Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

আগামী ২ ৩ ঘণ্টায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা ৩০ ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া জারি কমলা সতর্কতা

আগামী ২ ৩ ঘণ্টায় ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কায় কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে ঘণ্টায় ৩০ ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে

উত্তর ২৪ পরগনায় ঝড়বৃষ্টির কমলা সতর্কতা  ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস উত্তর ২৪ পরগনার কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে কমলা সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। ৪ অক্টোবর ২০২৬ দুপুরের সতর্কবার্তায় ঘণ্টায় ৩০ ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এবিপি আনন্দের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত আইএমডি কলকাতার বার্তা অনুযায়ী, সতর্কতাটি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে পরবর্তী ২–৩ ঘণ্টার জন্য ছিল। অর্থাৎ এর উল্লেখিত সময়সীমা আনুমানিক দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় ‘আগামী ২–৩ ঘণ্টা’ বলতে বার্তা জারির সময় থেকে নির্ধারিত সময়সীমা বোঝানো হয়। পরে খবরটি পড়লে পাঠকের সেই মুহূর্ত থেকে নতুন করে দু’তিন ঘণ্টার সতর্কতা ধরে নেওয়া উচিত নয়। পরবর্তী পরিস্থিতি জানতে সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখতে হবে। উদ্ধৃত সতর্কবার্তায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু অংশের কথা বলা হয়েছে। তাই এটিকে গোটা পশ্চিমবঙ্গের জন্য একই মাত্রার সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। স্থানীয় ঝড়বৃষ্টির প্রভাব এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় আলাদা হতে পারে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং কয়েকটি জায়গায় বজ্রপাতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই পর্যবেক্ষণ এবং উত্তর ২৪ পরগনার জন্য জারি করা নির্দিষ্ট সময়ের সতর্কতা আলাদা তথ্য।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থায় কমলা রঙের অর্থ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা। এটি সম্ভাব্য প্রতিকূল আবহাওয়ার দিকে গুরুত্ব দিয়ে নজর রাখার নির্দেশ দেয়। বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতির প্রয়োজন বোঝাতেই এই সংকেত ব্যবহার করা হয়। শুধু সতর্কতার রং দেখে বৃষ্টির পরিমাণ বা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। বার্তায় কোন বিপদের কথা বলা হয়েছে, কোন এলাকার জন্য তা প্রযোজ্য এবং কতক্ষণ কার্যকর থাকবে এই তথ্যগুলি একসঙ্গে দেখতে হয়। এই ঘটনায় বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ঝড়বৃষ্টির সময়ে বাইরে থাকা মানুষদের জন্য বজ্রপাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। বজ্রধ্বনি শোনা গেলে নিরাপদ ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেওয়া উচিত। খোলা মাঠ, উঁচু জায়গা বা বিচ্ছিন্ন গাছের নীচে অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়। গাছ, ছোট ছাউনি কিংবা তাঁবু বজ্রপাত থেকে নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা দেয় না। বৃষ্টি কমে এলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়েছে ধরে নেওয়া উচিত নয়। NOAA এর নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী, শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা প্রয়োজন। বাইরে কাজ খেলাধুলা বা অন্য আয়োজন চললে এই সময়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

বাড়ির ভিতরেও বজ্রপাতের সময়ে কিছু সতর্কতা প্রয়োজন। জল সরবরাহের পাইপ ও কলের সংস্পর্শ এড়ানো এবং তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকা নিরাপদ অভ্যাস। ঝড় চলাকালীন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলতে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্বল্পমেয়াদি সতর্কবার্তার ক্ষেত্রে নতুন আপডেটের গুরুত্ব বেশি। আগের বার্তার সময়সীমা শেষ হলে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার পুরনো সতর্কতাও অনির্দিষ্ট সময় ধরে কার্যকর থাকে না। আইএমডির আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র কলকাতার ওয়েবসাইটে জেলা ও স্টেশনভিত্তিক নাউকাস্ট দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। নিজের এলাকার সর্বশেষ সতর্কতা জানতে এই তথ্য দেখা যেতে পারে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ‘সচেত’ পোর্টালেও দুর্যোগসংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। ৪ অক্টোবরের এই খবরের ক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনার কিছু অংশ, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া সময়সীমা এবং বজ্রপাতসহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস এই তিনটি তথ্য বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন। বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ স্থানীয় সতর্কতা দেখে নেওয়াই পরিস্থিতি বুঝতে সাহায্য করবে

বজ্রপাতের সময়ে ঘরেও সতর্কতা জরুরি, বাইরে যাওয়ার আগে দেখুন সর্বশেষ আবহাওয়ার আপডেট বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সময়ে নিরাপদ ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেওয়া প্রয়োজন। তবে ঘরে থাকলেও কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হয়। জল সরবরাহের পাইপ, কল এবং তারযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের এলাকার সর্বশেষ আবহাওয়ার সতর্কবার্তা দেখে নেওয়া উচিত। ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দ্রুত বদলাতে পারে। কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত খবরের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সতর্কবার্তার শিরোনামের পাশাপাশি সেটি কখন জারি হয়েছে, কোন এলাকার জন্য প্রযোজ্য এবং কতক্ষণ কার্যকর থাকবে, তা বোঝা প্রয়োজন।

news image
আরও খবর

বজ্রপাতের সময়ে বাড়ির জল সরবরাহের ব্যবস্থা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। স্নান করা, বাসন ধোয়া কিংবা কলের জল ব্যবহার করার কাজ কিছুক্ষণ পিছিয়ে দেওয়া নিরাপদ। বজ্রপাতের বৈদ্যুতিক প্রবাহ ভবনের পাইপ ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। সেই কারণেই ঘরে থেকেও এই সতর্কতা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সংযোগে থাকা তারযুক্ত যন্ত্রের ক্ষেত্রেও সাবধান থাকতে হবে। ঝড় চলাকালীন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার, তার স্পর্শ বা প্লাগ খুলতে যাওয়ার কাজ এড়ানো উচিত। অনেকেই যন্ত্রের ক্ষতি আটকাতে বজ্রপাত শুরু হওয়ার পরে প্লাগ খুলতে যান। কিন্তু তখন নিজেই বৈদ্যুতিক সংযোগের কাছে যাওয়ায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ঝড় চলার সময়ে যন্ত্রের চেয়ে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের এই সতর্কতাগুলি আগে থেকে জানিয়ে রাখা সহায়ক। বিশেষ করে শিশুদের বোঝানো দরকার, ঝড়ের সময় ঘরে থেকেও সব কাজ আগের মতো করা উচিত নয়। আবহাওয়া খারাপ হলে কোন কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে, তা জানা থাকলে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন কমে। বৃষ্টি কমে গেলে অনেকে মনে করেন বাইরে বেরোনোর সময় হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির তীব্রতা কমা এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি শেষ হওয়া এক বিষয় নয়। আশপাশে বজ্রধ্বনি শোনা গেলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাই প্রয়োজন। NOAA এর নির্দেশনা অনুযায়ী, শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ আশ্রয়ে অপেক্ষা করা উচিত। বাইরে কাজ, খেলাধুলা বা যাতায়াত আবার শুরু করার সময় এই ব্যবধান বিবেচনায় রাখতে হবে। এই নিয়মের অর্থ হল শুধু আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে বা বৃষ্টি বন্ধ হয়েছে দেখে তাড়াহুড়ো করে বেরোনো উচিত নয়। স্থানীয় সতর্কতার পাশাপাশি নিজের আশপাশে বজ্রধ্বনি হচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল করা প্রয়োজন। বজ্রপাতের সময়ে গাছের নীচে দাঁড়ানো নিরাপদ নয়। একইভাবে ছোট ছাউনি, তাঁবু বা খোলা বারান্দা বজ্রপাত থেকে নির্ভরযোগ্য সুরক্ষা দেয় না। বাইরে থাকলে নিরাপদ ভবনের ভিতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। খোলা জায়গায় কাজ করতে হয় এমন ব্যক্তিদের জন্য আশ্রয়ের পরিকল্পনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কাজ শুরু করার আগে কাছাকাছি নিরাপদ ভবন কোথায় রয়েছে, তা জানা থাকলে আবহাওয়া খারাপ হওয়ার সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। মাঠে খেলাধুলা বা বাইরের কোনও অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রেও এই প্রস্তুতি কাজে আসে। বজ্রধ্বনি শোনা গেলে কাজ শেষ করার জন্য আরও কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আবহাওয়ার খবর পড়ার সময়ে ‘আগামী দু’তিন ঘণ্টা কথাটি প্রায়ই দেখা যায়। এই সময়সীমা বার্তা প্রকাশ বা জারির সময় থেকে গণনা করা হয়। পাঠক পরে খবরটি খুললে তাঁর পড়ার সময় থেকে নতুন করে ওই সময়সীমা শুরু হয় না। তাই কোনও সতর্কবার্তা বোঝার জন্য তারিখ, জারির সময় এবং প্রযোজ্য এলাকা একসঙ্গে দেখতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে ফরওয়ার্ড করা ছবি বা পুরনো খবরের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। মূল সময় বাদ দিয়ে শুধু সতর্কতার অংশ ছড়ালে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একটি জেলার কিছু অংশের জন্য সতর্কতা থাকলে সেটিকে গোটা জেলা বা রাজ্যের জন্য একই পূর্বাভাস হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। নিজের এলাকার সঙ্গে বার্তায় উল্লেখিত এলাকার মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। সতর্কবার্তার মেয়াদ শেষ হওয়া মানেই আবহাওয়া নিশ্চিতভাবে স্বাভাবিক হয়েছে, এমন নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন সতর্কতা আসতে পারে। আবার আগের সতর্কতাও অনির্দিষ্ট সময় ধরে কার্যকর থাকে না। এই কারণেই সর্বশেষ আপডেট দেখা জরুরি। পুরনো বার্তা থেকে পরিস্থিতির প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও বর্তমান সিদ্ধান্তের জন্য নতুন তথ্য প্রয়োজন। বিশেষ করে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সতর্কতার মেয়াদ ও পরবর্তী আপডেট মিলিয়ে দেখা উচিত। আইএমডির আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্র কলকাতার ওয়েবসাইটে জেলা ও স্টেশনভিত্তিক নাউকাস্ট দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। নিজের এলাকার স্বল্পমেয়াদি সতর্কতা জানতে এই তথ্য ব্যবহার করা যায়। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ‘সচেত’ পোর্টালেও দুর্যোগসংক্রান্ত সতর্কবার্তা পাওয়া যায়। কোনও ফরওয়ার্ড করা বার্তা বা সংবাদ প্রতিবেদন পড়ার পরে সরকারি তথ্যের সঙ্গে এলাকা ও সময় মিলিয়ে নিলে ভুল বোঝার সম্ভাবনা কমে। পরিবার বা পরিচিতদের সতর্কবার্তা পাঠানোর সময় মূল তারিখ, সময় ও এলাকার তথ্য রাখাও প্রয়োজন। এতে যিনি বার্তাটি পাচ্ছেন, তিনি বুঝতে পারবেন সেটি তাঁর বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রযোজ্য কি না। বজ্রপাতের সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা, ঘরে জল ও তারযুক্ত বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবহার এড়ানো এবং বাইরে যাওয়ার আগে সর্বশেষ স্থানীয় সতর্কতা দেখা এই অভ্যাসগুলি ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। আবহাওয়ার পরিবর্তন বুঝে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়াই দৈনন্দিন কাজ ও যাতায়াতের মধ্যে নিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

 

Preview image