Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

সোনার দামে হঠাৎ চমক আজ কিনলে কমে পাবেন কত চলছে রেট

সোনার দামে হঠাৎ পতনের খবরে ক্রেতাদের নজর আজকের বাজারদরে গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম জেনে নেওয়া জরুরি তবে শহর বিশুদ্ধতা ও ওজন অনুযায়ী দর আলাদা হতে পারে গয়নার চূড়ান্ত বিলে যোগ হবে মেকিং চার্জ ও প্রযোজ্য কর আজ কতটা কমল দাম এবং প্রতি গ্রামে কত খরচ পড়বে জেনে নিন কেনার আগে

উৎসবের মরশুমে সোনা কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজারদরের দিকে নজর রাখা জরুরি। পরিবারের অনুষ্ঠান, বিয়ে কিংবা উপহার দেওয়ার জন্য গয়না কেনার আগে অনেকেই অপেক্ষা করেন দাম কিছুটা কমার। তবে সোনা সর্বোচ্চ দামের তুলনায় কমে পাওয়া এবং আগের দিনের তুলনায় দরপতন হওয়া আলাদা বিষয়। তাই কতটা সাশ্রয় হবে, তা বুঝতে একই বিশুদ্ধতা ও ওজনের সোনার দর তুলনা করা প্রয়োজন। ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর এবিপি আনন্দের প্রতিবেদনে স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি বা SSBC-র তথ্য অনুযায়ী রাজ্যের সোনার দর প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ২৪ ক্যারেটের ফাইন গোল্ড ৯৯৫ এর দাম প্রতি গ্রামে ১৪,৯৩৪ টাকা এবং ২২ ক্যারেটের সোনা কেনার দর প্রতি গ্রামে ১৪,১৮৫ টাকা বলা হয়েছে। প্রকাশিত দরে জিএসটি অন্তর্ভুক্ত নেই।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রির দর প্রতি গ্রামে ১৩,৫৯০ টাকা। অন্য দিকে, ১৮ ক্যারেট সোনা কেনার দর প্রতি গ্রামে ১১,৬৫০ টাকা। অর্থাৎ একই দিনের তালিকাতেও সোনা কেনা ও বিক্রির মূল্য আলাদা। পুরনো গয়না বিক্রি করে নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে এই পার্থক্য মাথায় রাখা প্রয়োজন।  তালিকার প্রতি গ্রামের দর ধরে হিসাব করলে ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার মূল্য দাঁড়ায় ১,৪১,৮৫০ টাকা। একইভাবে ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট ফাইন গোল্ড ৯৯৫-এর মূল্য হয় ১,৪৯,৩৪০ টাকা। এগুলি প্রকাশিত দর থেকে করা হিসাব; গয়নার চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে এই অঙ্কের পার্থক্য থাকতে পারে। সোনার দাম কমার ফলে কত টাকা বাঁচবে, তা নির্ভর করে প্রতি গ্রামে দর কতটা কমেছে এবং কত গ্রাম সোনা কেনা হচ্ছে তার উপর। উদাহরণ হিসেবে, প্রতি গ্রামে দাম ১০০ টাকা কমলে পাঁচ গ্রাম সোনা কেনার মূল খরচে ৫০০ টাকা এবং দশ গ্রামে ১,০০০ টাকা সাশ্রয় হবে। এটি হিসাব বোঝানোর উদাহরণ, আজকের দরপতনের পরিমাণ নয়। সাশ্রয়ের হিসাব করার সময় একই ধরনের দর তুলনা করা জরুরি। এক দিনের ২২ ক্যারেটের কেনার দরের সঙ্গে অন্য দিনের ২৪ ক্যারেটের দর তুলনা করলে সঠিক ফল পাওয়া যাবে না। একইভাবে পুরনো সোনা বিক্রির দর এবং নতুন সোনা কেনার দরও সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। প্রতি গ্রামের দাম জানলে সোনার মূল খরচের একটি ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু গয়না কেনার সময় শুধু সেই মূল্য দিলেই হয় না। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত বিলে মেকিং চার্জ ও প্রযোজ্য কর যোগ হবে। ফলে একই ওজনের দুটি গয়নার নকশা এবং মেকিং চার্জ আলাদা হলে মোট খরচও আলাদা হতে পারে। কেনার আগে দোকানের কাছ থেকে খরচের বিস্তারিত হিসাব নেওয়া সুবিধাজনক। কত গ্রাম সোনার জন্য কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, মেকিং চার্জ কত এবং করের অঙ্ক কী এসব আলাদা করে দেখলে নিজের বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। শুধু প্রতি গ্রামের কম দর দেখে মোট বিল কত হবে তা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

বিশুদ্ধতা ও ওজন মিলিয়ে তুলনা করুন ২২ ক্যারেট ও ২৪ ক্যারেট সোনার দামের পার্থক্য থাকায় দোকানে দর জানতে চাওয়ার সময় বিশুদ্ধতা স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এক গ্রাম, দশ গ্রাম কিংবা অন্য কোনও ওজনের দাম বলা হচ্ছে কি না সেটিও দেখে নিতে হবে। এতে দরের তুলনায় বিভ্রান্তি কমবে। পুরনো গয়না বদলে নতুন গয়না নেওয়ার ক্ষেত্রেও দুটি হিসাব আলাদা করে দেখা দরকার। পুরনো সোনার জন্য দোকান কত মূল্য দিচ্ছে এবং নতুন গয়নার মোট খরচ কত হচ্ছে, তা লিখিতভাবে জানা থাকলে অতিরিক্ত কত টাকা দিতে হবে বোঝা সহজ হবে। সোনার বাজারদর সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই কোনও নির্দিষ্ট দিনের প্রকাশিত দাম দেখে পরের দিনও একই দরে গয়না পাওয়া যাবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কেনার সময় দোকানের প্রযোজ্য দর, সোনার বিশুদ্ধতা, ওজন এবং মোট বিল মিলিয়ে নেওয়াই প্রয়োজন। দাম কিছুটা কমে পাওয়া গেলে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে কেনাকাটার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধা বুঝতে সোনার মূল দাম ও গয়নার সম্পূর্ণ খরচ একসঙ্গে দেখতে হবে। পরিবারের অনুষ্ঠান বা উপহারের জন্য কেনাকাটা করলে প্রয়োজনীয় ওজন ঠিক করে কয়েকটি দোকানের মোট খরচ তুলনা করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও সহজ হবে। সোনার গয়না কেনার সময় অধিকাংশ ক্রেতাই প্রথমে জানতে চান, প্রতি গ্রামের দাম কত। বাজারদর জানা প্রয়োজন হলেও শুধু এই একটি তথ্য দিয়ে কেনাকাটার সম্পূর্ণ খরচ বোঝা যায় না। সোনার বিশুদ্ধতা, গয়নার মধ্যে থাকা সোনার ওজন, মেকিং চার্জ এবং প্রযোজ্য কর মিলিয়ে চূড়ান্ত বিল তৈরি হয়। তাই একই বাজেটে কোন গয়না কেনা সুবিধাজনক হবে, তা বুঝতে প্রতিটি খরচ আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। পরিবারের অনুষ্ঠান, বিয়ে কিংবা উপহারের জন্য সোনা কিনতে গেলে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ওজন ও বাজেট ঠিক করে নেওয়া যায়। এতে দোকানে গিয়ে বিভিন্ন গয়নার মধ্যে তুলনা করা সহজ হয়। বাজারদর কিছুটা কমলেও মেকিং চার্জ বেশি হলে প্রত্যাশিত সাশ্রয় নাও হতে পারে। সেই কারণে শুধু সোনার দর নয়, গয়নার সম্পূর্ণ মূল্যই কেনার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।

একই বিশুদ্ধতার সোনার দর তুলনা করুন ২২ ক্যারেট এবং ২৪ ক্যারেট সোনার দাম আলাদা। দোকানে সোনার দর জানতে চাওয়ার সময় কোন বিশুদ্ধতার দাম বলা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি। একটি দোকানের ২২ ক্যারেট সোনার দরের সঙ্গে অন্য দোকানের ২৪ ক্যারেট সোনার দর তুলনা করলে সঠিক ধারণা পাওয়া যাবে না। একইভাবে বিজ্ঞাপনে কোনও আকর্ষণীয় দাম দেখলে সেটি কোন ধরনের সোনার জন্য প্রযোজ্য, তা বুঝে নিতে হবে। গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকলে নির্বাচিত গয়নার বিশুদ্ধতা এবং তার জন্য দোকানের প্রযোজ্য দর জানতে হবে। একই বিশুদ্ধতার সোনা ধরে তুলনা করলে দামের পার্থক্য পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

news image
আরও খবর

সোনার দাম কখনও প্রতি গ্রাম, কখনও প্রতি দশ গ্রাম হিসেবে প্রকাশ করা হয়। তাই কোনও অঙ্ক দেখেই দাম বেশি বা কম মনে করার আগে ওজনের একক মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। দুটি দোকানের দেওয়া দর আলাদা এককে হলে সেগুলিকে একই এককে এনে তুলনা করতে হবে। হিসাব বোঝানোর জন্য ধরা যাক কোনও দোকানে প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১০,০০০ টাকা বলা হচ্ছে। সেই হিসাবে দশ গ্রামের মূল দাম হবে ১,০০,০০০ টাকা। অন্য দোকান যদি সরাসরি দশ গ্রামের দর জানায়, তবে এই অঙ্কের সঙ্গে তুলনা করা যাবে। এটি শুধু হিসাবের উদাহরণ বর্তমান বাজারদর নয়। গয়না বাছাই করার সময় তার মোট ওজনের পাশাপাশি সোনার জন্য কত ওজনের মূল্য ধরা হচ্ছে, তা জানতে হবে। বিশেষ করে পাথর বা অন্য উপকরণযুক্ত গয়নার ক্ষেত্রে বিলের হিসাব বিস্তারিতভাবে দেখা সুবিধাজনক। সোনা এবং অন্যান্য উপকরণের মূল্য আলাদা করে জানা থাকলে মোট খরচের ধারণা স্পষ্ট হয়। একই ওজনের দুটি গয়নার দাম আলাদা হলে তার কারণও জানতে চাওয়া যায়। নকশা, মেকিং চার্জ কিংবা অন্য উপকরণের মূল্য কোন অংশে খরচের পার্থক্য হচ্ছে, তা বোঝা গেলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী গয়না নির্বাচন করা সহজ হবে। মেকিং চার্জসহ চূড়ান্ত বিল তুলনা করুন একটি দোকানে সোনার দর কম হলেও মেকিং চার্জ বেশি হতে পারে। আবার অন্য দোকানে মেকিং চার্জে ছাড় থাকলেও সব খরচ যোগ করার পরে মোট বিল বেশি দাঁড়াতে পারে। তাই ছাড়ের পরিমাণ দেখার পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত কত টাকা দিতে হবে, সেটি জানা প্রয়োজন। কেনার আগে দোকানের কাছ থেকে সোনার মূল্য, মেকিং চার্জ, অন্যান্য উপকরণের খরচ এবং প্রযোজ্য করের পৃথক হিসাব নিতে পারেন। এতে নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে গয়না পাওয়া যাচ্ছে কি না বোঝা যাবে। কয়েকটি দোকানের হিসাব তুলনা করলে একই প্রয়োজন মেটাতে কোথায় মোট খরচ কম হচ্ছে, সেটিও পরিষ্কার হবে। 

পুরনো গয়না দিয়ে নতুন গয়না কেনার ক্ষেত্রে দুটি লেনদেনের হিসাব আলাদা করে দেখা জরুরি। প্রথমটি হল পুরনো সোনার জন্য দোকান কত মূল্য দিচ্ছে। দ্বিতীয়টি হল নতুন গয়নার সমস্ত খরচ মিলিয়ে মোট দাম কত হচ্ছে। শুধু অতিরিক্ত কত টাকা দিতে হবে শুনলে পুরো হিসাব বোঝা কঠিন হতে পারে। পুরনো গয়নার মূল্যায়নের ভিত্তি, কোনও কাটতির হিসাব এবং নতুন গয়নার দাম লিখিতভাবে জানা থাকলে তুলনা সহজ হবে। উদাহরণ হিসেবে, পুরনো গয়নার মূল্য ৫০,০০০ টাকা এবং নতুন গয়নার সম্পূর্ণ বিল ৭০,০০০ টাকা হলে অতিরিক্ত দিতে হবে ২০,০০০ টাকা। এই উদাহরণও কেবল হিসাব বোঝানোর জন্য। কেনার দিনের দর নিশ্চিত করুন সোনার বাজারদর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কয়েক দিন আগে প্রকাশিত দাম দেখে কেনার দিনও একই দর পাওয়া যাবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। দোকানে যাওয়ার পরে সেদিনের প্রযোজ্য দর নিশ্চিত করে তার ভিত্তিতে হিসাব নিতে হবে। আগে কোনও গয়নার দাম জেনে থাকলেও কেনার সময় নতুন করে মোট বিল মিলিয়ে নেওয়া সুবিধাজনক। দর বা অন্য খরচ বদলে গেলে কত টাকা বাড়তি লাগছে কিংবা কতটা সাশ্রয় হচ্ছে, তা তখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। বাজেট অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন অনুষ্ঠান বা উপহারের জন্য সোনা কেনার আগে গয়নার ধরন, প্রয়োজনীয় ওজন এবং সর্বোচ্চ খরচের সীমা ঠিক করে নিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। একটি নকশার মোট দাম বাজেট ছাড়িয়ে গেলে কাছাকাছি অন্য নকশা বা কম ওজনের বিকল্প দেখা যেতে পারে। সোনা কিছুটা কম দামে পাওয়া গেলে বাজেটের মধ্যে কেনাকাটার সুযোগ বাড়তে পারে। সেই সুবিধা কতটা, তা বুঝতে একই বিশুদ্ধতা ও ওজনের দর তুলনা করতে হবে। পাশাপাশি মেকিং চার্জ ও করসহ মোট প্রদেয় অঙ্ক দেখে কিনলে খরচের হিসাব পরিষ্কার থাকবে।

 

Preview image