বেঙ্গালুরু দলের হয়ে অর্ধশতরান করে পাটীদার দলের সংগ্রহ ২০১/৮ এ পৌঁছান, যদিও কোহলি বড় রান পাননি, রাজস্থানের বিরুদ্ধে এটি একটি শক্তিশালী স্কোর।
রাজস্থান রয়্যালস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর বেঙ্গালুরুর সংগ্রামী পটীয়ান ২০১/৮ তে শেষ করল
ভারতের জনপ্রিয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আইপিএল ২০২৬-এর একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে বেঙ্গালুরু (RCB) এবং রাজস্থান রয়্যালস (RR) একে অপরের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়। দুই দলই তাদের শক্তি ও কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছিল, এবং ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছিলেন একটি দুর্দান্ত ম্যাচ দেখবেন। ম্যাচটি অনেকটাই বেঙ্গালুরুর জন্য কঠিন ছিল, কারণ তাদের টপ অর্ডার, বিশেষ করে বিরাট কোহলি, বড় রান করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তবে, ব্যাটিং অর্ডারে কিছু নতুন প্রতিভা আবির্ভূত হয়েছিল যারা বেঙ্গালুরুকে খেলার মধ্যে রাখে এবং শেষমেশ ২০১/৮ সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছিল।
রাজস্থান রয়্যালস টসে জিতে বেঙ্গালুরু ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পায়। কোহলি, যিনি বেঙ্গালুরুর মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত, এই ম্যাচে ব্যর্থ হন। শুরুতে বেশ কিছু সহজ রান সংগ্রহ করতে পারলেও, সে বড় ইনিংস খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। এক সময়ে ২০ বলে মাত্র ১১ রান নিয়ে ফিরে আসেন। কোহলির এই অল্প রান পাওয়া সত্ত্বেও বেঙ্গালুরুর দলের জন্য উদ্বেগের বিষয় ছিল, কারণ একটি বড় ইনিংস না থাকলে তারা একটি প্রতিযোগিতামূলক স্কোর তৈরি করতে পারবে না।
বেঙ্গালুরুর পরবর্তী ব্যাটসম্যানরা কিছুটা অস্থিরভাবে ব্যাট করতে থাকেন, কিন্তু এখানেই একটি বড় পরিবর্তন আসে। দলের মধ্যে ওঠে শিবম দুবে এবং মহিপাল লোমরোর আসল ভূমিকা। এই দুটি ব্যাটসম্যান দলের জন্য সত্যিই আত্মবিশ্বাস জোগান, যাদের সাহায্যে বেঙ্গালুরু পুনরায় রেকর্ড সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায়।
শিবম দুবে মাঠে নেমে কেবল ব্যাটিংয়ের শৃঙ্খলা নয়, এক নতুন উদ্যম নিয়ে খেলতে শুরু করেন। দুই হাতে ব্যাট চালিয়ে তিনি অনেক বল কাটতে থাকেন, এবং পেস বোলারদের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শট মারতে থাকেন। শিবমের ইনিংসটি একটি মুকাবিলা তৈরি করেছিল, যেখানে দলকে সামনে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার প্রতিরোধ ছিল। অন্যদিকে, মহিপাল লোমরোর ইনিংসটি ছিল শান্ত এবং প্রাঞ্জল। তাঁর ব্যাটিংয়ে সূক্ষ্মতা ছিল, এবং তিনি প্রয়োজনীয় সময়ে বল বেছে বেছে মারতে থাকেন। দুজনের মধ্যে একটি দারুণ জুটি তৈরি হয় এবং তারা বেঙ্গালুরুর স্কোর ২০১/৮ পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হন।
রাজস্থান রয়্যালস তাদের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামে এবং সবার চোখ ছিল তাদের ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের উপর। জস বাটলার এবং সঞ্জু স্যামসন ছিলেন সেই ব্যক্তিরা যাদের ব্যাটিংয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। তারা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলতে শুরু করেন, কিন্তু বেঙ্গালুরুর বোলাররা মাঠে নিজেদের শক্তি প্রকাশ করতে শুরু করে। বিশেষ করে ইউজভেন্দ্র চাহাল এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন দুই এমন বোলার যারা ম্যাচের দৃষ্টিকোণ থেকে খেলার রূপরেখা বদলে দিয়েছিলেন।
রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিংয়ের সময় খেলা বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। জস বাটলার এবং সঞ্জু স্যামসন দুজনেই প্রতিপক্ষের বোলারদের মোকাবেলা করতে শুরু করেন এবং কিছু মারাত্মক শট খেলেন। তবে, বেঙ্গালুরুর স্পিনাররা তাদের কৌশল এবং চতুরতা দিয়ে রাজস্থানকে চাপে ফেলতে থাকেন। চাহালের নিয়ন্ত্রণ এবং ম্যাক্সওয়েলের বোলিং সেগুলি তাদের মধ্যে একটি মারাত্মক আক্রমণ সৃষ্টি করে, যার ফলে রাজস্থান একটি চাপের মধ্যে পড়ে যায়।
বেঙ্গালুরুর বোলাররা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিতে সক্ষম হন, এবং রাজস্থানকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট চাপের মধ্যে রাখতে থাকেন। রাজস্থানের লক্ষ্য ২০১ রান হওয়া সত্ত্বেও, কিছু সময়ে তাদের বড় শট খেলতে না পারায় ২০ বল বাকি থাকতে তাদের রান রেট খরচ হয়ে যায়।
রাজস্থান রয়্যালসের ম্যাচে একাধিক শক্তিশালী ক্রিকেটার থাকলেও, তারা শেষ পর্যন্ত ১৮ রান প্রয়োজন ছিল ৬ বলের মধ্যে। তাদের বড় ব্যাটসম্যানরা যখন ক্রিজে উপস্থিত ছিলেন, তখন বেঙ্গালুরুর বোলাররা শেষ ওভারে বোলিং করলেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। বোলারদের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য যেভাবে তারা নিয়মিত উইকেট নিয়েছেন তা দলকে এক বিশাল দায়িত্ব থেকে মুক্তি দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত, রাজস্থান রয়্যালস তাদের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যেতে পারেনি এবং বেঙ্গালু শেষ মুহূর্তে নিজেদের প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে জয় লাভ করল।
এই ম্যাচটি বেঙ্গালুরুর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয় ছিল, কারণ তারা রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে জয় পেয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। যদিও কোহলি বড় রান পাননি, তবে শিবম দুবে এবং মহিপাল লোমরোর মতো ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাদের দলের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। আরেকদিকে, রাজস্থান রয়্যালস এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেবে এবং নিজেদের দুর্বলতাগুলোর উপর কাজ করতে থাকবে।
এই ম্যাচটি আইপিএল ২০২৬ এর এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রয়ে গেল, যেখানে বেঙ্গালুরুর সংগ্রাম এবং তাদের প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানদের কৃতিত্বের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত একটি কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পেয়েছিল। ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক অসাধারণ ম্যাচ, যা সবার মনের মধ্যে গভীরভাবে দাগ রেখে যাবে।
রাজস্থান রয়্যালস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর বেঙ্গালুরুর সংগ্রামী ইনিংস, ২০১/৮ তে শেষ করল রাবার ম্যাচ
আইপিএল ২০২৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (RCB) একে অপরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি ছিল মরিয়া ভাবে জেতার সুযোগ, কারণ প্রতিযোগিতার মধ্যবর্তী সময়ে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে থাকার জন্য তীব্র চাপ ছিল। দুই দলই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামলেও বেঙ্গালুরুর জন্য এই ম্যাচটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রধানত, তাদের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, তবে অন্য খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের সংগ্রামী ইনিংস টিকে থাকল এবং শেষমেশ ২০১/৮ সংগ্রহ করে শেষ করল।
রাজস্থান রয়্যালস টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন। বেঙ্গালুরুর দলের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল বেশ অস্বস্তিকর। রাজস্থানের পেসাররা শুরুতেই কঠিন স্পেল বোলিং করছিলেন, যেখানে তারা বেঙ্গালুরুর টপ অর্ডারকে চাপে ফেলেন। প্রথম উইকেটটা পতন হয়, যখন কোহলি ফিরে যান। প্রথমদিকে গতি এবং সুইং ভালো থাকলেও, কোহলি মাত্র ১১ রান করে ফিরে যান। এর ফলে বেঙ্গালুরু দ্রুত উইকেট হারানোর ভয়ে পড়ে। যেহেতু এটি একটি চাপের ম্যাচ ছিল, কোহলির ফিরে যাওয়া দলটির উপর এক কঠিন চাপ তৈরি করেছিল।
এখন বেঙ্গালুরুর জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল খেলার গতি ঠিক রাখা। কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানরা শুরুতে বেশ বেশ কয়েকটি খারাপ শট খেলেন। সেখানে শিবম দুবে এবং মহিপাল লোমরোর মধ্যে এক দারুণ পারফরম্যান্স দেখা যায়। লোমরো বেশ শান্তভাবে খেলতে থাকেন, আর দুবে ধীরে ধীরে তার শক্তিশালী শট খেলে কিছু বড় রান নিয়ে দলের ইনিংসকে লড়াকু অবস্থানে নিয়ে আসেন।
যতদূর কথা বলা যায়, শিবম দুবে ছিলেন এই ম্যাচের অন্যতম অগ্রগামী ব্যাটসম্যান। প্রতিপক্ষের বোলারদের মুখোমুখি হতে শিবম নিজের প্রতিভা এবং শক্তির ওপর নির্ভর করেন। তার বড় শট খেলার ক্ষমতা এবং ক্রমাগত রানের যোগান দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথম দিকে তার ব্যাটিং ছিল খুবই আক্রমণাত্মক, এবং কয়েকটি সোজা সোজা মারার জন্য তার শট ছিল দৃষ্টিনন্দন।
মহিপাল লোমরোর ইনিংসও ছিল দৃষ্টিনন্দন। তিনি নিজের দায়িত্ব বোঝেন, আর দলের প্রয়োজনীয় সময়ের মধ্যে শান্ত হয়ে গড়ে তুলেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তিনি গ্যাপ খুঁজে বের করে একের পর এক ভালো শট মারেন, তবে পাশাপাশি উইকেট হারানোর ভয়ে শট খেলা থেকে বিরত থাকেন।
এই জুটির শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু তাদের ইনিংস চালিয়ে যেতে পারে, এবং ২০১/৮ পর্যন্ত তাদের স্কোর উঠিয়ে নেয়। শিবম এবং লোমরো একে অপরকে সমর্থন প্রদান করছিলেন, যা দলের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজস্থান রয়্যালস যখন ব্যাট করতে নামেন, তাদের সামনে ২০১ রানের চ্যালেঞ্জ ছিল। তারা জানতো যে এটাই তাদের জন্য ম্যাচ জয়ের একমাত্র সুযোগ। রাজস্থানের ওপেনিং ব্যাটসম্যান, বিশেষ করে জস বাটলার এবং সঞ্জু স্যামসন, একাধিক বার এমন অবস্থায় ব্যাট করেছেন, যেখানে চাপের মধ্যে বড় রান করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে, বেঙ্গালুরুর বোলিং আক্রমণ, বিশেষ করে তাদের স্পিনাররা, রাজস্থানকে সহজে ফাঁসাতে থাকে।
যদিও রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটিংয়ের সময়, প্রথম দিকে খেলার গতি খুবই আক্রমণাত্মক ছিল, কিন্তু বেঙ্গালুরুর স্পিনাররা বোলিং শৃঙ্খলা বজায় রেখে রাজস্থানকে চাপের মধ্যে ফেলতে থাকেন। ইউজভেন্দ্র চাহাল এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল একে একে রাজস্থানের ব্যাটসম্যানদের উইকেট তুলে নেন, এবং এটি রাজস্থানের ইনিংসকে বিপদজনক পরিস্থিতিতে নিয়ে যায়।
রাজস্থান রয়্যালসের মিডল অর্ডারে সঞ্জু স্যামসন, জস বাটলার এবং রাচিন সিং আরো কয়েকটি মারাত্মক শট খেলেন, কিন্তু বেঙ্গালুরুর ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ তাদের জয়ের পথকে আরও কঠিন করে তোলে।
এদিকে, বেঙ্গালুরুর স্পিনাররা মুঠো মুঠো উইকেট তুলতে থাকেন, আর রাজস্থান রয়্যালস তাদের ধারাবাহিক আক্রমণকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। যদিও রাজস্থান বড় শট খেলছিল, তবে তারা নিয়মিত উইকেট হারাচ্ছিল, যা দলটির রানের প্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারছিল না।
শেষমেশ রাজস্থান রয়্যালসকে হারানোর জন্য বেঙ্গালুরুর বোলাররা তাদের শক্তিশালী পরিকল্পনা ধরে রাখতে সক্ষম হন। রাজস্থানকে ২০১ রানের লক্ষ্যে ১৮ রান বাকি থাকতেই তারা আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও, বেঙ্গালুরুর বোলাররা তাদের রুখে দেন। ম্যাক্সওয়েল এবং চাহাল তাদের স্পিনে রাজস্থানকে একের পর এক চাপের মধ্যে ফেলে এবং শেষ অবধি রাজস্থান ১৮ রান দূরে থাকতে ম্যাচটি হারিয়ে যায়।
এই ম্যাচটি বেঙ্গালুরুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তারা রাজস্থান রয়্যালসকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। কোহলির ব্যর্থতা সত্ত্বেও, শিবম দুবে এবং মহিপাল লোমরোর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বেঙ্গালুরু নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। বেঙ্গালুরুর বোলিংও ছিল অত্যন্ত সুষম, যেখানে চাহাল এবং ম্যাক্সওয়েল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।
রাজস্থান রয়্যালস এই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নেবে এবং আগামীতে নিজেদের আরও শক্তিশালী করার জন্য কাজ করবে। তবে, বেঙ্গালুরুর জন্য এটি ছিল একটি স্মরণীয় জয়, যা তাদের আইপিএল ২০২৬-এর প্রতিযোগিতায় নতুন করে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে।