Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের প্যান্ট্রি কারে ভয়াবহ আগুন, ট্রেনে তীব্র চাঞ্চল্য

ভোরে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসের ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকা মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের প্যান্ট্রি কারে আগুন। ঘটনায় এলাকায় ছড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য।

মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের প্যান্ট্রি কারে ভয়াবহ আগুন, ট্রেনে তীব্র চাঞ্চল্য
দুর্ঘটনা

মুম্বইয়ে ভোররাতে বড়সড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস বা CSMT-এর ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকা মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের একটি খালি রেকের প্যান্ট্রি কারে আগুন লাগে। বুধবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রী বা রেলকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ট্রেনটি তখন যাত্রী নিয়ে চলাচল করছিল না। ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকা খালি রেকের প্যান্ট্রি কার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়।

জানা গিয়েছে, ১২২৬১ মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের খালি রেকটি মুম্বইয়ের CSMT ইয়ার্ডে দাঁড়িয়েছিল। বুধবার ভোর আনুমানিক ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ ওই রেকের প্যান্ট্রি কার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে আগুন ছোট আকারে থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে প্যান্ট্রি কারটি। ইয়ার্ডে কর্মরতদের নজরে আসার পর দ্রুত দমকল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলবাহিনী। জানা গিয়েছে, প্রায় ভোর ৪টে নাগাদ দমকলের একটি দল সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। দমকলকর্মীদের তৎপরতায় কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এর ফলে আগুন অন্য কামরা বা রেলের ইয়ার্ডের আশপাশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আগুন লাগার সময় রেকটি খালি ছিল। ফলে কোনও যাত্রী সেখানে ছিলেন না। এখনও পর্যন্ত কোনও যাত্রী বা রেলকর্মীর আহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের তীব্রতায় প্যান্ট্রি কারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

রেল কর্তৃপক্ষের তরফে ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্যান্ট্রি কারে থাকা কোনও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল কি না, শর্ট সার্কিট হয়েছিল কি না, অথবা অন্য কোনও কারণে আগুন লেগেছিল কি না—সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি খালি রেকের প্যান্ট্রি কারে কীভাবে আগুন লাগল, তা জানার জন্য রেল কর্তৃপক্ষের তরফে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আগুনের উৎস চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পরীক্ষা করার মতো বিষয়গুলিও তদন্তের অংশ হতে পারে। আগুন লাগার সময় সেখানে কোনও অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রেল ইয়ার্ডে সাধারণত একাধিক ট্রেনের রেক রাখা থাকে। ফলে সেখানে কোনও একটি কামরায় আগুন লাগলে তা দ্রুত অন্য কামরায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে খালি রেকের ক্ষেত্রে আগুনের উৎস দ্রুত চিহ্নিত করা এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মুম্বইয়ের মতো ব্যস্ত রেল শহরে এমন ঘটনা রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় দমকলবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে আগুন বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েনি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্যান্ট্রি কারটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, রেকটির বাকি অংশে আগুনের তাপ বা ধোঁয়ার কারণে কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেস দেশের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনগুলির মধ্যে অন্যতম। মুম্বই থেকে হাওড়ার মধ্যে এই ট্রেন পরিষেবা চালানো হয়। ফলে এই ট্রেনের রেকের একটি প্যান্ট্রি কারে আগুন লাগার খবর সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই রেলযাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও ঘটনাটি ঘটেছে খালি রেকে এবং কোনও যাত্রী সেই সময় ট্রেনে ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আগুন লাগার কারণ নির্ধারণ করা। যদি বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, যদি রক্ষণাবেক্ষণজনিত কোনও সমস্যা বা অন্য কোনও কারণ সামনে আসে, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

news image
আরও খবর

রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্যান্ট্রি কারে বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নার সঙ্গে যুক্ত সরঞ্জাম এবং অন্যান্য উপকরণ থাকতে পারে। তাই এমন কোনও কামরায় অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আগুনের উৎস নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এই ঘটনায় ঠিক কোন উপকরণ বা পরিস্থিতি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিতে কোনও হতাহতের খবর না থাকলেও প্যান্ট্রি কারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি, আগুন লাগার আগে এবং পরে ইয়ার্ডে কী ধরনের কার্যকলাপ চলছিল, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।

এই ঘটনায় কোনও গাফিলতি বা নিয়মবহির্ভূত কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। তবে তদন্তের রিপোর্ট সামনে না আসা পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা যাচ্ছে না। বর্তমানে আগুনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করাই তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য।

ঘটনার সময় দ্রুত দমকলকে খবর দেওয়া এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কারণে পরিস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করেনি। একটি কামরা থেকে শুরু হওয়া আগুন যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যেত, তাহলে পাশের রেক বা কামরাগুলিতেও তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। সেক্ষেত্রে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। তাই দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

CSMT ইয়ার্ডে দুরন্ত এক্সপ্রেসের প্যান্ট্রি কারে আগুন লাগার এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত যেসব তথ্য এখনও তদন্তাধীন, সেগুলি নিয়ে কোনও অনুমান না করাই গুরুত্বপূর্ণ। রেল কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই জানা যাবে আগুনের মূল উৎস কোথায় এবং কীভাবে তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে প্রায় ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ ১২২৬১ মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের খালি রেকের প্যান্ট্রি কারে আগুন লাগে। প্রায় ৪টে নাগাদ দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনায় কোনও যাত্রী বা রেলকর্মী আহত হননি বলে জানা গিয়েছে। তবে প্যান্ট্রি কারটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকেই নজর রয়েছে। আগুনের কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, শর্ট সার্কিট বা অন্য কোনও সম্ভাবনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে। আপাতত আগুনের উৎস এবং ঘটনার পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, সেই বিষয়গুলিই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

মুম্বইয়ের CSMT ইয়ার্ডে ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ড আরও একবার রেল রক্ষণাবেক্ষণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে আনল। যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি হয়নি, তবুও খালি রেকে থাকা একটি প্যান্ট্রি কারে আগুন লাগার ঘটনা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে আগুনের প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

শেষ পর্যন্ত, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল—মুম্বইয়ের CSMT ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ১২২৬১ মুম্বই-হাওড়া দুরন্ত এক্সপ্রেসের খালি রেকের প্যান্ট্রি কারে ভোররাতে আগুন লাগে, দমকল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর নেই। আগুন লাগার সঠিক কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

Preview image