বিসিসিআই আইপিএল ২০২৬ চলাকালীন মোট ১৮টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব করেছে যা প্রতিযোগিতাকে আরও বৈচিত্র্যময় এবং দর্শকবান্ধব করবে
আইপিএল ২০২৬ মরশুম নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আশা করা হচ্ছে, এই মরশুম ২৬ মার্চ ২০২৬ শুরু হবে এবং ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মে ২০২৬। তবে, সম্পূর্ণ সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
মঙ্গলবার আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যেখানে অনুষ্ঠিত হবে, সেই পাঁচটি রাজ্যের ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণার পরেই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে এবং গোপনীয়তার সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনের কারণে এই বিলম্ব স্বাভাবিক। এপ্রিল এবং মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি তে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আইপিএলের আসন্ন মরশুমে ভেন্যু নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আইপিএল ২০২৬ চলাকালীন ১৮টি শহরে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের স্টেডিয়াম, যাতে করে দর্শকরা সহজে খেলা উপভোগ করতে পারে।
বিসিসিআই আইপিএল ২০২৬ মরশুমে মোট ১৮টি শহরকে ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তাব করেছে। এই ভেন্যুগুলো নির্বাচিত হয়েছে যাতে ভিন্ন রাজ্য ও অঞ্চলের দর্শকরা খেলা উপভোগ করতে পারেন এবং মরশুম আরও বৈচিত্র্যময় ও দর্শকবান্ধব হয়।
প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলো হলো:
দিল্লি
লখনউ
ধরমশালা
নিউ চণ্ডীগড়
চেন্নাই
মুম্বই
কলকাতা
হায়দরাবাদ
আহমেদাবাদ
তিরুবনন্তপুরম
নভি মুম্বই
বিশাখাপত্তনম
গুয়াহাটি
জয়পুর
বেঙ্গালুরু
পুনে
রাঁচি
রায়পুর
প্রত্যেকটি ভেন্যুতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা, দর্শকদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বোর্ডের উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে এবং দর্শকবান্ধবভাবে আয়োজন করা, যাতে প্রতিটি শহরের দর্শকরা খেলা উপভোগ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ১৮টি ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করলে আইপিএল আরও বিস্তৃত, আকর্ষণীয় এবং সমস্ত দর্শকের জন্য সুবিধাজনক হবে।
আইপিএল ২০২৬ মরশুমে প্রতিটি দলকে তাদের হোম ভেন্যু নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং রাজস্থান রয়্যালস (আরআর) কে বলা হয়েছে, তারা ২৭ জানুয়ারির মধ্যে নিশ্চিত করবে যে তারা যথাক্রমে বেঙ্গালুরু এবং জয়পুরে তাদের হোম ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে কিনা।
বেঙ্গালুরুতে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। গত বছর স্টেডিয়ামের বাইরে এক প্রাণঘাতী পদদলিত ঘটনার কারণে বেঙ্গালুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কিত কার্যক্রম সীমিত হয়েছে। তাই আরসিবি তাদের হোম ম্যাচগুলো নভি মুম্বই এর ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়াম এবং রায়পুর স্টেডিয়ামে আয়োজনের সম্ভাবনা যাচাই করছে।
এই পরিস্থিতি বোঝায় যে প্রতিটি দলের জন্য হোম ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা সহজ নয়। স্টেডিয়ামের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শক সুবিধা এবং স্থানীয় প্রশাসনের অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের প্রভাব এবং নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মিলিয়ে এই মরশুমে ভেন্যু নির্ধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া।
এপ্রিল এবং মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি তে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আইপিএল ২০২৬-এর চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ঘোষণার পরই বোর্ড পুরো সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।
নির্বাচনের সঙ্গে আইপিএল চলার ফলে ভেন্যুগুলোতে ম্যাচ আয়োজনের তারিখ নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এই সময়ে প্রতিটি ভেন্যুতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্টেডিয়ামের ভেতর এবং বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের উপস্থিতি, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি পালন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন এবং আইপিএলের সময় একসাথে থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকলে খেলাধুলা সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রতিটি দলকে তাদের হোম ভেন্যু অনুযায়ী সময়সূচি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানতে হবে, যাতে দর্শকরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারে।
আইপিএল এর ভিড় পরিচালনার জন্য ডিজিটাল টিকেটিং প্রধান পদ্ধতি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি স্টেডিয়ামে দর্শক সংখ্যা সীমিত রাখা হবে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে।
টিকেট কেনার জন্য অনলাইন পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ এবং অফলাইন কাউন্টার তিনটি বিকল্প থাকবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে বড় ভিড় এড়াতে দর্শকরা অনলাইনে আগে থেকে টিকেট কিনতে পারেন।
আইপিএল ২০২৬ মরশুমে দর্শক ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। প্রতিটি স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শক উপস্থিত থাকবেন। তাই দর্শক ব্যবস্থাপনা, প্রবেশপথ, সিট বরাদ্দ, ভিআইপি জোন, মেডিকেল সহায়তা এবং জরুরি প্রস্থান পথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
ডিজিটাল টিকেটিং এই মরশুমে প্রধান পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইনে টিকেট কেনা দর্শকদের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক এবং নিরাপদ পদ্ধতি। ডিজিটাল টিকেটের মাধ্যমে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় দ্রুত যাচাই করা যায় এবং ভিড় কমানো সম্ভব হয়।
স্টেডিয়ামে দর্শকের সংখ্যা সীমিত রাখা হবে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে। বিশেষ করে নির্বাচনের সঙ্গে আইপিএল সময়কাল ক্রস হলে নিরাপত্তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং হঠাৎ জরুরি অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া স্টেডিয়ামের প্রশাসনের মূল কাজ হবে।
অনলাইনে টিকেট কেনা সবচেয়ে সুবিধাজনক। দর্শকরা মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের সিট বেছে নিতে পারবেন। অনলাইনে আগে থেকে টিকেট কিনলে বড় ভিড় এড়ানো সম্ভব।
অফলাইন কাউন্টারের মাধ্যমে সীমিত পরিমাণ টিকেট পাওয়া যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কঠিন। তাই বিশেষজ্ঞরা সবসময় অনলাইনে টিকেট কেনার পরামর্শ দিচ্ছেন।
স্টেডিয়ামে দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদের মধ্যে রয়েছে:
এন্ট্রি পয়েন্টে ব্যাগ চেকিং: দর্শকদের যেকোনো বিপজ্জনক সামগ্রী বহন করা না হয় তা নিশ্চিত করা।
সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ: প্রতিটি প্রবেশপথ এবং সিট এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন।
মেডিকেল সাপোর্ট: স্টেডিয়ামে ফার্স্ট এইড এবং এম্বুলেন্স সার্ভিস উপস্থিত।
জরুরি প্রস্থান পথ: স্টেডিয়ামে হঠাৎ কোনো পরিস্থিতি ঘটলে দর্শক নিরাপদে বের হতে পারবে এমন ব্যবস্থা।
ওয়েটার এবং স্বেচ্ছাসেবক সহায়তা: দর্শকদের সাহায্য করতে এবং সমস্যা সমাধান করতে পর্যাপ্ত জনবল থাকবে।
২০২৬ সালের আইপিএল মরশুমে স্বাস্থ্যবিধি মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রতিটি স্টেডিয়ামে সিটের মধ্যে ব্যবধান রাখা হবে। দর্শকরা স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় মাস্ক ব্যবহার করবেন।
হাইজিন বজায় রাখতে স্টেডিয়ামে হ্যান্ড স্যানিটাইজার স্থাপন করা হবে। দর্শকরা খাবার বা পানীয় গ্রহণের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।
আইপিএলে VIP অতিথি এবং মিডিয়ার জন্য আলাদা জোন থাকবে। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া থাকবে। মিডিয়া কভারেজের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং সিট বরাদ্দ করা হবে। VIP জোনে অতিথিদের জন্য চেয়ার, খাবার এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিটি স্টেডিয়ামে শিশুদের জন্য নিরাপদ প্লে এরিয়া থাকবে। পরিবার সহ দর্শকদের জন্য বিশ্রামের জন্য আলাদা জোন তৈরি করা হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিকিউরিটি গার্ড এবং হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হবে।
আইপিএল ২০২৬ প্রস্তাবিত ১৮টি ভেন্যুর প্রতিটি স্টেডিয়াম আধুনিক সুযোগ সুবিধা সহ প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিটি স্টেডিয়ামের জন্য পৃথক নিরাপত্তা, দর্শক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিধি এবং লজিস্টিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিটি দলের জন্য হোম ভেন্যু নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের সময়সূচি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে দলগুলোর হোম মাঠ পরিবর্তন হতে পারে। আরসিবি এবং রাজস্থান রয়্যালসকে তাদের হোম ভেন্যু নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তা এবং সম্প্রদায়ের উপস্থিতি বিবেচনা করে আরসিবি হয়তো নভি মুম্বই বা রায়পুরে তাদের হোম ম্যাচ আয়োজন করবে। প্রতিটি দলকে তাদের প্রস্তুতি, ভেন্যু এবং দর্শক ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা চূড়ান্তভাবে রাখা হবে। স্টেডিয়ামের ভেতর এবং বাইরে পর্যাপ্ত পুলিশ এবং সিভিল প্রশাসনের উপস্থিতি থাকবে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ফায়ার এক্সটিংগুইশার এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকবে। দর্শকদের জন্য হেলথ গাইডলাইন বোর্ডে প্রদর্শন করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দর্শকরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন আইপিএল ২০২৬-এর মরশুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। কারণ এই মরশুমে ভোট ও খেলাধুলা একসাথে চলবে। নতুন ভেন্যু এবং বিকল্প হোম মাঠ ব্যবহারের চ্যালেঞ্জ থাকবে। দর্শক সংখ্যার সঠিক নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রয়োজন।
তাদের মতে, বোর্ডের সঠিক পরিকল্পনা এবং দলগুলোর সহযোগিতা থাকলে মরশুমটি সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে।
আইপিএল ভবিষ্যতে আরও বিস্তত হবে। নতুন শহর এবং ভেন্যু যুক্ত করা হবে যাতে খেলোয়াড় এবং দর্শক উভয়ের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হয়। বোর্ড পরিকল্পনা করছে ডিজিটাল প্রযুক্তি, সম্প্রচার ব্যবস্থা এবং দর্শক বিনোদন আরও উন্নত করার জন্য।
আইপিএলের ভেন্যু সম্প্রসারণ এবং নতুন হোম ম্যাচ স্টেডিয়াম নিশ্চিত করা দেশের ক্রিকেট উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।