দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশ এবং বিকেল বা সন্ধ্যায় বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে অষ্টমী-নবমীতেও কোথাও কোথাও বৃষ্টি হতে পারে দশমীতে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকার প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে তবে পুজোর এখনও সময় বাকি তাই দিনভিত্তিক পূর্বাভাস বদলাতে পারে মণ্ডপ জলে ভাসবে এমন সিদ্ধান্ত এখনই বলা যায় না
দুর্গাপুজো যত এগিয়ে আসছে ততই একটি প্রশ্ন ঘুরছে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের মানুষের মনে এ বার ঠাকুর দেখতে বেরোলে সঙ্গে ছাতা রাখতে হবে কি ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার থাকবে, নাকি বৃষ্টিতে ভিজবে উৎসবের আয়োজন পুজোর আবহাওয়া নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণে রোদ ও মেঘের পালাবদলের পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তবে পুজোর দিনগুলিতে টানা ভারী বৃষ্টি হবে বা মণ্ডপ জলে ভাসবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো নিশ্চিত পূর্বাভাস এখনও নেই। পশ্চিমবঙ্গের পুজো অনুমতির সরকারি পোর্টালের সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মহাষষ্ঠী ১৭ অক্টোবর, সপ্তমী ১৮ অক্টোবর, অষ্টমী ১৯ অক্টোবর, নবমী ২০ অক্টোবর এবং বিজয়া দশমী ২১ অক্টোবর। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দাঁড়িয়ে এই দিনগুলির জন্য আবহাওয়ার যে ছবি তুলে ধরা হচ্ছে সেটি আগাম ইঙ্গিত। সময় যত এগোবে বঙ্গোপসাগর ও স্থলভাগের পরিস্থিতি দেখে পূর্বাভাস আরও নির্দিষ্ট হবে। তাই এখনকার তথ্যকে পুজোর পরিকল্পনায় একটি ধারণা হিসেবে রাখা যায় চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে নয়। প্রকাশিত মডেলভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আকাশ মেঘলা থাকার সম্ভাবনা বেশি। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টি কোথায় হবে এবং কতটা হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সেই সময় বঙ্গোপসাগরের বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির উপর। ফলে ষষ্ঠীতে এক এলাকায় বৃষ্টি হলেই গোটা দক্ষিণবঙ্গে একই রকম আবহাওয়া থাকবে, এমন ধারণা করা ঠিক নয়। একই শহরের বিভিন্ন অংশেও বৃষ্টির অভিজ্ঞতা আলাদা হতে পারে।
ষষ্ঠী ও সপ্তমী অনেকের কাছে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরা শুরু করার প্রধান সময়। দিনের বেলায় আবহাওয়া ভালো দেখে বেরোলেও বিকেল বা সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি নামতে পারে প্রাথমিক ইঙ্গিতের ব্যবহারিক অর্থ এটুকুই। পুজোর পরিকল্পনা করার সময়ে তাই আবহাওয়ার নতুন আপডেট দেখা সুবিধাজনক হবে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় অনুষ্ঠান বা দীর্ঘ পথ হেঁটে মণ্ডপ দেখার পরিকল্পনা থাকলে সেই দিনের আকাশের অবস্থা আগে জেনে নেওয়া ভালো। এখনই কোনও নির্দিষ্ট ঘণ্টায় বৃষ্টি হবে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। অষ্টমী ও নবমীতেও সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত আবহাওয়ার নিশ্চয়তা মিলছে না। প্রাথমিক বিশ্লেষণে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলির কিছু অংশে বিকেলের দিকে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই দিনে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও থাকতে পারে। ফলে বৃষ্টি না হলেও আবহাওয়া সব সময় আরামদায়ক হবে, এমন নয়। মেঘ, রোদ এবং আর্দ্রতা মিলিয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে অনুভূতি বদলাতে পারে। তবে কোন জেলায় ঠিক কতক্ষণ বৃষ্টি হবে, সেই পর্যায়ের নির্ভুল পূর্বাভাস এখনই পাওয়া যায়নি।
অষ্টমীতে অঞ্জলি দেওয়া কিংবা নবমীতে সন্ধ্যার অনুষ্ঠান দুই দিনেই মানুষের ভিড় বেশি থাকে। সে কারণেই বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনাও পুজো উদ্যোক্তা থেকে দর্শক, সকলের নজরে আসে। কিন্তু ‘বৃষ্টির সম্ভাবনা’ কথাটির সঙ্গে ‘সারাদিন বৃষ্টি’ এক করে দেখা উচিত নয়। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বলতে কোনও জায়গায় অল্প সময় বৃষ্টি হতে পারে, আবার কাছাকাছি অন্য জায়গায় তা নাও হতে পারে। পুজোর দিনগুলি কাছে এলে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব হচ্ছে, তা দৈনিক পূর্বাভাসে আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। দশমী নিয়ে প্রাথমিক ইঙ্গিত তুলনামূলক স্বস্তির। ২১ অক্টোবর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে ওই বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে। তবে বিকেলের পরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। বিসর্জন ও বিজয়ার অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় তাই দশমীকে এখনই নিশ্চিত রৌদ্রোজ্জ্বল দিন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমান ধারণা অনুযায়ী বৃষ্টির আশঙ্কা আগের কয়েক দিনের তুলনায় কম থাকতে পারে এর বেশি নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য নতুন পূর্বাভাসের অপেক্ষা প্রয়োজন। পুজোয় বৃষ্টি নিয়ে উদ্বেগের একটি কারণ হল বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি। উপকূলবর্তী আবহাওয়া বদলালে দক্ষিণবঙ্গের মেঘ ও বৃষ্টির ছবিও দ্রুত বদলে যেতে পারে। আবার কোনও স্থানীয় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেই যে বড় দুর্যোগ হবে, তেমনও নয়। এই মুহূর্তে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মণ্ডপ ভেসে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নিশ্চিত বলে ঘোষণা করা যায় না। একইভাবে পাঁচ দিনই ঝলমলে রোদ থাকবে বলাও সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্লেষণ মূলত রোদ মেঘের পালাবদল এবং কোনও কোনও দিনে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাই বলছে।
আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পড়ার সময় সেটির উৎসও খেয়াল রাখা জরুরি। পুজোর দিনগুলি নিয়ে আলোচিত এই পূর্বাভাসটি বিভিন্ন আবহাওয়া মডেল বিশ্লেষণ করে দেওয়া একটি প্রাথমিক অনুমান। দিন যত কাছে আসবে আবহাওয়া দফতরের হালনাগাদ জেলা ভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতর্কতা পুজোর দিনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগবে। কোনও প্রতিবেদনে দূরের দিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ভারী বৃষ্টি বা সম্পূর্ণ রোদ নিশ্চিত বলা হলে সেই দাবির উৎস ও প্রকাশের তারিখ যাচাই করা উচিত। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছেও এই অনিশ্চয়তা পরিচিত। মণ্ডপের ছাউনি, বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং দর্শকদের চলাচলের পথ প্রস্তুত রাখার কাজ আবহাওয়ার উপর অনেকটাই নির্ভর করে। প্রাথমিক বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে প্রস্তুতিতে তার কথা ভাবা যায়। কিন্তু সম্ভাবনাকে নিশ্চিত দুর্যোগ ধরে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই। পুজোর কয়েক দিন আগে এবং প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত আপডেট পরিস্থিতির বাস্তব ছবি বুঝতে সাহায্য করবে।
যাঁরা কলকাতা থেকে হাওড়া, হুগলি বা দুই ২৪ পরগনার মণ্ডপ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এক জায়গার আকাশ দেখে অন্য জেলার আবহাওয়া অনুমান করা কঠিন হতে পারে। পুজোর দিনে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার পূর্বাভাস দেখে নিলে পরিকল্পনা বদলানো সহজ হয়। বৃষ্টি হলে দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় অপেক্ষার বদলে কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও ভেবে রাখা যায়। এই প্রস্তুতি উৎসব উপভোগে সাহায্য করে আবহাওয়া নিয়ে অযথা উদ্বেগ বাড়ায় না। সব মিলিয়ে এখনকার ইঙ্গিত বলছে ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে মেঘ এবং বিক্ষিপ্ত বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অষ্টমী-নবমীতে দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় স্থানীয় বৃষ্টি হতে পারে। দশমীতে আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা থাকলেও হালকা বৃষ্টি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পুজোর দিনগুলি এখনও কয়েক সপ্তাহ দূরে থাকায় এই ছবিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই পুজো ভেসে যাবে বা পাঁচ দিনই রোদ কোনও দাবিকেই এখন চূড়ান্ত পূর্বাভাস হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। ষষ্ঠী থেকে দশমীর প্রকৃত আবহাওয়া জানতে পুজোর কাছাকাছি সময়ের হালনাগাদ পূর্বাভাসেই নজর রাখতে হবে।
বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি বলতে কোনও জায়গায় অল্প সময় বৃষ্টি হতে পারে, আবার কাছাকাছি অন্য জায়গায় তা নাও হতে পারে। পুজোর দিনগুলি কাছে এলে এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তব হচ্ছে, তা দৈনিক পূর্বাভাসে আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে। দশমী নিয়ে প্রাথমিক ইঙ্গিত তুলনামূলক স্বস্তির। ২১ অক্টোবর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে ওই বিশ্লেষণে জানানো হয়েছে। তবে বিকেলের পরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়নি। বিসর্জন ও বিজয়ার অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় তাই দশমীকে এখনই নিশ্চিত রৌদ্রোজ্জ্বল দিন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। বর্তমান ধারণা অনুযায়ী বৃষ্টির আশঙ্কা আগের কয়েক দিনের তুলনায় কম থাকতে পারে এর বেশি নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য নতুন পূর্বাভাসের অপেক্ষা প্রয়োজন। পুজোয় বৃষ্টি নিয়ে উদ্বেগের একটি কারণ হল বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতি। উপকূলবর্তী আবহাওয়া বদলালে দক্ষিণবঙ্গের মেঘ ও বৃষ্টির ছবিও দ্রুত বদলে যেতে পারে। আবার কোনও স্থানীয় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেই যে বড় দুর্যোগ হবে, তেমনও নয়। এই মুহূর্তে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মণ্ডপ ভেসে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নিশ্চিত বলে ঘোষণা করা যায় না। একইভাবে পাঁচ দিনই ঝলমলে রোদ থাকবে বলাও সম্ভব নয়। বর্তমান বিশ্লেষণ মূলত রোদ মেঘের পালাবদল এবং কোনও কোনও দিনে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাই বলছে।
আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পড়ার সময় সেটির উৎসও খেয়াল রাখা জরুরি। দিন যত কাছে আসবে আবহাওয়া দফতরের হালনাগাদ জেলা ভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতর্কতা পুজোর দিনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি কাজে লাগবে। কোনও প্রতিবেদনে দূরের দিনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ভারী বৃষ্টি বা সম্পূর্ণ রোদ নিশ্চিত বলা হলে সেই দাবির উৎস ও প্রকাশের তারিখ যাচাই করা উচিত। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছেও এই অনিশ্চয়তা পরিচিত। মণ্ডপের ছাউনি, বিদ্যুতের ব্যবস্থা এবং দর্শকদের চলাচলের পথ প্রস্তুত রাখার কাজ আবহাওয়ার উপর অনেকটাই নির্ভর করে। প্রাথমিক বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে প্রস্তুতিতে তার কথা ভাবা যায়। কিন্তু সম্ভাবনাকে নিশ্চিত দুর্যোগ ধরে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রয়োজন নেই। পুজোর কয়েক দিন আগে এবং প্রতিদিন সকালে প্রকাশিত আপডেট পরিস্থিতির বাস্তব ছবি বুঝতে সাহায্য করবে।