বড়পর্দায় দেখে প্রথম চেনা। তার বহু বছর পর এক ছবিতে কাজ করার সুযোগ। ৯ এপ্রিল জয়া বচ্চনের জন্মদিন। সেই অভিজ্ঞতায় জয়াকে তিনি কী ভাবে দেখেছেন, চিনেছেন, সেই কথাই জন্মদিনে আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।
চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে জয়া ভাদুড়ী মানে শুধু একজন অভিনেত্রী নন, বরং অভিনয়ের এক অনন্য বিদ্যালয়। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই ‘অভিমান’ ছবির মাধ্যমে জয়ার অভিনয় তাঁর নজর কাড়ে।
অভিমান ছবিতে জয়ার অভিনয়ের সংযম, চোখের ভাষা, নীরবতার মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ—এসবই চূর্ণীর মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। ধীরে ধীরে তিনি জয়ার অন্যান্য ছবিও দেখতে শুরু করেন। একেকটি চরিত্রে জয়ার অভিনয় তাঁকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
চূর্ণীর কথায়,
“অল্প অভিব্যক্তি বদল করে একটা চরিত্রের মনন বোঝানোর ক্ষমতা আমার কাছে ছিল শিক্ষণীয়।”
এই একটি বাক্যেই যেন জয়া ভাদুড়ীর অভিনয়ের দর্শনকে তুলে ধরেছেন চূর্ণী। সংলাপ নয়, চোখের চাহনি; নাটকীয়তা নয়, সংযম—এই ছিল জয়ার অভিনয়ের শক্তি। আর সেই শক্তিকেই নিজের অভিনয় জীবনের শিক্ষার অংশ হিসেবে দেখেন চূর্ণী।
যদিও জয়ার অভিনয়ের সঙ্গে চূর্ণীর পরিচয় অনেক আগেই হয়েছিল, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে প্রথম দেখা হয় লখনউয়ে। সিনেমা সংক্রান্ত একটি বৈঠকে তাঁদের প্রথম চাক্ষুষ আলাপ।
সেই সময়টা ছিল একেবারেই আনুষ্ঠানিক। খুব বেশি কথা হয়নি, খুব বেশি সময়ও কাটেনি। তবুও প্রথম দেখাতেই জয়ার ব্যক্তিত্ব, শান্ত স্বভাব এবং মৃদু ব্যবহার চূর্ণীর মনে ছাপ ফেলেছিল।
লখনউয়ের সেই ছোট্ট সাক্ষাৎ যেন ছিল ভবিষ্যতের এক বড় সম্পর্কের সূচনা।
এরপর বহু বছর কেটে যায়। প্রত্যেকে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বাংলা সিনেমা, থিয়েটার, পরিচালনা—সব মিলিয়ে চূর্ণীর জীবন এগিয়ে চলে নিজের ছন্দে। অন্যদিকে বলিউডে জয়া ভাদুড়ী তাঁর নিজস্ব মর্যাদা বজায় রেখে চলেছেন।
এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আর কোনও দেখা হয়নি।
জীবন মাঝে মাঝে অদ্ভুতভাবে মানুষকে আবার মিলিয়ে দেয়।
বহু বছর পর চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জয়া ভাদুড়ীর দেখা হয় সরাসরি সিনেমার সেটে—রকি অউর রানি কি প্রেমকহানি ছবির শুটিং চলাকালীন।
এই ছবিতে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তাঁরা। চূর্ণীর কাছে এটি ছিল এক বড় অভিজ্ঞতা। কারণ তিনি শুধু একজন সিনিয়র অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করছেন না, বরং এমন একজন শিল্পীর সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন যাঁকে তিনি বহুদিন ধরে শ্রদ্ধা করেন।
চূর্ণী বলেন,
“ওঁর সঙ্গে অনেকটা সময় কাটিয়েছি। নতুন একটা সেটে যখন আমাকে ও টোটাকে সকলের সঙ্গে আলাপ করাচ্ছেন, সেই ধরনটা আমাকে বেশ অবাক করেছিল।”
এই অবাক হওয়ার কারণ ছিল জয়ার আন্তরিকতা।
সাধারণত বড় মাপের অভিনেতারা অনেক সময় নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন। কিন্তু জয়া ভাদুড়ী সেই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন।
চূর্ণীর কথায়, জয়া নিজে এগিয়ে এসে তাঁকে এবং টোটা রায়চৌধুরী-কে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
শুধু পরিচয় করিয়ে দেওয়া নয়, জয়া অন্যদের বলেন—
“ওঁরা বাংলা ইন্ডাস্ট্রির খুব জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী। তোমরা হয়তো ওঁদের কাজ দেখোনি। কিন্তু ওঁরা খুব প্রতিভাবান।”
এই একটি ঘটনাই চূর্ণীর মনে গভীর ছাপ ফেলে।
কারণ, একজন সিনিয়র অভিনেত্রী হয়েও জয়া নিজের সহ-অভিনেতাদের মর্যাদা দিতে জানেন। তিনি বুঝতে পারেন, নতুন সেটে কেউ গেলে একটু অস্বস্তি কাজ করতেই পারে। আর সেই অস্বস্তি দূর করার জন্যই জয়া নিজে এগিয়ে এসে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন।
চূর্ণীর কাছে এই আচরণ ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত এবং আবেগঘন।
এই ছবির সেটে ছিলেন আর এক কিংবদন্তি অভিনেতা—
ধর্মেন্দ্র।
একই সেটে জয়া ভাদুড়ী এবং ধর্মেন্দ্রর মতো দুই বর্ষীয়ান শিল্পীর উপস্থিতি যে কোনও অভিনেতার জন্যই বড় অভিজ্ঞতা।
চূর্ণী জানান, সেটের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। সিনিয়র অভিনেতারা কখনও নতুনদের দূরে সরিয়ে রাখেননি। বরং তাঁরা সবাইকে আপন করে নিয়েছেন।
এই পরিবেশই কাজকে সহজ করে তোলে।
চূর্ণীর সঙ্গে জয়ার ছবিতে খুব বেশি দৃশ্য ছিল না।
কিন্তু দৃশ্যের সংখ্যার চেয়ে বড় ছিল অভিজ্ঞতার গভীরতা।
চূর্ণী বলেন,
“যদিও ছবিতে আমার সঙ্গে খুব কম দৃশ্যই ছিল, তবুও ওঁর সঙ্গে সময় কাটানোটা আমার কাছে অনেক বড় অভিজ্ঞতা।”
![]()
আরও খবর
একজন অভিনেতার কাছে কখনও কখনও কয়েকটি মুহূর্তই অনেক বড় শিক্ষা হয়ে ওঠে। জয়ার সঙ্গে কাটানো সেই সময় চূর্ণীর কাছে তেমনই এক মূল্যবান স্মৃতি।
জয়া ভাদুড়ীর অভিনয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সংযম।
তিনি কখনও অতিরিক্ত অভিনয় করেন না। তাঁর চোখ, মুখের অভিব্যক্তি, শরীরী ভাষা—সব কিছুতেই থাকে এক ধরনের নীরব শক্তি।
চূর্ণী মনে করেন, এই সংযমই জয়ার অভিনয়কে আলাদা করে তোলে।
একই সঙ্গে তাঁর মানবিকতা তাঁকে আরও বড় করে তোলে।
সিনিয়র হয়েও তিনি কখনও দূরত্ব তৈরি করেন না। বরং সহ-অভিনেতাদের মর্যাদা দেন, তাঁদের স্বচ্ছন্দ করে তোলেন।
এটাই একজন সত্যিকারের শিল্পীর পরিচয়।
এই ছবির মাধ্যমে বাংলা এবং হিন্দি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে।
চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় এবং টোটা রায়চৌধুরীর মতো বাংলা অভিনেতাদের উপস্থিতি ছবিটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
জয়া ভাদুড়ীর মতো একজন অভিনেত্রী যখন তাঁদের প্রশংসা করেন, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়—পুরো বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্যই গর্বের বিষয় হয়ে ওঠে।
চূর্ণীর অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, জয়া ভাদুড়ী শুধু একজন বড় অভিনেত্রী নন, তিনি একজন বড় মনের মানুষ।
অনেক সময় বড় শিল্পীরা নিজেদের অবস্থান নিয়ে সচেতন থাকেন। কিন্তু জয়া সেই জায়গায় সম্পূর্ণ আলাদা।
তিনি জানেন, শিল্পের কোনও ভাষা নেই, কোনও সীমানা নেই।
যে যেখানে ভালো কাজ করছে, তাকে সম্মান জানানোই একজন শিল্পীর দায়িত্ব।
এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
জয়া ভাদুড়ীর জন্মদিনে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের এই স্মৃতিচারণ যেন এক ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এটি শুধু একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং একজন শিল্পীর প্রতি আর এক শিল্পীর আন্তরিক ভালোবাসা এবং সম্মানের প্রকাশ।
চূর্ণীর কথার মধ্যে দিয়ে উঠে আসে—
জয়া ভাদুড়ী একজন অভিনেত্রী হিসেবে যেমন বড়, মানুষ হিসেবেও তেমনই উষ্ণ এবং সহজ।
একজন শিল্পীর আসল পরিচয় শুধু তাঁর কাজের মধ্যে নয়, তাঁর ব্যবহারের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।
জয়া ভাদুড়ীর ক্ষেত্রে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি সহ-অভিনেতাদের সম্মান করেন, নতুনদের স্বাগত জানান, এবং নিজের অবস্থানকে কখনও বড় করে দেখান না।
এই গুণগুলোই তাঁকে কিংবদন্তি করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়-এর স্মৃতিচারণ আমাদের সামনে তুলে ধরে এক অনন্য শিল্পীর মানবিক মুখ, যাঁকে আমরা এত দিন মূলত তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমেই চিনে এসেছি। জয়া ভাদুড়ী শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী নন, তিনি একজন এমন মানুষ, যিনি সহ-অভিনেতাদের সম্মান দিতে জানেন, নতুন পরিবেশে কাউকে স্বচ্ছন্দ করে তুলতে জানেন এবং শিল্পের প্রকৃত মূল্য বোঝেন। ‘অভিমান’ দেখে যে মুগ্ধতা থেকে চূর্ণীর জয়া-চেনা শুরু হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে এক গভীর শ্রদ্ধায় পরিণত হয়েছে। আর সেই শ্রদ্ধা আরও দৃঢ় হয়েছে রকি অউর রানি কি প্রেমকহানি-র সেটে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে।
লখনউয়ের প্রথম দেখা থেকে শুরু করে বহু বছর পর একই সেটে দাঁড়িয়ে কাজ করা—এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান যেন প্রমাণ করে, শিল্পের জগতে সম্পর্ক কখনও হারিয়ে যায় না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও পরিণত হয়। চূর্ণীর কথায় যে আবেগ, যে বিস্ময় এবং যে কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠেছে, তা স্পষ্ট করে দেয় জয়া ভাদুড়ীর ব্যক্তিত্ব কতটা উষ্ণ এবং আন্তরিক। একজন সিনিয়র শিল্পী হয়ে তিনি যখন নিজে থেকে এগিয়ে এসে চূর্ণী এবং টোটা রায়চৌধুরী-কে অন্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, তাঁদের প্রতিভার প্রশংসা করেন, তখন সেটি নিছক সৌজন্য নয়—এটি একজন শিল্পীর মানবিক দায়িত্ববোধের প্রকাশ। আর এই দায়িত্ববোধই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
একই সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা আমাদের বুঝিয়ে দেয়, বড় হওয়া মানে শুধু খ্যাতি অর্জন করা নয়, বরং মানুষের মন জয় করা। অনেক সময় দেখা যায়, বড় তারকারা নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন, কিন্তু জয়া ভাদুড়ী সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। তিনি জানেন, একটি ছবির সেটে সবাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক থেকে অভিনেতা, সহ-অভিনেতা থেকে টেকনিশিয়ান—সবাই মিলে একটি সিনেমা তৈরি হয়। তাই তিনি কখনও নিজের অবস্থানকে বড় করে দেখান না, বরং সহকর্মীদের সম্মান দিয়ে পুরো টিমকে এক সুতোয় বেঁধে রাখেন। এই গুণই তাঁকে একজন প্রকৃত শিল্পী এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে—অভিনয়ের প্রকৃত শিক্ষা কোথায়। অভিনয় শুধু সংলাপ বলা নয়, শুধু ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ দেখানো নয়; অভিনয় হল চরিত্রের ভেতরে ঢুকে তার অনুভূতিকে নিঃশব্দে প্রকাশ করা। জয়া ভাদুড়ীর অভিনয়ে সেই নিঃশব্দ শক্তি সব সময়ই দেখা যায়। তাঁর চোখের ভাষা, মুখের সামান্য পরিবর্তন, শরীরী ভঙ্গি—সব কিছুতেই থাকে গভীর মনন। আর সেই মননের কাছ থেকেই শিক্ষা নিতে চান চূর্ণীর মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীও। এটি প্রমাণ করে, একজন শিল্পীর শেখার কোনও শেষ নেই, এবং বড় শিল্পীর কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই এক বিরল অভিজ্ঞতা।
এই গল্পে আর একটি সুন্দর দিক হল বাংলা এবং হিন্দি ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হওয়া। চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় এবং টোটা রায়চৌধুরীর মতো বাংলা অভিনেতাদের প্রতি জয়া ভাদুড়ীর সম্মান দেখানো শুধু ব্যক্তিগত সৌজন্য নয়, এটি পুরো বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য গর্বের বিষয়। যখন একজন বলিউড কিংবদন্তি প্রকাশ্যে বলেন যে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অভিনেতারা প্রতিভাবান, তখন তা দুই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার বার্তা দেয়। এই ধরনের আচরণই ভারতীয় সিনেমাকে আরও সমৃদ্ধ করে এবং বিভিন্ন ভাষার শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করার পথ খুলে দেয়।
জয়ার জন্মদিন উপলক্ষে চূর্ণীর এই স্মৃতিচারণ তাই শুধুমাত্র একটি সাক্ষাৎকার নয়, বরং এক ধরনের শ্রদ্ধাঞ্জলি। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তাঁর মানবিকতার মধ্যে লুকিয়ে থাকে। তাঁর সাফল্য, তাঁর জনপ্রিয়তা, তাঁর পুরস্কার—সব কিছুর বাইরেও তিনি কেমন মানুষ, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই জায়গায় জয়া ভাদুড়ী নিঃসন্দেহে এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক শিল্পী আসেন, অনেকেই আবার হারিয়েও যান। কিন্তু কিছু মানুষ তাঁদের কাজ এবং ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে ইতিহাসে জায়গা করে নেন। জয়া ভাদুড়ী সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর অভিনয় প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। তাঁর সহজ-সরল আচরণ, সহ-অভিনেতাদের প্রতি সম্মান, এবং কাজের প্রতি নিষ্ঠা—সব কিছু মিলিয়ে তিনি আজও নতুন শিল্পীদের কাছে এক আদর্শ হয়ে রয়েছেন।
চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের এই অভিজ্ঞতা আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়—শিল্পের জগতে সম্মান এবং মানবিকতা সবচেয়ে বড় সম্পদ। একজন বড় শিল্পী তখনই প্রকৃত অর্থে বড় হয়ে ওঠেন, যখন তিনি অন্যদেরও বড় হতে সাহায্য করেন, তাঁদের সম্মান দেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ান। জয়া ভাদুড়ী ঠিক সেই কাজটাই করে চলেছেন বছরের পর বছর।
এই কারণেই তাঁর জন্মদিনে চূর্ণীর স্মৃতিচারণ শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং ভারতীয় সিনেমার এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। ‘অভিমান’ থেকে শুরু হওয়া এক মুগ্ধতার গল্প শেষ পর্যন্ত এসে দাঁড়ায় এক গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার জায়গায়। আর সেই শ্রদ্ধার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একজন শিল্পীর প্রতি প্রকৃত সম্মান।
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, জয়া ভাদুড়ী শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী নন—তিনি এক মানবিক শিল্পী, যাঁর উপস্থিতি সেটে থাকলে পরিবেশ উষ্ণ হয়ে ওঠে, সহ-অভিনেতারা স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, এবং কাজ হয়ে ওঠে আরও আনন্দময়। চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিজ্ঞতা সেই সত্যকেই আবার নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। তাঁর এই স্মৃতিচারণ ভবিষ্যতের শিল্পীদেরও অনুপ্রাণিত করবে—শুধু ভালো অভিনেতা নয়, ভালো মানুষ হওয়ার জন্যও।