৬৯ বছরেও দুর্দান্ত ফিট Anil Kapoor নিয়মিত জিম ওয়েট ট্রেনিং কার্ডিও আর আইস বাথ শৃঙ্খলাবদ্ধ লাইফস্টাইলই তাঁর এনার্জি আর তারুণ্যের আসল রহস্য।
বলিউডে এমন কিছু অভিনেতা আছেন, যাঁদের বয়স যেন কেবল সংখ্যা মাত্র। তাঁদের দেখলে বোঝার উপায় থাকে না সময় ঠিক কতটা পেরিয়েছে। সেই তালিকার একেবারে প্রথম সারিতেই রয়েছেন Anil Kapoor। ৬৯ বছর বয়সেও তাঁর সুঠাম বাহু, শক্তপোক্ত পেশি এবং চনমনে উপস্থিতি আজও দর্শকদের অবাক করে।
শুধু পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও তিনি ফিটনেসের এক জীবন্ত উদাহরণ। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বারের ভিতরে দেখা যায়। ছবিটি শেয়ার করেছিলেন আর এক বর্ষীয়ান অভিনেতা Anupam Kher। সেই থেকেই আবার নতুন করে আলোচনায় আসে তাঁর ফিটনেস রুটিন।
হাইপারবারিক অক্সিজেন চেম্বার এখন সেলিব্রিটিদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এই থেরাপিতে শরীরকে উচ্চচাপের অক্সিজেন দেওয়া হয়, যা কোষ পুনর্গঠন, দ্রুত রিকভারি এবং এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।
Anil Kapoor-এর ক্ষেত্রেও এই থেরাপি তাঁর ফিটনেস রুটিনের একটি অংশ। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি শরীরের বয়সজনিত ক্ষয় ধীর করতে সহায়ক হতে পারে। ফলে শুধু অভিনেতা নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
ফিট থাকার জন্য কোনও শর্টকাট নেই—এই কথাটি বারবার প্রমাণ করেছেন Anil Kapoor। তাঁর ফিটনেসের মূল ভিত্তি হল নিয়মিত এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ শরীরচর্চা।
তিনি মূলত যে ধরনের ব্যায়াম করেন—
এই সব মিলিয়ে তাঁর শরীরের গঠন বজায় থাকে, পেশির শক্তি বাড়ে এবং এনার্জি লেভেলও উচ্চ থাকে।
ডাম্বেল শোল্ডার প্রেস একটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যায়াম, যা কাঁধ ও বাহুর পেশি মজবুত করে। এই ব্যায়ামে দুই হাতে ডাম্বেল তুলে মাথার উপরে প্রেস করতে হয়।
নিয়মিত এই ব্যায়াম করলে—
চেস্ট প্রেস স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মেশিন, ডাম্বেল বা বারবেল—যেকোনও মাধ্যমেই করা যায়।
এর উপকারিতা—
বাইসেপ কার্ল এবং হ্যামার কার্ল—এই দুই ব্যায়াম বাহুর গঠন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
? বাইসেপ কার্ল:
? হ্যামার কার্ল:
এই ব্যায়ামটি দেখতে সহজ হলেও অত্যন্ত কার্যকর।
উপকারিতা—
শুধু পেশি গঠনই নয়, হার্ট সুস্থ রাখতেও কার্ডিও অত্যন্ত জরুরি। দৌড়ানো, সাইক্লিং বা ট্রেডমিল—এসবই তাঁর রুটিনের অংশ।
কার্ডিওর উপকারিতা—
ওয়ার্কআউটের পরে বরফজলে স্নান এখন সেলিব্রিটিদের মধ্যে ট্রেন্ড। Anil Kapoor নিজেও এটি নিয়মিত করেন।
ক্রায়োথেরাপির সুবিধা—
বাথটবের জলের তাপমাত্রা সাধারণত ১০–১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রাখা হয় এবং প্রায় ১০–১৫ মিনিট ডুবে থাকতে হয়।
এই ধরনের স্ট্রেংথ ট্রেনিং ও ফিটনেস রুটিন অনুসরণ করেন দক্ষিণী সুপারস্টার Rajinikanth-ও। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বয়স বাড়লেও ফিট থাকা এখন আর অসম্ভব নয়—যদি নিয়ম মেনে চলা যায়।
Anil Kapoor বারবার বলেছেন—ফিটনেস কোনও একদিনের ব্যাপার নয়, এটি একটি লাইফস্টাইল।
তার জন্য প্রয়োজন—
শরীরচর্চা, ডায়েট, জিম—এসবের গুরুত্ব নিয়ে আমরা প্রায়ই আলোচনা করি। কিন্তু একটি বিষয় অনেক সময়ই আড়ালে থেকে যায়, তা হল মানসিক ফিটনেস। অথচ দীর্ঘদিন সুস্থ, সক্রিয় এবং প্রাণবন্ত থাকতে গেলে শরীরের পাশাপাশি মনকেও সমানভাবে যত্ন নেওয়া জরুরি। Anil Kapoor-এর জীবনযাপন এই কথাটিকেই বারবার প্রমাণ করে।
ব্যস্ত পেশা, অনিয়মিত সময়সূচি, শুটিংয়ের চাপ—সব কিছু সামলেও কী ভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট ও এনার্জেটিক রাখেন, তার একটি বড় কারণ তাঁর ইতিবাচক মানসিকতা। জীবনের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বিশ্বাস করেন, মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে। এই মানসিক শক্তিই তাঁকে প্রতিদিন নতুন উদ্যমে কাজ করতে সাহায্য করে।
স্ট্রেস আজকের দিনে এক বড় সমস্যা। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু Anil Kapoor স্ট্রেসকে নিজের উপর ভর করতে দেন না। তিনি নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে যেমন শরীরকে সচল রাখেন, তেমনই বিভিন্ন উপায়ে মানসিক চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখেন। জিমে সময় কাটানো, নিজের পছন্দের কাজ করা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—এই সবই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এছাড়া, লাইফস্টাইল ব্যালান্স তাঁর ফিটনেসের অন্যতম মূলমন্ত্র। শুধুমাত্র কাজ বা শুধুমাত্র বিশ্রাম—কোনও একদিকে ঝুঁকে না পড়ে, তিনি জীবনের প্রতিটি দিককে সমান গুরুত্ব দেন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সময়মতো বিশ্রাম—এই সবই তাঁর দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। এর ফলে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকে।
মানসিক ফিটনেস বজায় রাখতে আত্মনিয়ন্ত্রণও অত্যন্ত জরুরি। নিয়ম মেনে চলা, নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা এবং নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা—এই গুণগুলি Anil Kapoor-এর মধ্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তিনি কখনও শর্টকাটে বিশ্বাস করেন না। বরং ধীরে ধীরে, নিয়মিত পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার পক্ষপাতী।
বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবেও অনেক সময় মানুষ মানসিক চাপে পড়ে যান। অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করা, দ্রুত ফল পাওয়ার চেষ্টা—এসবই মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু Anil Kapoor এই ফাঁদে পা দেন না। তিনি নিজের গতিতে, নিজের নিয়মে চলেন—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তাঁর ফিটনেসের সাফল্যের পিছনে যতটা ভূমিকা রয়েছে শরীরচর্চার, ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ তাঁর মানসিক দৃঢ়তা এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা।
৬৯ বছর বয়সেও Anil Kapoor যে অসাধারণ এনার্জি, ফিটনেস এবং তারুণ্য ধরে রেখেছেন, তা নিছক কাকতালীয় নয়। এর পিছনে রয়েছে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা এক কঠোর শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং মানসিক সুস্থতা—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে তাঁর ফিটনেসের ভিত।
আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই তাড়াহুড়ো করে ফল পেতে চাই। অল্প সময়ে ওজন কমানো, দ্রুত পেশি গঠন—এসবের জন্য শর্টকাট খুঁজতে গিয়ে অনেকেই নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে ফেলেন। কিন্তু Anil Kapoor-এর জীবন আমাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শিক্ষা দেয়।
তিনি দেখিয়েছেন, ফিটনেস কোনও একদিনের লক্ষ্য নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, নিয়মিত পরিশ্রম এবং নিজের প্রতি দায়বদ্ধতা—এই সব মিলিয়েই তৈরি হয় একটি সুস্থ জীবন। ধৈর্য ধরে নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে গেলে তবেই সাফল্য আসে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ধারাবাহিকতা। অনেকেই কিছুদিন নিয়ম মেনে চলার পর আবার পুরনো অভ্যাসে ফিরে যান। কিন্তু Anil Kapoor কখনও এই ধারাবাহিকতা ভাঙেন না। বয়স বাড়লেও তিনি নিজের রুটিন থেকে সরে আসেননি—এটাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
তাঁর জীবন থেকে আমরা যে শিক্ষাটি সবচেয়ে বেশি পাই, তা হল—
? বয়স কখনও বাধা নয়, যদি আপনার মন ও শরীর দুটোই শক্তিশালী থাকে।
? নিয়মিত চর্চা, সঠিক অভ্যাস এবং ইতিবাচক মানসিকতা—এই তিনটিই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
সবশেষে বলা যায়, Anil Kapoor শুধু একজন সফল অভিনেতাই নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণা। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, যদি ইচ্ছাশক্তি ও শৃঙ্খলা থাকে, তবে বয়স কেবল একটি সংখ্যা—তার বেশি কিছু নয়।