জাতীয় দল থেকে নিলম্বিত হওয়ার পর ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দাবি, তিনিই বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অবসর নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। কারও চোখে লিয়োনেল মেসি সর্বকালের সেরা, কেউ আবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেই এগিয়ে রাখেন। আবার অনেকের মতে, পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনার মতো কিংবদন্তিদের কৃতিত্বও কোনও ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। তবে এ বার সেই বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বালিয়ে দিলেন পর্তুগালের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নিজের ফুটবলজীবনের সাফল্য, গোলের সংখ্যা এবং পরিসংখ্যানের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেছেন, ইতিহাসের সেরা ফুটবলার তিনিই। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই ফুটবলমহলে শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা এবং পাল্টা যুক্তির লড়াই।
জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর পর্তুগালের তরফে তাঁকে নিলম্বিত করার খবর সামনে এসেছিল। সেই ঘটনার পরেই একটি সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডোর সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আমেরিকার একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারের টিজারে পর্তুগিজ তারকাকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য রাখতে শোনা গিয়েছে। তাঁর মতে, ফুটবল ইতিহাসে কে সেরা, তা নিয়ে কোনও বিতর্ক থাকার কথা নয়। কারণ, তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার এবং গোলের পরিসংখ্যানই নাকি সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়।
রোনাল্ডোর এই বক্তব্যের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ফুটবলের মতো দলগত খেলায় শুধুমাত্র গোলের সংখ্যা দিয়ে কি কোনও ফুটবলারকে সর্বকালের সেরা বলে চিহ্নিত করা যায়? ব্যক্তিগত সাফল্য, দলের হয়ে জেতা ট্রফি, বিশ্বকাপে পারফরম্যান্স, সতীর্থদের খেলায় প্রভাব এবং কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়ার ক্ষমতা— সব কিছু মিলিয়েই কি বিচার করা উচিত নয় একজন ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব? মেসি, পেলে এবং মারাদোনার সমর্থকেরা এই যুক্তিগুলিই সামনে আনছেন।
সাক্ষাৎকারের টিজারে রোনাল্ডোকে নিজের গোলের সংখ্যা এবং ফুটবলজীবনের পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তিনি বলেছেন, তাঁর গোলের সংখ্যার সঙ্গে আরও ৮৫টি গোলের ব্যবধান রয়েছে বলে যে আলোচনা চলছে, তা তাঁর পছন্দ নয়। তাঁর মতে, ফুটবলে সব কিছু স্বাভাবিক নিয়মেই হওয়া উচিত। গোলের সংখ্যা ৯২০ হোক, ৯২৫ হোক কিংবা ৯৩০— তাতে তাঁর দাবির কোনও পরিবর্তন হবে না। কারণ, তিনি নিজেকে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার বলেই মনে করেন।
রোনাল্ডোর বক্তব্য, “আমিই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। ফুল স্টপ। কে ইতিহাসের সেরা, তা নিয়ে কোনও বিতর্ক হওয়া উচিত নয়। আপনাকে গোল করতেই হবে। আর পরিসংখ্যানই সেটা বলে দিচ্ছে।”
এই মন্তব্যে রোনাল্ডোর আত্মবিশ্বাস যেমন স্পষ্ট, তেমনই ফুটবলবিশ্বে তাঁর নিজের অবস্থান সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও পরিষ্কার হয়েছে। দীর্ঘ কেরিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ক্লাব ফুটবল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চ— বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় গোল করেছেন, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জিতেছেন এবং নিজের ধারাবাহিকতা দিয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থক তৈরি করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা এবং সাফল্যের ভিত্তিতেই তিনি নিজেকে সর্বকালের সেরা বলে দাবি করছেন।
তবে ফুটবলে সর্বকালের সেরা নির্ধারণের বিষয়টি এতটা সরল নয়। গোলের সংখ্যা অবশ্যই একজন আক্রমণভাগের ফুটবলারের দক্ষতা এবং ধারাবাহিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে এমন বহু কিংবদন্তি রয়েছেন, যাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করতে গেলে শুধু গোলের হিসাব যথেষ্ট নয়। তাঁদের খেলার ধরন, নেতৃত্ব, দলের উপর প্রভাব এবং ফুটবলের বিবর্তনে অবদানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রোনাল্ডোর বক্তব্যের পর তাই তাঁর সমর্থকেরা যেমন পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করছেন, তেমনই বিরোধীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ফুটবল শুধুমাত্র গোল করার খেলা নয়। একটি দলের সাফল্যের পিছনে রক্ষণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, গোলের সুযোগ তৈরি, নেতৃত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টারও বড় ভূমিকা রয়েছে।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হল তাঁর দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা এবং গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা। আধুনিক ফুটবলে বিভিন্ন লিগ, প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদ, ইতালির জুভেন্টাস এবং আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরার পরেও তাঁর কেরিয়ারের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরেও খেলেছেন তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। ক্লাবটির হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছেন রোনাল্ডো। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাঁর গোলের রেকর্ড এবং নকআউট পর্বে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে প্রতিযোগিতাটির অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা, বড় মঞ্চে চাপ সামলানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলার দক্ষতা তাঁর কেরিয়ারের বড় সম্পদ।
রোনাল্ডোর সমর্থকদের মতে, একজন ফুটবলারকে বিচার করতে গেলে তাঁর ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানকে গুরুত্ব দিতেই হবে। দীর্ঘ কেরিয়ারে এত বিপুল সংখ্যক গোল করা সহজ কাজ নয়। বিভিন্ন দেশের লিগে, বিভিন্ন ধরনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এবং ভিন্ন ভিন্ন কৌশলগত পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে গোল করে যাওয়ার জন্য বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন।
এ ছাড়াও রোনাল্ডোর শারীরিক সক্ষমতা, অনুশীলনের প্রতি নিষ্ঠা এবং নিজের খেলার ধরন বদলে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা হয়। কেরিয়ারের শুরুর দিকে তিনি মূলত উইঙ্গার হিসেবে খেলতেন। গতি, ড্রিবলিং এবং একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল তাঁর খেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পরে তিনি আরও বেশি করে গোলমুখী আক্রমণভাগের ফুটবলার হয়ে ওঠেন। পজিশনিং, হেডে গোল করা এবং পেনাল্টি বক্সের মধ্যে সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা তাঁকে আরও কার্যকর করে তোলে।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই তাঁর দীর্ঘ সাফল্যের অন্যতম কারণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ফুটবলারের গতি এবং শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু রোনাল্ডো নিজের খেলার ধরন বদলে নিয়ে গোল করার ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, এই ধারাবাহিকতা তাঁকে সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় বিশেষ জায়গা দিয়েছে।
তবে এখানেই একটি প্রশ্ন থেকে যায়। সর্বকালের সেরা হওয়ার জন্য কি সবচেয়ে বেশি গোল করাই যথেষ্ট? নাকি ফুটবলার হিসেবে সামগ্রিক দক্ষতা, খেলার সৌন্দর্য, দলের জন্য অবদান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ? এই প্রশ্নের উত্তরেই রোনাল্ডো ও মেসিকে নিয়ে বিতর্ক বারবার ফিরে আসে।
রোনাল্ডোর সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবির পর লিয়োনেল মেসির নাম উঠে আসা খুবই স্বাভাবিক। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই তারকার মধ্যে তুলনা চলে আসছে। দু’জনেই আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে নিজেদের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। এক দিকে রোনাল্ডোর গোল করার ক্ষমতা, শারীরিক দক্ষতা এবং বিভিন্ন লিগে সাফল্য; অন্য দিকে মেসির ড্রিবলিং, পাস দেওয়ার দক্ষতা, খেলা তৈরি করার ক্ষমতা এবং গোল করার অসাধারণ মিশ্রণ।
মেসির সমর্থকদের কাছে সবচেয়ে বড় যুক্তি হল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ জিতে মেসি তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম বড় অপূর্ণতা পূরণ করেন। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনালে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেই প্রতিযোগিতায় মেসির পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষমতা তাঁকে আরও উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
মেসির আন্তর্জাতিক সাফল্য অবশ্য বিশ্বকাপেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা জিতেছেন তিনি। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয় ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এর পরে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে তাঁর সাফল্যের তালিকা আরও সমৃদ্ধ হয়।
বিশ্বকাপ জেতার আগে মেসিকে নিয়ে সমালোচনা ছিল যে, ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বড় ট্রফিটি তাঁর অধরা। কিন্তু ২০২২ সালের বিশ্বকাপ সেই সমালোচনার অনেকটাই বদলে দেয়। বিশ্বকাপ জয়ের পরে মেসির সমর্থকেরা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে আরও জোরালো যুক্তি তুলে ধরতে শুরু করেন।
রোনাল্ডোর ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। পর্তুগালের হয়ে তিনি ইউরো ২০১৬ জিতেছেন এবং উয়েফা নেশনস লিগেও দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অবদানও উল্লেখযোগ্য। পর্তুগালকে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম সফল জাতীয় দলে পরিণত করার পথে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্বকাপ এখনও তাঁর অধরা।
এই জায়গাতেই দুই তারকার সমর্থকদের মধ্যে বিতর্ক তীব্র হয়। মেসির সমর্থকদের মতে, বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। সেখানে সাফল্য একজন ফুটবলারের সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবিকে আরও শক্তিশালী করে। অন্য দিকে রোনাল্ডোর সমর্থকেরা মনে করিয়ে দেন, বিশ্বকাপ একটি দলগত প্রতিযোগিতা। কোনও একজন ফুটবলারের ব্যক্তিগত দক্ষতা থাকলেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না। দলের সামগ্রিক শক্তি, কোচের পরিকল্পনা, সতীর্থদের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের পরিস্থিতিও ফল নির্ধারণ করে।
অতএব, মেসির বিশ্বকাপ জয় তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলেও, শুধু বিশ্বকাপের ফল দিয়েই দুই ফুটবলারের সম্পূর্ণ কেরিয়ার বিচার করা যায় কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
রোনাল্ডো নিজেকে সর্বকালের সেরা বলার পর শুধু মেসির সঙ্গেই তাঁর তুলনা হচ্ছে না। ফুটবল ইতিহাসের দুই কিংবদন্তি পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনার নামও আলোচনায় উঠে এসেছে। কারণ, সর্বকালের সেরা ফুটবলার নির্ধারণ করতে গেলে বিভিন্ন প্রজন্মের সেরা খেলোয়াড়দের অবদান বিবেচনা করতে হয়।
ব্রাজিলের পেলে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কিংবদন্তি। তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব, ব্রাজিলের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়। ১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর সাফল্য এবং ফুটবলে তাঁর প্রভাব তাঁকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছে।
পেলের খেলার সময়কার ফুটবল এবং আধুনিক ফুটবলের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। প্রশিক্ষণ, পুষ্টি, প্রযুক্তি, খেলার গতি, কৌশল এবং প্রতিযোগিতার ধরন বদলে গিয়েছে। তাই পেলের পরিসংখ্যানকে আধুনিক ফুটবলারদের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সব সময় সহজ নয়। তবুও বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে তাঁর সাফল্য তাঁকে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখার অন্যতম বড় কারণ।
অন্য দিকে, আর্জেন্টিনার দিয়েগো মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নাম। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই প্রতিযোগিতায় মারাদোনার পারফরম্যান্স আজও ফুটবলপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে রয়েছে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর বিখ্যাত গোল এবং একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে করা দুর্দান্ত গোল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
মারাদোনার শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষে শুধু বিশ্বকাপ জয় নয়, তাঁর খেলার উপর নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, সৃজনশীলতা এবং একটি দলকে নিজের দক্ষতায় বদলে দেওয়ার ক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নাপোলির হয়ে তাঁর সাফল্য ইতালীয় ফুটবলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে ক্লাব এক সময় ইতালির বড় দলগুলির তুলনায় পিছিয়ে ছিল, সেই দলকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে মারাদোনার ভূমিকা ছিল অসাধারণ।
এই কারণেই পেলে এবং মারাদোনার সঙ্গে রোনাল্ডোর তুলনা করতে গেলে শুধু গোলের সংখ্যা দেখা যথেষ্ট নয়। তাঁদের সময়ের ফুটবল, প্রতিপক্ষের মান, দলের ভূমিকা, আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং খেলার উপর তাঁদের প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়।
তবে এই তুলনার ক্ষেত্রে আরও একটি সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন যুগের ফুটবলারদের একই মাপকাঠিতে বিচার করা কঠিন। পেলে ও মারাদোনার সময়কার ফুটবলের সঙ্গে বর্তমান সময়ের ফুটবলের অনেক পার্থক্য রয়েছে। আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ অনেক উন্নত। ফলে এক প্রজন্মের ফুটবলারের সঙ্গে অন্য প্রজন্মের ফুটবলারের সরাসরি তুলনা করতে গেলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
রোনাল্ডোর বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর গোলের সংখ্যা। ফুটবলে গোল করা অবশ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির একটি। ম্যাচ জেতার জন্য গোল করতে হয়, আর দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত গোল করা একজন ফুটবলারের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ। তবে ফুটবল এমন একটি খেলা, যেখানে গোলের আগে তৈরি হওয়া আক্রমণ, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণ সামলানো এবং সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার মতো বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একজন স্ট্রাইকারের প্রধান দায়িত্ব গোল করা হলেও একজন প্লেমেকারের কাজ হতে পারে আক্রমণের সূচনা করা, বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে পাস দেওয়া এবং সতীর্থকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। অনেক সময় একজন ফুটবলার নিজে গোল না করেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন। তাই শুধু গোলের সংখ্যার ভিত্তিতে সমস্ত ধরনের ফুটবলারকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা কঠিন।
মেসির ক্ষেত্রে গোল করার পাশাপাশি খেলা তৈরি করার ক্ষমতাও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি শুধু গোল করেন না, সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করেন, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পজিশনে খেলেন। তাঁর ড্রিবলিং ও পাস দেওয়ার দক্ষতা বহু ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে সমস্যায় ফেলেছে।
রোনাল্ডোর ক্ষেত্রেও গোল করার পাশাপাশি নেতৃত্ব, অফ দ্য বল মুভমেন্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উপস্থিতির মতো বিষয় রয়েছে। তাঁর পজিশনিং এবং বক্সের মধ্যে জায়গা খুঁজে নেওয়ার দক্ষতা বহু বার দলকে সুবিধা দিয়েছে। তাই তাঁর কেরিয়ারকে শুধুমাত্র গোলের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনই মেসির শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করতে গিয়ে শুধু অ্যাসিস্ট বা ড্রিবলিংয়ের পরিসংখ্যানের উপর নির্ভর করাও যথেষ্ট নয়।
ফুটবলের সর্বকালের সেরা নির্ধারণ করতে গেলে কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। যেমন ব্যক্তিগত পুরস্কার, ক্লাবের হয়ে সাফল্য, আন্তর্জাতিক ট্রফি, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পারফরম্যান্স, সতীর্থদের উন্নতিতে ভূমিকা, ধারাবাহিকতা এবং খেলার উপর সামগ্রিক প্রভাব।
এ ছাড়া একজন ফুটবলারের প্রভাব তাঁর দলের বাইরেও কতটা বিস্তৃত, সেটিও বিবেচনার বিষয়। কোনও ফুটবলার একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন, নতুন ধরনের খেলার ধারা তৈরি করতে পারেন কিংবা একটি ক্লাব বা জাতীয় দলকে নতুন পরিচয় দিতে পারেন। এই সব বিষয়কে সংখ্যায় প্রকাশ করা কঠিন হলেও ফুটবল ইতিহাসে একজন খেলোয়াড়ের জায়গা নির্ধারণে এগুলির গুরুত্ব রয়েছে।
রোনাল্ডো এবং মেসির তুলনা আধুনিক ফুটবলের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী বিতর্ক। প্রায় দুই দশক ধরে দু’জনের কেরিয়ার সমান্তরাল ভাবে এগিয়েছে। কখনও একজন গোলের সংখ্যায় এগিয়েছেন, কখনও অন্য জন ব্যক্তিগত পুরস্কার বা দলের সাফল্যের কারণে আলোচনায় এসেছেন। দু’জনেই একাধিক বার ব্যালন ডি'অর জিতেছেন এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন।
তাঁদের খেলার ধরন অবশ্য এক নয়। রোনাল্ডো নিজের গতি, শারীরিক সক্ষমতা, হেডে গোল করার দক্ষতা এবং দুই পায়েই গোল করার ক্ষমতার জন্য পরিচিত। মেসি পরিচিত তাঁর অসাধারণ বল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস এবং খেলা তৈরি করার দক্ষতার জন্য। দু’জনেরই নিজস্ব শক্তি রয়েছে, যা তাঁদের অন্যদের থেকে আলাদা করে।
রোনাল্ডোর সমর্থকেরা বলেন, তিনি বিভিন্ন লিগে সাফল্য পেয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে গোল করে গিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ধারাবাহিকতা এবং পরিসংখ্যানই তাঁকে সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবিতে এগিয়ে রাখে। অন্য দিকে মেসির সমর্থকেরা তাঁর বিশ্বকাপ জয়, আন্তর্জাতিক সাফল্য, ব্যক্তিগত পুরস্কার এবং গোল করার পাশাপাশি খেলা তৈরির ক্ষমতাকে সামনে আনেন।
কিন্তু এই বিতর্কের কোনও সর্বজনস্বীকৃত উত্তর নেই। ফুটবলপ্রেমীদের ব্যক্তিগত পছন্দ, ফুটবল দেখার দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোন বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে এই মূল্যায়ন বদলে যেতে পারে। কেউ গোলকে সবচেয়ে বড় মাপকাঠি মনে করেন, কেউ আবার বিশ্বকাপ জয়ের মতো সাফল্যকে অগ্রাধিকার দেন। আবার অনেকের কাছে খেলার সৌন্দর্য, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং দলের উপর প্রভাবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রোনাল্ডোর বক্তব্যে তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ থাকলেও, সেটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে মেনে নেওয়ার কোনও কারণ নেই। একই ভাবে মেসির বিশ্বকাপ জয় তাঁকে সর্বকালের সেরা হওয়ার দাবিতে শক্তিশালী জায়গা দিলেও, তাতে রোনাল্ডোর কৃতিত্ব ছোট হয়ে যায় না। দু’জনেরই ফুটবল ইতিহাসে অবদান অসাধারণ।
ক্লাব ফুটবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল— এই দুই মঞ্চেই একজন ফুটবলারের পারফরম্যান্স বিচার করা হয়। ক্লাবের হয়ে দীর্ঘ মরসুমে খেলার সুযোগ থাকে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিস্থিতি আলাদা। জাতীয় দলের ফুটবলাররা সারা বছর একসঙ্গে অনুশীলন করেন না। ফলে কোচের পরিকল্পনা, খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া এবং সীমিত প্রস্তুতির মধ্যেই সাফল্য অর্জন করতে হয়।
এই কারণেই বিশ্বকাপকে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলির একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের সেরা জাতীয় দলগুলি অংশ নেয়। এখানে একটি ভুল বা খারাপ ম্যাচও কোনও দলের বিদায়ের কারণ হতে পারে। তাই বিশ্বকাপ জেতা নিঃসন্দেহে বিরাট কৃতিত্ব।
রোনাল্ডো পর্তুগালের হয়ে ইউরো ২০১৬ জিতে জাতীয় দলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সেই সাফল্য পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। এর পাশাপাশি নেশনস লিগের ট্রফিও রয়েছে তাঁর কেরিয়ারে। পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে খেলে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক গোলের ক্ষেত্রে তাঁর অবদানও অস্বীকার করা যায় না।
তবে বিশ্বকাপের সাফল্য এখনও তাঁর কেরিয়ারে অনুপস্থিত। বিশ্বকাপ জিততে না পারা মানেই কোনও ফুটবলার সর্বকালের সেরা হতে পারেন না, এমন কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। আবার বিশ্বকাপ জিতলেই কেউ স্বয়ংক্রিয় ভাবে সর্বকালের সেরা হয়ে যান, এমনটাও বলা যায় না। একটি জাতীয় দলের সাফল্য অনেকগুলি বিষয়ের উপর নির্ভর করে।
মেসির বিশ্বকাপ জয় তাঁর কেরিয়ারকে বিশেষ উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু রোনাল্ডোর দীর্ঘ কেরিয়ার, গোলের রেকর্ড এবং ক্লাব ফুটবলের সাফল্যও তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুই তারকার সাফল্যের ধরন আলাদা। তাই তাঁদের তুলনা করতে গেলে এই পার্থক্যগুলিকে মাথায় রাখা প্রয়োজন।
রোনাল্ডোর মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের মুখে এমন দৃঢ় দাবি শোনার পর সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর অনুরাগীদের একাংশ মনে করেন, নিজের কৃতিত্ব সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী হওয়া একজন চ্যাম্পিয়নের বৈশিষ্ট্য। তাঁদের মতে, রোনাল্ডো যে পরিমাণ গোল করেছেন এবং যত দিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন, তা তাঁকে সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় রাখার জন্য যথেষ্ট।
অন্য দিকে সমালোচকদের মতে, নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে এতটা নিশ্চিত বক্তব্য রাখার আগে ফুটবলের ইতিহাস এবং অন্যান্য কিংবদন্তির কৃতিত্বকেও বিবেচনা করা উচিত। পেলের তিনটি বিশ্বকাপ, মারাদোনার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ অভিযান এবং মেসির ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়— এই সব সাফল্যকে উপেক্ষা করে কোনও একজনকে নিঃসন্দেহে সেরা বলা কঠিন।
এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। রোনাল্ডোর বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন। একজন খেলোয়াড় নিজের কেরিয়ারকে কী ভাবে দেখেন, তা বলার অধিকার তাঁর রয়েছে। কিন্তু সেই বক্তব্যের সঙ্গে সবাই একমত হবেন, এমনটা প্রত্যাশা করা যায় না। ফুটবলপ্রেমীদের নিজস্ব মতামত থাকবে, আর সেই মতামতের ভিত্তিতেই বিতর্ক চলতে থাকবে।
আসলে রোনাল্ডো ও মেসিকে ঘিরে এই বিতর্ক ফুটবলের জনপ্রিয়তারই একটি অংশ। দু’জনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা কয়েক প্রজন্মের সমর্থককে ফুটবলের সঙ্গে আরও গভীর ভাবে যুক্ত করেছে। তাঁদের কেরিয়ারের প্রতিটি বড় ম্যাচ, গোল এবং ট্রফি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁদের তুলনা করতে গিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা খেলার ইতিহাসের আরও অনেক কিংবদন্তির কৃতিত্বও নতুন করে জানতে পেরেছেন।
ফুটবলের সর্বকালের সেরা কে, তার কোনও একক এবং সর্বজনস্বীকৃত উত্তর সম্ভবত নেই। কারণ, একজন ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট কোনও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নেই। গোলের সংখ্যা, ট্রফি, ব্যক্তিগত পুরস্কার, বিশ্বকাপ জয়, খেলার সৌন্দর্য এবং দলের উপর প্রভাব— প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কোন বিষয়কে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা নির্ভর করে মূল্যায়নকারীর দৃষ্টিভঙ্গির উপর।
রোনাল্ডোর দাবি তাঁর নিজের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। তাঁর গোলের সংখ্যা, দীর্ঘ কেরিয়ার এবং বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে সাফল্য তাঁকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মেসির বিশ্বকাপ জয়, কোপা আমেরিকার সাফল্য এবং অসাধারণ সৃজনশীলতা তাঁকে একই আলোচনায় বিশেষ জায়গা দিয়েছে। পেলে এবং মারাদোনার বিশ্বকাপ জয় ও ঐতিহাসিক অবদানও তাঁদের সর্বকালের সেরাদের তালিকায় রাখে।
একজন ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব বিচার করার সময় তাঁর যুগের পরিস্থিতিও বিবেচনা করা উচিত। পেলে, মারাদোনা, মেসি এবং রোনাল্ডো প্রত্যেকেই আলাদা সময়ে খেলেছেন। তাঁদের প্রতিপক্ষ, প্রশিক্ষণের ধরন, কৌশল এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ এক ছিল না। তাই শুধুমাত্র পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে সরাসরি শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করা কঠিন।
সব মিলিয়ে, রোনাল্ডোর ‘আমিই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার’ মন্তব্য ফুটবলবিশ্বে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর অনুরাগীরা গোলের সংখ্যা এবং ধারাবাহিকতার যুক্তি তুলে ধরছেন। অন্য দিকে মেসি, পেলে ও মারাদোনার সমর্থকেরা বিশ্বকাপ জয়, আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং খেলার উপর সামগ্রিক প্রভাবকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শেষ পর্যন্ত কে সর্বকালের সেরা, সেই সিদ্ধান্ত হয়তো কখনওই একমত হয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে একটি বিষয় নিয়ে সন্দেহ নেই— ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, লিয়োনেল মেসি, পেলে এবং দিয়েগো মারাদোনা প্রত্যেকেই ফুটবল ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম। তাঁদের কৃতিত্ব, রেকর্ড এবং খেলার প্রতি অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে। আর সেই কারণেই রোনাল্ডোর এই আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা বিতর্কের জন্ম দিলেও, ফুটবলের সর্বকালের সেরা নিয়ে আলোচনা যে সহজে থামছে না, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল।