Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

বিমানের অন্দরে ঘনিষ্ঠ করিনা এবং হৃতিক খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাকেশ রোশন কি বলেছিলেন

এক সময়ের আলোচিত জুটি হৃতিক রোশন ও করিনা কাপুর একাধিক সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন, যার কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁরা সম্পর্কে রয়েছেন। তবে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল।

মায়ানগরী তথা বলিউডের জগতের সম্পর্কগুলি প্রায়ই আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষ করে যখন কোনো দুই তারকা একসঙ্গে কাজ করেন, তখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এমনই একটি আলোচিত জুটি ছিল হৃতিক রোশন এবং করিনা কাপুর। এক সময়ে বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং আলোচিত জুটি ছিলেন তাঁরা। একাধিক হিট সিনেমায় তাঁদের একসঙ্গে অভিনয়ের কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। তবে সেই সম্পর্কের সত্যতা বা ভুয়ো খবর নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছিল, বিশেষ করে যখন তাঁদের বিমানে একসঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখার খবর প্রকাশিত হয়।

হৃতিক ও করিনার সম্পর্কের গুঞ্জন

২০০০ সালের পর থেকে হৃতিক রোশন এবং করিনা কাপুর একসঙ্গে বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবিতে কাজ করেছিলেন, যেমন "কহো না প্যায়ার হ্যায়", "ম্যাঞ্চি", "লজ" এবং "দোস্তানা"। তাঁদের রসায়ন দর্শকদের কাছে ছিল খুবই আকর্ষণীয়, যা তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন এবং গুঞ্জন সৃষ্টি করেছিল। তখন অনেকেই বলেছিলেন যে, তাঁদের মধ্যে এক বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও, এই সম্পর্ক নিয়ে কখনও স্পষ্টভাবে কিছু বলেছিলেন না হৃতিক এবং না করিনা।

একটি জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি খবর অনুযায়ী, হৃতিক এবং করিনা এক বিমানে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় দেখা গিয়েছিলেন। এটি ছিল একটি উত্তপ্ত আলোচনার বিষয়। এমনকি, অনেকেই এই খবরটিকে সত্য মনে করেছিল, এবং দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এই গুঞ্জনের মধ্যে কিছু অতি ব্যক্তিগত বিষয়ও ছিল, যার ফলে বেশ কিছুদিন ধরে এই খবরটি শিরোনামে ছিল।

রাকেশ রোশনের প্রতিক্রিয়া

এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর হৃতিকের বাবা, প্রখ্যাত বলিউড নির্মাতা রাকেশ রোশন বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে জানান যে, এই খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুয়ো। তিনি বলেন, “এই খবর যে লিখেছিল, সে জানত না যে হৃতিক এবং করিনা লন্ডনে একটি ছবির শুটিং করতে গিয়েছিলেন এবং আমি তাদের সঙ্গে ছিলাম। আমি সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম। সুতরাং, এই খবরটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল।” তাঁর এই প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট, যে তিনি নিশ্চিত যে, কোন ঘটনা ঘটেনি যা মিডিয়া রিপোর্ট করেছে।

রাকেশ রোশনের এই মন্তব্যের পর আরো স্পষ্ট হয় যে, এই সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন যে, যখনই এসব ভিত্তিহীন খবর ছড়ায়, তখন মিডিয়া অতিরিক্ত মনোযোগ দেয় এবং বাস্তবতার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকে না।

হৃতিকের প্রতিক্রিয়া

হৃতিক রোশনও এই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমি জানি আমার পরিবার এবং আমার স্ত্রী আমাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেন। এসব মিথ্যা খবর আমাকে কোনো ভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না। আমি জানি, তারা আমাকে ভাল করে জানেন এবং তারা জানেন যে আমি সবসময় সঠিক পথে চলি। আমি জানি যে, এসব ভুয়ো খবর তাদের জন্য কষ্টকর হতে পারে, তবে আমি শুধু বলব, এগুলোর প্রতি আমরা গুরুত্ব দিই না।”

এখানেই শেষ নয়, হৃতিক আরও বলেন যে, সে সময়ে করিনার জন্য তাঁকে খারাপ লাগছিল, কারণ এই ধরনের গুঞ্জন তাঁকে আঘাত দিতে পারে। হৃতিকের এই বক্তব্যে পরিষ্কার ছিল যে, তিনি কখনও করিনাকে নিয়ে কোনো ধরনের খারাপ ইচ্ছা বা সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেননি। বরং তিনি করিনার পক্ষে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে, এই ধরনের ভুয়ো খবর তাকে অনবশ্যকভাবে অপমানিত করে।

করিনার প্রতিক্রিয়া

করিনাও এই সম্পর্কে নীরব ছিলেন না। তিনি জানান যে, সব সময় এমন ধরনের খবর তাঁর কাছেও পৌঁছেছে, তবে তিনি জানতেন যে এটি সমস্তই গুজব এবং ভুয়ো। তিনি বারবার বলেছিলেন যে, তাঁর ও হৃতিকের সম্পর্ক শুধুমাত্র পেশাদার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। করিনা তাঁর কাজের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে এসব গুজব নিয়ে তিনি কখনই মাথা ঘামাননি।

বিয়ের পর হৃতিকের ব্যক্তিগত জীবন

হৃতিক রোশন যখন তাঁর স্ত্রী সুজান খানকে বিয়ে করেছিলেন, তখন সেই সম্পর্কটিও জনসাধারণের মধ্যে বেশ আলোচিত ছিল। তাঁদের বিয়ের পরও মিডিয়া তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা রকম সংবাদ প্রকাশ করেছিল, যার মধ্যে বেশ কিছু ভুল এবং মিথ্যা খবর ছিল। তবে, হৃতিক এবং সুজান সবসময় তাঁদের সম্পর্কের দিকে দৃষ্টি রেখে, এই ধরনের মিডিয়া গুজবগুলো উপেক্ষা করেছিলেন। তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ছিল, যা কখনও ভাঙেনি, যদিও তাঁদের সম্পর্কের শেষে আলাদা হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁরা সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল ছিলেন।

হৃতিক রোশন এবং করিনা কাপুর, বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় জুটি ছিলেন। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মায়ানগরীতে অনেক গুঞ্জন উঠেছিল, তবে তাঁদের পেশাদার সম্পর্ক ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী এবং দৃঢ়। এই পেশাদার সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের মধ্যে প্রগাঢ় শ্রদ্ধা এবং সমর্থন ছিল। যদিও তাদের সম্পর্কের গুঞ্জন এবং আলোচনা ছিল ব্যাপক, তবুও তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারের প্রতি আস্থা এবং শ্রদ্ধা ছিল অটুট। চলুন, তাদের সম্পর্কের বিবরণে প্রবেশ করি এবং বলিউডের ইতিহাসে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করি।

হৃতিক ও করিনার পেশাদার সম্পর্ক

বলিউডে একসঙ্গে কাজ করার পর, হৃতিক রোশন এবং করিনা কাপুরের সম্পর্ক সবসময়ই আলোচনার বিষয় ছিল। তাঁদের প্রথম কাজ একসঙ্গে হয়েছিল "কহো না প্যায়ার হ্যায়" সিনেমাতে, যদিও এই সিনেমা দিয়ে তাদের সম্পর্কের শুরু হয়নি। কিন্তু এরপর একে অপরের সাথে একাধিক ছবিতে কাজ করার ফলে, তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন সবার নজরে আসে। করিনা এবং হৃতিকের বন্ধুত্ব এবং পেশাদার সম্পর্ক একে অপরকে আরো ঘনিষ্ঠ করে তোলে এবং দর্শকদের মাঝে প্রশংসিত হয়।

news image
আরও খবর

ফিল্ম ও ফিল্মের বাইরে সম্পর্ক:

হৃতিক এবং করিনার প্রথম পরিচয় ছিল একটি প্রাথমিক স্তরের সম্পর্ক, যেটি সিনেমার মাধ্যমে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর পর, তাঁরা একে অপরের কাছে নিজের পেশাদার জীবন, কাজের দিক থেকে কিছু ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে শুরু করেন। তাদের সম্পর্ক ছিল এমন, যা কখনো একে অপরকে সহায়তা করতে প্রস্তুত ছিল। তারা একসঙ্গে কাজ করতেন, মঞ্চে উঠতেন, একে অপরের সমর্থক হয়ে ছিলেন এবং পর্দার বাইরে ভালো বন্ধু ছিলেন।

এই সময়ে, তারা একে অপরকে পেশাদার সাহায্য, সাহস এবং উৎসাহ দিতেন। করিনা, হৃতিকের কৃতিত্বের প্রতি দারুণ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, এবং হৃতিকও করিনার অসাধারণ অভিনয়ের প্রতি গভীর প্রশংসা করতেন। একে অপরকে সমর্থন করতেন বলিউডের নানান চ্যালেঞ্জের মাঝে, বিশেষ করে তাদের ক্যারিয়ারের কঠিন সময়গুলোতে।

সিনেমার শুটিংয়ে সম্পর্ক:

হৃতিক এবং করিনা একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন, এবং তাঁদের একসাথে শুটিং করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। “ফিজা,” “কাহো না প্যায়ার হ্যায়,” “দোস্তানা” এমন ছবিতে তারা একসঙ্গে কাজ করেছেন, যা তাঁদের পেশাদার সম্পর্কের আরো গতি পায়। তবে, যখন তারা একে অপরকে এই সিনেমাগুলির শুটিং সেটে সমর্থন দিয়েছিলেন, তখন এটি প্রমাণিত হয়ে যায় যে তাঁদের সম্পর্কটি শুধুমাত্র পেশাদার ছিল এবং একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেছিলেন।

সম্পর্কের গুঞ্জন এবং গুজব

একসময় তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রচুর গুঞ্জন এবং গুজব উঠেছিল। বিশেষত, যখন তাঁরা একসঙ্গে সিনেমায় অভিনয় করতে থাকেন এবং তাদের রসায়ন দর্শকদের মনে স্থায়ী প্রভাব ফেলে, তখন নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে তাঁদের বিমানযাত্রার সময় একসঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ’ অবস্থায় ধরা পড়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর, বেশ কিছুদিন ধরে মিডিয়া তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে।

এই ধরনের গুজব শুধু হৃতিক এবং করিনা বরং পুরো বলিউডে অনেক প্রভাব ফেলেছিল। তখন সংবাদপত্রে, ম্যাগাজিনে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রকাশ হতে থাকে। একবার এক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনে এই ধরনের একটি খবর ছাপা হলে, তৎকালীন সময়ে হৃতিক রোশনের বাবা রাকেশ রোশন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন যে, তারা কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে নেই, এবং বিষয়টি একেবারে ভুল ছিল। হৃতিক এবং করিনা ছিলেন শুধুমাত্র ভালো বন্ধু, এবং তাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র পেশাদার।

হৃতিক ও করিনার মধ্যে সম্মান এবং শ্রদ্ধা

দর্শকরা যখন দেখেন, দুটি বড় তারকা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে কাজ করছেন, তখন তাদের মধ্যে এক ধরনের শ্রদ্ধা এবং সম্মান তৈরি হয়, যা পেশাদার সম্পর্কের ভিত্তি। হৃতিক এবং করিনা যে একে অপরের প্রতি সম্মান এবং শ্রদ্ধাশীল ছিলেন, তা তার পরবর্তী জীবনেও প্রমাণিত হয়েছে। যখন হৃতিক বিবাহিত ছিলেন, করিনা সেসময়ও একে অপরকে পেশাদারভাবে সম্মান জানাতেন। তাদের বন্ধুত্ব এবং পেশাদার সম্পর্ক কখনও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ঢুকে পড়েনি। বরং তাঁরা একে অপরের ক্যারিয়ারের উন্নতি এবং সাফল্যে সহায়তা করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক জীবন

যতই গুঞ্জন ছড়াক, হৃতিক এবং করিনা জানতেন যে, তাদের সম্পর্কের সঠিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাছে পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবন ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। হৃতিক যখন তাঁর স্ত্রীর প্রতি আস্থা এবং ভালবাসা জানিয়েছিলেন, তখন করিনাও সবসময় শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তাঁদের সম্পর্কের গভীরতা এবং বিশ্বাসে কখনো ফাটল ছিল না। তারা সবাই জানতেন যে, গুঞ্জন বা মিডিয়া রিপোর্ট কখনো তাদের সম্পর্কের সঠিকতার প্রমাণ হতে পারে না।

উপসংহার

হৃতিক রোশন এবং করিনা কাপুরের পেশাদার সম্পর্ক ছিল বলিউডের অন্যতম শক্তিশালী বন্ধুত্বের উদাহরণ। তারা একে অপরকে সহায়ক, শ্রদ্ধাশীল এবং পেশাদার ছিলেন। যদিও তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের গুজব এবং আলোচনা ছিল, তবে সবসময় তারা তাদের ব্যক্তিগত জীবন এবং পরিবারকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। বলিউডে সম্পর্কের গুঞ্জন অনেকই রয়েছে, কিন্তু হৃতিক এবং করিনার বন্ধুত্ব এবং পেশাদার সম্পর্ক ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে রেখেছে।

Preview image