Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সরস্বতীপুজোয় পারফেক্ট আই মেকআপ অপটু হাতেও সম্ভব জানুন সঠিক কৌশল

মুখে হালকা মেকআপ হলেও চোখের সাজই বদলে দিতে পারে পুরো লুক। অপটু হাতেও কীভাবে নিখুঁত আই মেকআপ করবেন, জেনে নিন সহজ ও কার্যকর কৌশল।

সরস্বতীপুজো মানেই কেবল দেবীর আরাধনা নয়; এটি একটি স্মৃতির দিন, আনন্দের দিন এবং ব্যক্তিগত রূপান্তরের দিন। বছরের অন্যান্য দিনগুলোর তুলনায় এই দিনটি আলাদা—বসন্তের প্রথম স্পর্শ, শীতের শেষ বিকেলের মোলায়েম রোদের উষ্ণতা, বাতাসে কুল ও শিমুল ফুলের মিষ্টি গন্ধ। চারপাশের প্রকৃতি রঙিন হয়ে ওঠে, আর অন্তরের আনন্দ অজান্তেই ফোটা ফোটা খুশিতে পরিণত হয়।

গার্লস স্কুলের নিয়মের কড়া গণ্ডি এই দিনটিতে খানিকটা শিথিল হয়। একদিনের জন্য, ছেলেদের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকে। প্রতিদিনের পরিচিত সহপাঠীও হঠাৎ যেন অন্য রূপে ফুটে ওঠে—সাদা শাড়িতে, চুলে ফুল, কপালে ছোট টিপ। অঞ্জলির অজুহাতে হাতের সংস্পর্শ, চোখাচোখি, লজ্জা এবং হাসি—সব মিলিয়ে এই দিনটি অনেকের জীবনে প্রথম প্রেমের মধুর স্মৃতি হয়ে থাকে।

তাই এই দিনে সেজে ওঠার আগ্রহ থাকে অন্যরকম। সরস্বতীপুজোর দিন মানেই শাড়ি, সাজ এবং চোখের ভাষা—এই তিনটি উপাদান একসাথে পুরো লুককে জীবন্ত করে তোলে।

শাড়ি: সরলতা এবং মার্জিত রূপ
সরস্বতীপুজোর অলিখিত ড্রেস কোড হলো সাদা শাড়ি, লাল পাড় বা হালকা রঙের ছোঁয়া। কেউ পরে পাটভাঙা শাড়ি, কেউ মায়ের আলমারি থেকে বের করা পুরনো সাদা-লাল শাড়ি, আবার কেউ বেছে নেয় হালকা শিফন বা কটনের শাড়ি।

এই দিনের সাজে থাকে সরলতা, কিন্তু সেই সরলতার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিশেষ আকর্ষণ। হালকা রঙের শাড়ি, খোলা চুল, সামান্য গয়না—এগুলো চোখে পড়লেও কখনো ভারী বা অতিরঞ্জিত লাগে না। সত্যিই বলতে গেলে, এই সংযমই সরস্বতীপুজোর আসল সৌন্দর্য।

চোখের সাজ: নিখুঁত লুকের কেন্দ্রবিন্দু
চোখ হলো পুরো লুকের প্রাণ। মুখে খুব বেশি মেকআপ না থাকলেও চোখের সাজ ঠিক থাকলে পুরো লুক বদলে যায়। চোখের ভাষা নিঃশব্দে কথা বলে, অনুভূতি প্রকাশ করে এবং আকর্ষণ তৈরি করে। সরস্বতীপুজোর মতো দিনে, যখন সাজ হয় নরম, স্বাভাবিক ও মার্জিত, তখন চোখই হয়ে ওঠে পুরো লুকের কেন্দ্রবিন্দু।

তবে সবাই কি নিখুঁত আই মেকআপ করতে পারে? পেশাদারদের মতো আইলাইনার টানতে, আইশ্যাডো ব্লেন্ড করতে বা চোখের আকার অনুযায়ী সাজাতে কতজন পারদর্শী? বেশির ভাগ মেয়েরই অভিযোগ থাকে:

হাত কাঁপে

আইলাইনার ঠিক মতো হয় না

এক চোখের সঙ্গে অন্য চোখ মেলে না

ভয়ের কিছু নেই। ছোট কিছু কৌশল জানলেই অপটু হাতেও আই মেকআপ হতে পারে নিখুঁত, সুন্দর এবং নজরকাড়া।

ধাপ ১: প্রাইমার—চোখের মেকআপের ভিত্তি
আই প্রাইমার হলো চোখের মেকআপের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

প্রাইমার চোখের পাতার কালচে ভাব বা অসমান বর্ণ ঢাকতে সাহায্য করে।

এটি আইশ্যাডোর রঙকে উজ্জ্বল করে।

ঘাম বা তেলের কারণে মেকআপ চট করে ছেঁড়ে বা ঘেঁটে যাওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

আঙুলের ডগায় অল্প প্রাইমার নিয়ে চোখের পাতায় হালকা চাপ দিয়ে বসিয়ে দিন।

প্রাইমার ব্যবহার করার বিকল্প হিসেবে হালকা কনসিলারও ব্যবহার করা যায়। কনসিলার চোখের উপরের ও নীচের অংশ ঢেকে চোখকে উজ্জ্বল এবং ফ্রেশ দেখায়।

ধাপ ২: চোখের আকার অনুযায়ী সাজ
চোখের ধরন বুঝে আইশ্যাডো বা আইলাইনার ব্যবহার করা একেবারেই গুরুত্বপূর্ণ। চোখের আকার অনুযায়ী সাজানো মেকআপ চোখকে বড়, উজ্জ্বল এবং আকর্ষণীয় করে।

গোল চোখ: উইংড আইলাইনার ব্যবহার করলে চোখ টানা দেখায়।

আলমন্ড শেপ: প্রায় সব ধরনের মেকআপ মানায়।

হুডেড আইস: চোখের উপরের পাতায় আইশ্যাডো একটু ওপরে তুলে লাগানো প্রয়োজন।

ড্রুপি আইস: চোখের কোণায় লিফট দেয়ার মতো কৌশল প্রয়োজন।

ধাপ ৩: কনসিলার এবং ডার্ক সার্কেল কভার করা
চোখের নীচে বা উপরে কালচে ভাব থাকলে চোখ ছোট এবং বসে যাওয়ার মতো দেখায়।

প্রথমে কনসিলার দিয়ে চোখের উপর এবং নীচের অংশ ঢেকে নিন।

এটি চোখকে উজ্জ্বল, তাজা এবং প্রাণবন্ত দেখাবে।

কনসিলার ব্যবহার করে হালকা শেডের আইশ্যাডো ব্যবহার করলে চোখের সৌন্দর্য আরও বাড়ে।

ধাপ ৪: আইশ্যাডো স্টিক ব্যবহার
আইশ্যাডো স্টিক বিশেষভাবে সহায়ক, যদি আপনার হাতে ব্রাশ বা মেকআপের দক্ষতা কম থাকে।

চোখের উপরের পাতায় আইলাইনারের মতো স্টিক ব্যবহার করুন।

news image
আরও খবর

চোখের নীচে কাজলের মতো লাগান।

একটি ছোট ব্রাশের সাহায্যে উপরের পাতায় মসৃণভাবে মিশিয়ে নিন।

নীচের পাতার আইশ্যাডোও একইভাবে স্মাজ করুন।

হাতের কাছে থাকা ন্যুড বা হালকা শেডের লিপস্টিক দিয়েও এই প্রক্রিয়া করা যায়।

আইশ্যাডো স্টিক ব্যবহার করে চোখের মেকআপ দ্রুত এবং সহজভাবে করা সম্ভব, বিশেষ করে যদি আপনি নতুন হন।

ধাপ ৫: রং এবং শিমার
হালকা রঙের আইশ্যাডো দিয়ে শুরু করা সবসময় ভালো।

গাঢ় রঙ ব্যবহার করার সময় অভ্যস্ত না হলে মেকআপ নষ্ট হতে পারে।

চোখের উপরের পাতার মাঝের অংশে হালকা রঙের শিমার ব্যবহার করলে চোখ আরও সুন্দর দেখায়।

শিমার ব্যবহার করলে আলো পড়ার সময় চোখ উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত দেখাবে।

ধাপ ৬: আই পেনসিল ব্যবহার
আইলাইনার টানতে অনভ্যস্তদের জন্য আই পেনসিল খুব কার্যকর।

কালো, ডার্ক খয়েরি বা হালকা রঙের আই পেনসিল ব্যবহার করতে পারেন।

আই পেনসিল ব্যবহার তুলনামূলক সহজ এবং নিখুঁত না হলেও স্মাজ করে মেকআপের অংশ হিসেবে মিলিয়ে নেওয়া যায়।

এই স্মাজ করা কৌশল চোখের মেকআপে নাটকীয়তা যোগ করে।

ধাপ ৭: কাজল ও মাসকারা
চোখের সাজ শেষ করুন হালকা কাজল এবং এক বা দুটি কোট মাসকারা দিয়ে।

কাজল চোখকে গভীরতা দেয়।

মাসকারা চোখকে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত দেখায়।

একসাথে ব্যবহার করলে চোখ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

ধাপ ৮: সংযমই মূল সৌন্দর্য
সরস্বতীপুজোর সাজ মানে অতিরিক্ত কিছু নয়। হালকা শাড়ি, খোলা চুল, সামান্য গয়না এবং চোখের পরিমিত সাজ—এই সংযমই এই দিনের আসল সৌন্দর্য।

নিখুঁত মেকআপ মানে পেশাদারি নয়। নিখুঁত মানে স্বচ্ছন্দ, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের মতো করে সুন্দর থাকা।

এই সরস্বতীপুজোতে, অপটু হাতের ভয় ঝেড়ে ফেলে চোখের ভাষায় নিজের গল্প বলুন। সাজ শুধু বাহ্যিক নয়, এটি স্মৃতির জন্য, আনন্দের জন্য এবং আত্মবিশ্বাসের জন্যও।

সরস্বতীপুজো মানেই শুধু দেবীর আরাধনা নয়, এটি এক বিশেষ দিন—যখন বসন্তের প্রথম স্পর্শ, শীতের শেষ বিকেলের রোদের উষ্ণতা এবং বাতাসে কুল ও শিমুল ফুলের মিষ্টি গন্ধ মিলিয়ে তৈরি করে একটি অদ্ভুত আনন্দময় মুহূর্ত। বছরের অন্যান্য দিনগুলোর তুলনায় এই দিনটি আলাদা। বিশেষ করে বাঙালি কিশোরী ও তরুণীদের কাছে সরস্বতীপুজো এক ধরনের নিজেকে প্রকাশের দিন। এই দিনটি শুধুই সাজ বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি আত্মবিশ্বাস, স্মৃতি এবং অনুভূতির মিলনের এক উৎসব।

সরস্বতীপুজোর সাজে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো চোখের ভাষা। মুখে অতিরিক্ত মেকআপ না থাকলেও চোখের সাজ যদি নিখুঁত হয়, পুরো লুকই বদলে যায়। চোখের ভাষা নিঃশব্দে কথা বলে, অনুভূতি প্রকাশ করে এবং আকর্ষণ তৈরি করে। সরস্বতীপুজোর দিনে যখন সাজ হয় সরাসরি, স্বাভাবিক এবং মার্জিত, তখন চোখই হয়ে ওঠে পুরো লুকের কেন্দ্রবিন্দু।

চোখের সাজকে নিখুঁত করতে পেশাদারদের মতো দক্ষতা থাকা জরুরি নয়। কিছু সহজ কৌশল জানলেই অপটু হাতেও চোখের মেকআপ হতে পারে নিখুঁত। প্রথম ধাপ হলো প্রাইমার ব্যবহার। এটি চোখের পাতার অসমান বর্ণ ও কালচে ভাব ঢেকে সুন্দর ক্যানভাস তৈরি করে এবং আইশ্যাডোর রঙকে উজ্জ্বল ও টেকসই করে তোলে। প্রাইমারের বিকল্প হিসেবে হালকা কনসিলার ব্যবহার করলেও একই কার্যকারিতা পাওয়া যায়।

চোখের আকার বুঝে সাজানোও গুরুত্বপূর্ণ। চোখ গোলাকার, আলমন্ড শেপ, হুডেড বা ড্রুপি—প্রত্যেকের জন্য আলাদা কৌশল প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ, গোল চোখের জন্য উইংড আইলাইনার ব্যবহার করলে চোখ টানা এবং বড় দেখায়। হুডেড চোখের জন্য আইশ্যাডো একটু ওপরে তুলে লাগানো উচিত, আর ড্রুপি চোখে কোণার লিফট চোখকে প্রাণবন্ত দেখাতে সাহায্য করে।

আইশ্যাডো স্টিক, শিমার এবং আই পেনসিল ব্যবহার করে চোখের সাজকে সহজ এবং কার্যকর করা যায়। আইশ্যাডো স্টিক দিয়ে চোখের উপরের পাতায় আইলাইনারের মতো ব্যবহার করা যায়, নীচের পাতায় কাজলের মতো লাগিয়ে মসৃণভাবে ব্রাশ দিয়ে মিশিয়ে নিন। শিমার চোখের উপরের পাতার মাঝখানে হালকা রঙের ব্যবহার চোখকে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে। আই পেনসিল তুলনামূলক সহজ এবং স্মাজ করলে মেকআপে একটি নরম নাটকীয়তা আসে। কাজল ও মাসকারা ব্যবহার করলে চোখের গভীরতা এবং আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পায়।

সবশেষে মনে রাখবেন, সরস্বতীপুজোর সাজ মানে অতিরিক্ত কিছু নয়। হালকা শাড়ি, খোলা চুল, সামান্য গয়না এবং নিখুঁত চোখের সাজ—এই সংমিশ্রণেই থাকে আসল সৌন্দর্য। নিখুঁত মেকআপ মানে পেশাদারি নয়; এটি হলো স্বচ্ছন্দ, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের মতো করে সুন্দর থাকা।

এই বসন্তে, এই সরস্বতীপুজোয়, অপটু হাতের ভয় ঝেড়ে ফেলুন। চোখের ভাষায় নিজের গল্প বলুন। সাজ শুধু বাহ্যিক নয়; এটি স্মৃতি, আনন্দ এবং আত্মবিশ্বাসের এক সংমিশ্রণ। চোখের সাজ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাস—এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় আপনার আসল আকর্ষণ।

Preview image