Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট দেখে ঘাবড়াবেন না! সুগার থেকে থাইরয়েড, জানুন সহজ ব্যাখ্যা

রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে ‘হাই’, ‘লো’ বা লাল দাগ দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সহজেই বুঝুন রিপোর্টের অর্থ এবং কোন বিষয়গুলি খেয়াল রাখা জরুরি।

রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন? সুগার, HbA1c, ভিটামিন D ও B12-এর মাত্রা জানুন

রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অনেকেই বুঝতে পারেন না কোন ফল স্বাভাবিক, কোনটির মাত্রা বেশি এবং কোনটি কম। রিপোর্টের বিভিন্ন জায়গায় লাল দাগ, H বা L চিহ্ন কিংবা রেফারেন্স রেঞ্জের বাইরে কোনও সংখ্যা দেখলে দুশ্চিন্তা হওয়াও স্বাভাবিক। অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ইন্টারনেটে রিপোর্টের ফলাফল খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু অনলাইনে পাওয়া অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা কিংবা ওষুধ খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

আসলে রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে কোনও মান স্বাভাবিক সীমার বাইরে থাকলেই যে গুরুতর রোগ হয়েছে, এমন নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, ওষুধের ব্যবহার, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং পরীক্ষার আগে খাওয়াদাওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় রিপোর্টের ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই রিপোর্টের প্রতিটি সংখ্যার অর্থ বোঝার পাশাপাশি পুরো রিপোর্ট ও শারীরিক উপসর্গ বিচার করাও জরুরি।

ব্লাড সুগার, HbA1c, ভিটামিন D এবং ভিটামিন B12-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার রিপোর্ট কীভাবে বুঝবেন, কোন মাত্রা নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন এবং রিপোর্টে লাল দাগ থাকলে কী করবেন, তা জেনে নেওয়া যাক।

রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে H, L ও লাল দাগের অর্থ কী?

রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে বিভিন্ন পরীক্ষার নাম, প্রাপ্ত ফলাফল, একক এবং রেফারেন্স রেঞ্জ উল্লেখ থাকে। রেফারেন্স রেঞ্জ বলতে নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগার-নির্ধারিত একটি তুলনামূলক সীমাকে বোঝায়।

কোনও ফল এই সীমার বেশি হলে রিপোর্টে H বা High এবং কম হলে L বা Low লেখা থাকতে পারে। কোনও কোনও পরীক্ষাগারে এগুলি লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। তবে লাল দাগ মানেই বিপজ্জনক অসুখ, এমন নয়।

উদাহরণস্বরূপ, কোনও ব্যক্তির ভিটামিনের মাত্রা সামান্য কম হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার চেয়ে বেশি হতে পারে। দুটি ক্ষেত্রেই রিপোর্টে সতর্কতামূলক চিহ্ন দেখা গেলেও তার কারণ ও গুরুত্ব এক নয়।

রিপোর্ট বোঝার সময় প্রথমে পরীক্ষার নাম, ফলাফলের একক এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাবের রেফারেন্স রেঞ্জ দেখুন। এরপর আগের রিপোর্ট থাকলে তার সঙ্গে তুলনা করুন। একবারের পরীক্ষায় সামান্য অস্বাভাবিক ফল এলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।

১. ব্লাড সুগার: রক্তে শর্করার মাত্রা কীভাবে বুঝবেন?

ব্লাড সুগার বা রক্তে শর্করার পরীক্ষা থেকে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ডায়াবিটিস নির্ণয় এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য এই পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লাড সুগার পরীক্ষার ফল বোঝার আগে জানতে হবে, পরীক্ষাটি খালি পেটে করা হয়েছে, খাবার খাওয়ার পরে করা হয়েছে, নাকি দিনের যে কোনও সময়ে রক্ত নেওয়া হয়েছে।

সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক, গর্ভবতী নন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা:

  • ৭০–৯৯ mg/dL: সাধারণত স্বাভাবিক সীমা।

  • ১০০–১২৫ mg/dL: প্রি-ডায়াবিটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

  • ১২৬ mg/dL বা তার বেশি: ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা নির্দেশ করতে পারে।

সাধারণত খালি পেটে অন্তত আট ঘণ্টা ক্যালরিযুক্ত খাবার না খেয়ে এই পরীক্ষা করা হয়। তবে একটি অস্বাভাবিক ফলের ভিত্তিতে সব সময় ডায়াবিটিস নিশ্চিত করা যায় না। উপসর্গ ও চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রা খাবারের পরে বেড়ে যেতে পারে। তাই খালি পেটের রিপোর্টের সঙ্গে খাবারের পরের রিপোর্ট সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। পরীক্ষার সময় এবং চিকিৎসকের নির্দেশও বিবেচনা করতে হবে।

২. HbA1c: গত কয়েক মাসের গড় রক্তে শর্করার ধারণা

HbA1c বা গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা গত প্রায় দুই থেকে তিন মাসে রক্তে শর্করার গড় মাত্রা সম্পর্কে ধারণা দেয়। প্রতিদিনের রক্তে শর্করার ওঠানামা বোঝার পাশাপাশি ডায়াবিটিস নির্ণয় এবং নিয়ন্ত্রণ মূল্যায়নেও এই পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়।

সাধারণভাবে HbA1c-এর ফলাফল এভাবে বোঝা যায়:

  • ৫.৭ শতাংশের কম: সাধারণত স্বাভাবিক সীমা।

  • ৫.৭–৬.৪ শতাংশ: প্রি-ডায়াবিটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  • ৬.৫ শতাংশ বা তার বেশি: ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।

ডায়াবিটিসের কোনও উপসর্গ না থাকলে অস্বাভাবিক ফল সাধারণত আরেকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। তবে রক্তাল্পতা, কিছু ধরনের হিমোগ্লোবিনের পরিবর্তন, সাম্প্রতিক রক্তক্ষরণ বা রক্ত সঞ্চালনের মতো পরিস্থিতিতে HbA1c-এর ফল বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

তাই HbA1c বেশি এলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার ফল স্বাভাবিক হলেই সব ক্ষেত্রে ডায়াবিটিসের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে ফল মিলিয়ে দেখেন।

৩. ভিটামিন D: শরীরে ঘাটতি রয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে?

ভিটামিন D হাড়ের স্বাস্থ্য, ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ঘাটতি থাকলে কিছু মানুষের হাড়ে ব্যথা, পেশির দুর্বলতা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে এই উপসর্গগুলির অন্য কারণও থাকতে পারে।

ভিটামিন D-এর অবস্থা বোঝার জন্য সাধারণত রক্তে 25-hydroxyvitamin D বা 25(OH)D পরীক্ষা করা হয়। ফলাফল সাধারণত ng/mL এককে দেওয়া হয়।

ভিটামিন D-এর মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিভিন্ন চিকিৎসা নির্দেশিকা ও পরীক্ষাগারে পর্যাপ্ততার সীমা নিয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ২০ ng/mL-এর কম মাত্রাকে অপর্যাপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১২ ng/mL-এর কম হলে ঘাটতির আশঙ্কা আরও বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে, কিছু পরীক্ষাগার বা নির্দেশিকায় ২০–৩০ ng/mL-কে অপর্যাপ্ত বা সীমান্তবর্তী মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ২০–৩০ ng/mL দেখলেই প্রত্যেকের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে ঘাটতি রয়েছে, এমন বলা যায় না।

রিপোর্টে ভিটামিন D কম থাকলে নিজের সিদ্ধান্তে উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত ভিটামিন D গ্রহণের ফলে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়ে কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে সমস্যা হতে পারে। বয়স, উপসর্গ, অন্যান্য রোগ এবং রিপোর্টের ফল অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

৪. ভিটামিন B12: স্বাভাবিক রিপোর্টেও কি ঘাটতি থাকতে পারে?

ভিটামিন B12 বা কোবালামিন লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, DNA সংশ্লেষ এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়। এর ঘাটতি হলে রক্তাল্পতা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা কিংবা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

news image
আরও খবর

রক্তে ভিটামিন B12-এর মাত্রা সাধারণত pg/mL বা ng/L এককে দেওয়া হয়। পরীক্ষাগারভেদে স্বাভাবিক সীমা কিছুটা আলাদা হতে পারে। অনেক পরীক্ষায় ২০০ pg/mL-এর কম মাত্রা ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। ২০০–৩০০ pg/mL-এর মতো সীমান্তবর্তী ফল হলে উপসর্গ ও অন্যান্য পরীক্ষার ভিত্তিতে আরও মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

তবে শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার ভিত্তিতে ভিটামিন B12-এর অবস্থা নিশ্চিত করা যায় না। কোনও কোনও ব্যক্তির রিপোর্টে B12-এর মাত্রা পরীক্ষাগারের স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকলেও উপসর্গের কারণে চিকিৎসক আরও পরীক্ষা করতে পারেন।

এক্ষেত্রে methylmalonic acid বা MMA পরীক্ষা সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে homocysteine পরীক্ষাও করা হয়। সক্রিয় B12 বা holotranscobalamin পরীক্ষাও কিছু ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হতে পারে। কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।

নিরামিষ খাবার খাওয়া, অন্ত্রের কিছু রোগ, শোষণজনিত সমস্যা এবং নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার B12-এর ঘাটতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। রিপোর্টে ঘাটতি দেখা গেলে কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন সাপ্লিমেন্ট খেয়ে যাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৫. রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে অস্বাভাবিক ফল এলেই কি রোগ হয়েছে?

না। কোনও পরীক্ষার ফল রেফারেন্স রেঞ্জের বাইরে থাকলেই নিশ্চিতভাবে কোনও রোগ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও কখনও কখনও কোনও মান সামান্য বেশি বা কম আসতে পারে।

পরীক্ষার আগে উপবাসের নিয়ম মানা হয়েছে কি না, পর্যাপ্ত জল পান করা হয়েছে কি না, সম্প্রতি কোনও ওষুধ নেওয়া হয়েছে কি না, সংক্রমণ রয়েছে কি না কিংবা শারীরিক পরিশ্রমের পর পরীক্ষা করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় ফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

আবার, সব পরীক্ষায় রেফারেন্স রেঞ্জের মধ্যে ফল এলেই শরীরের সমস্ত সমস্যা নেই, এমনও নয়। কিছু রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক থাকতে পারে। উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষার গুরুত্ব তাই কখনও কম নয়।

রিপোর্টের একটি সংখ্যা দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের কাছে সম্পূর্ণ রিপোর্ট দেখানোই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

৬. রিপোর্টে লাল দাগ থাকলে কী করবেন?

রিপোর্টে লাল দাগ বা High কিংবা Low লেখা দেখলে প্রথমেই শান্ত থাকুন। এরপর কয়েকটি বিষয় খেয়াল করুন।

প্রথমত, কোন পরীক্ষার ফল অস্বাভাবিক হয়েছে তা চিহ্নিত করুন। দ্বিতীয়ত, ফলাফলের একক ও ল্যাবের রেফারেন্স রেঞ্জ দেখুন। তৃতীয়ত, আগের রিপোর্টের সঙ্গে তুলনা করে মানটি কতটা বদলেছে তা বোঝার চেষ্টা করুন।

চতুর্থত, রিপোর্টে উল্লেখ করা পরীক্ষার জন্য বিশেষ প্রস্তুতি প্রয়োজন ছিল কি না তা যাচাই করুন। যেমন, কিছু পরীক্ষায় খালি পেটে রক্ত দিতে হয়, আবার সব পরীক্ষার ক্ষেত্রে উপবাসের প্রয়োজন হয় না।

সবশেষে রিপোর্টটি চিকিৎসককে দেখান। তিনি উপসর্গ, চিকিৎসার ইতিহাস, ওষুধের ব্যবহার এবং অন্যান্য পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

রিপোর্টে যদি গুরুতর অস্বাভাবিক ফল থাকে, অথবা বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি কিংবা গুরুতর দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

৭. ইন্টারনেট দেখে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া কেন বিপজ্জনক?

ইন্টারনেটে কোনও পরীক্ষার স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও সেই তথ্য প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। বয়স, গর্ভাবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ, ওষুধের ব্যবহার এবং পরীক্ষার পদ্ধতির কারণে ফলের ব্যাখ্যা বদলাতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ভিটামিন D কম থাকলে কতটা সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হবে, তা সবার জন্য এক নয়। একইভাবে, HbA1c বেশি হলেই নিজে থেকে ডায়াবিটিসের ওষুধ শুরু করা উচিত নয়। প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া কিংবা অন্যান্য জটিলতা হতে পারে।

তাই অনলাইনে তথ্য পড়ুন সচেতন হওয়ার জন্য, নিজে নিজে চিকিৎসা শুরু করার জন্য নয়।

৮. রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট বোঝার সহজ উপায়

রিপোর্ট হাতে পেলে কয়েকটি নিয়ম মনে রাখুন।

১. পরীক্ষার নাম ভালো করে পড়ুন।

২. ফলাফলের পাশে দেওয়া একক এবং রেফারেন্স রেঞ্জ দেখুন।

৩. H, L বা লাল দাগকে রোগের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে ধরে নেবেন না।

৪. আগের রিপোর্ট থাকলে একই পরীক্ষার ফলের সঙ্গে তুলনা করুন।

৫. রিপোর্টের ফলকে নিজের উপসর্গ ও চিকিৎসার ইতিহাস থেকে আলাদা করে বিচার করবেন না।

৬. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা নতুন ওষুধ শুরু করবেন না।

৭. রিপোর্টের কোনও অংশ বুঝতে না পারলে পরীক্ষাগার বা চিকিৎসকের কাছে ব্যাখ্যা চান।

শেষ কথা

রক্তপরীক্ষার রিপোর্ট শরীরের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। কিন্তু রিপোর্টের সংখ্যাই সব নয়। ব্লাড সুগার, HbA1c, ভিটামিন D কিংবা ভিটামিন B12-এর ফল বুঝতে গেলে পরীক্ষার ধরন, রেফারেন্স রেঞ্জ, উপসর্গ এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

রিপোর্টে লাল দাগ থাকলেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার অস্বাভাবিক ফলকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। সঠিক তথ্য জানুন, রিপোর্ট সংরক্ষণ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতন থাকুন, কিন্তু নিজে নিজে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ খাওয়ার ঝুঁকি নেবেন না।

স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের এই আলোচনা সাধারণ সচেতনতার জন্য। ব্যক্তিগত রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।

Preview image