সুপার এল-নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। WMO র সতর্কবার্তায় কী আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে কী পরিবর্তন হতে পারে জেনে নিন বিস্তারিত
শক্তিশালী এল-নিনোর প্রভাবে বিশ্বের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা WMO। সংস্থার ৮ অক্টোবর ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছতে পারে। এর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণতা, খরা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এগুলি সম্ভাবনাভিত্তিক পূর্বাভাস সব জায়গায় একই ধরনের দুর্যোগ ঘটবে, এমন ঘোষণা নয়। এল-নিনো হল প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠ অস্বাভাবিক উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা। সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পারস্পরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এর প্রভাব বহু দূরের অঞ্চলেও পৌঁছতে পারে। ফলে কোথাও বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে, আবার কোথাও কম বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সংবাদমাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালী ঘটনাকে বোঝাতে সুপার এল-নিনো বলা হলেও WMO আনুষ্ঠানিকভাবে এই শব্দ ব্যবহার করে না সংস্থাটি দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে তীব্রতা বর্ণনা করে। এবারের উদ্বেগের অন্যতম কারণ সমুদ্রের উষ্ণতা। WMO-র অক্টোবরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এল-নিনো পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত ‘নিনো ৩.৪’ অঞ্চলের তিন মাসের গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এই অঙ্ক নির্দিষ্ট সমুদ্রাঞ্চলের তাপমাত্রার বিচ্যুতি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ৩.৭ ডিগ্রি বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস নয়। সংস্থার মতে, এল-নিনো ডিসেম্বরের দিকে সর্বোচ্চ শক্তিতে পৌঁছতে পারে এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ।
শক্তিশালী এল-নিনো মানেই প্রতিটি দেশে সমান প্রভাব পড়বে না। WMO জানিয়েছে, কোনও অঞ্চলের পরিস্থিতি নির্ভর করে ঘটনাটির সময়, স্থায়িত্ব এবং অন্য সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবের উপরও। ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিকের পরিস্থিতি এল-নিনোর পরিচিত প্রভাবকে বাড়াতে, কমাতে বা বদলে দিতে পারে। তাই বৈশ্বিক পূর্বাভাস থেকে কোনও নির্দিষ্ট শহর বা জেলার আবহাওয়া নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে আলাদা পূর্বাভাস রয়েছে। WMO-র ১৪ অক্টোবরের প্রকাশিত আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বরে এই অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিকের বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ও দক্ষিণের কিছু অংশে স্বাভাবিক থেকে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্য কিছু অঞ্চলে কম বৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। এই বিস্তৃত পূর্বাভাসকে পশ্চিমবঙ্গের কোনও নির্দিষ্ট এলাকার শীত বা বৃষ্টির নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে দেখা যাবে না। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দিচ্ছে WMO। কৃষি, জলসম্পদ, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো আবহাওয়ানির্ভর ক্ষেত্রে মৌসুমি পূর্বাভাস পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে। সংস্থাটি জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবাগুলির সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও জানিয়েছে। স্থানীয়ভাবে কী ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুসরণ করাই প্রয়োজন। আগে কখনও হয়নি এমন বিপদ বলে সামগ্রিক দাবি করার বদলে রেকর্ডের সম্ভাবনাটি ঠিক কোন সূচকে রয়েছে, তা বোঝা জরুরি। বর্তমান পূর্বাভাসে নির্দিষ্ট সমুদ্রাঞ্চলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা এবং শক্তিশালী এল-নিনোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কিন্তু কোথায় কতটা ক্ষতি হবে, তা শুধু এল-নিনোর শক্তি দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। অঞ্চলভিত্তিক পূর্বাভাস ও আগাম প্রস্তুতিই ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তি।
শক্তিশালী এল-নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ থাকলেও প্রতিটি দেশে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, এমন নয়। কোথাও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে, আবার কোথাও কম বৃষ্টি বা দীর্ঘ শুষ্ক সময়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তনও অঞ্চলভেদে আলাদা হতে পারে। তাই এল-নিনোর শক্তি সম্পর্কে বৈশ্বিক পূর্বাভাসকে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার নিশ্চিত আবহাওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা WMO জানিয়েছে, এল-নিনোর প্রভাব নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর। ঘটনাটি বছরের কোন সময়ে সক্রিয় হচ্ছে, কত দিন স্থায়ী হচ্ছে এবং অন্য জলবায়ুগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে কীভাবে মিথস্ক্রিয়া করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিকের পরিস্থিতিও এর পরিচিত প্রভাবকে বাড়াতে, কমাতে কিংবা পরিবর্তন করতে পারে। ফলে একই মাত্রার দুটি এল-নিনো ঘটনাও সব অঞ্চলে একই ফল তৈরি করবে না। এই কারণেই বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় পূর্বাভাসের পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। বৈশ্বিক পূর্বাভাস পৃথিবীর বিস্তৃত অংশে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য প্রবণতা তুলে ধরে। আঞ্চলিক পূর্বাভাসে তুলনামূলক ছোট এলাকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু কোনও শহর বা জেলায় নির্দিষ্ট দিনে বৃষ্টি হবে কি না কিংবা তাপমাত্রা কত থাকবে, তা জানতে স্থানীয় ও স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে আলাদা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। WMO-র ১৪ অক্টোবরের প্রকাশিত আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিকের বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন একই মাত্রায় উষ্ণতা থাকবে অথবা শীতের অনুভূতি একেবারেই থাকবে না। মৌসুমি পূর্বাভাস একটি সময়পর্বের সামগ্রিক প্রবণতা বোঝায়। বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসেও একই ধরনের আঞ্চলিক পার্থক্য রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ও দক্ষিণের কিছু অংশে স্বাভাবিক থেকে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্য কিছু এলাকায় কম বৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। তাই পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি মাত্র সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না। কোনও এলাকার পরিস্থিতি বুঝতে সেই অঞ্চলের জন্য প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য দেখতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও এই সীমাবদ্ধতা মনে রাখা জরুরি। বিস্তৃত দক্ষিণ এশীয় পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কলকাতা, বর্ধমান কিংবা অন্য কোনও জেলার শীত বা বৃষ্টির অবস্থা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। স্থানীয় পরিস্থিতি জানতে ভারতের সরকারি আবহাওয়া সংস্থার সংশ্লিষ্ট এলাকার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে হবে। পূর্বাভাস হালনাগাদ হলে নতুন তথ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা বদলানোও প্রয়োজন হতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির উপর গুরুত্ব দিচ্ছে WMO। কৃষির মতো আবহাওয়ানির্ভর ক্ষেত্রে মৌসুমি পূর্বাভাস পরিকল্পনার সহায়ক হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, কম বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে জল ব্যবহারের পরিকল্পনা এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে জল নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করতে পারেন। তবে এমন সিদ্ধান্ত স্থানীয় পূর্বাভাস, জমির অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট পরামর্শের ভিত্তিতেই নেওয়া প্রয়োজন। জলসম্পদ, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ পরিষেবার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য চাহিদা ও চাপ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে। এই প্রস্তুতির উদ্দেশ্য কোনও দুর্যোগ নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া নয় সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করা। পর্যবেক্ষণ, সময়মতো তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় সতর্কতা কার্যকর করা সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগে কখনও হয়নি এমন বিপদ ধরনের বক্তব্য ব্যবহারের সময়ও সতর্ক থাকা দরকার। কোনও রেকর্ডের সম্ভাবনা থাকলে সেটি সমুদ্রের কোন অঞ্চলের তাপমাত্রা, কোন সময়পর্ব বা কোন পরিমাপের সঙ্গে সম্পর্কিত, তা স্পষ্ট করতে হবে। একটি নির্দিষ্ট সূচকে রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা থেকে সব দেশে নজিরবিহীন ক্ষতির সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। শক্তিশালী এল-নিনো সম্পর্কে বর্তমান উদ্বেগের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট তথ্য, অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং নিয়মিত হালনাগাদ পূর্বাভাস। সম্ভাবনা ও নিশ্চিত ঘটনার পার্থক্য বজায় রেখে খবর প্রকাশ করলে পাঠক পরিস্থিতি ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং নিজের এলাকার জন্য প্রাসঙ্গিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন।এই কারণেই বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় পূর্বাভাসের পার্থক্য বোঝা প্রয়োজন। বৈশ্বিক পূর্বাভাস পৃথিবীর বিস্তৃত অংশে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের সম্ভাব্য প্রবণতা তুলে ধরে। আঞ্চলিক পূর্বাভাসে তুলনামূলক ছোট এলাকার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু কোনও শহর বা জেলায় নির্দিষ্ট দিনে বৃষ্টি হবে কি না কিংবা তাপমাত্রা কত থাকবে, তা জানতে স্থানীয় ও স্বল্পমেয়াদি পূর্বাভাস প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেও অঞ্চলভেদে আলাদা সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। WMO-র ১৪ অক্টোবরের প্রকাশিত আঞ্চলিক তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই অঞ্চলের অধিকাংশ জায়গায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক থেকে স্বাভাবিকের বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন একই মাত্রায় উষ্ণতা থাকবে অথবা শীতের অনুভূতি একেবারেই থাকবে না। মৌসুমি পূর্বাভাস একটি সময়পর্বের সামগ্রিক প্রবণতা বোঝায়। বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসেও একই ধরনের আঞ্চলিক পার্থক্য রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ও দক্ষিণের কিছু অংশে স্বাভাবিক থেকে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অন্য কিছু এলাকায় কম বৃষ্টির ইঙ্গিত রয়েছে। তাই পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি মাত্র সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না। কোনও এলাকার পরিস্থিতি বুঝতে সেই অঞ্চলের জন্য প্রকাশিত বিস্তারিত তথ্য দেখতে হবে।