Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

হরিপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২ লক্ষ কোটি বিনিয়োগের প্রস্তাব রিলায়েন্সের

বাংলায় পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে রিলায়েন্স। নতুন বিনিয়োগে রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামো ও পরিষেবায় গতি আসতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুরের হরিপুরকে কেন্দ্র করে। মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হরিপুরে একটি বৃহৎ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় শিল্প ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামো প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির অদূরে অবস্থিত হরিপুর এলাকায় প্রায় ২,০০০ একর জমিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেওয়ার বিষয়ে রাজ্য সরকারও নীতিগত ভাবে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে শিল্প ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে আলোচনায় থাকা হরিপুর আবারও সামনে চলে এসেছে।

রিলায়েন্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে এই প্রকল্পে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এত বড় বিনিয়োগ হলে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, সংশ্লিষ্ট শিল্প, পরিবহণ, নির্মাণ, পরিষেবা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। প্রকল্প ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে প্রকল্পটি এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে একাধিক সরকারি ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন।

হরিপুর কেন গুরুত্বপূর্ণ?

হরিপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। বাম আমলে কাঁথির কাছে এই উপকূলীয় এলাকায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড বা NPCIL রাশিয়ান প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় একটি বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছিল। সেই সময় সেখানে প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায়।

প্রস্তাবিত প্রকল্পকে ঘিরে সেই সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে এলাকার মৎস্যজীবীদের একাংশ প্রকল্পের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন। জমি, জীবিকা, পরিবেশ এবং উপকূলীয় এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে এসেছিল। পরবর্তীতে ২০১১ সালের অগস্টে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্প বাতিল করা হয়।

NPCIL-এর পরিকল্পনার জন্য চিহ্নিত প্রায় ২,০০০ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। ওই এলাকায় আগেই পরিবেশগত সমীক্ষা হয়েছিল বলেও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়। এবার সেই একই এলাকাকে রিলায়েন্স নতুন করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য বিবেচনা করেছে।

তবে আগের প্রকল্প এবং বর্তমান প্রস্তাবকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। প্রযুক্তি, বিনিয়োগের কাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চাহিদা এবং সরকারি নীতির ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে নতুন করে প্রযুক্তিগত, পরিবেশগত এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

রিলায়েন্সের প্রস্তাবে কী রয়েছে?

শুধু হরিপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে রিলায়েন্সের আরও একাধিক বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। নবান্ন সূত্রে খবর, সংস্থাটি রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

এর মধ্যে রয়েছে নিউ টাউনে ডেটা সেন্টার, কলকাতা ও পাহাড়ি এলাকায় হোটেল এবং পর্যটন পরিকাঠামো তৈরি, সুন্দরবন লাগোয়া এলাকায় পর্যটনকেন্দ্রিক বিনিয়োগ এবং কয়লা থেকে গ্যাস তৈরির মতো প্রকল্প। ফলে প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিধি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

বিশেষ করে বাংলার পর্যটন ক্ষেত্রে রিলায়েন্সের সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দিঘা, উত্তরবঙ্গ এবং সুন্দরবন এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল হোটেল ও পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানা যাচ্ছে। বাস্তবে এই পরিকল্পনাগুলি কতটা এগোয়, তা অবশ্য নির্ভর করবে জমি, পরিবেশ, অনুমোদন এবং বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

বিকল্প জমির প্রস্তাব নয়াচরে

হরিপুরকে নিয়ে রিলায়েন্সের আগ্রহ থাকলেও রাজ্য সরকারের তরফে বিকল্প জায়গার কথাও বলা হয়েছে। হলদিয়ার কাছে নয়াচর এলাকায় প্রকল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনার কথা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

তবে রিলায়েন্স হরিপুরেই বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হতে পারে, ওই এলাকায় আগে থেকেই বড় শিল্প ও পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং অতীতে পরিবেশগত সমীক্ষাও করা হয়েছিল। যদিও পুরনো সমীক্ষার উপর নির্ভর করে সরাসরি নতুন প্রকল্প শুরু করা সম্ভব নয়। নতুন প্রকল্পের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও মূল্যায়ন করতে হবে।

রাজ্যের বিদ্যুৎ চাহিদা ও বড় বিনিয়োগ

দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। শিল্পায়ন, নগরায়ণ, ডেটা সেন্টার, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের গুরুত্বও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে দেখা হয়।

রিলায়েন্সের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নতুন রাস্তা, পরিবহণ ব্যবস্থা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহায়ক পরিকাঠামোরও প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে একটি বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, নির্মাণ সংস্থা, পরিবহণ পরিষেবা, হোটেল, খাদ্য পরিষেবা এবং অন্যান্য ছোট ও মাঝারি ব্যবসাও এর সুফল পেতে পারে।

কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত ২ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রকল্প নির্মাণের পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক, ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ এবং বিভিন্ন পরিষেবা কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকল্প চালু হওয়ার পরও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, পরিবহণ, প্রশাসন এবং অন্যান্য পরিষেবায় কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকতে পারে। পাশাপাশি প্রকল্পের আশপাশে ছোট ব্যবসা ও পরিষেবা খাতের বিকাশের সম্ভাবনাও রয়েছে।

news image
আরও খবর

তবে কর্মসংস্থানের প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করবে প্রকল্পের চূড়ান্ত আকার, প্রযুক্তি, নির্মাণ পদ্ধতি এবং পরিচালন কাঠামোর উপর। তাই এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানের সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

পরিবেশ ও স্থানীয় জীবিকা নিয়ে প্রশ্ন

বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবেশগত বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরিপুর একটি উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় স্থানীয় পরিবেশ, মৎস্যজীবীদের জীবিকা, জলসম্পদ এবং সামুদ্রিক পরিবেশের উপর প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা প্রয়োজন হবে।

অতীতেও হরিপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের আন্দোলন হয়েছিল। ফলে নতুন করে প্রকল্পের প্রস্তাব সামনে আসার পর স্থানীয় মানুষের মতামত, জীবিকা এবং পুনর্বাসনের বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, জলসম্পদ সংক্রান্ত পরীক্ষা, উপকূলীয় এলাকার নিয়ম মেনে চলা এবং স্থানীয় জীবিকার উপর প্রভাবের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও পরিবেশ এবং মানুষের জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু রাজ্যের সম্মতিই যথেষ্ট নয়

হরিপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাবে রাজ্য সরকারের নীতিগত সম্মতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্তরে একাধিক অনুমোদন এবং বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া রয়েছে।

প্রকল্পের প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, পরিবেশ, জমি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হয়। পরিবেশগত ছাড়পত্রও গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে নবান্নের সম্মতি পাওয়া গেলেই আগামীকাল থেকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যাবে—বিষয়টি এমন নয়। বরং এটি সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ। এরপর প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, পরিবেশগত সমীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় অনুমোদনের মতো একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

বাংলার পর্যটনেও বড় পরিকল্পনা

রিলায়েন্সের প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগ। উত্তরবঙ্গ, দিঘা এবং সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে বিলাসবহুল হোটেল ও পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানা গিয়েছে।

দিঘা ইতিমধ্যেই রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্র পর্যটন কেন্দ্র। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এই এলাকাগুলিতে উন্নতমানের হোটেল ও পর্যটন পরিকাঠামো তৈরি হলে রাজ্যের পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগ আসতে পারে।

তবে সুন্দরবন ও পাহাড়ের মতো পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল এলাকায় যেকোনও বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পর্যটন পরিকাঠামো তৈরি হলেও তা পরিবেশবান্ধব এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

নিউ টাউনে ডেটা সেন্টার

রিলায়েন্সের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের মধ্যে নিউ টাউনে ডেটা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ক্লাউড পরিষেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্ট্রিমিং এবং বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবার জন্য বড় ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হচ্ছে।

কলকাতার নিউ টাউনে বড় ডেটা সেন্টার তৈরি হলে রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, কুলিং, নেটওয়ার্কিং, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পরিষেবাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হরিপুর থেকে বাংলার শিল্প-মানচিত্রে নতুন বার্তা?

রিলায়েন্সের এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে বড় শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বড় শিল্প বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে জমি, পরিকাঠামো, পরিবেশ এবং অনুমোদনের মতো নানা কারণে অনেক প্রকল্প এগোতে সময় লাগে।

২ লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ সেই জায়গায় বড় মাপের একটি প্রস্তাব। তবে প্রস্তাব এবং বাস্তব বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা এগোয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে হরিপুরে রিলায়েন্সের পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ, পর্যটন, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য শিল্প প্রকল্প মিলিয়ে সংস্থাটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি যথেষ্ট বড়।

এখন নজর থাকবে হরিপুরের জমি, নতুন পরিবেশগত সমীক্ষা, কেন্দ্রীয় অনুমোদন, পারমাণবিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এবং রিলায়েন্সের চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের দিকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি গোটা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প, কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে পারে।

Preview image