Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

ধর্ষণ রুখতে দিল্লি পুলিশকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, বাড়াতে হবে নজরদারি

রাজধানীতে নারী নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক ধর্ষণ মামলার প্রেক্ষিতে আজ দিল্লি পুলিশকে তাঁদের কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ধর্ষণ রুখতে দিল্লি পুলিশকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর: রাজধানী দিল্লিতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। সাম্প্রতিক একাধিক ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশকে তাদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিল শীর্ষ আদালত। মহিলাদের উপর যৌন অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে আরও সক্রিয় ও কঠোর ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, শুধুমাত্র অপরাধ ঘটে যাওয়ার পর তদন্ত বা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। অপরাধ যাতে ঘটতেই না পারে, সেই পরিস্থিতি তৈরি করাও পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে সোমবার রাজধানীর সাম্প্রতিক দুটি গণধর্ষণের ঘটনা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। ওই দুই ঘটনায় নাবালিকাদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাগুলি নিয়ে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং অপরাধ প্রতিরোধে তাদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। বিচারপতির পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, রাজধানীর মতো শহরে মহিলারা যাতে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসন ও পুলিশের।

আদালত বিশেষ ভাবে জোর দিয়েছে অপরাধীদের মনে আইনের ভয় তৈরি করার উপর। বিচারপতির বক্তব্য অনুযায়ী, অপরাধীদের মনে যতক্ষণ পর্যন্ত কঠোর শাস্তির ভয় তৈরি না হবে, ততক্ষণ এই ধরনের অপরাধ সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল করা কঠিন। পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি এবং নিয়মিত নজরদারি অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি দিল্লিতে পর পর দুটি গণধর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। একটি ঘটনায় স্লিপার বাসের মধ্যে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অন্য ঘটনাটি ঘটে দিল্লির একটি বালিকা মহাবিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায়। অভিযোগ, কলেজ থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরের একটি পার্কে নাবালিকাকে গণধর্ষণ করা হয়। দুটি ঘটনাই রাজধানীর নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

এই ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লি পুলিশের কাছে আদালত জানতে চায়, অপরাধ প্রতিরোধে আগে থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি পারদিওয়ালা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আগে থেকেই সতর্কবার্তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়গুলিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আদালতের প্রশ্ন, যখন কোনও এলাকায় সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে আগাম সতর্কতা থাকে, তখন পুলিশ কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে না?

শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, অপরাধ ঘটার পর তদন্ত চালানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলিকে আগে থেকেই চিহ্নিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেখানে নিয়মিত অসামাজিক কার্যকলাপ হয়, মদ্যপানের আসর বসে অথবা দুষ্কৃতীদের আনাগোনা রয়েছে, সেই জায়গাগুলিতে নজরদারি বাড়াতে হবে। কলেজ ক্যাম্পাস এবং তার আশপাশের এলাকাতেও পুলিশের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে আদালত জানিয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ও যৌন অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার উপরও জোর দিয়েছে আদালত। জাতীয় ডেটাবেসের সাহায্যে যৌন অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে থাকা তথ্যের সঙ্গে জাতীয় স্তরের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতির বক্তব্যে উঠে আসে ২০১২ সালের দিল্লির নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলার প্রসঙ্গও। সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে আদালত জানায়, ওই ঘটনার অভিযুক্তরাও অপরাধ সংঘটনের আগে মদ্যপান করেছিল। ফলে মদ্যপান ও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ জায়গাগুলির উপর নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।

আদালতের নির্দেশ শুধু অপরাধীদের গ্রেফতার বা তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আগামী চার সপ্তাহে যাতে এই ধরনের আর কোনও ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য দিল্লি পুলিশকে বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি আরও বাড়তে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে টহলদারি, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপর নজর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে।

news image
আরও খবর

নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে আদালতের এই কড়া অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লিতে মহিলা ও নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নির্জন রাস্তা, পার্ক, গণপরিবহণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আদালতের বক্তব্যে সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে।

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো বা ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করাই যথেষ্ট নয়। পুলিশের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল অপরাধের সম্ভাবনা আগে থেকে বুঝে তা প্রতিরোধ করা। কোনও এলাকায় অপরাধের আশঙ্কা থাকলে সেখানে নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু পুলিশি ব্যবস্থা নয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকারও প্রয়োজন। কলেজ ও স্কুলের আশপাশে আলো, সিসিটিভি, নিরাপদ যাতায়াত এবং দ্রুত পুলিশি সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আদালতের নির্দেশের পর এই বিষয়গুলির উপর প্রশাসন নতুন করে জোর দিতে পারে।

দিল্লি পুলিশের কাছে আদালতের মূল বার্তা হল—অপরাধ ঘটে যাওয়ার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব এলাকায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা রয়েছে বা মদ্যপানের মতো কার্যকলাপ নিয়মিত হয়, সেগুলিকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যৌন অপরাধে পূর্বে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকি চিহ্নিত করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক গণধর্ষণের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া মন্তব্য দিল্লির নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের উপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। আগামী চার সপ্তাহে এই ধরনের ঘটনা ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে পুলিশের তৎপরতা কতটা বাড়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি কতটা কার্যকর হয়, তা আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর: রাজধানীতে নারী নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক গণধর্ষণের ঘটনায় দিল্লি পুলিশকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানায়, যৌন অপরাধ ঠেকাতে অপরাধীদের মনে আইনের ভয় তৈরি করা জরুরি। সম্প্রতি দিল্লিতে দুটি নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশি ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। কলেজ চত্বর, খাবারের দোকান ও মদ্যপানের আসরের মতো জায়গাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ডেটাবেসের সাহায্যে যৌন অপরাধীদের শনাক্ত করে সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরির কথাও বলা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহে এমন অপরাধ যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশকে আরও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

পুলিশের কাছে আদালতের মূল বার্তা হল—অপরাধ ঘটে যাওয়ার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব এলাকায় দুষ্কৃতীদের আনাগোনা রয়েছে বা মদ্যপানের মতো কার্যকলাপ নিয়মিত হয়, সেগুলিকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যৌন অপরাধে পূর্বে অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য ব্যবহার করে ঝুঁকি চিহ্নিত করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই ধরনের অপরাধ যাতে আর না ঘটে, আদালতের এই নির্দেশকে তাই একটি বিশেষ সময়সীমা হিসাবেও দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে দিল্লি পুলিশ কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়, কতটা নজরদারি বাড়ায় এবং সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলিকে কী ভাবে চিহ্নিত করে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীতে সাম্প্রতিক গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের কড়া মন্তব্য দিল্লির নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের উপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। আদালত যে বার্তা দিয়েছে, তা স্পষ্ট—শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নিলে চলবে না, অপরাধের আগেই তা প্রতিরোধ করতে হবে। অপরাধীদের মনে আইনের ভয় তৈরি করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো এবং সম্ভাব্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য ব্যবহার করে আগাম সতর্ক হওয়াই এখন পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

আগামী দিনে দিল্লি পুলিশ কী ভাবে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে, সেদিকেই নজর থাকবে। বিশেষ করে চার সপ্তাহের মধ্যে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা আরও কতটা নিশ্চিত করা যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কতটা পরিবর্তন আসে, তা সময়ই বলবে। তবে আদালতের বার্তা স্পষ্ট—রাজধানীর কোনও মহিলা বা নাবালিকাকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রেখে প্রশাসন তার দায়িত্ব এড়াতে পারে না।

Preview image