অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ দ্য সানশাইন কোস্টের নেতৃত্বে বন্য পাখিদের উপর চালানো সাম্প্রতিক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের দাবি, কিছু প্রজাতির পাখির ক্ষেত্রে লিঙ্গগত বৈশিষ্ট্যে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, যেখানে পুরুষ পাখির দেহে স্ত্রী পাখির বৈশিষ্ট্য এবং স্ত্রী পাখির দেহে পুরুষ বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ‘Sex Reversal’ বলে ব্যাখ্যা করছেন বিজ্ঞানীরা, যা পরিবেশগত পরিবর্তন ও হরমোনজনিত প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি: সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকেই শারীরিক গঠনের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণ হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ, বিজ্ঞান এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার ধারণা বদলেছে। মানুষের ক্ষেত্রে আজ লিঙ্গ পরিচয় শুধুমাত্র জন্মগত শারীরিক গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জন্মের সময় কেউ ছেলে বা মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত হলেও, পরবর্তীকালে নিজের অনুভূতি ও পরিচয়ের ভিত্তিতে লিঙ্গ পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাহায্যে পুরুষ শরীর থেকে নারী এবং নারী শরীর থেকে পুরুষে রূপান্তর এখন আর অসম্ভব নয়। তবে এতদিন পর্যন্ত লিঙ্গ পরিবর্তনের এই ধারণা মূলত মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণাকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। কারণ বিজ্ঞানীরা এবার লিঙ্গ পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পেয়েছেন পাখিদের মধ্যেও।
এই লিঙ্গ পরিবর্তন কোনও সচেতন সিদ্ধান্ত নয়, যেমন মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়। পাখিরা নিজের শরীরে অস্ত্রোপচার করছে না, আবার একে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক বিবর্তনের ফল বলেও মানতে নারাজ বিজ্ঞানীরা। বরং গবেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে মানুষেরই তৈরি পরিবেশগত বিপর্যয় এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব। অর্থাৎ মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে পাখিদের শরীর ও জিনগত গঠনের উপর।
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ দ্য সানশাইন কোস্টের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় বন্য পাখিদের শরীর ও ডিএনএ পরীক্ষা করে চমকে যাওয়ার মতো তথ্য সামনে এসেছে। পাঁচটি স্থানীয় প্রজাতির প্রায় পাঁচশো পাখিকে গবেষণার আওতায় আনা হয়। এই পাখিগুলি দক্ষিণ পূর্ব কুইন্সল্যান্ডের বিভিন্ন বন্যপ্রাণী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। কেউ অসুস্থ হয়ে, কেউ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মারা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা পাখিদের বাঁচার আশা না থাকায় দয়া মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সব পাখির প্রজনন অঙ্গ এবং জিনগত নমুনা সংগ্রহ করে পৃথকভাবে পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই বিজ্ঞানীমহলে আলোড়ন পড়ে যায়। দেখা যায়, প্রায় ছয় শতাংশ পাখির ক্ষেত্রে শারীরিক গঠন এক লিঙ্গের হলেও, তাদের জিনগত পরিচয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। অর্থাৎ শরীরে পুরুষাঙ্গ থাকা সত্ত্বেও ডিএনএ অনুযায়ী তারা স্ত্রী পাখি অথবা উল্টোটা। গবেষণাপত্রটি দ্য রয়্যাল সোসাইটি Biology Letters জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
এই গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক, ইউনিভার্সিটি অফ দ্য সানশাইন কোস্টের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডমিনিক পটভিন জানিয়েছেন, বন্য পাখিদের ক্ষেত্রে জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই লিঙ্গ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায় না। মানুষের মতোই পাখিদের ক্ষেত্রেও লিঙ্গ নিশ্চিতকরণের প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত। ফলে জন্মের সময় যে লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বিপরীত প্রবণতাও শরীরে প্রকাশ পেতে পারে।
গবেষণায় যে পাঁচটি পাখির প্রজাতির উপর নজর দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ম্যাগপাই, লাফিং কুকাবুরা, ক্রেস্টেড পিজিয়ন, রেনবো লরিকিট এবং স্কেলি ব্রেস্টেড লরিকিট। এই প্রজাতিগুলির শরীর ও জিন বিশ্লেষণ করে বিপরীত লিঙ্গের প্রবণতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। বিশেষ করে ক্রেস্টেড পিজিয়নের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গিয়েছে। প্রায় ছয় শতাংশেরও বেশি পাখির শরীরে এই অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছেন গবেষকেরা। তুলনায় ম্যাগপাইয়ের ক্ষেত্রে এই হার সবচেয়ে কম, প্রায় তিন শতাংশ।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, যেসব পাখির মধ্যে বিপরীত লিঙ্গের প্রবণতা পাওয়া গিয়েছে, তাদের প্রায় বিরানব্বই শতাংশই জিনগত ভাবে স্ত্রী। অথচ তাদের শরীরে পুরুষাঙ্গের অস্তিত্ব মিলেছে। এমনকি একটি জিনগত ভাবে পুরুষ কুকাবুরা পাখির শরীরে বড় আকারের ফলিকল এবং স্ফীত ডিম্বনালীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করেছেন বিজ্ঞানীরা, যা সাধারণত স্ত্রী পাখিদের ক্ষেত্রেই দেখা যায় এবং ডিম পাড়ার সঙ্গে যুক্ত।
বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, সাধারণভাবে পুরুষ পাখিদের শরীরে দুটি Z ক্রোমোজোম থাকে, আর স্ত্রী পাখিদের ক্ষেত্রে একটি Z এবং একটি W ক্রোমোজোম থাকে। কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে, বহু পাখির ক্ষেত্রে শরীরের গঠন ও ক্রোমোজোমের বিন্যাস একে অপরের সঙ্গে মিলছে না। একই পাখির শরীর ও ডিএনএতে বিপরীত লিঙ্গের বৈশিষ্ট্য থাকার বিষয়টি প্রথমে বিজ্ঞানীদের কাছেও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল। তাই তাঁরা একাধিকবার পরীক্ষা করে ফল যাচাই করেন। প্রতিবারই একই ফলাফল উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে আর সন্দেহের অবকাশ থাকেনি।
গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আর এক বিজ্ঞানী ক্ল্যান্সি হল সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই ধরনের লিঙ্গগত গরমিল পাখিদের প্রজনন ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে ডিম পাড়া, বংশবিস্তার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পাখির নির্দিষ্ট প্রজাতির অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলতে পারে। শুধু তাই নয়, পাখিদের লিঙ্গ নির্ধারণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও পুরোপুরি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তবে পাখিদের শরীরে এই ধরনের বিপরীত লিঙ্গের প্রবণতা সম্পূর্ণ নতুন বিষয় নয় জীবজগতের ক্ষেত্রে। এর আগে কিছু মাছ, সরীসৃপ এবং উভচর প্রাণীর মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা গিয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বন্য পাখিদের মধ্যে এই প্রথম এত স্পষ্টভাবে এই প্রবণতার প্রমাণ মিলল। তাই গবেষণাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, এই পরিবর্তনের নেপথ্যে আসল কারণ কী। বিজ্ঞানীদের মতে, এর মূল দায় মানুষের সৃষ্ট ক্ষতিকর রাসায়নিক দূষণ। ডিকিন ইউনিভার্সিটির বিবর্তনমূলক জীববিদ্যা এবং বন্য পাখি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপিকা কেট বুকানন জানিয়েছেন, মানুষের তৈরি নানা রাসায়নিক পদার্থ প্রতিনিয়ত পরিবেশে মিশছে। এই সব রাসায়নিক সরাসরি পাখিদের হরমোন ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে Endocrine Disrupting Chemicals নামের রাসায়নিকগুলি হরমোনের স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায়। এর প্রভাবে স্ত্রী প্রাণীর শরীরে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। নর্দমার আশেপাশে বেড়ে ওঠা কীটপতঙ্গের মধ্যেও এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিজ্ঞান সংস্থার গবেষক ক্লেয়ার হলেলে জানিয়েছেন, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেও লিঙ্গগত পরিবর্তন হতে পারে। গিরগিটির উপর গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে পাখিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গভীর এবং উদ্বেগজনক হতে পারে বলে তাঁর মত। কারণ এর সঙ্গে পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের হস্তক্ষেপ সরাসরি জড়িয়ে থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে এই গবেষণা শুধু পাখিদের লিঙ্গ পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর তথ্যই সামনে আনেনি, বরং পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়েও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। আজ পাখিদের শরীরে যে পরিবর্তন ধরা পড়ছে, তা ভবিষ্যতে অন্য প্রাণী এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, সেই প্রশ্নও উঠছে বিজ্ঞানীদের মনে। তাই এই গবেষণার ফলাফল শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের বিজ্ঞান সংস্থার গবেষক ক্লেয়ার হলেল জানিয়েছেন, কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে লিঙ্গগত পরিবর্তন হতে পারে। গিরগিটির উপর পরিচালিত গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পাখিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গভীর এবং উদ্বেগজনক হতে পারে বলে তাঁর মত। কারণ এখানে শুধুমাত্র তাপমাত্রার প্রভাব নয়, বরং পরিবেশ দূষণ এবং মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপও জড়িয়ে রয়েছে। মানবসৃষ্ট রাসায়নিক পদার্থ, শিল্পবর্জ্য, কীটনাশক এবং পরিবেশে মিশে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ পাখিদের হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এ কারণে পাখিদের প্রজনন অঙ্গ ও জিনগত গঠন পরিবর্তিত হচ্ছে, যা প্রজাতি সংরক্ষণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের লিঙ্গগত অমিল পাখিদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যদি পুরুষ পাখির শরীরে স্ত্রী বৈশিষ্ট্য বা স্ত্রী পাখির শরীরে পুরুষ বৈশিষ্ট্য বেশি পরিমাণে দেখা দেয়, তবে ডিম পাড়া, ছানা জন্ম দেওয়া এবং বংশবিস্তার ব্যাহত হতে পারে। এটি শুধু বন্য পাখিদের সংখ্যাকে কমিয়ে দেয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রজাতির অস্তিত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ক্রেস্টেড পিজিয়ন এবং রেনবো লরিকিটের মতো প্রজাতিতে বিপরীত লিঙ্গের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে, যা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পাখির প্রজনন হারকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা শুধু লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি নয়, বরং পরিবেশের ওপর মানুষের কার্যকলাপের দূরপ্রভাবও তুলে ধরেছেন। মানুষের নির্মিত রাসায়নিক পদার্থ এবং দূষণ শুধু পাখি নয়, অন্যান্য প্রাণী এবং জৈব বৈচিত্র্যের জন্যও বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ যদি আমরা এই বিষয়গুলিকে গুরুত্ব না দেই, তবে আগামী প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে যাবে।
পাখিদের শরীরে যে পরিবর্তন ধরা পড়ছে তা একটি সংকেত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র বিজ্ঞানীদের জন্য কৌতূহলের বিষয় নয়, বরং মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা। যদি পরিবেশ দূষণ এবং হরমোন ব্যাহতকারী রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার অব্যাহত থাকে, তবে প্রাকৃতিক জীবনচক্র এবং প্রজাতির স্বাভাবিক লিঙ্গ নির্ধারণের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই গবেষকরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন নীতি, সচেতনতা এবং পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, পাখিদের মধ্যকার এই লিঙ্গগত বৈচিত্র্য প্রাকৃতিক বিবর্তনের অংশ হলেও মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণভাবে পাখির জন্মগত লিঙ্গ এবং প্রজনন অঙ্গ নির্ধারণের প্রক্রিয়া জৈবিকভাবে নির্ধারিত। কিন্তু বর্তমান গবেষণা প্রমাণ করেছে, মানুষের কর্মকাণ্ডে পাখিদের জৈবিক গঠন প্রভাবিত হচ্ছে। এটি শুধু বন্যপাখিদের জন্য নয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রের জন্যও একটি সংকেত। কারণ একটি প্রজাতির হরমোন বা প্রজনন পরিবর্তিত হলে তা শিকারী, শিকারি এবং খাদ্যচক্রের অন্যান্য স্তরে প্রভাব ফেলে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, লিঙ্গ পরিবর্তনের এই ধারা শুধুমাত্র বন্যপাখি নয়, অন্য প্রজাতির প্রাণী এবং দীর্ঘমেয়াদে মানুষের খাদ্য ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই গবেষণা একদিকে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছে, অন্যদিকে মানুষের কার্যকলাপ এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব নতুন করে মনে করিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বিজ্ঞানীদের নজরদারি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং রাসায়নিক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হবে।
সবশেষে বলা যায়, এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রাণিজগৎ এবং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক কতটা সংবেদনশীল। পাখির শরীর ও জিনে লিঙ্গ পরিবর্তনের ঘটনা একটি সতর্কবার্তা, যা শুধু বিজ্ঞানীদের নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছে। পরিবেশ রক্ষা, বন্যপাখি সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক দূষণ কমানো না হলে এই পরিবর্তনের পরিধি আরও বাড়তে পারে। তাই এই গবেষণার ফলাফলকে কেবল কৌতূহলের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়; বরং এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এবং সতর্কবার্তা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে