Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রামায়ণের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ঘুরবে ট্রেন, আইআরসিটিসির প্যাকেজে খরচ কত, থাকছে কোন কোন জায়গা?

রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কার স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি ঘুরে দেখার সুযোগ দিচ্ছে আইআরসিটিসি। ৬ দিনের এই বিশেষ সফরে শ্রীলঙ্কার একাধিক দর্শনীয় ও পৌরাণিক স্থান ঘোরানো হবে। সফরে কী কী সুবিধা থাকছে, কোথায় কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং খরচ কত—জেনে নিন বিস্তারিত।

রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে ‘লঙ্কা’র নাম ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সীতাহরণ থেকে লঙ্কাকাণ্ড, রামসেতু নির্মাণ থেকে রাম-রাবণের যুদ্ধ—মহাকাব্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে লঙ্কার সম্পর্কের কথা উঠে আসে। প্রচলিত বিশ্বাস ও নানা অনুমান অনুযায়ী, রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কা বর্তমান শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কিত। যদিও এই পরিচিতি নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষণামূলক ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে, তবুও রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পরিচিত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থান বহু মানুষের কাছে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিশেষ আকর্ষণের।

এ বার সেই আকর্ষণকে কেন্দ্র করেই বিশেষ ভ্রমণ পরিকল্পনা করেছে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন বা IRCTC। রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রচলিত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে দেখানো হবে এই বিশেষ সফরে। ট্রেনে শ্রীলঙ্কা যাওয়া সম্ভব নয় বলে গোটা যাত্রাই হবে বিমানে। ফলে ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, মন্দির, পাহাড় এবং সমুদ্রসৈকত দেখার সুযোগও থাকছে।

৫ রাত ৬ দিনের এই সফরের শুরু ১০ ডিসেম্বর এবং ফেরার দিন ১৬ ডিসেম্বর। যাত্রা শুরু হবে বেঙ্গালুরু থেকে। ১০ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে কলম্বোর উদ্দেশে বিমান ছাড়বে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বিমানটি বেলা ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলম্বো পৌঁছবে। এরপর শুরু হবে রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানগুলিকে ঘিরে মূল সফর।

প্রথম দিন: কলম্বো থেকে ডাম্বুলা

শ্রীলঙ্কায় পৌঁছনোর পর প্রথম দিনেই যাত্রীরা রওনা দেবেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরের উদ্দেশে। বিমানবন্দর থেকে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হবে মধ্যাহ্নভোজের জন্য। এরপর সফরসূচিতে রয়েছে মনাবরী মন্দির এবং মুনেশ্বরম মন্দির।

মনাবরী মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয় লোককথা ও ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, রাবণকে বধ করার পরে রাম এখানে শিবলিঙ্গ স্থাপন করে পুজো করেছিলেন। রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পরিচিত এই মন্দির তাই এই বিশেষ সফরের অন্যতম আকর্ষণ।

এর পর যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হবে মুনেশ্বরম মন্দিরে। শ্রীলঙ্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত এই মন্দিরকেও রামায়ণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন লোকবিশ্বাসের সঙ্গে দেখা হয়। মন্দির দর্শন শেষে যাত্রীরা যাবেন ডাম্বুলার দিকে। রাতে ডাম্বুলার হোটেলেই থাকার ব্যবস্থা থাকবে।

অর্থাৎ প্রথম দিনেই সফর শুরু হবে রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত ধর্মীয় স্থান দর্শনের মাধ্যমে। বিমানযাত্রা, খাবার, যাতায়াত এবং থাকার ব্যবস্থাকে সফর প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় দিন: ডাম্বুলা, সীগিরিয়া ও ত্রিনকোমালি

দ্বিতীয় দিনের সফরসূচিতে রয়েছে শ্রীলঙ্কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান ডাম্বুলার গুহামন্দির বা গোল্ডেন টেম্পল। শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এই স্থানটি বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত। গুহার ভিতরে থাকা বিভিন্ন বুদ্ধমূর্তি, চিত্রকর্ম এবং ধর্মীয় নিদর্শনের জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। এটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির তালিকাতেও রয়েছে।

রামায়ণভিত্তিক সফরের পাশাপাশি এই জায়গাটিকে রাখা হয়েছে শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করানোর জন্য। ফলে সফরটি শুধু রামায়ণের স্থান দর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

এর পর গন্তব্য ত্রিনকোমালি। এখানে রয়েছে বিখ্যাত তিরুকোণেশ্বরম মন্দির। মন্দিরটিকে ঘিরেও রামায়ণ-সম্পর্কিত নানা পৌরাণিক বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণ ও তাঁর মা এখানে শিবের আরাধনা করেছিলেন। আবার একটি প্রচলিত কাহিনিতে বলা হয়, রাবণকে বধ করার পর ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তির জন্য রাম এখানে শিবের পুজো করেছিলেন।

তবে এই ধরনের কাহিনিগুলিকে মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকপ্রচলিত বর্ণনা হিসেবেই দেখা হয়। সফরে অংশ নেওয়া পর্যটকদের কাছে এই স্থানগুলি সেই সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

দ্বিতীয় দিনের সফরসূচিতে রয়েছে শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ পেরুমল মন্দির-ও। বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান দর্শন শেষে আবার ডাম্বুলায় ফিরে আসবেন পর্যটকেরা। রাতের থাকার ব্যবস্থা থাকবে ডাম্বুলাতেই।

তৃতীয় দিন: ডাম্বুলা থেকে ক্যান্ডি

তৃতীয় দিনের গন্তব্য ক্যান্ডি। শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ক্যান্ডি তার পাহাড়, চা-বাগান, সবুজ প্রকৃতি এবং হ্রদের জন্য পরিচিত। রামায়ণভিত্তিক সফরের পাশাপাশি এই পর্যায়ে শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগও পাবেন পর্যটকেরা।

ক্যান্ডিতে সফরসূচিতে রয়েছে রত্ন বা জেম ফ্যাক্টরি পরিদর্শন। শ্রীলঙ্কা রত্নপাথরের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত হওয়ায় এই অংশটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। পাশাপাশি রয়েছে বাটিক শিল্পের কারখানা দেখার সুযোগ। স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য এই পর্বটি রাখা হয়েছে।

এর পর যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হবে ক্যান্ডির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান টেম্পল অব দ্য সেক্রেড টুথ রেলিক-এ। বৌদ্ধদের কাছে এই স্থান অত্যন্ত পবিত্র। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে গৌতম বুদ্ধের একটি দাঁতের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে।

দিনের শেষে ক্যান্ডিতে একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটকেরা শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন। তৃতীয় রাতের থাকার ব্যবস্থা ক্যান্ডিতেই।

চতুর্থ দিন: ক্যান্ডি থেকে নুয়ারা এলিয়া

চতুর্থ দিন সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। কারণ এই দিনেই পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া হবে রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পরিচিত কয়েকটি স্থানে।

গন্তব্য নুয়ারা এলিয়া। পাহাড়ি এই অঞ্চল শ্রীলঙ্কার অন্যতম সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র। চা-বাগান, পাহাড়ি রাস্তা এবং মনোরম আবহাওয়ার জন্য নুয়ারা এলিয়া পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়।

রামায়ণ-সম্পর্কিত লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, নুয়ারা এলিয়ার অশোক বাটিকা-তেই সীতাকে বন্দি করে রেখেছিলেন রাবণ। এই কারণে রামায়ণভিত্তিক পর্যটনের ক্ষেত্রে জায়গাটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

সফরসূচিতে রয়েছে সীতা আম্মান মন্দির। সীতার সঙ্গে সম্পর্কিত এই মন্দিরটি শ্রীলঙ্কায় রামায়ণভিত্তিক পর্যটনের অন্যতম পরিচিত গন্তব্য। মন্দিরের আশপাশের এলাকা নিয়েও নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে।

এ ছাড়াও রয়েছে রামবোডার হনুমান মন্দির দর্শন। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই অঞ্চলের সঙ্গে হনুমানের যোগ রয়েছে। মন্দিরের আশপাশে পাথরের উপর হনুমানের পায়ের ছাপ রয়েছে বলেও প্রচলিত ধারণা রয়েছে।

news image
আরও খবর

এই দিনটি তাই পুরো সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে। রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে পরিচিত একাধিক স্থান একই দিনে দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। রাতে নুয়ারা এলিয়াতেই থাকার ব্যবস্থা থাকবে।

পঞ্চম দিন: নুয়ারা এলিয়া থেকে কলম্বো

পঞ্চম দিনে সফরের গন্তব্য কলম্বো। তবে সরাসরি কলম্বো না গিয়ে পথে আরও কয়েকটি জায়গা ঘুরিয়ে দেখানো হবে।

এর মধ্যে রয়েছে পিন্নাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফানেজ। এখানে হাতিদের দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। শ্রীলঙ্কার অন্যতম পরিচিত পর্যটন আকর্ষণ এই হাতিশালা। বিশেষ করে হাতির যত্ন ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা দেখার সুযোগ পর্যটকদের জন্য আলাদা অভিজ্ঞতা হতে পারে।

এর পর যাত্রীরা রওনা দেবেন কলম্বোর দিকে। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে রয়েছে সমুদ্রসৈকত, জাদুঘর, বৌদ্ধ মন্দির এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থান।

কলম্বো যাওয়ার পথে সফরসূচিতে রয়েছে কেলানিয়া বৌদ্ধ মন্দির এবং পঞ্চমুখ অঞ্জনেয়ার মন্দির। এর ফলে পঞ্চম দিনেও রামায়ণ ও শ্রীলঙ্কার ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেখার সুযোগ থাকছে।

দিনের শেষে কলম্বোতে পৌঁছে হোটেলে রাত কাটাবেন পর্যটকেরা।

ষষ্ঠ দিন: কলম্বো থেকে বেঙ্গালুরু

সফরের শেষ দিনটি তুলনামূলক ভাবে অবসর সময়ের জন্য রাখা হয়েছে। সকালে কলম্বোর হোটেল ছাড়ার পরে পর্যটকেরা কিছুটা সময় নিজেদের মতো করে কাটাতে পারবেন। কেনাকাটা বা শহরের কিছু অংশ ঘুরে দেখার সুযোগও থাকবে।

এর পর নির্দিষ্ট সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছতে হবে। সফরসূচি অনুযায়ী, রাত ৮টার মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছনোর কথা। ওই রাতেই বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে বিমান ধরবেন যাত্রীরা। এর মাধ্যমে শেষ হবে ৫ রাত ৬ দিনের শ্রীলঙ্কা রামায়ণযাত্রা।

কী কী সুবিধা থাকছে?

এই সফরের বিশেষত্ব হল, যাত্রীদের বিমানযাত্রা থেকে শুরু করে হোটেলে থাকা এবং স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘোরানোর ব্যবস্থা প্যাকেজের আওতায় রাখা হয়েছে। ফলে আলাদা করে প্রতিটি জায়গায় যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা বা সফরের রুট পরিকল্পনা করার প্রয়োজন থাকছে না।

রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থানগুলির পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্য, পাহাড়ি অঞ্চল, চা-বাগান, মন্দির, স্থানীয় শিল্প এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখার সুযোগও থাকছে।

অর্থাৎ এই সফরকে শুধু ধর্মীয় পর্যটনের প্যাকেজ না বলে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পর্যটনকেন্দ্রকে একসঙ্গে দেখার একটি পরিকল্পনা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

মাথাপিছু খরচ কত?

এই ৫ রাত ৬ দিনের সফরের জন্য মাথাপিছু খরচ রাখা হয়েছে থাকার ধরন অনুযায়ী।

দু’জন একসঙ্গে একটি ঘরে থাকলে মাথাপিছু খরচ ৬৫,৭০০ টাকা।

তিন জন একটি ঘরে থাকলে মাথাপিছু খরচ কিছুটা কমে ৬৫,২৫০ টাকা।

কেউ যদি একাই ঘরে থাকতে চান, সে ক্ষেত্রে খরচ হবে ৮৬,২০০ টাকা।

শিশুদের ক্ষেত্রেও আলাদা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুদের জন্য খরচ ৫১,৫০০ টাকা। তার চেয়ে ছোট শিশুদের জন্য খরচ ৪৭,৫০০ টাকা।

তবে যাত্রার আগে বুকিংয়ের সময় প্যাকেজে ঠিক কোন কোন পরিষেবা, খাবার, কর বা অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা IRCTC-র নির্দিষ্ট বুকিং তথ্য থেকে যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

রামায়ণ ও শ্রীলঙ্কার এই যোগসূত্র কতটা ঐতিহাসিক?

রামায়ণের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা ও পর্যটনভিত্তিক বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। মনাবরী, মুনেশ্বরম, তিরুকোণেশ্বরম, সীতা আম্মান মন্দির, অশোক বাটিকা কিংবা হনুমান মন্দির—বিভিন্ন স্থানকে রামায়ণের নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়।

তবে এই স্থানগুলির সঙ্গে রামায়ণের চরিত্র বা ঘটনার সরাসরি ঐতিহাসিক প্রমাণ রয়েছে—এমন দাবি করার আগে ধর্মীয় বিশ্বাস, লোককথা এবং ঐতিহাসিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য রাখা প্রয়োজন। IRCTC-র এই সফরের মূল আকর্ষণও সেই প্রচলিত বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই।

ফলে যাঁরা রামায়ণের কাহিনি, হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সম্পর্কিত লোকবিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী, তাঁদের কাছে এই সফর বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে যাঁরা শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৌদ্ধ ঐতিহ্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতি দেখতে চান, তাঁদের জন্যও সফরসূচিতে একাধিক আকর্ষণ রাখা হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরু থেকে যাত্রা শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর ফেরার এই ৫ রাত ৬ দিনের সফরে তাই একসঙ্গে মিলছে রামায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত স্থান, মন্দির, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, পাহাড়, চা-বাগান, সমুদ্রসৈকত এবং শ্রীলঙ্কার স্থানীয় সংস্কৃতির স্বাদ।

Preview image