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা নিয়ে নিয়ন্ত্রক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কোন সংস্থা কীভাবে পরিষেবা দেবে, স্পেকট্রাম কীভাবে বরাদ্দ হবে এবং গ্রাহকদের জন্য পরিষেবার দাম কত হবে—এই বিষয়গুলির উপর বাজারের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।

স্টারলিংকের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাও স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার বাজারে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রিলায়েন্স জিওর মতো দেশীয় টেলিকম সংস্থা যদি এই ব্যবসায় সীমিত আগ্রহ দেখায়, তবে সেটি শিল্পের কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে।

news image
আরও খবর

তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবসায় আগ্রহ কমার অর্থ যে সংস্থা পুরোপুরি এই প্রযুক্তি থেকে সরে যাচ্ছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ভবিষ্যতে প্রযুক্তির খরচ কমলে, বাজারের চাহিদা বাড়লে কিংবা ব্যবসায়িক পরিস্থিতি বদলালে সংস্থাগুলির কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে।

জিওর মূল শক্তি বর্তমানে তার বিশাল গ্রাহকভিত্তি এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া টেলিকম পরিকাঠামো। ৪জি থেকে ৫জি এবং ব্রডব্যান্ড থেকে ডিজিটাল পরিষেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্থা ইতিমধ্যেই বড় বিনিয়োগ করেছে। সেই পরিকাঠামোর উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতের ৬জি পরিষেবা তৈরি করা জিওর জন্য তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।

৬জি-র ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত ইন্টারনেটই মূল বিষয় হবে না। ভবিষ্যতের নেটওয়ার্ক আরও বুদ্ধিমান এবং স্বয়ংক্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেটওয়ার্ক পরিচালনা থেকে শুরু করে ডেটা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ভবিষ্যতের ৬জি নেটওয়ার্কে মেশিন-টু-মেশিন যোগাযোগও আরও উন্নত হতে পারে। শিল্পক্ষেত্রে একাধিক যন্ত্র নিজেদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবে। স্মার্ট কারখানা, রোবোটিক্স এবং স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রে এর ব্যবহার বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও উন্নত নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। দূরবর্তী অস্ত্রোপচার, রিমোট মনিটরিং এবং দ্রুত ডেটা আদানপ্রদানের মতো পরিষেবায় অত্যন্ত কম লেটেন্সির নেটওয়ার্ক প্রয়োজন হতে পারে। ৬জি সেই সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

শিক্ষা ও বিনোদনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং অগমেন্টেড রিয়্যালিটির উন্নত ব্যবহার, ইমারসিভ শিক্ষা এবং আরও উন্নত ডিজিটাল কনটেন্ট ৬জি প্রযুক্তির মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের জন্য ৬জি আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। দেশ বর্তমানে ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণের দিকে এগোচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন পরিষেবা, ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ই-কমার্সের মতো ক্ষেত্র দ্রুত বাড়ছে। ভবিষ্যতের উচ্চগতির নেটওয়ার্ক এই ডিজিটাল অর্থনীতির পরবর্তী ধাপকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের গোড়ায় বাণিজ্যিক ৬জি পরিষেবা চালুর লক্ষ্য ভারতের টেলিকম শিল্পের জন্য একটি বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা। তবে ৬জি বাণিজ্যিকভাবে চালু করার আগে প্রযুক্তির মান নির্ধারণ, স্পেকট্রাম, ডিভাইসের সামঞ্জস্য, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এবং গ্রাহক পরিষেবার মতো একাধিক বিষয় প্রস্তুত করতে হবে।

জিও ইতিমধ্যেই ৫জি পরিষেবা নিয়ে বড় আকারে কাজ করছে। তাই ৫জি নেটওয়ার্কের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের ৬জি প্রস্তুতিতে সংস্থাকে সাহায্য করতে পারে। ৫জি থেকে ৬জিতে যাওয়ার পথে নেটওয়ার্ক আপগ্রেড, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

অন্যদিকে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং ৬জি একে অপরের সরাসরি বিকল্প নয়। দুটি প্রযুক্তির ব্যবহার ক্ষেত্র আলাদা হতে পারে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে সংযোগের ঘাটতি পূরণ করতে পারে, আর ৬জি মূলত স্থলভিত্তিক মোবাইল নেটওয়ার্কের পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে কাজ করবে।

তাই জিওর স্যাটেলাইট ব্যবসা নিয়ে অবস্থান পরিবর্তনকে ৬জি-র সঙ্গে সরাসরি তুলনা না করে সংস্থার সামগ্রিক প্রযুক্তি কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। কোথায় বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি গ্রাহক ও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে, সেটিই সংস্থার কাছে বড় প্রশ্ন।

দেশের টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতাও আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে। একদিকে জিও, অন্যদিকে অন্যান্য বড় টেলিকম সংস্থা—সবাই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে। এর পাশাপাশি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা বাজারে প্রবেশ করলে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।

গ্রাহকদের জন্য এই প্রতিযোগিতা অবশ্য ইতিবাচক হতে পারে। নতুন প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার ফলে পরিষেবার মান বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের গতি ও সংযোগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বর্তমানে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া কঠিন, সেখানে নতুন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

আকাশ আম্বানির ৬জি সংক্রান্ত বক্তব্যের ফলে ভারতের টেলিকম ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০৩০ সাল খুব বেশি দূরের সময় নয়। ফলে এখন থেকেই ৬জি-র জন্য গবেষণা ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

ভারত ইতিমধ্যেই ৫জি প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রসর হয়েছে। আগামী দিনে সেই গতি ৬জি ক্ষেত্রেও বজায় রাখা সম্ভব হবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়। দেশীয় গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব—সবকিছুর উপর এই অগ্রগতি নির্ভর করবে।

স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্ষেত্রেও আগামী কয়েক বছর গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পরিষেবার মূল্য যদি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ে, তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর ব্যবহার বাড়তে পারে। অন্যদিকে স্থলভিত্তিক মোবাইল ও ফাইবার নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হলে স্যাটেলাইট পরিষেবার নির্দিষ্ট একটি বিশেষ বাজার তৈরি হতে পারে।

এই পরিবর্তনশীল টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিওর মতো বড় সংস্থার কৌশল তাই বিশেষ নজরে থাকবে। সংস্থা কোন প্রযুক্তিতে কতটা বিনিয়োগ করে, ৬জি গবেষণায় কী ধরনের ভূমিকা নেয় এবং স্যাটেলাইট পরিষেবা নিয়ে ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেয়—সবকিছুই ভারতের টেলিকম শিল্পের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে, স্টারলিংককে ঘিরে ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজার যখন আলোচনার কেন্দ্রে, তখন রিলায়েন্স জিওর অবস্থান নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সময়ে ২০৩০ সালের গোড়ায় বাণিজ্যিক ৬জি পরিষেবা চালুর সম্ভাবনার কথা জানিয়ে আকাশ আম্বানি ভবিষ্যতের টেলিকম প্রযুক্তি নিয়ে সংস্থার বড় পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এখন নজর থাকবে আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তির অগ্রগতি, সরকারি নীতি, বাজারের চাহিদা এবং টেলিকম সংস্থাগুলির বিনিয়োগের দিকে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কতটা জনপ্রিয় হয় এবং ৬জি কত দ্রুত বাস্তব পরিষেবায় পরিণত হয়—তার উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে। তবে আকাশ আম্বানির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভারতের টেলিকম শিল্প ইতিমধ্যেই পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

Preview image