বিরাট কোহলি নিজেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁর মতে, বিভিন্ন সময়ে একাধিক কিংবদন্তি ক্রিকেটার নিজেদের সময়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন।
বিরাট কোহলির ক্রিকেটজীবন মানেই অসংখ্য রেকর্ড, দুর্দান্ত ইনিংস, কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ভারতীয় ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় দুই দশকের পথচলায় তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস। তাঁর পরিসংখ্যান, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এত সাফল্যের পরেও নিজের সম্পর্কে কোহলির মূল্যায়ন যথেষ্ট সংযত।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বিরাট কোহলি জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনে করেন না। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই নয়, কোনও নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে সব প্রজন্মের মধ্যে সর্বকালের সেরা বলে বেছে নেওয়ার ধারণা নিয়েও তাঁর আপত্তি রয়েছে। কোহলির যুক্তি, ক্রিকেটের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অসাধারণ খেলোয়াড় এসেছেন এবং তাঁদের সময়, পরিস্থিতি ও ক্রিকেটের পরিবেশ এক ছিল না। তাই প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সরাসরি তুলনা করা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
কোহলির মতে, শুধুমাত্র পরিসংখ্যান দিয়ে একজন ক্রিকেটারের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। একজন খেলোয়াড় তাঁর দলের জন্য কতটা প্রভাব তৈরি করতে পেরেছেন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন যুগে ক্রিকেটের নিয়ম, প্রতিযোগিতার ধরন, মাঠের পরিস্থিতি, প্রতিপক্ষ এবং খেলার চাপের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই একটি নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সব ক্রিকেটারকে একই মাপকাঠিতে বিচার করা সম্ভব নয়—এমনটাই তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়।
নিজের ক্রিকেটজীবন নিয়েও যথেষ্ট সন্তুষ্ট বিরাট কোহলি। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সৌভাগ্য হিসেবে দেখছেন। প্রায় ১৯ বছরের ক্রিকেটজীবনের পরেও দেশের হয়ে মাঠে নামার অনুভূতি তাঁর কাছে এখনও বিশেষ। ভারতীয় দলের হয়ে খেলা যে তাঁর কাছে সম্মানের বিষয়, সেটিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক।
কোহলির বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলতে গেলে অনুপ্রেরণা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন ক্রিকেটার যতদিন নিজের খেলাকে উপভোগ করতে পারেন এবং নিজের ফিটনেস, অভিজ্ঞতা ও ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন, ততদিন তাঁর পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতা থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের থেকেও দলের সাফল্যকে তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।
কোহলির ক্রিকেট দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দলের সাফল্যে অবদান রাখা। ব্যক্তিগত রেকর্ড বা রান করার পাশাপাশি দলের কাঙ্ক্ষিত ফলের দিকে এগিয়ে যাওয়াকেই তিনি নিজের মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, একজন ক্রিকেটারের সাফল্য তখনই আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তাঁর পারফরম্যান্স দলের কাজে আসে।
দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনে বিরাট কোহলি অসংখ্য সাফল্যের সাক্ষী হয়েছেন। একই সঙ্গে কিছু কঠিন পরাজয়েরও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার এবং ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে পরাজয় উল্লেখযোগ্য। তবে কোহলির কাছে এই দুই হারের মধ্যে ২০১৯ সালের সেমিফাইনালের পরাজয়ই বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
২০১৯ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপে ভারত দুর্দান্তভাবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে দুই দিনে গড়ায়। প্রথম দিন ভারতীয় দলের সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ভারতের ব্যাটিংও সম্পূর্ণ হতে পারেনি। পরের দিন ম্যাচের বাকি অংশ অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ICC-র ঐতিহাসিক বিবরণেও ২০১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের ফাইনালে ওঠার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
সেই ম্যাচের পরাজয় এখনও কোহলির মনে গভীর ছাপ রেখে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ২০১৯ সালের সেমিফাইনালের হার তিনি সহজে মেনে নিতে পারেননি। ম্যাচের পরিস্থিতি, বৃষ্টির কারণে খেলার পরিবর্তিত পরিবেশ এবং পরের দিন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের সুযোগ—সবকিছু মিলিয়ে সেই পরাজয় তাঁর কাছে অত্যন্ত হতাশার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
২০১৫ সালের সেমিফাইনালের সঙ্গে ২০১৯ সালের সেমিফাইনালের পার্থক্যও তুলে ধরেছেন কোহলি। ২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ভারতের কাছে প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল। অস্ট্রেলিয়া বড় রান করলে ম্যাচ কঠিন হয়ে যেতে পারে—এমন পরিস্থিতির জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও সেই পরাজয়কে অন্যভাবে দেখেন কোহলি।
কিন্তু ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি ছিল আলাদা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের ছন্দ বদলে যায়। ভারতের ব্যাটিংয়ের আগে এবং পরে আবহাওয়ার পরিস্থিতিতেও পার্থক্য তৈরি হয়। কোহলির কাছে এই পরিস্থিতিই সেই পরাজয়কে আরও কঠিন করে তুলেছিল।
২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পরাজয়ের মানসিক প্রভাবও কোহলি তাঁর বক্তব্যে তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেই হারের পর প্রায় দুই মাস তিনি খুব হতাশ ছিলেন। অর্থাৎ, একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচের ফল একজন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটারের উপর কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁর কথায় সেটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে ২০২৩ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের পরাজয়কে সবচেয়ে কষ্টদায়ক হার হিসেবে দেখছেন না কোহলি। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ভারত দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালে পৌঁছেছিল। কিন্তু ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হয়। সেই ম্যাচটিও ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে অত্যন্ত হতাশার হলেও কোহলির ব্যক্তিগত অনুভূতিতে ২০১৯ সালের সেমিফাইনাল এখনও বেশি জায়গা করে রয়েছে।
বিরাট কোহলির এই মন্তব্য তাঁর ক্রিকেটজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরে। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে থাকার পরেও তিনি নিজের অর্জনকে সামনে রেখে নিজেকে সর্বকালের সেরা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন না। বরং ক্রিকেটের ইতিহাসে বিভিন্ন প্রজন্মের অসাধারণ খেলোয়াড়দের সম্মান করার দিকেই জোর দিয়েছেন।
ক্রিকেটে ‘সর্বকালের সেরা’ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। বিভিন্ন প্রজন্মে একাধিক কিংবদন্তি ক্রিকেটার নিজেদের সময়ের ক্রিকেটকে প্রভাবিত করেছেন। কেউ ব্যাট হাতে, কেউ বল হাতে, কেউ অধিনায়ক হিসেবে, আবার কেউ দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাই কোহলির বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে সময়ের পার্থক্য এবং ক্রিকেটারদের অবদানের বৈচিত্র্যের বিষয়টি।
কোহলি মনে করেন, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে ক্রিকেটারের প্রভাব বোঝা যায় না। একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত রান, শতরান, গড় বা অন্যান্য রেকর্ড অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দলের কঠিন সময়ে তাঁর ভূমিকা, ম্যাচের ফল পরিবর্তনে তাঁর অবদান এবং দলের উপর তাঁর প্রভাবও মূল্যায়নের অংশ হওয়া উচিত।
নিজের ক্ষেত্রেও কোহলি একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করেন। তাঁর ক্রিকেটজীবনে বহু ব্যক্তিগত রেকর্ড রয়েছে। ওয়ান ডে ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা, রান সংগ্রহ এবং শতরানের সংখ্যা তাঁকে আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত ব্যাটার করে তুলেছে। কিন্তু তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পাশাপাশি দলের সাফল্যে তাঁর অবদানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক আরও জানিয়েছেন, এখনও দেশের হয়ে খেলতে নামলে তাঁর মধ্যে রোমাঞ্চ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার পরেও জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে নামার অনুভূতি তাঁর কাছে বিশেষ। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাকে তিনি সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখেন।
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ক্রিকেটের প্রতি তাঁর আগ্রহ এখনও ব্যক্তিগত রেকর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দলের জন্য অবদান রাখা এবং ইতিবাচক পরিবেশের মধ্যে খেলা চালিয়ে যাওয়াই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফিটনেস, অভিজ্ঞতা, ক্রিকেট সম্পর্কে বোঝাপড়া এবং অনুপ্রেরণা—এই বিষয়গুলিকে তিনি দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখেছেন।
বিরাট কোহলির ক্রিকেটজীবনে অধিনায়কত্বও একটি বড় অধ্যায়। ভারতের অধিনায়ক হিসেবে তিনি বিভিন্ন ফরম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বের সময় ভারতীয় দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বড় টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পরাজয় সেই সময়ের ভারতীয় দলের জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা ছিল। গ্রুপ পর্বে ভালো পারফরম্যান্সের পরও নকআউট ম্যাচে পরাজয়ের কারণে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়। এই ধরনের ম্যাচে একটি ছোট ভুল, পরিস্থিতির পরিবর্তন বা প্রতিপক্ষের ভালো পারফরম্যান্স ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে।
কোহলির সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাই শুধু একটি পুরনো ম্যাচের স্মৃতি নয়, তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের অভিজ্ঞতাও প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নিজের সাফল্যকে যেমন অতিরিক্তভাবে সামনে আনেননি, তেমনই একটি কঠিন পরাজয়ের স্মৃতিকেও লুকাননি।
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বিরাট কোহলির এই বক্তব্য বিশেষ আগ্রহের কারণ হতে পারে। কারণ একজন ক্রিকেটার যাঁকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘সর্বকালের সেরা’ হওয়ার বিতর্ক চলে, সেই ক্রিকেটার নিজেই যখন এমন তুলনা থেকে দূরে থাকার কথা বলেন, তখন বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে।
তবে কোহলির বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখা উচিত। সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার কে—এই প্রশ্নের কোনও একক বা সর্বসম্মত উত্তর নেই। বিভিন্ন ক্রিকেটপ্রেমী, বিশেষজ্ঞ এবং প্রজন্মের দর্শকের মূল্যায়ন আলাদা হতে পারে। কোহলির বক্তব্যের মূল বিষয় হল, ক্রিকেটের বিভিন্ন যুগের খেলোয়াড়দের সরাসরি তুলনা করার সীমাবদ্ধতা এবং দলের জন্য একজন ক্রিকেটারের প্রভাবের গুরুত্ব।
১৯ বছরের ক্রিকেটজীবনে কোহলি নিজেও একাধিক প্রজন্মের ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁর সময়ের ক্রিকেটে প্রযুক্তি, ফিটনেস, বিশ্লেষণ এবং প্রস্তুতির গুরুত্ব বেড়েছে। আগের প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আবার ভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলেছেন। তাই সময়ের পার্থক্য ক্রিকেটারদের তুলনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিরাট কোহলির বক্তব্যের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল তাঁর ক্রিকেট উপভোগের কথা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পরেও তিনি জানিয়েছেন, ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাওয়াকে তিনি সৌভাগ্য হিসেবে দেখেন। দেশের হয়ে মাঠে নামার অনুভূতি এখনও তাঁকে উত্তেজিত করে। এটি তাঁর ক্রিকেটের প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আগ্রহের কথাই তুলে ধরে।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল তাঁর কাছে যে বিশেষভাবে যন্ত্রণাদায়ক, সেই তথ্যও এই সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত অংশ। ভারতের ক্রিকেট ইতিহাসে ওই ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে দুই দিনে হওয়া, নিউজিল্যান্ডের জয় এবং ভারতের বিশ্বকাপ থেকে বিদায়—সব মিলিয়ে একটি স্মরণীয় ম্যাচ হয়ে রয়েছে।
বিরাট কোহলির বক্তব্যে ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি ক্রিকেটের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে দলের সাফল্য, দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে খেলা এবং দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার গুরুত্বকে সামনে রেখেছেন।
এই সাক্ষাৎকারের ফলে আবারও আলোচনায় এসেছে ‘সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার’ বিতর্ক, বিরাট কোহলির দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এবং ২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের সেই হতাশাজনক রাত। তবে কোহলির নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও একটি নামকে সব প্রজন্মের ক্রিকেটারের উপরে বসানোর চেয়ে প্রত্যেক যুগের খেলোয়াড়দের অবদানকে আলাদা প্রেক্ষাপটে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত।
সব মিলিয়ে, বিরাট কোহলির বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে—তিনি নিজেকে সর্বকালের সেরা মনে করেন না, ক্রিকেটের বিভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের তুলনা করার বিষয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে এবং ২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার এখনও তাঁর ক্রিকেটজীবনের অন্যতম কষ্টের স্মৃতি।
দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের অসংখ্য সাফল্য, রেকর্ড এবং স্মরণীয় ইনিংসের পরেও কোহলির কাছে দলের সাফল্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হয়ে খেলাকে তিনি এখনও সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখেন। আর সেই কারণেই হয়তো পুরনো কোনও পরাজয়ের স্মৃতি এখনও তাঁর মনে এতটা গভীরভাবে রয়ে গিয়েছে।
বিরাট কোহলির এই মন্তব্য শুধু তাঁর নিজের ক্রিকেটজীবনের একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং ক্রিকেটের ইতিহাসকে কীভাবে দেখা উচিত, সেই বিষয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি সামনে আনে। ক্রিকেটে পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ হলেও খেলোয়াড়ের প্রভাব, সময়ের প্রেক্ষাপট, দলের প্রয়োজন এবং ম্যাচের পরিস্থিতিও সমানভাবে আলোচনার দাবি রাখে।
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল তাই কোহলির কাছে শুধু একটি হার নয়; সেটি তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের এমন একটি অধ্যায়, যার স্মৃতি এখনও তাঁর মনে গভীরভাবে রয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, নিজের সম্পর্কে তাঁর বিনয়ী অবস্থানও এই সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।