টানা কয়েকদিন রোদঝলমলে আবহাওয়ার পর চতুর্থীর দিন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় কোথাও কোথাও বৃষ্টির দেখা মিলল।
দুর্গাপুজোর আনন্দের মাঝেই আবহাওয়া নিয়ে চিন্তায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দারা। টানা কয়েক দিন আকাশ পরিষ্কার থাকার পর বুধবার চতুর্থীর দিন কলকাতা ও লাগোয়া এলাকার কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পঞ্চমী ও শুক্রবার ষষ্ঠীর দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবারের তুলনায় এই দুদিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত কম বলেই জানানো হয়েছে।
পুজোর সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সপ্তমী থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। শনিবার সপ্তমীর দিন বৃষ্টির পরিমাণ কমার পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আরও পরিষ্কার হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস বুধবার এমনই পূর্বাভাস দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে পুজোর পরবর্তী দিনগুলিতে বৃষ্টির আশঙ্কা কমে আসতে পারে।
দুর্গাপুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন পঞ্চমী ও ষষ্ঠী। এই সময় থেকেই প্যান্ডেল ঘোরা, ঠাকুর দেখা এবং পরিবারের সঙ্গে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা করেন বহু মানুষ। কিন্তু আবহাওয়ার সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কারণে সেই পরিকল্পনায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
বুধবার চতুর্থীর দিন কলকাতা ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পঞ্চমী এবং শুক্রবার ষষ্ঠীতেও বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি থাকবে। বুধবারের তুলনায় এই দুদিন কিছু এলাকায় বৃষ্টি বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী ও তার কাছাকাছি এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সব এলাকায় একই রকম বৃষ্টি হবে, এমনটা নয়। কোথাও অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোথাও আকাশ মেঘলা থাকলেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি নাও হতে পারে। বৃষ্টির সময় ও পরিমাণ স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
তাই পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে যাঁরা বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে উপকূলবর্তী এলাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখা জরুরি।
পুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়ার উন্নতির খবর স্বস্তি দিতে পারে সাধারণ মানুষকে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সপ্তমীর দিন থেকেই বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে। বুধবার, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের তুলনায় সপ্তমীতে পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরপর রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া আরও পরিষ্কার হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে পুজোর বাকি দিনগুলিতে বৃষ্টির বিশেষ সম্ভাবনা নেই। ফলে পুজোর পরবর্তী দিনগুলিতে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করা মানুষেরা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি পেতে পারেন।
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুজোর প্রতিদিনের পরিকল্পনা করার আগে আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন দেখে নেওয়া ভালো। বিশেষ করে বৃষ্টির সম্ভাবনা, বজ্রবিদ্যুৎ এবং স্থানীয় সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা উচিত।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি। তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এই ব্যবস্থার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ পূর্বালি ও দক্ষিণা বাতাস দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে প্রবেশ করছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি বাড়ার কারণে কোথাও কোথাও বৃষ্টির মেঘ তৈরি হচ্ছে। এর ফলেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, বাতাসের গতিপ্রকৃতি এবং স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা ও স্থায়িত্ব পরিবর্তিত হতে পারে। তাই একই সময়ে দক্ষিণবঙ্গের এক এলাকায় বৃষ্টি হলেও অন্য এলাকায় আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও কোনও জায়গায় কিছু সময় ধরে বৃষ্টি হতে পারে। তবে খুব বেশি পরিমাণ বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। অর্থাৎ, পুজোর প্রথম দিকে বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও পরিস্থিতি সর্বত্র দুর্যোগপূর্ণ হয়ে উঠবে, এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী ও সংলগ্ন এলাকায় এই দফায় বৃষ্টির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস প্রবেশ করার কারণে ওই অঞ্চলে মেঘ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে।
উপকূলবর্তী এলাকার পাশাপাশি আশপাশের কিছু জায়গাতেও বৃষ্টি হতে পারে। তবে বৃষ্টির বিস্তার এবং পরিমাণ একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় কখন বৃষ্টি হবে, তা জানতে স্থানীয় পূর্বাভাস অনুসরণ করা জরুরি।
পুজোর সময় রাস্তায় মানুষের ভিড়, যানবাহনের চাপ এবং দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ভিজে যেতে পারে এবং যাতায়াতে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশের বাকি অংশ থেকেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায় সম্পূর্ণ হওয়ার কথা। এর ফলে দেশের প্রধান বর্ষাকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় শেষ হতে চলেছে।
ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সাধারণত বর্ষাকালে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টি নিয়ে আসে। এই বায়ু ধীরে ধীরে দেশ থেকে সরে গেলে আবহাওয়ার ধরনেও পরিবর্তন দেখা যায়। তবে মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের অর্থ এই নয় যে দেশের সর্বত্র সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে। স্থানীয় ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং অন্যান্য বায়ুমণ্ডলীয় ব্যবস্থার কারণে কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতেও বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত এবং জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের সঙ্গে পুজোর বৃষ্টির পূর্বাভাসকে সরাসরি বিরোধী হিসেবে দেখার কারণ নেই।
দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের সঙ্গে একই সময়ে দক্ষিণ ভারতে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দ্বিতীয় পর্যায়ের বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু দক্ষিণ ভারতের আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব উপদ্বীপীয় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সময়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে। এই মৌসুমি পরিবর্তন দেশের বিভিন্ন অংশে আবহাওয়ার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি করে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া নির্ভর করছে স্থানীয় ও আঞ্চলিক বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির উপর। বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত, জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস এবং নিম্নচাপ অক্ষরেখার প্রভাবে পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও সপ্তমী থেকে পরিস্থিতির উন্নতির পূর্বাভাস রয়েছে।
পঞ্চমী ও ষষ্ঠীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় যাঁরা কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা ভালো।
প্রথমত, বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নিন। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন। তৃতীয়ত, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলে খোলা জায়গায় বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলুন। চতুর্থত, রাস্তায় জল জমলে এবং যান চলাচল ধীর হয়ে গেলে হাতে অতিরিক্ত সময় রেখে বেরোনো সুবিধাজনক হতে পারে।
সপ্তমী থেকে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা থাকলেও আবহাওয়া পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিনের আপডেট অনুসরণ করা উচিত। কারণ স্থানীয় বৃষ্টির পূর্বাভাসে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে।
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পঞ্চমী ও শুক্রবার ষষ্ঠীতে দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার সপ্তমী থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে এবং রবিবার থেকে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুজোর বাকি দিনগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির আশঙ্কা কম বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
তবে এই পূর্বাভাস নির্দিষ্ট সময়ের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন হলে পূর্বাভাসও সংশোধিত হতে পারে। তাই পুজোর প্রতিদিনের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে সরকারি আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যের উপর নির্ভর করা উচিত।
সব মিলিয়ে, পুজোর প্রথম দিকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হলেও সপ্তমী থেকে আবহাওয়ার উন্নতির আশা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত ও জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাসের প্রভাবে সাময়িক বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা কম। ফলে আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পুজোর পরবর্তী দিনগুলিতে আকাশ পরিষ্কার থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রকাশের আগে মনে রাখবেন: এই প্রতিবেদনটি আপনার দেওয়া আবহাওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর জন্য প্রকাশ করলে আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনের সঙ্গে দিন, তারিখ এবং পূর্বাভাস মিলিয়ে নেবেন।