Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শেষ ষোলোর লড়াই জমজমাট, মেসি-রোনাল্ডোদের প্রতিপক্ষ কারা? প্রকাশ্যে বিশ্বকাপের পূর্ণ সূচি

ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই শুরু হয় বিশ্বকাপের আসল রোমাঞ্চ। শনিবার সকালে সেই পর্বের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ্যে আসতেই ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল।

বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উত্তেজনা, হিসাব-নিকাশ আর শেষ মুহূর্তের নাটক। কিন্তু গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অফ ৩২ পেরিয়ে যখন টুর্নামেন্ট পৌঁছে যায় রাউন্ড অফ ১৬-তে, তখন থেকেই যেন শুরু হয় আসল বিশ্বকাপ। কারণ এই পর্যায়ে আর কোনও ভুলের সুযোগ নেই। এক ম্যাচে জয় মানেই স্বপ্ন বেঁচে থাকা, আর হার মানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। সেই কারণেই প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল বা রাউন্ড অফ ১৬ সব সময়ই ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আলাদা আকর্ষণের জায়গা।

২০২৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-র সব ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছে। শেষ দল হিসেবে ঘানাকে হারিয়ে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। এর পরই চূড়ান্ত হয়েছে রাউন্ড অফ ১৬-র পূর্ণ সূচি। শনিবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই নকআউট পর্ব। মোট ১৬টি দল এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে। প্রতিটি ম্যাচেই থাকবে আলাদা চাপ, আলাদা গল্প এবং আলাদা প্রত্যাশা।

রাউন্ড অফ ১৬-র প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে কানাডা এবং মরক্কো। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই ম্যাচ হবে শনিবার, ৪ জুলাই রাত সাড়ে ১০টায়। কানাডা এ বার ঘরের মাঠের সুবিধা, সমর্থকদের আবেগ এবং গতিময় ফুটবলকে কাজে লাগিয়ে আরও এক ধাপ এগোতে চাইবে। অন্যদিকে মরক্কো গত কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। রক্ষণ, পাল্টা আক্রমণ এবং চাপের ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা—এই তিন জায়গায় মরক্কো বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ। ফলে রাউন্ড অফ ১৬-র প্রথম ম্যাচ থেকেই বড় লড়াইয়ের আভাস মিলছে।

দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে এবং ফ্রান্স। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই ম্যাচ ৫ জুলাই রাত আড়াইটেয়, অর্থাৎ শনিবার গভীর রাতে। ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। তাদের দলে অভিজ্ঞতা, গতি, স্কিল এবং ম্যাচ জেতানোর মতো একাধিক ফুটবলার রয়েছে। কিন্তু নকআউট ম্যাচে শুধু নাম বা অতীত সাফল্য দিয়ে জয় পাওয়া যায় না। প্যারাগুয়ে এই পর্যায়ে উঠে এসে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা লড়াই ছাড়া হার মানবে না। ফলে ফ্রান্সকে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।

রাউন্ড অফ ১৬-র অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ ব্রাজ়িল বনাম নরওয়ে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই ম্যাচ ৬ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিটে। ব্রাজ়িল মানেই ফুটবলের সৌন্দর্য, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং বড় মঞ্চে ইতিহাস। কিন্তু নরওয়ে এই বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় শৃঙ্খলা, শারীরিক ফুটবল এবং দ্রুত আক্রমণ ব্রাজ়িলের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। ব্রাজ়িলের সমর্থকরা অবশ্য আশা করছেন, নকআউটে সাম্বা ছন্দ আরও উজ্জ্বল হবে।

এর পর মাঠে নামবে ইংল্যান্ড এবং মেক্সিকো। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই ম্যাচ ৬ জুলাই ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে। এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা আরও বেশি, কারণ মেক্সিকো আয়োজক দেশগুলির একটি এবং তারা ঘরের সমর্থনের সামনে খেলবে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড বহু বছর ধরে বড় ট্রফির অপেক্ষায়। তাদের দলে তারুণ্য, গতি এবং অভিজ্ঞতার মিশ্রণ রয়েছে। তবে মেক্সিকোর বিরুদ্ধে তাদের শুধু প্রতিপক্ষ নয়, আবহাওয়া, পরিবেশ এবং গ্যালারির চাপও সামলাতে হবে।

৭ জুলাই রাত ১২টা ৩০ মিনিটে রয়েছে পর্তুগাল বনাম স্পেনের হাইভোল্টেজ ম্যাচ। রাউন্ড অফ ১৬-র সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলির মধ্যে এটিকে রাখা যায়। পর্তুগাল এবং স্পেন—দুই দেশই ইউরোপীয় ফুটবলের বড় শক্তি। এই ম্যাচে কৌশল, বল পজেশন, দ্রুত পাসিং এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াই দেখা যেতে পারে। স্পেন সাধারণত পাসিং ফুটবলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে পছন্দ করে, আর পর্তুগাল সুযোগ পেলে দ্রুত আক্রমণে বিপক্ষকে চাপে ফেলে। ফলে এই ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হতে চলেছে।

একই দিনে, ৭ জুলাই ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে খেলবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বেলজিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র আয়োজক দেশগুলির একটি হওয়ায় তাদের উপর প্রত্যাশা অনেক। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে তারা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে চাইবে। তবে বেলজিয়াম অভিজ্ঞ দল। বড় মঞ্চে কীভাবে চাপ সামলাতে হয়, তা তাদের জানা। এই ম্যাচে তরুণ উদ্যম বনাম অভিজ্ঞতার লড়াই দেখা যেতে পারে।

৭ জুলাই রাত ৯টা ৩০ মিনিটে রয়েছে আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ। আর্জেন্টিনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এই বিশ্বকাপে নেমেছে। ফলে তাদের প্রতিটি ম্যাচেই নজর বেশি। মেসিদের দলকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগও আলাদা। তবে নকআউট ম্যাচে কোনও দলকে ছোট করে দেখা যায় না। মিশর নিজেদের জায়গা তৈরি করেছে পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং লড়াকু মানসিকতা দিয়ে। আর্জেন্টিনার সামনে তাই সহজ ম্যাচ অপেক্ষা করছে না।

news image
আরও খবর

রাউন্ড অফ ১৬-র শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড এবং কলম্বিয়া। ভারতীয় সময় অনুযায়ী এই ম্যাচ হবে ৮ জুলাই রাত ১টা ৩০ মিনিটে। কলম্বিয়া শেষ দল হিসেবে প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে। ঘানার বিরুদ্ধে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড সব সময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ। তারা সংগঠিত ফুটবল খেলে, রক্ষণ শক্তিশালী রাখে এবং সুযোগ পেলে গোল করতে জানে। ফলে এই ম্যাচেও লড়াই হতে পারে সমানে সমান।

এই রাউন্ড অফ ১৬-র সূচি দেখে বোঝাই যাচ্ছে, বিশ্বকাপ এখন সত্যিই তার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। কানাডা-মরক্কো ম্যাচে যেমন নতুন ইতিহাসের সম্ভাবনা আছে, তেমনই ব্রাজ়িল-নরওয়ে ম্যাচে আছে ঐতিহ্য বনাম চ্যালেঞ্জের লড়াই। ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ম্যাচে থাকবে আয়োজক দেশের আবেগ, আর পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে থাকবে ইউরোপীয় ফুটবলের ক্লাসিক উত্তাপ। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে থাকবে চ্যাম্পিয়নদের মর্যাদা রক্ষার লড়াই, আর সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচে থাকবে শেষ মুহূর্তে উঠে আসা দলের আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা।

বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। ৯০ মিনিটে ম্যাচের ফল না হলে অতিরিক্ত সময় এবং প্রয়োজনে টাইব্রেকার ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। তাই শুধু ভাল ফুটবল খেললেই হবে না, মানসিক দৃঢ়তা, পরিকল্পনা, বেঞ্চ শক্তি এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বড় ভূমিকা নেবে।

ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য রাউন্ড অফ ১৬-র কয়েকটি ম্যাচের সময় গভীর রাত বা ভোরে হলেও উত্তেজনা কমার নয়। কারণ বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ মানেই অনিশ্চয়তা। যে দল ফেভারিট, তারাও এক মুহূর্তের ভুলে ছিটকে যেতে পারে। আবার যে দলকে অনেকেই আন্ডারডগ ভাবছে, তারাও এক ম্যাচে ইতিহাস লিখে দিতে পারে। এটাই বিশ্বকাপের সৌন্দর্য।

সব মিলিয়ে, শনিবার রাত থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের নতুন অধ্যায়। ১৬টি দল, ৮টি ম্যাচ, ৮টি কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট—আর তার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামবে প্রতিটি দল। এখন দেখার, কারা চাপ সামলে শেষ আটে পৌঁছতে পারে, আর কারা এখানেই থেমে যায়।

রাউন্ড অফ ১৬-র সম্পূর্ণ সূচি, ভারতীয় সময় অনুযায়ী:

১. কানাডা বনাম মরক্কো — ৪ জুলাই, রাত ১০:৩০
২. প্যারাগুয়ে বনাম ফ্রান্স — ৫ জুলাই, রাত ২:৩০
৩. ব্রাজ়িল বনাম নরওয়ে — ৬ জুলাই, রাত ১:৩০
৪. মেক্সিকো বনাম ইংল্যান্ড — ৬ জুলাই, ভোর ৫:৩০
৫. পর্তুগাল বনাম স্পেন — ৭ জুলাই, রাত ১২:৩০
৬. যুক্তরাষ্ট্র বনাম বেলজিয়াম — ৭ জুলাই, ভোর ৫:৩০
৭. আর্জেন্টিনা বনাম মিশর — ৭ জুলাই, রাত ৯:৩০
৮. সুইজারল্যান্ড বনাম কলম্বিয়া — ৮ জুলাই, রাত ১:৩০

এই রাউন্ডে প্রতিটি দলের সামনে লক্ষ্য একটাই—কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। তাই মাঠে কেবল তারকা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নয়, কোচের পরিকল্পনা, বদলি খেলোয়াড়ের ব্যবহার এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তও ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। বড় দলগুলির উপর প্রত্যাশার চাপ বেশি থাকবে, আর অপেক্ষাকৃত ছোট দলগুলি নির্ভার ফুটবল খেলে অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করবে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অতীতে বহুবার দেখা গিয়েছে, একটিমাত্র গোল, একটি সেভ বা একটি পেনাল্টিই ইতিহাস লিখে দিয়েছে। তাই রাউন্ড অফ ১৬-র প্রতিটি ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

Preview image