Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জয়ঘাটায় পুলিশের অভিযানে হাতেনাতে ধরা মদ বিক্রেতা উদ্ধার বাংলা ও ইংলিশ মদের বোতল

নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের জয়ঘাটা এলাকায় বিশেষ অভিযানে মদ বিক্রেতা সঞ্জয় বিশ্বাসকে গ্রেফতার করল কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ উদ্ধার হয়েছে বাংলা ও ইংলিশ মিলিয়ে ৪০ বোতল মদ সীমান্ত এলাকায় বেআইনি মদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানা গেছে।

নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জয়ঘাটা এলাকায় বেআইনি মদের ব্যবসার বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম সঞ্জয় বিশ্বাস। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ বাংলা ও ইংলিশ মদের বোতল। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়ঘাটা এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে বেআইনি মদের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠছিল, রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন জায়গায় মদ সরবরাহ করা হত এবং এলাকার যুব সমাজকে এই ব্যবসার মাধ্যমে প্রভাবিত করা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে একাধিক গোপন তথ্য পৌঁছায়। এরপরই সক্রিয় হয় কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ।

গতকাল গভীর রাতে কৃষ্ণগঞ্জ থানার একটি বিশেষ টিম জয়ঘাটার মাঠ এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই এক ব্যক্তি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাকে ধাওয়া করে আটক করে। এরপর তার হাতে থাকা দুটি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগ খুলতেই চমকে ওঠেন পুলিশ আধিকারিকরা। এক ব্যাগে ছিল ২০ বোতল বাংলা মদ এবং অন্য ব্যাগে ছিল ২০ বোতল ইংলিশ মদ। মোট ৪০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে।

পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত সঞ্জয় বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে কৃষ্ণগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানতে চেষ্টা করছেন, এই বেআইনি মদের কারবারের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে এবং কোথা থেকে এই মদ আনা হচ্ছিল। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় তদন্তে পাচারচক্রের যোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

পুলিশের অনুমান, শুধু স্থানীয় স্তরে নয়, এর পেছনে বড়সড় একটি চক্র কাজ করতে পারে। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি মদ, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রীর পাচারের ঘটনা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। সেই কারণেই কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ এখন আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আজ ধৃত সঞ্জয় বিশ্বাসকে কৃষ্ণনগর দায়রা আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ আদালতের কাছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাতে পারে বলে জানা গেছে। তদন্তকারীদের মতে, ধৃতকে জেরা করলেই এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম সামনে আসতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে মদের ব্যবসা চলছিল। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে রাতের অন্ধকারে মদ পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। এর ফলে যুব সমাজের মধ্যে নেশার প্রবণতা বাড়ছিল। তাই পুলিশের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের মতে, শুধু জয়ঘাটা নয়, কৃষ্ণগঞ্জের একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালানো দরকার। কারণ সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিকে ব্যবহার করে বেআইনি ব্যবসা চালানোর অভিযোগ বহুদিনের। পুলিশ যদি ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালায়, তাহলে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও চলবে। বেআইনি মদ ব্যবসা, মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি মদের ব্যবসা শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, এটি সামাজিক সমস্যাও। কারণ এই ধরনের ব্যবসা থেকে অপরাধচক্র শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং তরুণ প্রজন্ম নেশার জালে জড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। 

নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জয়ঘাটা এলাকায় পুলিশের অভিযানে বেআইনি মদের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ধৃত সঞ্জয় বিশ্বাসের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বাংলা ও ইংলিশ মদ উদ্ধারের পর শুধু একটি সাধারণ গ্রেফতারির ঘটনা হিসেবেই বিষয়টিকে দেখছে না পুলিশ। বরং তদন্তকারীদের মতে, এর পেছনে আরও বড় কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে এখন গোটা ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।

news image
আরও খবর

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই গোপনে মদের ব্যবসা চলছিল বলে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। অনেকেই দাবি করছেন, রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন জায়গায় বেআইনি মদ সরবরাহ করা হত। কিন্তু এতদিন ধরে কীভাবে এই ব্যবসা গোপনে চালানো হচ্ছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পাচারচক্রের দিকেও নজর দিচ্ছে পুলিশ।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে বলেই অনুমান। কোথা থেকে মদ আসত, কীভাবে তা বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হত, কারা এই ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করত এবং কারা নিয়মিত ক্রেতা ছিল— এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত সঞ্জয় বিশ্বাসকে জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে মাঝে মধ্যেই বেআইনি মদ, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ সামগ্রীর পাচারের অভিযোগ ওঠে। সেই কারণে এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন জানতে চাইছেন, শুধুমাত্র জয়ঘাটা এলাকাতেই এই ব্যবসা সীমাবদ্ধ ছিল নাকি আশপাশের অন্যান্য এলাকাতেও এই চক্রের প্রভাব ছিল। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না পুলিশ আধিকারিকরা। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান আগামী দিনেও চলবে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশের একটি বিশেষ টিম ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।

এই ঘটনার পর এলাকায় বেআইনি মদের কারবারিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের হঠাৎ অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ায় অনেকেই এখন গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে গুঞ্জন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু অসাধু ব্যক্তি সীমান্তবর্তী এলাকার সুযোগ নিয়ে বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ফলে পুলিশের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

বিশেষ করে অভিভাবকদের একাংশের বক্তব্য, বেআইনি মদের ব্যবসার কারণে যুব সমাজের একাংশ নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। গ্রামের পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। রাতের বেলা বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহজনক যাতায়াত বাড়ছিল বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। তাই পুলিশের এই অভিযানে তাঁরা খুশি। তাঁদের আশা, প্রশাসন যদি ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, শুধু একজনকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এর পেছনে যদি বড় কোনও চক্র থেকে থাকে, তাহলে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। কারণ সীমান্ত এলাকায় বেআইনি মদ ব্যবসা শুধু আইন ভাঙার ঘটনা নয়, এটি সমাজের জন্যও বড় বিপদ। এই ধরনের ব্যবসা থেকে অপরাধমূলক কাজ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে আরও বেশি নজরদারি চালানো হবে। রাতে টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গোপন সূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজও জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, বেআইনি মদ ব্যবসা, মাদক পাচার বা অন্য কোনও অপরাধমূলক কাজ বরদাস্ত করা হবে না।

এদিকে ধৃত সঞ্জয় বিশ্বাসকে কৃষ্ণনগর দায়রা আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে পুলিশ আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতের আবেদন জানাতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ধৃতকে জেরা করলেই এই কারবারের পেছনের আসল চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।

ঘটনার পর থেকে জয়ঘাটা ও আশপাশের এলাকায় পুলিশি তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে সচেতনতা। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, প্রশাসন যদি একইভাবে কঠোর অবস্থান বজায় রাখে, তাহলে সীমান্ত এলাকায় বেআইনি ব্যবসা অনেকটাই কমে আসবে।

সব মিলিয়ে কৃষ্ণগঞ্জের জয়ঘাটা এলাকায় পুলিশের এই অভিযান এখন সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি ব্যবসার বিরুদ্ধে বড় বার্তা হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপে আগামী দিনে আরও একাধিক অভিযানে বড়সড় সাফল্য মিলতে পারে বলেই আশাবাদী সাধারণ মানুষ। এখন দেখার তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কেউ পুলিশের জালে ধরা পড়ে কি না।

Preview image