পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, পছন্দের খাবার, সিনেমা আর ঠাকুর দেখা। ষষ্ঠী থেকে দশমী—পাঁচদিন ধরে সেই আনন্দেই মেতে ওঠে হোমের ছোটোরাও। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা আয়োজন, খাওয়া-দাওয়া আর ঘোরাঘুরিতে জমে ওঠে তাদের শারদোৎসব।
দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ। নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, ঠাকুর দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, পছন্দের খাবার আর সিনেমা—বাঙালির কাছে পুজোর এই কয়েকটা দিন যেন সারা বছরের অপেক্ষার অবসান। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চারপাশে শুধু উৎসবের আমেজ। আর এই আনন্দে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত থাকে ছোটোরাই। নতুন জামা পরে সকাল সকাল তৈরি হয়ে যাওয়া, কখন ঠাকুর দেখতে বেরোবে সেই অপেক্ষা, পছন্দের খাবারের আবদার আর বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়—সব মিলিয়ে পুজোর পাঁচদিন যেন তাদের কাছে একেবারে আলাদা জগত।
এই উৎসবের আনন্দ থেকে পিছিয়ে নেই হোমের ছোটোরাও। বছরের অন্য সময় নিয়ম, সময়সূচি এবং নানা দায়িত্বের মধ্যে কাটলেও পুজোর দিনগুলিতে তাদের মুখেও ফুটে ওঠে অন্যরকম হাসি। ষষ্ঠী থেকেই শুরু হয় নতুন জামাকাপড় পরার পর্ব। কেউ নতুন পাঞ্জাবি পরে, কেউ নতুন ফ্রক বা পোশাক পরে, কেউ আবার পছন্দের সাজে তৈরি হয়ে অপেক্ষা করে কখন শুরু হবে ঠাকুর দেখা। পুজোর দিনগুলিতে তাদের আনন্দের তালিকায় থাকে খাওয়া-দাওয়া, সিনেমা দেখা, ঘোরাঘুরি এবং একসঙ্গে সময় কাটানো।
পুজো মানেই যে শুধু মণ্ডপে গিয়ে প্রতিমা দর্শন, তা নয়। শিশু-কিশোরদের কাছে পুজো মানে নতুন অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তাদের দিন কাটে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন পোশাক পরা, নিজেদের মধ্যে সাজগোজ নিয়ে গল্প করা, তারপর খাওয়াদাওয়া করে দল বেঁধে বেরিয়ে পড়া—পুজোর এই রুটিনই যেন তাদের কাছে সবচেয়ে আনন্দের।
ষষ্ঠীর দিন থেকেই শুরু হয় পুজোর আসল উন্মাদনা। মণ্ডপে প্রতিমা দর্শন, আলোকসজ্জা দেখা এবং পুজোর পরিবেশ উপভোগ করার জন্য ছোটোরাও তৈরি হয়ে যায়। নতুন পোশাক পরে যখন তারা একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ে, তখন তাদের চোখেমুখে দেখা যায় আলাদা উচ্ছ্বাস। কার পোশাক কেমন, কে কী খাবে, কোথায় যাবে—এই নিয়েই চলে নানা আলোচনা।
হোমের ছোটোদের কাছে এই কয়েকটা দিন আরও বিশেষ হয়ে ওঠে একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ থাকায়। বছরের অন্যান্য সময়ে প্রত্যেকে নিজের নিজের পড়াশোনা, কাজ কিংবা নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্যে থাকে। কিন্তু পুজোর সময় সেই ব্যস্ততার অনেকটাই যেন পিছনে পড়ে যায়। সকলে মিলে খাওয়া, গল্প করা, খেলা, সিনেমা দেখা কিংবা ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়ার মধ্যে দিয়ে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
পুজোর আনন্দে খাবারের ভূমিকা অবশ্যই আলাদা। নতুন জামার পাশাপাশি পছন্দের খাবারের জন্যও থাকে ছোটোদের বিশেষ আবদার। বিরিয়ানি হোক বা ফুচকা, চাউমিন হোক বা পছন্দের মিষ্টি—পুজোর দিনগুলিতে খাবারের তালিকায় যেন কোনও বাধা নেই। কখনও দুপুরের জমিয়ে খাওয়া, কখনও বিকেলের টিফিন, আবার কখনও রাতে পছন্দের খাবার—পুজোর পাঁচদিনে খাবার ঘিরেও থাকে অনেক আনন্দ।
হোমের ছোটোদের জন্য এই খাওয়া-দাওয়া শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়। একসঙ্গে বসে খাওয়ার মধ্যেও থাকে উৎসবের আনন্দ। কে আগে খাবার নেবে, কে কোন পদ বেশি পছন্দ করে, কার প্লেটে কী রয়েছে—এই ছোট ছোট বিষয় নিয়েই তৈরি হয় হাসি-ঠাট্টার পরিবেশ। অনেক সময় পছন্দের খাবার সামনে এলে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে খাওয়ার ছবিও দেখা যায়। ফলে খাবার হয়ে ওঠে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার অন্যতম মাধ্যম।
পুজোর সময় সিনেমা দেখার আনন্দও আলাদা। নতুন সিনেমা হোক বা বহুদিনের পছন্দের কোনও ছবি, একসঙ্গে বসে সিনেমা দেখার আয়োজন ছোটোদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। বাইরে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি হোমের ভিতরেও যাতে উৎসবের পরিবেশ বজায় থাকে, সেই কারণে বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করা হয়। সিনেমা দেখতে দেখতে হাসি, গল্প আর নানা মন্তব্যে জমে ওঠে সময়।
সিনেমা শেষ হওয়ার পরও আলোচনার শেষ থাকে না। কে কোন চরিত্রকে পছন্দ করল, কোন দৃশ্য ভালো লাগল, কোন জায়গায় হাসি পেল—এসব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা চলে। কখনও আবার পরের দিন কী করা হবে, কোথায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া হবে, কী খাওয়া হবে—সেই পরিকল্পনাও তৈরি হয়ে যায়।
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য সবকিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। দুর্গাপুজোর মূল আকর্ষণই হল দেবী দুর্গার দর্শন। পুজোর পাঁচদিনে বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে ঠাকুর দেখার জন্য ছোটোরাও ভীষণ উৎসাহী। নতুন জামা পরে দল বেঁধে মণ্ডপে যাওয়া, আলো দেখা, প্রতিমা দেখা এবং ছবি তোলা—সবই তাদের কাছে স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
অনেক শিশুর কাছে পুজোর মণ্ডপে যাওয়ার অর্থ নতুন নতুন জিনিস দেখা। কোনও মণ্ডপে থিম, কোথাও আলোকসজ্জা, কোথাও আবার বিশাল প্রতিমা—প্রতিটি মণ্ডপই তাদের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। এক মণ্ডপ থেকে অন্য মণ্ডপে যাওয়ার পথে রাস্তার আলো, মানুষের ভিড়, খাবারের দোকান এবং উৎসবের পরিবেশও তাদের আনন্দের অংশ হয়ে ওঠে।
পুজোর সময় নতুন জামাকাপড়ের গুরুত্বও কম নয়। সারা বছর ধরে অনেক শিশু অপেক্ষা করে পুজোর নতুন পোশাকের জন্য। কে কী পরবে, কোন দিনে কোন পোশাক পরবে—সেটা নিয়েও আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আলাদা আলাদা পোশাক পরার সুযোগ থাকলে তো আনন্দ আরও বেশি। নতুন জামা পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখা, বন্ধুদের দেখানো এবং ছবি তোলা—সবকিছুই পুজোর স্মৃতির অংশ হয়ে যায়।
হোমের ছোটোদের ক্ষেত্রেও নতুন পোশাকের আনন্দ একইরকম। পুজোর আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। নতুন জামা হাতে পাওয়ার পর সেটি পরে দেখার আগ্রহ, তারপর পুজোর দিন সকালে নতুন পোশাকে সেজে ওঠা—এই মুহূর্তগুলির মধ্যে থাকে এক ধরনের নির্মল আনন্দ। পুজোর দিনে নতুন পোশাক পরা যেন তাদের উৎসবের প্রথম ঘোষণা।
ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিটি দিনেরই রয়েছে আলাদা আবহ। ষষ্ঠীতে পুজোর সূচনার উত্তেজনা, সপ্তমীতে উৎসবের গতি বাড়া, অষ্টমীতে পুজোর আবেগ, নবমীতে আনন্দের চূড়ান্ত পর্ব এবং দশমীতে বিদায়ের আবহ—এই পাঁচদিনের প্রতিটি মুহূর্তই ছোটোদের কাছে আলাদা। তবে আনন্দের ক্ষেত্রে পাঁচদিনই যেন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সপ্তমীর দিন থেকে পুজোর ভিড় আরও বাড়তে থাকে। মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। এই সময় ছোটোরাও আরও বেশি উৎসাহ নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। পুজোর পরিবেশ যত জমে ওঠে, তাদের আনন্দও তত বাড়ে। কোথাও ঢাকের শব্দ, কোথাও মাইকে পুজোর গান, কোথাও আবার আলোর ঝলকানি—সবকিছু মিলে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
অষ্টমী অবশ্য বাঙালির পুজোয় বিশেষ দিন। অঞ্জলি, পুষ্পাঞ্জলি এবং পুজোর নানা আচার ঘিরে বড়দের ব্যস্ততা থাকলেও ছোটোরাও নিজেদের মতো করে উৎসব উপভোগ করে। অনেকেই অঞ্জলি দেওয়ার জন্য নতুন পোশাক পরে প্রস্তুত হয়। তারপর থাকে খাওয়া-দাওয়া এবং ঘোরাঘুরি। অষ্টমীর দিন পছন্দের খাবারের আয়োজন থাকলে আনন্দ আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।
নবমী হল পুজোর আনন্দের প্রায় শেষ বড় দিন। তাই এই দিনটিকে ঘিরে ছোটোদের উচ্ছ্বাসও থাকে তুঙ্গে। পুজোর বাকি দিনগুলিতে কোথায় যাওয়া হয়নি, কোন খাবার খাওয়া হয়নি কিংবা কোন সিনেমা দেখা হয়নি—সবকিছু শেষ করে নেওয়ার যেন তাড়া থাকে। ফলে নবমীর দিনটি অনেকের কাছেই হয়ে ওঠে সবচেয়ে ব্যস্ত এবং আনন্দের দিন।
দশমীর আবহ আবার কিছুটা অন্যরকম। বিসর্জনের কারণে আনন্দের পাশাপাশি থাকে মনখারাপ। এতদিন ধরে যে নতুন জামা, ঠাকুর দেখা, খাওয়া-দাওয়া আর আনন্দ চলছিল, তা শেষের পথে। হোমের ছোটোরাও সেই বিদায়ের আবহ অনুভব করে। তবুও দশমীর দিনেও থাকে নানা আয়োজন। একসঙ্গে সময় কাটানো, মিষ্টিমুখ এবং শেষবারের মতো পুজোর পরিবেশ উপভোগ করার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় শারদোৎসবের পাঁচদিন।
এই পাঁচদিন ছোটোদের জীবনে শুধু আনন্দের সময় নয়, বরং স্মৃতি তৈরি করার সময়ও। অনেক শিশুর কাছে পুজোর দিনগুলিতে পাওয়া ছোট ছোট আনন্দই পরে বড় স্মৃতি হয়ে থাকে। একসঙ্গে সিনেমা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া, নতুন পোশাক পরে ছবি তোলা কিংবা ঠাকুর দেখতে গিয়ে হাসাহাসি—এই মুহূর্তগুলো তাদের মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।
হোমের ছোটোদের জন্য এই ধরনের আয়োজন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একসঙ্গে এতজনের সঙ্গে উৎসব পালন করার সুযোগ তাদের কাছে বিশেষ আনন্দের। পুজোর সময় সবাই মিলে একটি পরিবারের মতো আনন্দে মেতে ওঠে। কারও নতুন জামা দেখে অন্যরা খুশি হয়, কেউ খাবার ভাগ করে নেয়, কেউ আবার অন্যকে ঠাকুর দেখার জন্য সঙ্গে নিয়ে যায়। এই পারস্পরিক আনন্দ এবং বন্ধুত্ব পুজোর আবহকে আরও সুন্দর করে তোলে।
পুজোর আনন্দের সঙ্গে তাই জড়িয়ে থাকে একসঙ্গে থাকার অনুভূতি। ছোটোদের কাছে পুজো শুধু নিজের আনন্দ নয়, অন্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ারও সময়। হোমের পুজোর আয়োজন সেই জায়গা থেকেই আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে। একসঙ্গে খাওয়া, একসঙ্গে সিনেমা দেখা, একসঙ্গে বাইরে বেরোনো—সবকিছুই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।
পুজোর পাঁচদিনের খাবারের তালিকাও হয়ে ওঠে আলোচনার অন্যতম বিষয়। কোন দিন কী রান্না হবে, দুপুরে কী থাকবে, বিকেলে কী খাওয়া হবে—এই প্রশ্নগুলো নিয়েই শুরু হয় উৎসাহ। পছন্দের খাবারের নাম শুনলেই ছোটোদের চোখেমুখে আনন্দ ফুটে ওঠে। খাওয়ার সময় আবার কে কতটা খেল, কে কোন পদ বেশি নিল—এসব নিয়েও চলে হাসি-ঠাট্টা।
খাবারের পাশাপাশি মিষ্টিও পুজোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। মিষ্টি, আইসক্রিম কিংবা অন্যান্য পছন্দের খাবার ছোটোদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয়। পুজোর সময় সাধারণ দিনের তুলনায় একটু বেশি খাওয়ার সুযোগ পাওয়াটাও তাদের কাছে উৎসবের একটি অংশ। ফলে খাওয়া-দাওয়া নিয়ে থাকে আলাদা উত্তেজনা।
সিনেমার পাশাপাশি গান, খেলা এবং আড্ডাও পুজোর দিনগুলির অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। ছোটোরা নিজেদের মধ্যে নানা খেলা খেলতে পারে, গান শুনতে পারে কিংবা একসঙ্গে বসে গল্প করতে পারে। দিনের শেষে যখন সবাই একসঙ্গে থাকে, তখন সাধারণ একটি মুহূর্তও উৎসবের স্মৃতিতে পরিণত হয়।
পুজোর সময় বাইরের আলোর পাশাপাশি ছোটোদের মুখের হাসিও যেন উৎসবের আসল আলো। নতুন পোশাকে সেজে তাদের ছুটে চলা, একে অপরকে ডাকাডাকি করা, পছন্দের খাবারের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা সিনেমা শুরু হওয়ার আগে উত্তেজনায় বসে থাকা—এই ছোট ছোট দৃশ্যই শারদোৎসবকে সম্পূর্ণ করে।
বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে ছোটোদের সম্পর্ক বরাবরই গভীর। পুজো এলেই তাদের মনে প্রথমে আসে আনন্দের কথা। স্কুলের ছুটি, পড়াশোনার চাপ কিছুটা কমে যাওয়া, নতুন জামাকাপড়, ঘোরাঘুরি এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে পুজোর দিনগুলি তাদের কাছে বছরের অন্যতম প্রিয় সময়। হোমের ছোটোরাও সেই আনন্দের অংশ।
তাদের এই আনন্দের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিরাপদ এবং আনন্দময় পরিবেশ। বড়রা যখন তাঁদের পাশে থাকেন, তখন ছোটোরাও আরও স্বচ্ছন্দে উৎসব উপভোগ করতে পারে। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, খাওয়া-দাওয়া এবং বিনোদনের আয়োজন তাদের জন্য পুজোকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
দুর্গাপুজোর সময় শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় বাড়ে। কিন্তু সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করা সম্ভব না হলেও উৎসবের আনন্দ নিজের জায়গা থেকেই উপভোগ করা যায়। হোমের ছোটোদের জন্যও সেই আনন্দের ব্যবস্থা থাকলে তারা নিজেদের মতো করে পুজো উপভোগ করতে পারে। কখনও বাইরে ঠাকুর দেখতে যাওয়া, কখনও ভিতরে সিনেমা দেখা, আবার কখনও সবাই মিলে খাওয়া—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয় পূর্ণাঙ্গ উৎসবের আবহ।
এই পাঁচদিনের আনন্দে কোনও নির্দিষ্ট বয়সের সীমা নেই। ছোটোরা যেমন আনন্দ করে, তেমনই তাঁদের সঙ্গে থাকা বড়রাও তাঁদের আনন্দ দেখে খুশি হন। শিশুদের মুখের হাসি অনেক সময় পুজোর আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলে। তাঁদের আবদার, কৌতূহল এবং উচ্ছ্বাসই যেন পুজোর প্রাণ।
ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত তাই হোমের ছোটোদের দিন কাটে নানা ব্যস্ততায়। কখনও নতুন জামা পরে তৈরি হওয়া, কখনও ঠাকুর দেখতে বেরোনো, কখনও সিনেমা দেখা, কখনও পছন্দের খাবারের অপেক্ষা—এক মুহূর্তও যেন ফাঁকা নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের জন্য কোনও না কোনও আনন্দের আয়োজন থাকেই।
পুজোর শেষ দিনে অবশ্য থাকে আবেগ। এতদিনের আনন্দ শেষ হয়ে যাচ্ছে—এই উপলব্ধি ছোটোদের মধ্যেও দেখা যায়। বিসর্জনের সময় অনেকের মন খারাপ হয়। কিন্তু পরের বছর আবার পুজো আসবে, আবার নতুন জামা হবে, আবার ঠাকুর দেখা হবে—এই আশাতেই শেষ হয় শারদোৎসবের আনন্দ।
সব মিলিয়ে, পুজোর পাঁচদিন হোমের ছোটোদের কাছে হয়ে ওঠে আনন্দ, খাবার, সিনেমা, ঘোরাঘুরি এবং বন্ধুত্বের এক অনন্য উৎসব। ষষ্ঠীর নতুন পোশাক থেকে দশমীর বিদায়—প্রতিটি দিনেই থাকে নতুন কিছু করার আনন্দ। তাঁদের হাসি, উচ্ছ্বাস এবং প্রাণচাঞ্চল্যই যেন পুজোর আসল সৌন্দর্যকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
দুর্গাপুজো শেষ হয়ে গেলেও এই পাঁচদিনের স্মৃতি থেকে যায় দীর্ঘদিন। নতুন জামার ছবি, ঠাকুর দেখার মুহূর্ত, একসঙ্গে খাওয়ার স্মৃতি, সিনেমা দেখার আনন্দ কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে করা হইহুল্লোড়—সবই হয়ে ওঠে ভবিষ্যতের গল্প। আর সেই কারণেই হোমের ছোটোদের কাছে ষষ্ঠী থেকে দশমী শুধু পাঁচটি দিন নয়, বরং সারা বছর অপেক্ষা করে থাকার মতো এক বিশেষ সময়।
নতুন জামাকাপড়, দেদার খাওয়া-দাওয়া, সিনেমা, ঠাকুর দেখা আর বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড়—এই পাঁচদিনেই যেন তাদের ছোট্ট পৃথিবীটা আরও রঙিন হয়ে ওঠে।