Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

মুশতাকের শেষকৃত্যে তারকাদের দেখা নেই, ‘৫০ বছর দিলেন, ৫০ মিনিটও পেলেন না’—কটাক্ষ রজ়ার

অভিনেতা মুশতাকের শেষকৃত্যে বলিউডের তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রজ়া মুরাদ। দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত থাকা মুশতাকের শেষ বিদায়ে সহকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। রজ়ার কথায়, যে মানুষটি জীবনের ৫০ বছর চলচ্চিত্র জগৎকে দিয়েছেন, তাঁর শেষযাত্রায় ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখদের সময় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘৫০ বছর দিলেন, ৫০ মিনিটও পেলেন না।’ মুশতাকের শেষকৃত্যে কারা উপস্থিত ছিলেন, কারা ছিলেন না এবং এই অনুপস্থিতি নিয়ে কেন প্রশ্ন উঠছে—তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। রজ়া মুরাদের মন্তব্য ফের সামনে এনেছে তারকাদের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির প্রবীণ শিল্পীদের সম্পর্ক এবং প্রয়াণের পর সহকর্মীদের পাশে থাকার বিষয়টি। এই প্রতিবেদনেই থাকছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত, রজ়ার বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং মুশতাকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।

মুশতাকের শেষকৃত্যে তারকাদের দেখা নেই, ‘৫০ বছর দিলেন, ৫০ মিনিটও পেলেন না’—কটাক্ষ রজ়ার
বিনোদন

বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা মুশতাক খানের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর সহকর্মী ও অনুরাগীরা। দীর্ঘ কয়েক দশকের অভিনয়জীবনে অসংখ্য হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশেষ করে পার্শ্বচরিত্র এবং কমেডি চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের কাছে যথেষ্ট পরিচিত ছিল। কিন্তু তাঁর শেষযাত্রায় বলিউডের বড় তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ অভিনেতা রাজ়া মুরাদ। তাঁর বক্তব্য, যে মানুষটি জীবনের প্রায় ৫০ বছর চলচ্চিত্র জগতের জন্য দিয়েছেন, তাঁর শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তারকারা অন্তত ৫০ মিনিটও সময় বের করতে পারলেন না। ২৪ সেপ্টেম্বর মুশতাক খানের মৃত্যু হয় এবং পরের দিন মুম্বইয়ে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই চলচ্চিত্র জগতের বিভিন্ন মহল থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। বহু সহকর্মী তাঁর সঙ্গে কাজের স্মৃতি ভাগ করে নেন এবং প্রয়াত অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তবে শেষকৃত্যে বলিউডের বড় তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে রাজ়া মুরাদের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।রজ়া মুরাদ একটি ভিডিও বার্তায় মুশতাকের শেষযাত্রা নিয়ে নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল মুশতাকের দীর্ঘ কর্মজীবন এবং শেষ বিদায়ে ইন্ডাস্ট্রির বড় মুখগুলির অনুপস্থিতি। মুরাদ কোনও নির্দিষ্ট তারকার নাম করেননি। বরং সামগ্রিকভাবে বলিউডের বড় তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রজ়ার সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্য হল, মুশতাক ইন্ডাস্ট্রিকে ৫০ বছর দিয়েছেন, অথচ তাঁর জন্য ৫০ মিনিট সময়ও পাওয়া গেল না। এই তুলনার মাধ্যমে তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন শিল্পীর শেষ বিদায়ে সহকর্মীদের উপস্থিতি তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে একজন শিল্পীর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি এবং মৃত্যুর পর তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সামাজিক ও পেশাগত গুরুত্ব।তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। মুশতাক খানের শেষকৃত্যে ইন্ডাস্ট্রির কেউ ছিলেন না—বিষয়টি এমন নয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, তাঁর শেষযাত্রায় একাধিক সহকর্মী ও বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। রাজপাল যাদব, সঞ্জয় মিশ্র, রজত বেদি, অন্নু কপূর, মণীশ বাধবা, সুনীল পাল এবং শহজাদ খানের মতো শিল্পীদের উপস্থিতির কথা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। পরিচালক অনীস বাজ়মির নামও উপস্থিতদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ রজ়া মুরাদের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, তাঁর মতে, বলিউডের বড় তারকাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোনও শিল্পীর শেষকৃত্যে উপস্থিত ব্যক্তিদের সংখ্যা বা তাঁদের পরিচয় নিয়ে আলোচনা করার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনও নির্দিষ্ট তারকা কেন উপস্থিত ছিলেন না, সে বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য না থাকলে তাঁর অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে অনুমান করা ঠিক নয়। রাজ়া মুরাদও তাঁর বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনও তারকার নাম করেননি। মুশতাক খান ছিলেন এমন একজন অভিনেতা, যাঁর ক্যারিয়ার বিস্তৃত হয়েছিল কয়েক দশক ধরে। ১৯৮০ সালে ‘Albert Pinto Ko Gussa Kyon Aata Hai’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর একের পর এক ছবিতে পার্শ্বচরিত্র, কমেডি চরিত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় তাঁকে দেখা যায়। ‘Aashiqui’, ‘Hum Hain Rahi Pyar Ke’, ‘Gadar: Ek Prem Katha’, ‘Hera Pheri’, ‘Mujhse Shaadi Karogi’ এবং ‘Welcome’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। মুখ্য চরিত্রে অভিনয় না করেও কীভাবে একজন শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পারেন, মুশতাক খানের ক্যারিয়ার তার একটি উদাহরণ। তাঁর অভিনীত অনেক চরিত্র হয়তো ছবির কেন্দ্রবিন্দু ছিল না, কিন্তু গল্পের নির্দিষ্ট মুহূর্তকে প্রাণবন্ত করে তুলতে তাঁর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে কমেডি চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিল। ‘Welcome’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর উপস্থিতি এখনও অনেক দর্শকের স্মৃতিতে রয়েছে। একইভাবে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে হিন্দি চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখে পরিণত করে। সেই দীর্ঘ কর্মজীবনের কথাই নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেছেন রাজ়া মুরাদ।রাজ়া মুরাদের মন্তব্যের মধ্যে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মুশতাকের পেশাগত যাত্রা। তাঁর মতে, মুশতাক নিজের কাজের জোরে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা তৈরি করেছিলেন। কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির অনুগ্রহ বা তোষামোদের মাধ্যমে নয়, বরং অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন বলেই মুরাদ মনে করেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রয়াত অভিনেতার পেশাগত সততা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বলিউডে এমন বহু অভিনেতা রয়েছেন, যাঁরা কখনও মুখ্য চরিত্রে না থেকেও কয়েক দশক ধরে কাজ করেছেন। তাঁদের মুখ দর্শকের কাছে পরিচিত, তাঁদের সংলাপ মনে থাকে এবং তাঁদের উপস্থিতি অনেক সময় ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। মুশতাক খানও সেই তালিকার একজন ছিলেন। তাঁর প্রয়াণ তাই শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়, হিন্দি সিনেমার একটি দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে যুক্ত একজন শিল্পীর বিদায়ও। মুশতাকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে নানা স্মৃতিচারণ সামনে এসেছে। মৃত্যুর আগে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়। তাঁর পরিবারের তরফেও তাঁর অসুস্থতা এবং শেষ সময়ের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারের পর তাঁর প্রয়াণে সহকর্মীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। এরই মধ্যে শেষকৃত্যে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ়া মুরাদের মন্তব্য বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দেয়। বলিউডে তারকা সংস্কৃতি এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন উঠতে থাকে, কোনও শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর শেষযাত্রায় সহকর্মীদের উপস্থিতি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন প্রবীণ শিল্পীর দীর্ঘ অবদানকে কীভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।রাজ়া মুরাদের বক্তব্যে শিল্পপতিদের পরিবারের অনুষ্ঠান নিয়েও প্রসঙ্গ আসে। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, কোনও শিল্পপতির পরিবারের বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক তারকাকে দেখা যায় এবং সেই ধরনের অনুষ্ঠানে তাঁরা সময় দেন। অন্যদিকে একজন দীর্ঘদিনের সহকর্মীর শেষ বিদায়ে তাঁদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না—এই বৈপরীত্য নিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এই বক্তব্য রজ়া মুরাদের নিজস্ব মন্তব্য এবং কোনও নির্দিষ্ট তারকার ক্ষেত্রে তাঁর দাবি প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রকাশ্যে নেই।এই প্রসঙ্গটি স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ তারকাদের কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া বা না হওয়ার পেছনে নানা ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ থাকতে পারে। কোনও ব্যক্তির অনুপস্থিতির কারণ প্রকাশ্যে জানা না থাকলে সেটিকে ইচ্ছাকৃত অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। ফলে রাজ়া মুরাদের মন্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত হতাশা ও ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত। তবে তাঁর বক্তব্য যে প্রশ্নটি সামনে এনেছে, সেটি নিঃসন্দেহে আলোচনার যোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে একই পেশায় থাকা শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক কতটা গভীর এবং সহকর্মীর কঠিন সময়ে পাশে থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্ন বারবার উঠে এসেছে। বিশেষ করে একজন শিল্পীর প্রয়াণের সময় তাঁর পরিবারের পাশাপাশি সহকর্মীদের উপস্থিতিও অনেকের কাছে আবেগের বিষয় হয়ে ওঠে। মুশতাক খানের শেষকৃত্যে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের উপস্থিতিও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাজ়া মুরাদের বক্তব্যে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, তাঁর বহু সহকর্মী যে শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন, সেটিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ পুরো ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে ভুলে গিয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো তথ্য নেই। বরং ঘটনাটি বলিউডের বিভিন্ন স্তরের শিল্পীদের মধ্যে পার্থক্য নিয়েই আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে রয়েছেন বহু বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করা অভিনেতা ও সহকর্মীরা, অন্যদিকে রয়েছেন এমন তারকারা যাঁরা বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিচিত মুখ। রাজ়া মুরাদের প্রশ্ন মূলত দ্বিতীয় গোষ্ঠীকে ঘিরেই। মুশতাক খানের ক্যারিয়ারও এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি এমন সময়ে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেছিলেন, যখন হিন্দি সিনেমার কাজের ধরন আজকের তুলনায় অনেকটাই আলাদা ছিল। ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং নিজের জায়গা তৈরি করেন। তাঁর মতো অভিনেতাদের ক্যারিয়ার সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি হয়, কারণ তাঁরা একটি নির্দিষ্ট তারকা-ইমেজের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করেন। তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল পার্শ্বচরিত্রকে স্মরণীয় করে তোলা। কোনও ছবিতে কয়েকটি দৃশ্যে উপস্থিত থেকেও তিনি দর্শকের মনে ছাপ ফেলতে পারতেন। ‘Welcome’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় এবং সংলাপ দর্শকদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছিল। ‘Hera Pheri’, ‘Gadar: Ek Prem Katha’ এবং ‘Aashiqui’-এর মতো ছবিতেও তাঁর উপস্থিতি তাঁকে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ করে তুলেছিল। একজন শিল্পীর মৃত্যুর পর তাঁর কাজই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হয়ে থাকে। মুশতাক খানের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিনীত ছবিগুলি এবং চরিত্রগুলিই তাঁকে দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখবে। রজ়া মুরাদের মন্তব্য সেই কাজের গুরুত্বের কথাই আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। ‘৫০ বছর দিয়েছেন, ৫০ মিনিটও পেলেন না’—এই মন্তব্যের মধ্যে সময়ের হিসাবের চেয়ে প্রতীকী অর্থই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রজ়া মুরাদ বোঝাতে চেয়েছেন, পাঁচ দশক ধরে যে শিল্পী চলচ্চিত্র জগতের অংশ ছিলেন, তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অন্তত কিছুটা সময় দেওয়াও সহকর্মীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে তিনি মনে করেন। তবে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে অনুমান করা উচিত নয়। একজন তারকা কোনও শেষকৃত্যে উপস্থিত না থাকলে তার কারণ হতে পারে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, পেশাগত ব্যস্ততা, শারীরিক অসুবিধা বা অন্য কোনও বিষয়। প্রকাশ্যে সেই কারণ জানা না থাকলে তা নিয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।  রজ়া মুরাদের বক্তব্যের গুরুত্ব বরং অন্য জায়গায়। তিনি একজন প্রবীণ অভিনেতা হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের কাজের সংস্কৃতি সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে, চলচ্চিত্র জগতের সম্পর্ক কি শুধুমাত্র শুটিং সেট এবং কাজের সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি একজন সহকর্মীর শেষ বিদায়ের সময়ও সেই সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেকের কাছে আলাদা হতে পারে। তবে মুশতাক খানের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং তাঁর শেষকৃত্যে সহকর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক বলিউডের একটি পরিচিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। সিনেমার পর্দায় যে শিল্পীদের আমরা একসঙ্গে দেখি, তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং পেশাগত যোগাযোগ সবসময় একই রকম থাকে না। মুশতাকের শেষকৃত্যে উপস্থিত শিল্পীদের মধ্যে অনেকেই তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কাজ করেছেন। তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে তাঁর সহকর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল এবং তাঁরা শেষ মুহূর্তে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন। অন্যদিকে রাজ়া মুরাদের বক্তব্য দেখিয়েছে, তিনি আরও বড় পরিসরের উপস্থিতি প্রত্যাশা করেছিলেন। এখানেই বিষয়টি শুধু একটি শেষকৃত্যের খবর না থেকে ইন্ডাস্ট্রির সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন কাজ করা অভিনেতাদের অবদান কীভাবে স্মরণ করা হয়, তাঁদের জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, এবং তারকাখ্যাতির বাইরে একজন শিল্পীর পেশাগত মূল্য কী—এসব প্রশ্নও সামনে এসেছে। মুশতাক খানের মৃত্যু বলিউডের জন্য একটি ক্ষতি। কয়েক দশক ধরে তিনি বিভিন্ন ছবিতে কাজ করেছেন এবং নিজের অভিনয় দিয়ে দর্শকদের বিনোদন দিয়েছেন। তাঁর ক্যারিয়ার প্রমাণ করে, সিনেমায় শুধুমাত্র মুখ্য চরিত্র নয়, পার্শ্বচরিত্রও একটি ছবির সাফল্য ও স্মৃতির অংশ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর প্রয়াণের পর রজ়া মুরাদের মন্তব্য তাই একদিকে শোকের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রির প্রতি তাঁর প্রশ্ন। তিনি মনে করেন, মুশতাকের মতো একজন শিল্পী, যিনি নিজের জীবনের দীর্ঘ সময় চলচ্চিত্রকে দিয়েছেন, তাঁর শেষ বিদায়ে আরও বেশি সহকর্মীর উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মুশতাকের পরিচয় তাঁর শেষকৃত্যে কতজন তারকা উপস্থিত ছিলেন, তার ওপর নির্ভর করে না। তাঁর পরিচয় তৈরি হয়েছে তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন, তাঁর কাজ এবং দর্শকদের মনে তৈরি হওয়া স্মৃতির মাধ্যমে। তাঁর অভিনীত ছবি আগামী দিনেও তাঁকে দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনবে। রাজ়া মুরাদের ‘৫০ বছর বনাম ৫০ মিনিট’-এর মন্তব্য সেই স্মৃতির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জুড়ে দিয়েছে। বলিউডে তারকাখ্যাতি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি সম্মান এবং তাঁদের অবদান স্মরণ করার বিষয়টিও কি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত নয়? এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো প্রত্যেকের কাছে আলাদা। তবে মুশতাক খানের প্রয়াণ সেই আলোচনাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। মুশতাক খান আজ আর নেই। কিন্তু তাঁর অভিনয়, তাঁর চরিত্র এবং কয়েক দশকের কাজ হিন্দি সিনেমার ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। আর তাঁর শেষকৃত্য ঘিরে রজ়া মুরাদের মন্তব্য নতুন করে মনে করিয়ে দিল, কোনও শিল্পীর অবদান শুধু তাঁর জীবদ্দশার সাফল্য দিয়ে নয়, তাঁর দীর্ঘ পথচলা এবং সহকর্মীদের স্মৃতির মধ্য দিয়েও মূল্যায়িত হয়।

news image
আরও খবর
Preview image