Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের DA বকেয়া মেটানোর ঘোষণা

পুজোর আগেই সরকারি কর্মীদের বড় সুখবর! ৭ বছরের বকেয়া DA এককালীন মেটানোর সিদ্ধান্ত রাজ্যের।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা Dearness Allowance (DA) নিয়ে বড় ঘোষণা সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা DA বকেয়া মেটানোর বিষয়ে রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া DA এককালীনভাবে মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, বহু বছর ধরে যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার হিসাব নিয়ে অপেক্ষা চলছিল, সেই নির্দিষ্ট সময়ের বকেয়া এবার পরিশোধের প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে।

এই ঘোষণাকে ঘিরে রাজ্য সরকারি কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট মহলে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর আগে বকেয়া DA নিয়ে এই নির্দেশিকা প্রকাশ হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে কবে টাকা পাওয়া যাবে, কীভাবে টাকা দেওয়া হবে, কারা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন এবং কারা GPF-এর মাধ্যমে টাকা পাবেন—এই প্রশ্নগুলি সামনে এসেছে।

২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া DA

অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য অনুযায়ী মেটানো হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে সাত বছরের বকেয়া DA হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

DA বা মহার্ঘ ভাতা মূলত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামলাতে সরকারি কর্মীদের বেতনের সঙ্গে দেওয়া একটি ভাতা। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রাপ্য DA যদি কোনও কারণে সম্পূর্ণভাবে প্রদান না করা হয়ে থাকে, পরবর্তী সময়ে সেই বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এক্ষেত্রে যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছে, সেটি হল ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সময়ের প্রাপ্য বকেয়া DA হিসাব করে পরিশোধ করা হবে।

এককালীনভাবে বকেয়া টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বকেয়া DA এক কিস্তিতে বা এককালীনভাবে মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রাপ্য বকেয়া DA আলাদা আলাদা করে দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়ার পরিবর্তে একবারে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জন্য বকেয়া DA-র হিসাব এবং টাকা পাওয়ার পদ্ধতি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রত্যেক কর্মীর বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। কর্মীর পদ, বেতন কাঠামো, সংশ্লিষ্ট সময়ের প্রাপ্য DA এবং চাকরির অবস্থার ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ আলাদা হতে পারে।

তাই কোনও নির্দিষ্ট কর্মী কত টাকা পাবেন, তা সরকারি হিসাব বা সংশ্লিষ্ট দফতরের নথি ছাড়া নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

কারা কীভাবে টাকা পাবেন?

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, Group A থেকে Group C কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া DA-র টাকা GPF বা General Provident Fund অ্যাকাউন্টে জমা করার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই টাকা নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী GPF-এ থাকবে এবং তা তোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রযোজ্য হবে।

অন্যদিকে, অবসর নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে থাকা কর্মী এবং Group D কর্মীদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে সব কর্মীর জন্য একই পদ্ধতিতে টাকা দেওয়া হবে না।

এই কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিজেদের পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য, GPF সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিক রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট দফতর বা অফিসের মাধ্যমে নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

GPF-এ টাকা জমা হলে কবে পাওয়া যাবে?

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Group A থেকে Group C কর্মীদের GPF অ্যাকাউন্টে বকেয়া DA জমা করা হবে এবং সেই টাকা ৩১ মার্চ ২০২৮-এর পর তোলার সুযোগ থাকবে।

অর্থাৎ GPF-এ টাকা জমা হওয়া এবং সেই টাকা হাতে পাওয়া—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখতে হবে। GPF-এ জমা হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে নগদ টাকা হাতে পাওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী টাকা তোলার সময়সীমা কার্যকর হবে।

এই বিষয়টি কর্মীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু বকেয়া DA-র মোট পরিমাণ নয়, টাকা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হবে এবং কখন তা ব্যবহার করা যাবে—সেটিও জানা প্রয়োজন।

আগের DA বকেয়ার সঙ্গে নতুন ঘোষণার সম্পর্ক

এবারের ঘোষণার আগে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের DA/DR বকেয়া নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া DA/DR দুই কিস্তিতে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল—প্রথম কিস্তি মার্চ ২০২৬ এবং দ্বিতীয় কিস্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬।

এর ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া DA নিয়ে নতুন নির্দেশিকা এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া DA নিয়ে আগের সিদ্ধান্ত—দুটিকে আলাদা সময়সীমা হিসেবে বুঝতে হবে।

আকাশবাণীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ঘোষণার ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ২০০৮ থেকে ২০১৯ সময়কালের বকেয়া DA নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।

দুর্গাপুজোর আগে কেন এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ?

পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। পুজোর আগে সাধারণত সরকারি কর্মীদের বেতন, পেনশন এবং বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই বছরও পুজোর আগে সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশন আগাম দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ১ অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত DA কার্যকর করার ঘোষণা এবং অক্টোবরের বেতন নির্দিষ্ট সময়ের আগে দেওয়ার বিষয়েও নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে।

এর মধ্যেই পুরনো বকেয়া DA মেটানোর নির্দেশিকা প্রকাশ হওয়ায় সরকারি কর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে বকেয়া DA এবং চলতি DA-র বৃদ্ধি—এই দুটি বিষয় এক নয়। পুরনো সময়ের বকেয়া DA হল অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের প্রাপ্য অর্থ, আর বর্তমান DA হল বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে নিয়মিতভাবে প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা।

কত টাকা পাবেন কর্মীরা?

এই প্রশ্নটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকলেও কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীর বেতন, পদ, পরিষেবার সময়কাল এবং নির্দিষ্ট সময়ের DA হিসাবের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

news image
আরও খবর

তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক দেখে সেটিকে সব সরকারি কর্মীর জন্য প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট দফতরের হিসাবই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

কর্মীদের কী কী বিষয় খেয়াল রাখা উচিত?

বকেয়া DA পাওয়ার ক্ষেত্রে কর্মীদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, নিজের চাকরির রেকর্ডে নাম, কর্মী নম্বর এবং অন্যান্য পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন।

দ্বিতীয়ত, যাঁদের ক্ষেত্রে GPF-এর মাধ্যমে টাকা জমা হবে, তাঁদের GPF সংক্রান্ত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, যাঁদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাওয়ার কথা, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সরকারি রেকর্ড সঠিক থাকা জরুরি।

চতুর্থত, অবসর নেওয়ার কাছাকাছি থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

DA বকেয়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের DA নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। বকেয়া DA-র হিসাব, পরিশোধের পদ্ধতি এবং আদালতের নির্দেশ—সব মিলিয়ে বিষয়টি রাজ্যের সরকারি কর্মীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এবার অর্থ দফতরের নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের বকেয়া DA মেটানোর সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।

এর ফলে বহু কর্মীর বহু বছরের পুরনো বকেয়া সংক্রান্ত অপেক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিষ্পত্তির পথে এগোনোর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ

আকাশবাণীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া DA পরিশোধের সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত।

DA সংক্রান্ত মামলায় আদালতের বিভিন্ন নির্দেশ এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলেছে।

তাই এই নতুন নির্দেশিকাকে শুধু একটি সাধারণ DA বৃদ্ধির খবর হিসেবে না দেখে, নির্দিষ্ট পুরনো সময়ের বকেয়া পরিশোধের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা উচিত।

কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এই ঘোষণার মূল বিষয়গুলি এক নজরে দেখলে—

১. ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া DA মেটানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

২. বকেয়া DA এককালীনভাবে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

৩. Group A থেকে Group C কর্মীদের ক্ষেত্রে GPF অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করার ব্যবস্থা রয়েছে।

৪. Group D কর্মী এবং তিন মাসের মধ্যে অবসর নিতে চলা কর্মীদের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

৫. Group A থেকে Group C কর্মীদের GPF-এ জমা হওয়া অর্থ তোলার ক্ষেত্রে ৩১ মার্চ ২০২৮-এর পরের নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে আকাশবাণীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

৬. এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া DA/DR নিয়েও আলাদা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পুজোর আগে কর্মীদের জন্য আর কী ঘোষণা রয়েছে?

বকেয়া DA-র পাশাপাশি চলতি বছরের দুর্গাপুজোর আগে সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশন আগাম দেওয়ার সিদ্ধান্তও সামনে এসেছে।

 

 

 

Preview image