Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

টানা তৃতীয়বার প্লে-অফে মেসিরা, ফের শিরোপার স্বপ্নে ইন্টার মায়ামি

কেরিয়ারে আরও একটি ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন লায়োনেল মেসি। বৃহস্পতিবার মেজর লিগ সকারে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করে টানা তৃতীয়বার নকআউট পর্বে জায়গা করে নিল ইন্টার মায়ামি। এবার কি মেসির হাত ধরে আসবে আরও এক শিরোপা?

মেসির অ্যাসিস্টে ইন্টার মায়ামির জয়, টানা তৃতীয়বার এমএলএস প্লে-অফে জায়গা পাকা

সম্পূর্ণ বাংলা ক্রীড়া প্রতিবেদন • SEO-উপযোগী শিরোনাম, মেটা ডেসক্রিপশন ও Google Tags-সহ

লিয়োনেল মেসির লক্ষ্য কেরিয়ারে আরও একটি ট্রফি জয়। সেই স্বপ্নকে সামনে রেখেই মেজর লিগ সকারে (MLS) এগিয়ে চলেছে ইন্টার মায়ামি। বৃহস্পতিবার ঘরের মাঠে নিউ ইয়র্ক সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করল দলটি। ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন জার্মান বার্তেরামে ও রদ্রিগো ডে পল। পাশাপাশি মেসির নামের পাশেও যোগ হল একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট। এই জয়ের ফলে টানা তৃতীয়বার এমএলএসের প্লে-অফে জায়গা করে নিল ইন্টার মায়ামি। ২৯ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে দলটি প্রতিযোগিতার পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বলে আপনার দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

মেসির মতো অভিজ্ঞ ও সফল ফুটবলারের কাছে প্রতিটি ম্যাচই নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ক্লাব ফুটবল—দীর্ঘ কেরিয়ারে একের পর এক সাফল্য পেয়েছেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা। তবু নতুন প্রতিযোগিতা, নতুন দল এবং নতুন চ্যালেঞ্জ তাঁকে বারবার অনুপ্রাণিত করে। ইন্টার মায়ামির হয়ে আরও একটি শিরোপা জয়ের লক্ষ্যও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। প্লে-অফ নিশ্চিত হওয়ায় সেই লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগোল দলটি।

নিউ ইয়র্ক সিটিকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত

নিউ ইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে এই জয় ইন্টার মায়ামির কাছে শুধুমাত্র তিন পয়েন্ট পাওয়ার ঘটনা নয়। নিয়মিত মরসুম শেষ হওয়ার আগেই প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফল। ম্যাচের দুই অর্ধে গোল না হলেও প্রথমার্ধেই নিজেদের কাজ সেরে ফেলে মায়ামি। বার্তেরামে ও ডে পলের গোল দলকে এগিয়ে দেয়, আর দ্বিতীয়ার্ধে সেই ব্যবধান ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা।

New York City FC

+1

ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করে। নিউ ইয়র্ক সিটি প্রথম দিকে দূর থেকে শট নিয়ে মায়ামির গোলরক্ষককে পরীক্ষা করার চেষ্টা করেছিল। তবে ধীরে ধীরে বলের দখল ও আক্রমণের ছন্দে নিজেদের জায়গা তৈরি করে নেয় স্বাগতিক দল। মেসির পাস, ডে পলের মাঝমাঠে উপস্থিতি এবং সামনের সারিতে বার্তেরামে ও লুইস সুয়ারেজের নড়াচড়া প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখে।

মায়ামির প্রথম গোল আসে ম্যাচের ২০ মিনিটে। আক্রমণ গড়ে ওঠে বাম দিক থেকে। সার্জিও রেগিলনের ক্রসের পর বল পেয়ে মেসি ও ডে পল আক্রমণকে এগিয়ে নিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত সুয়ারেজের পাস থেকে গোল করেন বার্তেরামে। তাঁর এই গোলেই এগিয়ে যায় ইন্টার মায়ামি। মরসুমে গোলের খরা কাটিয়ে বার্তেরামের এই সাফল্য দলের জন্যও ছিল স্বস্তির।

New York City FC

+2

প্রথম গোলের পর নিউ ইয়র্ক সিটি সমতা ফেরানোর চেষ্টা করে। আক্রমণে গতি বাড়িয়ে মায়ামির রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি তারা। মায়ামিও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ খুঁজছিল। মেসি নিজে গোলের চেষ্টা করেন, সতীর্থদের জন্য সুযোগও তৈরি করেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে সেই আক্রমণই আরও একবার সফল হয়।

মেসির পাসে ডে পলের দুরন্ত গোল

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে দ্বিতীয় গোলটি পায় ইন্টার মায়ামি। নিজেদের রক্ষণ থেকে দ্রুত আক্রমণে উঠে আসে দলটি। বার্তেরামে বল নিয়ে এগিয়ে মেসির কাছে পৌঁছে দেন। মেসি সেখান থেকে ডে পলের জন্য বল বাড়িয়ে দেন। ডে পল শক্তিশালী শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০। এই গোলের মাধ্যমে মেসির অ্যাসিস্টও ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে।

New York City FC

+2

মেসি ও ডে পলের বোঝাপড়া আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সমর্থকদের কাছেও পরিচিত। জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁদের মাঠের যোগাযোগকে আরও সহজ করে তোলে। ক্লাবের জার্সিতেও সেই বোঝাপড়ার ছাপ দেখা যায়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মেসির সঠিক পাস এবং ডে পলের দ্রুত সিদ্ধান্ত মায়ামিকে দ্বিতীয় গোল এনে দেয়। প্লে-অফের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্বের আগে দলের আক্রমণভাগে এমন সমন্বয় নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক।

দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে নিউ ইয়র্ক সিটি ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও স্বাগতিকদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েছিল তারা। কিন্তু নিকোলাস ফার্নান্দেস মারকাউয়ের শট ঠেকিয়ে দেন মায়ামির গোলরক্ষক ডেন স্টে ক্লেয়ার। ফলে শেষ পর্যন্ত গোল হজম না করেই মাঠ ছাড়ে মায়ামি।

New York City FC

news image
আরও খবর

+2

এই ম্যাচে মায়ামির রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। শুধু গোল করাই নয়, প্রতিপক্ষকে গোল করতে না দেওয়াও প্লে-অফের লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে। পরপর ম্যাচে ক্লিন শিট পাওয়া দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে জয় সেই দিক থেকেও মায়ামির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মেসির সামনে আরও একটি শিরোপার হাতছানি

মেসির কেরিয়ারে ট্রফির সংখ্যা ইতিমধ্যেই অসাধারণ। বার্সেলোনা, প্যারিস সাঁ জারমাঁ, ইন্টার মায়ামি এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে তিনি নানা সাফল্য পেয়েছেন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। তবুও ক্লাব ফুটবলে প্রতিটি নতুন মরসুমে নতুন লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামেন তিনি। ইন্টার মায়ামির হয়ে আরও একটি শিরোপা জয়ের স্বপ্নও সেই লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম।

ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির প্রতি বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আগ্রহ বেড়েছে। মেসির সঙ্গে সুয়ারেজ, সার্জিও বুসকেতস এবং জর্দি আলবার মতো পরিচিত মুখদের উপস্থিতি দলটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়দেরও সাহায্য করে। এখন দলটির লক্ষ্য নিয়মিত মরসুমের সাফল্যকে প্লে-অফেও ধরে রাখা।

এখানে মনে রাখা দরকার, প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করা মানেই শিরোপা জেতা নয়। নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। একটি ভুল, প্রতিপক্ষের একটি দুর্দান্ত মুহূর্ত কিংবা পেনাল্টি শুটআউটের ফলাফলও পুরো মরসুমের পরিণতি বদলে দিতে পারে। তাই মায়ামির কাছে পরের চ্যালেঞ্জ হবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, খেলোয়াড়দের ফিট রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সঠিক কৌশল প্রয়োগ করা।

৫২ পয়েন্ট নিয়ে এগিয়ে মায়ামি

নিউ ইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে জয়ের পর ইন্টার মায়ামির পয়েন্ট দাঁড়ায় ৫২। ক্লাবের প্রকাশিত ম্যাচ-রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪টি জয়, পাঁচটি হার এবং ১০টি ড্রয়ের মাধ্যমে এই পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে দলটি। এই ফলের জেরে ২০২৬ সালের এমএলএস কাপ প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত হয় তাদের।

Inter Miami CF

+1

পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থানে থাকা অবশ্য প্লে-অফের জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে, তবে সেখানকার প্রতিটি ম্যাচেই নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে হবে দলগুলিকে। নিয়মিত মরসুমে যে দল ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট তুলেছে, নকআউট পর্বে তাদেরও চাপ সামলানোর ক্ষমতা দেখাতে হয়। মায়ামির ক্ষেত্রে মেসির অভিজ্ঞতা এবং ডে পল-সুয়ারেজের মতো খেলোয়াড়দের ভূমিকা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

দলের কোচিং স্টাফের কাছেও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি। মরসুমের শেষ দিকে ম্যাচের চাপ বাড়ে, আর প্লে-অফের আগে ক্লান্তি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ। সঠিক সময়ে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়া, আক্রমণ ও রক্ষণের ভারসাম্য রাখা এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানো—এসবই মায়ামির শিরোপা-দৌড়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্লে-অফে কী হতে পারে মায়ামির বড় শক্তি?

মায়ামির অন্যতম বড় শক্তি হল আক্রমণে মেসির সৃজনশীলতা। তিনি শুধু নিজে গোল করার জন্য পরিচিত নন, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করতেও সমান দক্ষ। নিউ ইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে ডে পলের গোলের সময় তাঁর পাস সেই দক্ষতারই উদাহরণ। প্রতিপক্ষের রক্ষণ যখন মেসিকে আটকাতে একাধিক খেলোয়াড়কে ব্যবহার করে, তখন অন্যদের জন্য জায়গা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

সুয়ারেজের অভিজ্ঞতা এবং বার্তেরামের গোল করার ক্ষমতাও দলের আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে পারে। ডে পল মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে যোগ দিতে পারেন এবং প্রয়োজনে দূরপাল্লার শটেও গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এই বিভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক বিকল্প মায়ামিকে প্লে-অফে সাহায্য করতে পারে। তবে সাফল্যের জন্য শুধু আক্রমণভাগ নয়, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণভাগের স্থিরতাও বজায় রাখতে হবে।

নিউ ইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে গোলরক্ষক ডেন স্টে ক্লেয়ারের পেনাল্টি বাঁচানোও দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। বড় ম্যাচে গোলরক্ষকের একটি সেভ অনেক সময় ফল নির্ধারণ করে দেয়। প্লে-অফে প্রতিপক্ষের চাপ বাড়লে এমন মুহূর্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য ধাক্কা

অন্য দিকে, ইন্টার মায়ামির কাছে হার নিউ ইয়র্ক সিটির প্লে-অফের লড়াইকে আরও কঠিন করেছে। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে গোল করার সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। ম্যাচের ফল বদলাতে না পারলেও সেই সুযোগটি অন্তত ব্যবধান কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। মায়ামির গোলরক্ষকের সেভ সেই আশাও শেষ করে দেয়।

New York City FC

+1

নিউ ইয়র্ক সিটির জন্য এখন নিয়মিত মরসুমের বাকি ম্যাচগুলিতে পয়েন্ট সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আক্রমণের সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণে ভুল কমানো জরুরি। মায়ামির বিরুদ্ধে ম্যাচে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও তারা তা থেকে গোল করতে পারেনি। পরবর্তী ম্যাচগুলিতে এই দুর্বলতা কাটাতে হবে দলটিকে।

শেষ কথা

নিউ ইয়র্ক সিটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইন্টার মায়ামি শুধু প্লে-অফে জায়গা নিশ্চিত করেনি, শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নও আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বার্তেরামের গোল, ডে পলের দুরন্ত ফিনিশ এবং মেসির অ্যাসিস্ট—সব মিলিয়ে জয়টি ছিল দলগত পারফরম্যান্সের ফল। রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও গোলরক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ সেভও এই জয়ের ভিত মজবুত করেছে।

এখন মায়ামির সামনে নতুন পরীক্ষা। নিয়মিত মরসুমের পয়েন্ট তালিকায় ভালো অবস্থান ধরে রাখার পাশাপাশি প্লে-অফের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে দলটিকে। মেসি যদি নিজের ছন্দ ধরে রাখতে পারেন এবং সতীর্থদের সঙ্গে এই সমন্বয় বজায় থাকে, তা হলে শিরোপার লড়াইয়ে ইন্টার মায়ামি যে নজর কাড়বে, তা বলাই যায়। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিততে হলে মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই হবে সবচেয়ে বড় শর্ত।

Preview image