পুজোর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ জন কর্মীর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত কাজকর্ম ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কর্মীদের চাকরি নিয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং এই অনিশ্চয়তার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
পুজোর মুখে বড় সিদ্ধান্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কাজ হারাতে চলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ জনেরও বেশি শিক্ষাকর্মী। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবসর গ্রহণের পরেও যাঁদের পুনর্নিয়োগ করে কাজে রাখা হয়েছিল, তাঁদের কাজের মেয়াদ আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে আর কার্যকর থাকবে না। অর্থাৎ, বর্তমানে যাঁরা পুনর্নিয়োগের ভিত্তিতে কাজ করছেন, তাঁদের ১৪ অক্টোবর পর্যন্তই কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর পর থেকে তাঁদের আর কাজে বহাল রাখা হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, অনেকেরই কাজের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা। অন্য দিকে, কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়সি কাউকে কাজে বহাল রাখা যাবে না। সেই নিয়ম মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কিন্তু এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কাজকর্মে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। বিশেষ করে গবেষণাগার, প্রশাসনিক বিভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে কর্মীর অভাব আরও বাড়তে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যেই কর্মী সঙ্কট রয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর নতুন নিয়োগ না হলে স্বাভাবিক কাজকর্ম কী ভাবে চলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কাজের মেয়াদ নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মীর অভাবের কারণে অবসর গ্রহণের পরেও যাঁদের পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল, তাঁদের নিয়োগের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর থেকে আর কার্যকর থাকবে না। বর্তমানে যাঁদের কাজের মেয়াদ চলছে, তাঁরা ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশের ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে ওই কর্মীদের আর কাজে বহাল রাখা হবে না। শিক্ষাকর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁদের অনেকেরই চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আগামী দিনে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্নিয়োগ বা পুনরায় কাজে নিযুক্ত করার জন্য জমা পড়া নতুন কোনও আবেদন আর বিবেচনা করা হবে না। অর্থাৎ, শুধু বর্তমানে কর্মরত পুনর্নিয়োগপ্রাপ্তদের মেয়াদই শেষ হচ্ছে না, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কাজে ফেরানোর সুযোগও আপাতত বন্ধ করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়তে পারে। তবে নতুন করে নিয়োগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। ফলে কর্মী সঙ্কটের পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম কী ভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিভিন্ন বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই কর্মীর অভাব রয়েছে। গবেষণাগার থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজ—একাধিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর্মীর ঘাটতি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মীকে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন বিভাগের দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
সাধারণ নিয়মে কোনও কর্মী অবসর গ্রহণ করলে তাঁর জায়গায় নতুন কর্মী নিয়োগ করা হতে পারে। কিন্তু নতুন নিয়োগ না হওয়ায় পুরনো কর্মীদেরই মেয়াদ বাড়িয়ে কাজে রাখার প্রয়োজন তৈরি হয়েছিল বলে দাবি শিক্ষাকর্মীদের একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে কর্মী সঙ্কটের কারণে বিভিন্ন বিভাগের কাজ চালাতে সমস্যা হচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ কর্মীদের সরিয়ে দিলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গবেষণাগারে নিয়মিত কাজের জন্য নির্দিষ্ট কর্মীর প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক বিভাগেও নথিপত্র সামলানো, দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। ফলে পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা সরে গেলে সেই দায়িত্বগুলি কী ভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়সি কাউকে কাজে বহাল রাখা যাবে না। সেই নিয়মের ভিত্তিতেই পুনর্নিয়োগের মেয়াদ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এক দিকে নিয়ম মেনে চলার প্রশ্ন, অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কাজকর্মের স্বার্থে পর্যাপ্ত কর্মী রাখার প্রয়োজন—এই দুইয়ের মধ্যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সঙ্কটের কথা আগেও সামনে এসেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিশেষ করে গবেষণাগার এবং প্রশাসনিক বিভাগে কর্মীর অভাব থাকলে দৈনন্দিন কাজের গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে নতুন করে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে বিভিন্ন ধরনের কাজ পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ কর্মীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই ভাবে প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রেও নিয়মিত কর্মী প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের সরে যাওয়ার পর বিকল্প কর্মী না থাকলে কাজের চাপ অন্য কর্মীদের উপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক বিভাগে ইতিমধ্যেই কর্মীর ঘাটতি থাকলে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে নতুন কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা না হলে যাঁরা বর্তমানে কাজ করছেন, তাঁদের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব এসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাতে দৈনন্দিন কাজের গতি কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীদের একাংশ।
যদিও ঠিক কোন কোন বিভাগে কত জন কর্মীর ঘাটতি তৈরি হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। তবে ৭০ জনেরও বেশি পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই সিদ্ধান্তের সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, দুর্গাপুজোর আগে কর্মীদের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে এক দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়বেন, অন্য দিকে পুজোর ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে বিভিন্ন বিভাগের কাজ সামলানো কঠিন হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীরা। তার পর থেকেই তাঁদের নিয়োগের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না। এরপর দুর্গাপুজোর ছুটি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কাজকর্মে এর প্রভাব ঠিক কতটা পড়বে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে কর্মী সঙ্কটের সমস্যা সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্য কর্মীরা।
শিক্ষাকর্মীদের একাংশের দাবি, অনেকেরই কাজের মেয়াদ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। তাঁদের বক্তব্য, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কর্মীদের কাছে অপ্রত্যাশিত। সেই সঙ্গে তাঁরা মনে করছেন, নতুন কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা না করে অভিজ্ঞ কর্মীদের সরিয়ে দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তবে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পিছনে সরকারি নির্দেশিকার বিষয়টি সামনে এসেছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি কর্মীদের কাজে বহাল রাখার ক্ষেত্রে যে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে, সেই নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ফলে কর্মীদের আপত্তি থাকলেও কর্তৃপক্ষের অবস্থান আপাতত স্পষ্ট।
শিক্ষাকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, অবসরের পরে সংশ্লিষ্ট পদে নতুন কর্মী যোগ দেওয়াই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় কর্মী সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্নিয়োগ করে কাজ চালানো হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, নতুন কর্মী নিয়োগ হলে পুরনো কর্মীদের সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা না করেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির কাজ পরিচালনায় সমস্যা হতে পারে।
এক শিক্ষাকর্মীর বক্তব্য, কর্মী সঙ্কটের কারণে অবসরপ্রাপ্তদের মেয়াদ বৃদ্ধি করে কাজে রাখা হয়েছিল। এখন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হলে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব সামলানোর ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি হতে পারে। পুজোর আগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে।
এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, বিতর্কের কেন্দ্রে শুধু চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত কর্মী থাকবেন কি না, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিনের কর্মী সঙ্কটের সমাধান না করে পুনর্নিয়োগ বন্ধ করে দিলে কাজের চাপ আরও বাড়তে পারে।
তবে নতুন নিয়োগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের তরফে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁদের দায়িত্ব কী ভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
অন্য দিকে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ৬০ বছরের বেশি বয়সি কাউকে কাজে বহাল রাখা যাবে না। সেই নিয়মের বাইরে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের কাজে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। এবার নতুন নির্দেশিকার মাধ্যমে তাঁদের কাজের মেয়াদ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই অবস্থানে কর্তৃপক্ষ মূলত নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পুনর্নিয়োগের মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ চালানোর ব্যবস্থা থাকলেও তা আর চালু রাখা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগের জন্য নতুন আবেদনও বিবেচনা করা হবে না বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী সঙ্কট কী ভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, পুনর্নিয়োগ বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে কর্মীর অভাব তৈরি হতে পারে। সেই ঘাটতি পূরণের জন্য নতুন নিয়োগ করা হবে কি না, অথবা অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে স্বাভাবিক কাজকর্মে কী প্রভাব পড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে কর্মী সঙ্কটের মধ্যে ৭০ জনেরও বেশি পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির উপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে গবেষণাগার এবং প্রশাসনিক বিভাগে অভিজ্ঞ কর্মীদের অনুপস্থিতি কাজের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। পুজোর ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় খুললে এই ঘাটতির প্রভাব কতটা স্পষ্ট হয়, তা দেখার অপেক্ষা।
এক দিকে সরকারি নির্দেশ মেনে ৬০ বছরের বেশি বয়সি কর্মীদের কাজে না রাখার সিদ্ধান্ত, অন্য দিকে কর্মী সঙ্কটের কারণে বিভিন্ন বিভাগে কাজের চাপ বাড়ার আশঙ্কা—এই দুই বিষয়কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবরই পুনর্নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের কাজের শেষ দিন। ১৫ অক্টোবর থেকে তাঁদের নিয়োগের মেয়াদ আর কার্যকর থাকবে না।
এখন প্রশ্ন, ওই কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কাজ স্বাভাবিক রাখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন নিয়োগের কোনও পরিকল্পনা সামনে না আসায় সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। পুজোর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত তাই শিক্ষাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও গবেষণামূলক কাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।