Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রাশিয়ার তেল কিনলে শুল্ক বসবে অন্যদের উপর কিনবে শুধু আমেরিকা সমালোচনার মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প

রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান ঘিরে বিতর্ক অন্য দেশ রুশ তেল কিনলে শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি অথচ আমেরিকার জন্য কেনার সুযোগ এই অবস্থানের সমালোচনা উঠছে সমালোচনার মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের জন্য আলাদা নীতি কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে

রাশিয়ার তেল কিনলে শুল্ক বসবে অন্যদের উপর কিনবে শুধু আমেরিকা সমালোচনার মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প
International News

রুশ জ্বালানি কেনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। রাশিয়ার তেল কেনার কারণে অন্য দেশের বিরুদ্ধে শুল্কের চাপ তৈরি করা ওয়াশিংটন এবার নিজের বাজারে রুশ ডিজেল আমদানির সুযোগ দিচ্ছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয় কমানোই যদি মার্কিন নীতির উদ্দেশ্য হয়, তাহলে আমেরিকার প্রয়োজনের সময় সেই নীতিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কেন ভারতকে রুশ তেল কেনা নিয়ে চাপ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমালোচনার মধ্যেও সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প ১২ অক্টোবর প্রকাশিত ABC News-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্তের পক্ষে আবারও সওয়াল করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকার মানুষের স্বার্থে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইউরোপের দেশগুলিও রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কিনেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্যে দেশের মানুষের জ্বালানি খরচ কমানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। কিন্তু সমালোচকদের আপত্তি হলো, নিজেদের অর্থনৈতিক প্রয়োজনকে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও অন্য দেশের একই ধরনের প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন কতটা নমনীয় হচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর ঘিরেই বিতর্ক বাড়ছে।

রুশ ডিজেল সরবরাহ নিয়ে কী ঘোষণা হয়েছে Moneycontrol-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া অবিলম্বে আমেরিকা ও বিশ্ববাজারে তিন লক্ষ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লক্ষ টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত সরবরাহের কথাও বলা হয়েছে। এই ঘোষণাকে আমেরিকায় জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তবে এখানে অপরিশোধিত তেল এবং ডিজেলের মধ্যে পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন। অপরিশোধিত তেল শোধনাগারে প্রক্রিয়াকরণের পরে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা এবং প্রস্তুত ডিজেল আমদানির বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া আলাদা হলেও, উভয় ক্ষেত্রেই রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয়ের প্রশ্নটি সামনে থাকে। আমেরিকায় ডিজেলের দাম কেন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল শুধু ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি নয়। পণ্য পরিবহণ, কৃষিকাজ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর প্রয়োজন রয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার খরচ বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও পড়তে পারে। Associated Press-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আমেরিকায় উচ্চ ডিজেলমূল্য পরিবহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচের ওপর চাপ তৈরি করছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়ে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রুশ ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত এসেছে। নিজের দলের মধ্যেও আপত্তি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও আপত্তি জানিয়েছেন। ABC News-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দলের সাতজন সেনেটর প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার জ্বালানি কেনা মস্কোকে আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। তাঁরা আমদানির সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি ও কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এগুলি সেনেটরদের উত্থাপিত আপত্তি; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। তাঁদের যুক্তি, উচ্চ জ্বালানিমূল্যে বিপর্যস্ত আমেরিকানদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসন বিকল্প সরবরাহের ব্যবস্থা করছে। ফলে বিষয়টি মার্কিন রাজনীতির ভেতরেও মতবিরোধ তৈরি করেছে।

ভারতের ক্ষেত্রে কেন উঠছে দ্বৈতনীতির প্রশ্ন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন মার্কিন চাপের মুখে রয়েছে। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, এই কেনাকাটার মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিতে অর্থ পৌঁছচ্ছে, যা যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতাকে সাহায্য করতে পারে। সেই যুক্তিতেই ভারতের বিরুদ্ধে শুল্কের চাপ তৈরি করা হয়েছে। এখন আমেরিকা নিজেই রুশ জ্বালানি আমদানির সুযোগ দেওয়ায় নীতির সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। Indian Express-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ভারতের নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনের যুক্তিকে আরও জোরালো করতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতের জন্য সব শুল্কের ঝুঁকি উঠে গেছে বা কোনও ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনায় আমেরিকা এই ব্যতিক্রমকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। বাড়তি সরবরাহ এলেই কি দাম কমবে রুশ ডিজেল আমদানির ঘোষণার পরে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রশ্ন হলো, এতে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কতটা কমবে। AP-এর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞেরা উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিদ্যমান সরবরাহ এক বাজার থেকে অন্য বাজারে গেলে বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানির পরিমাণ একই অনুপাতে বাড়ে না। আবার শোধনাগারের উৎপাদনক্ষমতা ও পরিবহণের বাধা থাকলে বাড়তি সরবরাহের সুবিধাও সীমিত হতে পারে। তাই ঘোষণা এবং বাস্তবে বাজারে পৌঁছনো ডিজেলের পরিমাণ আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

news image
আরও খবর

জ্বালানি নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে টানাপোড়েন এই বিতর্ক দেখাচ্ছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কতটা কঠিন। একদিকে রাশিয়ার আয়ের ওপর চাপ তৈরির রাজনৈতিক লক্ষ্য, অন্যদিকে কৃষক, পরিবহণ ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কমানোর দাবি। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির ভিত্তিতে বলা যায়, ট্রাম্প এখন দেশের জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্তের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যা অন্য দেশের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, সেই প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি তাই একটি আমদানি ঘোষণার পাশাপাশি মার্কিন বাণিজ্যনীতি ও কূটনৈতিক অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষাও হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে নজর থাকবে ঘোষিত ডিজেল সরবরাহ বাস্তবে কতটা আসে, তার দামে কী প্রভাব পড়ে এবং রুশ জ্বালানির অন্য ক্রেতাদের প্রতি ওয়াশিংটনের আচরণ বদলায় কি না। এই ফলাফলগুলিই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা এবং নীতিগত সামঞ্জস্য মূল্যায়নে সাহায্য করবে।

রুশ ডিজেল সরবরাহ নিয়ে কী ঘোষণা হয়েছে Moneycontrol-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ৯ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া অবিলম্বে আমেরিকা ও বিশ্ববাজারে তিন লক্ষ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। নভেম্বরে আরও পাঁচ লক্ষ টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত সরবরাহের কথাও বলা হয়েছে। এই ঘোষণাকে আমেরিকায় জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। তবে এখানে অপরিশোধিত তেল এবং ডিজেলের মধ্যে পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন। অপরিশোধিত তেল শোধনাগারে প্রক্রিয়াকরণের পরে ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা এবং প্রস্তুত ডিজেল আমদানির বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া আলাদা হলেও, উভয় ক্ষেত্রেই রাশিয়ার জ্বালানি বিক্রি থেকে আয়ের প্রশ্নটি সামনে থাকে। আমেরিকায় ডিজেলের দাম কেন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিজেল শুধু ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি নয়। পণ্য পরিবহণ, কৃষিকাজ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর প্রয়োজন রয়েছে। ডিজেলের দাম বাড়লে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার খরচ বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরও পড়তে পারে। Associated Press-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আমেরিকায় উচ্চ ডিজেলমূল্য পরিবহণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচের ওপর চাপ তৈরি করছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির দাম কমানোর বিষয়ে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রুশ ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত এসেছে। নিজের দলের মধ্যেও আপত্তি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কয়েকজন রিপাবলিকান সেনেটরও আপত্তি জানিয়েছেন। ABC News-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দলের সাতজন সেনেটর প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইউক্রেনে যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার জ্বালানি কেনা মস্কোকে আর্থিক সুবিধা দিতে পারে। তাঁরা আমদানির সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি ও কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এগুলি সেনেটরদের উত্থাপিত আপত্তি; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। অন্যদিকে, কিছু রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্পের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন। তাঁদের যুক্তি, উচ্চ জ্বালানিমূল্যে বিপর্যস্ত আমেরিকানদের স্বস্তি দেওয়ার জন্য প্রশাসন বিকল্প সরবরাহের ব্যবস্থা করছে। ফলে বিষয়টি মার্কিন রাজনীতির ভেতরেও মতবিরোধ তৈরি করেছে। ভারতের ক্ষেত্রে কেন উঠছে দ্বৈতনীতির প্রশ্ন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারত দীর্ঘদিন মার্কিন চাপের মুখে রয়েছে। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, এই কেনাকাটার মাধ্যমে রাশিয়ার অর্থনীতিতে অর্থ পৌঁছচ্ছে, যা যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতাকে সাহায্য করতে পারে। সেই যুক্তিতেই ভারতের বিরুদ্ধে শুল্কের চাপ তৈরি করা হয়েছে।

Preview image