Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

গয়েশপুর পঞ্চায়েতে উত্তেজনা প্রধানের ওপর হামলার অভিযোগে চাঞ্চল্য

নদীয়ার শান্তিপুরে গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল ঘোষের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল তৃণমূলের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে, যদিও বিজেপি পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঘটনাকে  নাটক বলে দাবি করেছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল ঘোষের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার ভরদুপুরে পঞ্চায়েত অফিস থেকে বেরোনোর সময় একদল দুষ্কৃতী তাঁর ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় গুরুতর জখম হন পঞ্চায়েত প্রধান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শান্তিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। হামলার সময় তাঁকে পদত্যাগ করার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন শ্যামল ঘোষ। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই তাঁর অভিযোগ। তিনি দাবি করেছেন, গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বোর্ড দখলের চেষ্টা করছে বিজেপি এবং সেই কারণেই তাঁকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ঘটনার পর শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধান। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর আগেও তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও কটুক্তির মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি ঘটনার দিনও পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরে তাঁকে কটাক্ষ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, শ্যামল ঘোষ একসময় বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে জয়ী হলেও পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগদান করেন। সেই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়তে শুরু করে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বর্তমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শান্তিপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

যদিও এই হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের দাবি, পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় দুর্নীতি, কাটমানি এবং তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তিনি বিজেপির প্রতীকে জয়লাভ করার পর দুর্নীতি করতে না পেরে পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দেন। আর সেই যোগদানের মাধ্যমে দুর্নীতির রাস্তা আরও পরিষ্কার হয়ে যায় বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের।

বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে তোলাবাজি, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কাটমানি আদায়, এমনকি যে রাস্তার কাজ বাস্তবে হয়নি তারও বিল তুলে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে। এই সমস্ত অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছিল বলেই দাবি বিজেপির।

তাদের বক্তব্য, “কোনও বিজেপি কর্মী বা নেতৃত্ব পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধর করেনি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশকে রাজনৈতিক হামলা বলে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আসলে নিজের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের জন্য এই নাটক করা হচ্ছে।”

বিজেপির আরও দাবি, এলাকায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে এবং আগামী দিনে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের ওপর আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে জমি হারিয়ে এখন ভয় দেখিয়ে পঞ্চায়েত দখলের চেষ্টা করছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য তৃণমূলের। 

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিপুর: নদীয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পঞ্চায়েত প্রধান শ্যামল ঘোষের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সোমবার ভরদুপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সরগরম হয়ে উঠেছে এলাকার রাজনৈতিক মহল। আক্রান্ত পঞ্চায়েত প্রধানের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি নেতৃত্ব পাল্টা দুর্নীতি, কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ তুলে পুরো ঘটনাকেই “নাটক” বলে দাবি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকে বেরোনোর সময় আচমকাই কয়েকজন ব্যক্তি শ্যামল ঘোষকে ঘিরে ধরে। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে এলোপাথাড়ি কিল, চড়, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। আক্রান্ত প্রধানের দাবি, হামলাকারীরা তাঁকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল এবং পঞ্চায়েত বোর্ড ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়।

ঘটনার পর গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরে তিনি শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। একই সঙ্গে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল এবং একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ঘটনার দিনও পঞ্চায়েত অফিসের ভেতরে তাঁকে কটূক্তি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

news image
আরও খবর

শ্যামল ঘোষ দাবি করেছেন, গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিজেপি বোর্ড দখলের চেষ্টা করছে। সেই উদ্দেশ্যেই তাঁকে ভয় দেখাতে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি আরও বলেন, “আমাকে মারধর করে পঞ্চায়েত পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছি।”

উল্লেখ্য, শ্যামল ঘোষ একসময় বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। সেই রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র হয় বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। বর্তমান ঘটনার পর সেই সংঘাত আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির অভিযোগ, শ্যামল ঘোষ বিজেপির প্রতীকে জয়লাভ করার পর তৃণমূলে যোগ দেন শুধুমাত্র দুর্নীতির সুযোগ পাওয়ার জন্য। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তিনি বিজেপিতে থাকাকালীন বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম করতে পারেননি। পরে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় কাটমানি, তোলাবাজি এবং সরকারি টাকার অপব্যবহারের অভিযোগ বাড়তে থাকে।

বিজেপির এক স্থানীয় নেতা দাবি করেন, “এলাকার বহু ঠিকাদারের কাছ থেকে তোলা নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারিদের কাছ থেকেও কাটমানি আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি যে রাস্তার কাজ বাস্তবে হয়নি, সেই কাজেরও বিল তুলে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নিয়ে প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”

তাদের আরও দাবি, কোনও বিজেপি নেতৃত্ব বা কর্মী পঞ্চায়েত প্রধানকে মারধর করেনি। বরং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিজেপির অভিযোগ, রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায় এবং নিজের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য গোটা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। বিজেপির বক্তব্য, “মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এখন নাটক করে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে।”

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তার জন্য এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে গোটা এলাকা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলার পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, নাকি স্থানীয় স্তরে অন্য কোনও বিবাদ কাজ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করছে পুলিশ। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদীয়ার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে জমি হারিয়ে এখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর হামলা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। অপরদিকে বিজেপির দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, গত কয়েক মাস ধরেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। পঞ্চায়েত পরিচালনা, উন্নয়নের কাজ এবং সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছিল। সেই আবহেই এই ঘটনা নতুন করে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চায়েত স্তরে দলবদল এবং বোর্ড নিয়ন্ত্রণের লড়াই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বারবার সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গয়েশপুরের ঘটনাও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন হতে পারে। বিশেষ করে যেহেতু আক্রান্ত প্রধান একসময় বিজেপিতে ছিলেন এবং পরে তৃণমূলে যোগ দেন, তাই ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

ভরদুপুরে খোদ এক পঞ্চায়েত প্রধানের ওপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন সকলের নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, আদৌ কোনও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, নাকি স্থানীয় স্তরের ক্ষোভ থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে—সেই উত্তরই খুঁজছে গোটা এলাকা।

ঘটনার পর আপাতত শান্তিপুরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত। আগামী দিনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও রাজনৈতিক সংঘাত বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রশাসনের তরফে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার বার্তাও দেওয়া হয়েছে এলাকাবাসীকে।

Preview image

About Us

Lenspedia brings you verified Bengali news, breaking updates, videos, and local stories. Our mission is to provide accurate and real-time coverage of events that matter to you.

সংবাদ অন্বেষণ করুন