Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হায়দরাবাদ ছাড়ার পথে অভিষেক শর্মা? ঈশান কিষাণের নেতৃত্বে অসন্তোষ, কলকাতায় যোগদানের জল্পনা

অভিষেক শর্মার দলবদল ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার ইচ্ছায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিতে পারেন ভারতের তরুণ ওপেনার।

আইপিএল ২০২৭-এর আগে দলবদলের বাজারে হঠাৎই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে খেলা এই বাঁহাতি ব্যাটারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা। সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে অসন্তোষের কারণে অভিষেক শর্মা হায়দরাবাদ ছাড়ার বিষয়টি ভাবছেন এবং অন্য কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর দলবদল নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

বর্তমানে অভিষেক শর্মা ভারতের হয়ে এশিয়ান গেমসে ব্যস্ত। কিন্তু এর মধ্যেই আইপিএলের আসন্ন মরশুমের দলবদল ও রিটেনশনকে ঘিরে তাঁকে নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অভিষেকের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নেতৃত্বের সুযোগ। দীর্ঘদিন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে থাকার পর তিনি দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলেন বলে একটি সূত্রের দাবি। সেই জায়গায় ঈশান কিষাণকে নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্বের সমীকরণও এই জল্পনার অন্যতম কারণ। প্যাট কামিন্সের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির কারণে আগামী মরশুমে তাঁর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঈশান কিষাণকে নেতৃত্বের দায়িত্বে রাখার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ আইপিএলের শুরুতেও কামিন্সের অনুপস্থিতিতে ঈশান সানরাইজার্সের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর ব্যাটিং পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছিল।

ঈশান কিষাণের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তাঁর গুরুত্ব বাড়িয়েছে। ২০২৬ আইপিএলে তিনি ১৫টি ম্যাচে ৬০২ রান করেন এবং তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮২.৪২। এই পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁকে SRH-এর পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

অন্যদিকে, অভিষেক শর্মাও গত কয়েক বছরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যোগ দেওয়ার পর ধীরে ধীরে দলের ব্যাটিং কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত রান করার ক্ষমতা এবং বাঁহাতি ওপেনার হিসেবে তাঁর ভূমিকা তাঁকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৬ আইপিএলেও তাঁর পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে; ১৫ ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ছিল ৫৬৩ রান।

এমন পরিস্থিতিতে অভিষেকের দলবদলের খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠছে—তিনি যদি সত্যিই সানরাইজার্স ছাড়েন, তাহলে তাঁর পরবর্তী ঠিকানা কোথায় হতে পারে? Times of India-এর প্রতিবেদনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, গুজরাত টাইটান্স এবং পঞ্জাব কিংসের নাম সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। দিল্লি ক্যাপিটালসকেও পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। কারণ, অভিষেকের মেন্টর যুবরাজ সিংহ বর্তমানে দিল্লির সেট-আপের সঙ্গে যুক্ত।

তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই দলবদলের আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তার কথা বলা হলেও কোনও চুক্তি বা ট্রান্সফার চূড়ান্ত হয়নি। অর্থাৎ, অভিষেক শর্মা যে নিশ্চিত ভাবেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ছাড়ছেন—এমনটা বলা এখনও সম্ভব নয়। বরং আইপিএলের রিটেনশন ও ট্রেড প্রক্রিয়া এগোনোর সঙ্গে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পক্ষ থেকেও এই জল্পনা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। Times of India জানিয়েছে, দলের CEO K. Shanmugam-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিষেকের অসন্তোষ ও দল ছাড়ার জল্পনাকে সত্যি নয় বলে জানিয়েছেন। ফলে একদিকে যেখানে সূত্রের দাবি অনুযায়ী অভিষেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে সেই খবর অস্বীকার করা হয়েছে। এই দুই বক্তব্যের কারণে বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত।

অভিষেকের সামনে যদি সত্যিই দল পরিবর্তনের সুযোগ আসে, তাহলে নেতৃত্বের প্রশ্নটি বড় ভূমিকা নিতে পারে। প্রতিবেদনে একটি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, খুব বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এখন সরাসরি অধিনায়কত্বের সুযোগ খালি নেই। কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসকে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে মুম্বই, গুজরাত ও পঞ্জাবের নামও আলোচনায় রয়েছে, যদিও সেখানে অভিষেককে নেতৃত্ব দেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

বিশেষ করে কলকাতা নাইট রাইডার্সের নাম সামনে আসায় বাংলা ক্রিকেটমহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যদি কোনও পরিস্থিতিতে KKR-এর নেতৃত্বের কাঠামোয় পরিবর্তন আসে এবং দল অভিষেকের মতো একজন ভারতীয় তরুণ ক্রিকেটারকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করে, তাহলে তাঁর জন্য কলকাতা একটি সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে—এমন আলোচনা রয়েছে। তবে এটিও বর্তমানে শুধুমাত্র সম্ভাবনা, কোনও নিশ্চিত খবর নয়। প্রতিবেদনে KKR-কে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হলেও অভিষেকের কলকাতায় যোগদান নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি।

news image
আরও খবর

অভিষেক শর্মার ক্ষেত্রে নেতৃত্বের প্রসঙ্গটি নতুন নয়। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাত্র ৩০ বলে শতরান করেছিলেন তিনি এবং তিন ম্যাচের সিরিজে ২০৯ রান করে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। সেই সময় অভিষেক নিজেই জানিয়েছিলেন যে অধিনায়ক ও কোচের সমর্থন তাঁকে নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক খেলা খেলতে সাহায্য করেছে।

এই পারফরম্যান্সের কারণে আইপিএলে তাঁর বাজারমূল্য এবং গুরুত্বও যথেষ্ট বেড়েছে। ২০২৬ আইপিএলে ৫৬৩ রান করার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটার হিসেবে সানরাইজার্সের ব্যাটিং পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে সেটি শুধু একজন ক্রিকেটারের দলবদল হবে না, সানরাইজার্সের ব্যাটিং কম্বিনেশনেও পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে, সানরাইজার্সের জন্যও অভিষেককে ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দলের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এবং এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েই তাঁর উত্থান। আইপিএলে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে দলের অন্যতম পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। তাই দল ও ক্রিকেটারের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হলে শুধু নেতৃত্ব নয়, দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রিটেনশন, ট্রেড এবং আর্থিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আইপিএলে কোনও ক্রিকেটারের দলবদল সাধারণত সরল প্রক্রিয়া নয়। কোনও খেলোয়াড় নিজে দল ছাড়তে চাইলেই সরাসরি অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিতে চলে যেতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট দলের সম্মতি, ট্রেড বা রিলিজের নিয়ম, রিটেনশন পরিকল্পনা এবং আর্থিক বিষয়—সবকিছুই বিবেচনায় আসে। অভিষেকের ক্ষেত্রেও তাই একাধিক পক্ষের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। Times of India-এর প্রতিবেদনে সম্ভাব্য ট্রেড বা ক্যাশ ডিল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ কি অভিষেক শর্মাকে ধরে রাখতে চাইবে এবং তাঁকে নেতৃত্বের কোনও ভূমিকা দেওয়ার বিষয়ে ভাববে? নাকি ঈশান কিষাণকেই দলের নেতৃত্বে রেখে অভিষেককে অন্য কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে? বর্তমানে কোনও প্রশ্নেরই নিশ্চিত উত্তর নেই।

অভিষেকের দলবদল হলে সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে যে দলগুলির নাম উঠে এসেছে, তাদের প্রত্যেকটিরই আলাদা দলীয় পরিকল্পনা রয়েছে। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে তাঁর সম্ভাব্য ভূমিকা, গুজরাত টাইটান্সে ব্যাটিং কাঠামোয় তাঁর জায়গা, পঞ্জাব কিংসে তাঁর দায়িত্ব কিংবা দিল্লি ক্যাপিটালসে যুবরাজ সিংহের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক—সবকিছু নিয়েই ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে। তবে এখনই কোনও একটি দলকে তাঁর নিশ্চিত পরবর্তী ঠিকানা বলা যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, আইপিএল ২০২৭-এর আগে অভিষেক শর্মাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি নজর কাড়ার মতো। একদিকে ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর দ্রুত উত্থান, অন্যদিকে নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নেতৃত্বের সম্ভাব্য পরিবর্তন—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে জুড়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে একাধিক ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্ভাব্য আগ্রহের খবর।

তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল—অভিষেক শর্মার দলবদল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একাধিক দলের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার খবর থাকলেও কোনও চুক্তি বা ট্রেড নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের পক্ষ থেকেও এই জল্পনা অস্বীকার করা হয়েছে। তাই পরবর্তী রিটেনশন ও ট্রেড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিষেকের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনাকেই চূড়ান্ত খবর হিসেবে দেখা উচিত নয়।

আইপিএলের রিটেনশন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা আরও পরিষ্কার হবে। অভিষেক শর্মা সানরাইজার্সেই থাকবেন, নাকি নতুন কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সিতে দেখা যাবে তাঁকে—সেটাই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের নজরে। নেতৃত্বের সুযোগ তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। আপাতত অভিষেককে ঘিরে দলবদলের আলোচনা আইপিএল ২০২৭-এর অন্যতম নজরকাড়া বিষয় হয়ে উঠেছে।

Preview image