রামায়ণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ নিয়ে এসেছে IRCTC-এর বিশেষ রামায়ণ যাত্রা। ৫ রাত ৬ দিনের এই সফরে মনাবরী, মুনেশ্বরম, ডাম্বুলা, ত্রিনকোমালি, ক্যান্ডি, নুয়ারা এলিয়া, অশোক বাটিকা, সীতা আম্মান মন্দির এবং কলম্বোর একাধিক দর্শনীয় স্থান ঘোরানো হবে। সফর শুরু ১০ ডিসেম্বর এবং ফিরতি যাত্রা ১৬ ডিসেম্বর। জনপ্রতি প্যাকেজের খরচ শুরু হচ্ছে ৬৫,২৫০ টাকা থেকে।
রামায়ণের কাহিনির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার নাম বহুদিন ধরেই জড়িয়ে রয়েছে। সীতাহরণ থেকে শুরু করে লঙ্কায় সীতার অবস্থান, হনুমানের লঙ্কায় যাওয়া, রাম-রাবণের যুদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত রাবণের পতন—মহাকাব্যের নানা অধ্যায়ের সঙ্গে বর্তমান শ্রীলঙ্কার একাধিক জায়গাকে যুক্ত করে দেখানো হয়।
যদিও রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কা এবং আধুনিক শ্রীলঙ্কা একই জায়গা কি না, তা নিয়ে ঐতিহাসিক ও গবেষণামূলক আলোচনা রয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং স্থানীয় লোককথায় শ্রীলঙ্কার বেশ কিছু স্থানকে রামায়ণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সেই বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি হয়েছে এই রামায়ণ-সংযুক্ত স্থানগুলিকে ঘিরে।
এ বার সেই সব জায়গা এক সফরে ঘুরে দেখার সুযোগ নিয়ে এসেছে IRCTC বা Indian Railway Catering and Tourism Corporation। ট্রেনে নয়, বিমানপথে হবে এই বিশেষ শ্রীলঙ্কা সফর। পাঁচ রাত ছয় দিনের প্যাকেজে ধর্মীয় ও পৌরাণিক গুরুত্বের স্থানগুলির পাশাপাশি থাকবে শ্রীলঙ্কার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, পাহাড়ি শহর, চা-বাগান, মন্দির, সমুদ্র এবং স্থানীয় সংস্কৃতি দেখার সুযোগ।
প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, যাত্রা শুরু হবে ১০ ডিসেম্বর এবং বেঙ্গালুরুতে ফিরতি যাত্রা হবে ১৬ ডিসেম্বর। প্যাকেজে বিমানযাত্রা, হোটেলে থাকা, নির্দিষ্ট দর্শনীয় স্থান ঘোরানো এবং অন্যান্য নির্ধারিত পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই সফরের মূল আকর্ষণ হল রামায়ণের সঙ্গে প্রচলিতভাবে যুক্ত শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানকে একটি নির্দিষ্ট পর্যটনসূচির মধ্যে নিয়ে আসা।
মনাবরী মন্দির থেকে মুনেশ্বরম মন্দির, ত্রিনকোমালির তিরুকোণেশ্বরম মন্দির, নুয়ারা এলিয়ার সীতা আম্মান মন্দির এবং অশোক বাটিকা—বিভিন্ন জায়গাকে স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও রামায়ণ-ভিত্তিক পর্যটন কাহিনির সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
এর পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ডাম্বুলার গুহামন্দির, ক্যান্ডির বৌদ্ধ ঐতিহ্য, নুয়ারা এলিয়ার পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং কলম্বোর দর্শনীয় স্থানও রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় সফর নয়। রামায়ণ-সংযুক্ত স্থান দেখার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং ধর্মীয় বৈচিত্র্য জানার সুযোগও থাকবে।
সফরের প্রথম দিন শুরু হবে বেঙ্গালুরু থেকে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ১০ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে বেঙ্গালুরু থেকে কলম্বোর উদ্দেশে বিমান ছাড়বে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানটি কলম্বোয় পৌঁছবে সকাল ১১টা ২৫ মিনিট নাগাদ।
কলম্বো বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হবে নির্ধারিত দর্শনীয় স্থানগুলিতে। প্রথম দিনের সফরের অন্যতম আকর্ষণ মনাবরী মন্দির।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণকে পরাজিত করার পরে রামের সঙ্গে এই মন্দিরের একটি যোগ রয়েছে। প্রচলিত কাহিনিতে বলা হয়, রাম এখানে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে পুজো করেছিলেন।
তবে এই ধরনের বর্ণনাকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
এর পরে সফরসূচিতে রয়েছে মুনেশ্বরম মন্দির। শ্রীলঙ্কার প্রাচীন হিন্দু মন্দিরগুলির মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত। মন্দিরটি স্থানীয় হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র।
প্রথম দিনের মন্দির দর্শন শেষ করে পর্যটকদের ডাম্বুলার হোটেলে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানেই হবে রাতের থাকার ব্যবস্থা।
দ্বিতীয় দিন সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন।
সকালে ডাম্বুলা অঞ্চলের দর্শনীয় স্থান দিয়ে দিন শুরু হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ডাম্বুলা গুহামন্দির।
ডাম্বুলা গুহামন্দির শ্রীলঙ্কার অন্যতম পরিচিত বৌদ্ধ ঐতিহ্যস্থল। পাহাড়ের গুহার ভিতরে থাকা একাধিক মন্দির, বুদ্ধমূর্তি এবং প্রাচীন চিত্রকলার জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
এই স্থান রামায়ণ-ভিত্তিক পর্যটনের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্য বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
এর পরে সফর এগোবে ত্রিনকোমালির দিকে।
ত্রিনকোমালিতে রয়েছে তিরুকোণেশ্বরম মন্দির, যা শিবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাসনাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় পৌরাণিক বিশ্বাসে রাবণ এবং তাঁর মায়ের সঙ্গে এই মন্দিরের সম্পর্কের কথা বলা হয়। আবার কিছু রামায়ণ-ভিত্তিক বিশ্বাসে বলা হয়, রাবণবধের পর রামও এখানে শিবের আরাধনা করেছিলেন।
এইসব কাহিনি মূলত ধর্মীয় ঐতিহ্য ও লোকবিশ্বাসের অংশ।
দ্বিতীয় দিনের তালিকায় আরও রয়েছে শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ পেরুমল মন্দির।
দিনের দর্শন শেষ করে আবার ডাম্বুলায় ফিরে রাত কাটানোর ব্যবস্থা থাকবে।
তৃতীয় দিনে সফর যাবে শ্রীলঙ্কার অন্যতম সুন্দর শহর ক্যান্ডিতে।
পাহাড়, হ্রদ, সবুজ পরিবেশ এবং চা-বাগানের জন্য ক্যান্ডি শ্রীলঙ্কার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। শহরটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও যথেষ্ট।
সফরসূচিতে ক্যান্ডির বিভিন্ন জায়গা ঘোরার পাশাপাশি পর্যটকদের স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জেম বা রত্ন কারখানা এবং বাটিক শিল্পের কারখানা।
শ্রীলঙ্কা রত্নপাথরের জন্যও পরিচিত। ফলে রত্নশিল্প সম্পর্কে জানার সুযোগ এই সফরের একটি আলাদা আকর্ষণ হতে পারে।
ক্যান্ডির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম Temple of the Sacred Tooth Relic।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে গৌতম বুদ্ধের একটি দাঁতের ধ্বংসাবশেষ সংরক্ষিত রয়েছে।
ক্যান্ডির রাজপ্রাসাদ চত্বরের সঙ্গে যুক্ত এই ধর্মীয় স্থানটি শ্রীলঙ্কার ইতিহাস ও বৌদ্ধ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রামায়ণ-ভিত্তিক ভ্রমণের মধ্যে এই জায়গাটি যুক্ত থাকায় পর্যটকরা একই সফরে শ্রীলঙ্কার হিন্দু এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
তৃতীয় দিনের আরেকটি আকর্ষণ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সংগীত এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পর্যটকদের পরিচয় করানোর জন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন রাখা হয়েছে।
রাত কাটবে ক্যান্ডিতেই।
চতুর্থ দিনে সফর পৌঁছবে নুয়ারা এলিয়াতে।
শ্রীলঙ্কার পাহাড়ি অঞ্চলগুলির মধ্যে নুয়ারা এলিয়া অন্যতম জনপ্রিয়। শীতল আবহাওয়া, পাহাড়, সবুজ চা-বাগান এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের কারণে পর্যটকদের কাছে জায়গাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।
তবে এই সফরে নুয়ারা এলিয়ার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল রামায়ণ-সংযুক্ত স্থানগুলি।
রামায়ণ-ভিত্তিক পর্যটনের ক্ষেত্রে অশোক বাটিকা অন্যতম পরিচিত নাম।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণ সীতাকে অপহরণ করার পর যে স্থানে বন্দি করে রেখেছিলেন, সেটিই অশোক বাটিকা। বর্তমান শ্রীলঙ্কার নুয়ারা এলিয়া অঞ্চলের একটি জায়গাকে সেই অশোক বাটিকার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
তবে এই পরিচয়কে ঐতিহাসিকভাবে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে না দেখে রামায়ণ-ভিত্তিক ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্থানীয় পর্যটন ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে দেখা হয়।
এই জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
চতুর্থ দিনের সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সীতা আম্মান মন্দির।
নুয়ারা এলিয়ার কাছে অবস্থিত এই মন্দিরকে সীতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রাবণ সীতাকে যেখানে রেখেছিলেন, তার কাছাকাছি এই মন্দিরের অবস্থান।
মন্দিরের পরিবেশ, চারপাশের পাহাড়ি প্রকৃতি এবং ধর্মীয় গুরুত্ব মিলিয়ে এটি রামায়ণ-ভিত্তিক পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
এই দিনের সফরে থাকবে রামবোডার হনুমান মন্দিরও।
হনুমানের সঙ্গে যুক্ত এই স্থানকে ঘিরে নানা স্থানীয় বিশ্বাস রয়েছে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, রাম-সীতার কাহিনির সঙ্গে এই অঞ্চলের সম্পর্ক রয়েছে।
মন্দিরের আশপাশের পাহাড়ি পরিবেশও দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণীয়।
পঞ্চম দিনে সফর আবার কলম্বোর দিকে এগোবে।
পথে থাকবে পিন্নাওয়ালা এলিফ্যান্ট অরফানেজ বা হাতিশালা পরিদর্শনের সুযোগ। এখানে হাতিদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পর্যটকদের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার বন্যপ্রাণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য এই পর্বটি রামায়ণ-ভিত্তিক ধর্মীয় সফরের বাইরে একটি আলাদা অভিজ্ঞতা যোগ করবে।
এর পরে যাত্রা এগোবে কলম্বোর দিকে।
কলম্বোর পথে সফরসূচিতে রয়েছে কেলানিয়া বৌদ্ধ মন্দির।
শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত এই স্থানটি স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি থাকবে পঞ্চমুখ অঞ্জনীয়ার মন্দির দর্শন।
হনুমানের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দিরটি রামায়ণ-ভিত্তিক পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হতে পারে।
দিনের শেষে কলম্বোর হোটেলে থাকার ব্যবস্থা থাকবে।
সফরের শেষ দিনটি রাখা হয়েছে কলম্বো ঘোরার জন্য।
সকালে হোটেল ছাড়ার পরে পর্যটকরা নিজেদের মতো কিছুটা সময় কাটাতে পারবেন। কেনাকাটা বা কলম্বোর স্থানীয় পরিবেশ উপভোগ করার সুযোগও থাকবে।
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে সমুদ্রসৈকত, বাজার, জাদুঘর, বৌদ্ধ মন্দির এবং ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের বিভিন্ন নিদর্শন রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, রাতে বেঙ্গালুরুর বিমান ধরার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে পৌঁছতে হবে।
এর মধ্য দিয়েই শেষ হবে ছয় দিনের IRCTC Ramayana Yatra।
প্রকাশিত প্যাকেজের তথ্য অনুযায়ী, দু'জন একই ঘরে থাকলে জনপ্রতি খরচ ৬৫,৭০০ টাকা।
তিনজন একই ঘরে থাকলে জনপ্রতি খরচ কিছুটা কমে ৬৫,২৫০ টাকা।
একজন একা ঘরে থাকতে চাইলে প্যাকেজের খরচ বেড়ে হবে ৮৬,২০০ টাকা।
শিশুদের জন্য আলাদা প্যাকেজ মূল্য রয়েছে। ৫ থেকে ১১ বছর বয়সি শিশুর ক্ষেত্রে খরচ ৫১,৫০০ টাকা এবং তার চেয়ে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে খরচ ৪৭,৫০০ টাকা বলে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানানো হয়েছে।
তবে টিকিট বুক করার আগে IRCTC-এর অফিসিয়াল প্যাকেজ পেজে সর্বশেষ মূল্য, অন্তর্ভুক্ত পরিষেবা, কর, বাতিলের নিয়ম এবং বিমানসূচি যাচাই করা উচিত। ট্যুর প্যাকেজে সময়ের সঙ্গে মূল্য বা পরিষেবায় পরিবর্তন হতে পারে।
এই ধরনের IRCTC প্যাকেজে সাধারণত সফরের নির্দিষ্ট অংশের পরিবহণ, হোটেলে থাকা, নির্ধারিত খাবার, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন এবং ট্যুর ম্যানেজমেন্টের মতো পরিষেবা থাকে।
তবে কোনও প্যাকেজে ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত এবং কোন পরিষেবার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে, তা বুকিংয়ের আগে অফিসিয়াল itinerary এবং terms & conditions দেখে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত কেনাকাটা, অতিরিক্ত খাবার, ব্যক্তিগত খরচ, অতিরিক্ত দর্শনীয় স্থান বা নির্ধারিত সময়ের বাইরে পরিবহণের খরচ আলাদা হতে পারে।
রামায়ণ ও ভারতীয় পুরাণের সঙ্গে যুক্ত স্থান দেখতে আগ্রহী পর্যটকদের জন্য এই সফর আকর্ষণীয় হতে পারে।
এছাড়াও যারা শ্রীলঙ্কার মন্দির, বৌদ্ধ ঐতিহ্য, পাহাড়ি শহর, চা-বাগান, বন্যপ্রাণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতি একসঙ্গে দেখতে চান, তাদের কাছেও এই itinerary আকর্ষণীয়।
পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করার ক্ষেত্রেও ছয় দিনের এই সফর একটি নির্দিষ্ট কাঠামো দেয়। কারণ বিমান, হোটেল এবং দর্শনীয় স্থান ঘোরার পরিকল্পনা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে।
তবে দীর্ঘ বিমানযাত্রা, প্রতিদিন একাধিক জায়গায় যাতায়াত এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ভ্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে বয়স্ক পর্যটক বা ছোট শিশুদের সঙ্গে যাত্রার আগে itinerary ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলির একটি হল পৌরাণিক কাহিনি এবং আধুনিক পর্যটনের সংযোগ।
রামায়ণের লঙ্কা বর্তমান শ্রীলঙ্কাই কি না—এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। রামায়ণের পাঠ, ঐতিহাসিক ভূগোল এবং স্থানীয় লোককথার ব্যাখ্যা এক নয়।
তবু শ্রীলঙ্কার একাধিক জায়গায় রামায়ণের চরিত্র ও ঘটনাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং স্থানীয় ঐতিহ্য রয়েছে। সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এই জায়গাগুলির অনেকগুলি বর্তমানে Ramayana Trail বা Ramayana Tourism-এর অংশ হয়ে উঠেছে।
ফলে এই সফরকে শুধুমাত্র পৌরাণিক স্থানের তালিকা হিসেবে দেখার পরিবর্তে ধর্মীয় বিশ্বাস, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটন—এই তিনটির মিলিত অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়।
IRCTC-এর এই সফরের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হল বৈচিত্র্য।
একদিকে রয়েছে শিব মন্দির, হনুমান মন্দির এবং সীতা-সংযুক্ত স্থান। অন্যদিকে রয়েছে ডাম্বুলার বৌদ্ধ গুহামন্দির, ক্যান্ডির Sacred Tooth Relic এবং কেলানিয়া বৌদ্ধ মন্দির।
তার সঙ্গে রয়েছে ক্যান্ডির পাহাড়, নুয়ারা এলিয়ার চা-বাগান, কলম্বোর শহুরে পরিবেশ এবং পিন্নাওয়ালার হাতিশালা।
অর্থাৎ ছয় দিনের itinerary-তে শ্রীলঙ্কার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং প্রাকৃতিক—তিন ধরনের অভিজ্ঞতাই যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা বিদেশ সফর হওয়ায় যাত্রার আগে পাসপোর্ট, ভিসা বা ETA-সংক্রান্ত বর্তমান নিয়ম অবশ্যই যাচাই করতে হবে। বিমান সংস্থার baggage rules এবং IRCTC-এর প্যাকেজের শর্তও দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
এছাড়া আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক নেওয়া, মন্দিরে প্রবেশের জন্য উপযুক্ত পোশাক রাখা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেওয়া সুবিধাজনক।
মন্দির ও ধর্মীয় স্থানগুলিতে স্থানীয় নিয়ম মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রামায়ণ-সংযুক্ত স্থানগুলির ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক প্রমাণকে আলাদা করে দেখা। স্থানীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান রেখেই এই জায়গাগুলি ঘুরে দেখা উচিত।
রামায়ণের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের আগ্রহ রয়েছে। সেই আগ্রহকে কেন্দ্র করে IRCTC-এর এই বিশেষ রামায়ণ যাত্রা ধর্মীয় পর্যটনের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং বৌদ্ধ ঐতিহ্য দেখারও সুযোগ করে দিচ্ছে।
মনাবরী ও মুনেশ্বরম থেকে শুরু করে ত্রিনকোমালির তিরুকোণেশ্বরম, ডাম্বুলার গুহামন্দির, ক্যান্ডির Sacred Tooth Relic, নুয়ারা এলিয়ার সীতা আম্মান মন্দির ও অশোক বাটিকা, রামবোডার হনুমান মন্দির, পিন্নাওয়ালা এবং কলম্বো—ছয় দিনের সফরে বেশ কয়েকটি বৈচিত্র্যময় গন্তব্য রাখা হয়েছে।
১০ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরু থেকে যাত্রা শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর ফেরার এই প্যাকেজে দু'জন একই ঘরে থাকলে প্রকাশিত জনপ্রতি খরচ ৬৫,৭০০ টাকা থেকে শুরু। তিনজন একই ঘরে থাকলে তা ৬৫,২৫০ টাকা এবং একক যাত্রীর ক্ষেত্রে ৮৬,২০০ টাকা।
তবে ভ্রমণের আগে IRCTC-এর সর্বশেষ অফিসিয়াল তথ্য থেকে প্যাকেজের মূল্য, বিমানসূচি, hotel, খাবার, inclusions, exclusions এবং booking conditions যাচাই করা জরুরি।
রামায়ণের কাহিনি, শ্রীলঙ্কার স্থানীয় বিশ্বাস এবং আধুনিক পর্যটন—এই তিনের মেলবন্ধনই এই সফরকে অন্য ধরনের করে তুলেছে। যারা ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি একটি বিদেশি দেশের পাহাড়, মন্দির, বৌদ্ধ সংস্কৃতি, চা-বাগান এবং সমুদ্র উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য এই ধরনের itinerary একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।