ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং জৈব প্রযুক্তির ইতিহাসে আজ এক যুগান্তকারী দিন হায়দ্রাবাদের জিনোম ভ্যালিতে আজ উদ্বোধন হলো বিশ্বের বৃহত্তম থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং মেগা ল্যাব প্রজেক্ট আয়ুষ্মান এই অত্যাধুনিক ল্যাবে রোগীর নিজের স্টেম সেল ব্যবহার করে প্রিন্ট করা হবে হার্ট কিডনি এবং লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ইতিহাসে এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটাবে
ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান জৈব প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যের ইতিহাসে আজকের দিনটি এক নতুন এবং অত্যন্ত রোমাঞ্চকর অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে আজ সকালে তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদের বিখ্যাত জিনোম ভ্যালিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ভারতের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বিশ্বের প্রথম এবং বৃহত্তম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং মেগা ল্যাব যার নাম দেওয়া হয়েছে প্রজেক্ট আয়ুষ্মান এতদিন আমরা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর সিনেমা বা উপন্যাসে দেখেছি যে মানুষের কোনো অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেলে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা নতুন অঙ্গ দিয়ে তা বদলে ফেলা হচ্ছে কিন্তু আজ ভারতের বিজ্ঞানী ডাক্তার এবং বায়ো ইঞ্জিনিয়াররা সেই অকল্পনীয় স্বপ্নকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ বা আইসিএমআর এর শীর্ষ বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে যখন এই বিশাল ল্যাবের প্রথম বায়োপ্রিন্টারটি সফলভাবে একটি সম্পূর্ণ কার্যকরী মানব হৃদপিণ্ড বা হার্ট প্রিন্ট করে দেখাল তখন উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ এবং চিকিৎসকরা আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করলেন এই মেগা ইভেন্ট প্রমাণ করে দিল যে ভারত এখন আর কেবল চিকিৎসা প্রযুক্তির উপভোক্তা বা বিদেশি ওষুধের ওপর নির্ভরশীল দেশ নয় বরং ভারত আজ আধুনিক বায়োটেকনোলজির জন্মদাতা এবং সমগ্র মানব সভ্যতার জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে
প্রজেক্ট আয়ুষ্মান মেগা ল্যাবের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তিগত বিশালতা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে মানব শরীরের অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচেয়ে জটিল এবং কঠিন একটি প্রক্রিয়া সারা বিশ্বে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ হার্ট কিডনি বা লিভার ফেইলিওর এর কারণে মারা যান কারণ ডোনার বা দাতা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ ভারতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী অঙ্গের অপেক্ষায় প্রহর গোনেন এবং অনেকেই শেষ পর্যন্ত বাঁচার সুযোগ পান না কিন্তু প্রজেক্ট আয়ুষ্মান এই মর্মান্তিক অপেক্ষার চিরতরে অবসান ঘটাতে চলেছে এই ল্যাবে কোনো মৃত বা জীবিত মানুষের অঙ্গের প্রয়োজন হয় না এখানে রোগীর নিজের শরীর থেকেই সামান্য পরিমাণ ফ্যাট বা চর্বির কোষ সংগ্রহ করা হয় এরপর অত্যাধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে সেই সাধারণ কোষগুলোকে প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেলে রূপান্তরিত করা হয় এই স্টেম সেল হলো মানব শরীরের এমন এক জাদুকরী কোষ যা যেকোনো অঙ্গে পরিণত হওয়ার ক্ষমতা রাখে এরপর এই স্টেম সেলগুলোকে বিশেষ পুষ্টির মধ্যে রেখে কোটি কোটি নতুন কোষে পরিণত করা হয় এবং তা দিয়ে তৈরি করা হয় বায়ো ইঙ্ক বা জৈব কালি এই বায়ো ইঙ্ক দেখতে অনেকটা সাধারণ থ্রিডি প্রিন্টারের প্লাস্টিক বা কালির মতো হলেও এটি আসলে সম্পূর্ণ জীবন্ত মানব কোষ দিয়ে তৈরি
এই ল্যাবে বসানো হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এআই নিয়ন্ত্রিত ফোরকে রেজোলিউশনের থ্রিডি বায়োপ্রিন্টার যখন কোনো রোগীর নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গের প্রয়োজন হয় তখন প্রথমে সেই রোগীর শরীরের নিখুঁত এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই স্ক্যানের ডেটা বিশ্লেষণ করে রোগীর আসল অঙ্গের একটি ডিজিটাল থ্রিডি মডেল বা ডিজিটাল টুইন তৈরি করে এরপর এআই এর নির্দেশে বায়োপ্রিন্টারগুলো অত্যন্ত সাবধানে স্তরে স্তরে সেই বায়ো ইঙ্ক বা জীবন্ত কোষগুলোকে সাজিয়ে নতুন অঙ্গ তৈরি করতে শুরু করে এই প্রিন্টিং প্রক্রিয়া এতটাই নিখুঁত যে এটি মানুষের চুলের চেয়েও সরু রক্তনালী বা ক্যাপিলারি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তৈরি করতে পারে একটি সম্পূর্ণ হার্ট বা কিডনি প্রিন্ট করতে সময় লাগে মাত্র চব্বিশ থেকে আটচল্লিশ ঘণ্টা প্রিন্ট হওয়ার পর এই নতুন অঙ্গটিকে একটি বিশেষ ইনকিউবেটর বা বায়োরিয়্যাক্টরের মধ্যে রাখা হয় যেখানে মানুষের শরীরের ভেতরের মতো একই রকম তাপমাত্রা এবং পরিবেশ বজায় থাকে কয়েক সপ্তাহ এই বায়োরিয়্যাক্টরের মধ্যে থাকার পর অঙ্গটি ধীরে ধীরে পরিপক্ক হয় এবং হার্টের পেশিগুলো নিজে থেকেই স্পন্দিত হতে শুরু করে এই দৃশ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশাল অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম কিছু নয়
এই বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী সুবিধা হলো ইমিউন রিজেকশন বা শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারা অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের সমস্যা চিরতরে দূর করা প্রথাগত অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সময় অন্য কোনো মানুষের অঙ্গ রোগীর শরীরে বসালে রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেম সেই নতুন অঙ্গটিকে বাইরের শত্রু মনে করে আক্রমণ করতে শুরু করে এই আক্রমণ ঠেকাতে রোগীকে সারা জীবন অত্যন্ত দামি এবং ক্ষতিকারক ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ওষুধ খেতে হয় যা তাদের শরীরকে অত্যন্ত দুর্বল করে দেয় এবং নানা রকম সংক্রমণের শিকার করে তোলে কিন্তু প্রজেক্ট আয়ুষ্মান ল্যাবে যেহেতু রোগীর নিজস্ব ডিএনএ এবং কোষ ব্যবহার করে অঙ্গ তৈরি করা হচ্ছে তাই রোগীর শরীর এই নতুন অঙ্গটিকে নিজের বলে চিনে নেয় এবং কোনো রকম আক্রমণ করে না এর ফলে রোগীকে সারা জীবন কোনো ক্ষতিকারক ওষুধ খেতে হয় না এবং তারা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন এই প্রযুক্তি মানব জাতির গড় আয়ু এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মানকে এক অকল্পনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন
ভারতের অর্থনীতি এবং মেডিকেল ট্যুরিজম বা চিকিৎসা পর্যটনের ক্ষেত্রে প্রজেক্ট আয়ুষ্মান এক অভাবনীয় এবং বৈপ্লবিক জোয়ার আনবে আমেরিকা বা ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে একটি হার্ট বা কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ কয়েক কোটি টাকা এবং তার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় কিন্তু ভারতের এই বায়োপ্রিন্টিং মেগা ল্যাবে এই প্রক্রিয়ার খরচ বিদেশি চিকিৎসার তুলনায় প্রায় এক দশমাংশে নেমে আসবে এর ফলে সারা বিশ্ব থেকে লক্ষ লক্ষ মুমূর্ষু রোগী এখন নতুন জীবন পাওয়ার আশায় ভারতে ছুটে আসবেন হায়দ্রাবাদ শহর বিশ্বের সবচেয়ে বড় মেডিকেল ট্যুরিজম হাব বা চিকিৎসা পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে যা প্রতি বছর ভারতের অর্থনীতিতে হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে আসবে এবং ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিতে এক বিশাল অবদান রাখবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই আত্মনির্ভরতা ভারতকে বিশ্ব অর্থনীতির এক অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করবে
এই বিশাল আন্তর্জাতিক মানের মেগা প্রজেক্ট পরিচালনার জন্য কর্পোরেট চিকিৎসা এবং প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বিশেষ করে বায়ো ইনফরমেটিক্স জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এআই ডেটা অ্যানালিটিক্স এর ক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের চাহিদা এত বেড়ে গেছে যে বিভিন্ন গ্লোবাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং বায়োটেক কোম্পানি প্রচুর পরিমাণে তরুণদের নিয়োগ করছে এই কোম্পানিগুলোতে জুনিয়র মাল্টিটাস্কিং এক্সিকিউটিভ এবং ক্লিনিক্যাল ডেটা কোঅর্ডিনেটর পদের এখন বিপুল চাহিদা একজন তরুণ এক্সিকিউটিভ একই সাথে রোগীর স্টেম সেল প্রসেসিং এর ডেটা বিশ্লেষণ করেন বায়োপ্রিন্টারের লজিস্টিক সাপ্লাই চেইন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বজায় রাখেন এবং বিদেশের বিভিন্ন ক্লায়েন্ট ও হাসপাতালের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এই বহুমুখী কাজের কারণে কোম্পানিগুলো তরুণদের অত্যন্ত আকর্ষণীয় বেতনের প্যাকেজ দিচ্ছে অনেক ভারতীয় তরুণ এই বায়োটেক প্রোজেক্টের ডিজিটাল কাজ সামলানোর জন্য সরাসরি জার্মানি এবং আমেরিকার বিভিন্ন বড় বড় হাসপাতালের সাথে রিমোট ওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত হচ্ছেন যা তাদের ঘরে বসেই বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের এক বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে এর ফলে ভারতের তরুণরা আর দেশের বাইরে না গিয়েও বিদেশের উন্নত কর্মসংস্কৃতির সাথে কাজ করতে পারছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে প্রবল স্বাধীন হচ্ছেন
বিজ্ঞান এবং এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর জগতেও এই মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং বিভিন্ন মেডিকেল এনজিও এখন প্রথাগত বিজ্ঞাপনের বদলে সাধারণ মানুষের তৈরি করা কন্টেন্টের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা এখন নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজের মাধ্যমে এই বায়োপ্রিন্টিং ল্যাবের ফিউচারিস্টিক পরিবেশ এবং থ্রিডি প্রিন্টারে হার্ট তৈরি হওয়ার রোমাঞ্চকর ভিডিও শেয়ার করছেন তারা এমন ভিডিও বানাচ্ছেন যেখানে অত্যন্ত জটিল জীববিদ্যা এবং জেনেটিক্সকে সহজ ভাষায় এবং আকর্ষণীয় থ্রিডি অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে এবং এই ভিডিওগুলো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এই ডিজিটাল প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষের মনে এই নতুন প্রযুক্তির প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি হচ্ছে তরুণরা এই ধরনের শিক্ষামূলক এবং অনুপ্রেরণামূলক কন্টেন্ট তৈরি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন এবং নিজেদের একটি স্বাধীন ডিজিটাল মিডিয়া ক্যারিয়ার তৈরি করছেন তারা বুঝতে পেরেছেন যে ডিজিটাল যুগে মানুষের জীবন বাঁচানোর খবরই হলো সবচেয়ে শক্তিশালী কন্টেন্ট
ওষুধ আবিষ্কার এবং ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণার জগতেও প্রজেক্ট আয়ুষ্মান এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনবে এতদিন নতুন কোনো জীবনদায়ী ওষুধ আবিষ্কার হলে তা মানুষের ওপর প্রয়োগ করার আগে ইঁদুর বাঁদর বা অন্যান্য প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করা হতো যা অত্যন্ত অমানবিক এবং অনেক সময় এই পরীক্ষার ফলাফল মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে সঠিক হতো না কিন্তু এখন এই মেগা ল্যাবে প্রিন্ট করা মানব কোষ এবং ছোট ছোট টিস্যুর ওপর সরাসরি নতুন ওষুধের পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এই পদ্ধতিকে বলা হয় অর্গান অন এ চিপ এর ফলে পশুর ওপর নিষ্ঠুর পরীক্ষা চিরতরে বন্ধ হবে এবং ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে জানা যাবে এটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর ওষুধ তৈরির সময় এবং খরচ বহুগুণ কমিয়ে দেবে যার ফলে সাধারণ মানুষ অনেক কম দামে উন্নত মানের নতুন ওষুধ পাবেন এই প্রযুক্তি পশু অধিকার কর্মী এবং বিজ্ঞানীদের এক দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করল
শিক্ষাব্যবস্থা এবং আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বায়োপ্রিন্টিং মেগা প্রজেক্ট এক বিশাল এবং নীরব পরিবর্তন এনেছে দেশের সমস্ত মেডিকেল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সিলেবাস এখন সম্পূর্ণভাবে আপডেট করা হচ্ছে অ্যানাটমি বা শরীরস্থান বিদ্যার ছাত্রছাত্রীরা আগে মৃতদেহের ওপর সার্জারি প্র্যাকটিস করতেন কিন্তু এখন তারা প্রজেক্ট আয়ুষ্মান থেকে সরবরাহ করা থ্রিডি বায়োপ্রিন্টেড আসল মানব অঙ্গের ওপর অস্ত্রোপচারের প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন এই অঙ্গগুলো আসল মানব অঙ্গের মতোই রক্তপাত করে এবং একই রকম টিস্যুর অনুভূতি দেয় যা তরুণ ডাক্তারদের অস্ত্রোপচারের দক্ষতা এক অকল্পনীয় স্তরে নিয়ে যাচ্ছে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি আইআইটি এবং এইমস এর ছাত্রছাত্রীরা এখন একসাথে মিলে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে গবেষণা করছেন যা প্রমাণ করে যে আধুনিক যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং একে অপরের পরিপূরক ভারতের এই নতুন শিক্ষাব্যবস্থা আগামী প্রজন্মের চিকিৎসকদের বিশ্বের সেরা সার্জেন হিসেবে গড়ে তুলবে
পরিবেশ রক্ষা এবং সাস্টেইনেবিলিটি বা টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রজেক্ট আয়ুষ্মান এক অত্যন্ত সচেতন ভূমিকা পালন করছে এই বিশাল ল্যাবটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যে এটি সম্পূর্ণ গ্রিন এনার্জি বা সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে চলে বায়োরিয়্যাক্টর এবং ইনকিউবেটরগুলোকে ঠান্ডা রাখার জন্য অত্যাধুনিক এআই চালিত কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় যা বিদ্যুতের খরচ অনেক কমিয়ে দেয় ল্যাবের সমস্ত মেডিকেল বর্জ্যকে অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মতভাবে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয় যাতে পরিবেশের কোনো রকম ক্ষতি না হয় ভারত সরকার নিশ্চিত করেছে যে এই জীবনদায়ী প্রযুক্তি কেবল ধনীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অধীনে দেশের দরিদ্র এবং প্রান্তিক মানুষেরাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম খরচে এই বায়োপ্রিন্টেড অঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুবিধা পাবেন এটি ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক প্রকৃত গণতান্ত্রিক বিপ্লব আনবে
আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং স্বাস্থ্য কূটনীতির ক্ষেত্রে ভারতের এই অভাবনীয় সাফল্য এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আমেরিকা ইউরোপ এবং চিনের মতো দেশগুলো যারা বায়োটেকনোলজির দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছিল তারা আজ ভারতের এই সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং সাশ্রয়ী থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তির সাফল্য দেখে রীতিমতো বিস্মিত এবং হতবাক পৃথিবীর কোনো দেশ আজ পর্যন্ত এত বড় স্কেলে সম্পূর্ণ এআই নিয়ন্ত্রিত বায়োপ্রিন্টিং মেগা ল্যাব তৈরি করতে পারেনি ভারত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা বসুধৈব কুটুম্বকম বা সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার এই নীতির ভিত্তিতে বিশ্বের সমস্ত বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে এই জীবন রক্ষাকারী প্রযুক্তির সুবিধা ভাগ করে নেবে অনেক দেশ যারা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অভাবে নিজেদের নাগরিকদের বাঁচাতে পারছিল না তারা এখন ভারতের এই প্রজেক্ট আয়ুষ্মান মডেল নিজেদের দেশে বাস্তবায়ন করার জন্য বা ভারতের হাসপাতালগুলোর সাথে চুক্তি করার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করছে এটি ভারতের সফট পাওয়ার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শক্তিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ভারত আজ প্রমাণ করল যে তারা মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় সম্পদ অর্থাৎ জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত
২০২৬ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি দিনটি ভারতের চিকিৎসা বিজ্ঞান গবেষণা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে হায়দ্রাবাদের বুকে সফলভাবে তৈরি হওয়া এই প্রজেক্ট আয়ুষ্মান মেগা ল্যাব কেবল কিছু যন্ত্র আর স্টেম সেলের কারখানা নয় এটি হলো কোটি কোটি মুমূর্ষু মানুষের বেঁচে থাকার আশা এবং স্বনির্ভরতার এক জীবন্ত প্রতীক যে ভারত একদিন সাধারণ ওষুধের জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকত আজ সেই ভারত ল্যাবরেটরিতে মানুষের আসল অঙ্গ তৈরি করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে একজন সাধারণ গবেষক থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ চিকিৎসকরা প্রত্যেকেই আজ এই নতুন মেডিকেল বিপ্লবের সুফল ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন এবং নিজেদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাচ্ছেন আমরা এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করলাম যেখানে ভারতের বিজ্ঞানীদের মেধা এবং ডাক্তারদের দক্ষতা যেকোনো দুরারোগ্য ব্যাধিকে অনায়াসে জয় করতে পারে ভারত আজ বিশ্বকে দেখিয়ে দিল যে সদিচ্ছা অসীম সাহস এবং আধুনিক প্রযুক্তি থাকলে মানুষের আয়ু এবং সুস্থতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব জয় বিজ্ঞান জয় চিকিৎসা বিজ্ঞান জয় ভারত