Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

জিতিনের গোলে ধরাশায়ী মোহনবাগান, বড় ধাক্কা খেল সবুজ-মেরুন

আইএফএ শিল্ডে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে ৭ গোল দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে সেই নর্থইস্টই এবার চমকে দিল মোহনবাগানকে, জিতিনের গোলে বড় ধাক্কা খেল সবুজ-মেরুন শিবির।

ISL 2026-27: নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হার মোহনবাগানের, শেষ মুহূর্তে জিতিন এমএসের গোল

আইএফএ শিল্ড জয়ের আনন্দ কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা খেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ০-১ গোলে হারতে হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জিতিন এমএসের করা গোলেই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। অন্যদিকে, একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হল মোহনবাগানকে। দলের হারে সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চাইলেন কোচ পানোস।

কয়েক দিন আগেই আইএফএ শিল্ডে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে শিরোপা জিতেছিল মোহনবাগান। অন্যদিকে, সেই প্রতিযোগিতায় নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সাত গোল করে নিজেদের আক্রমণাত্মক শক্তির পরিচয় দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ফুটবলে অতীতের ফলাফল সব সময় ভবিষ্যতের ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে না। আইএসএলের প্রথম ম্যাচে সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। প্রত্যাশার চাপ নিয়ে মাঠে নামা মোহনবাগানকে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হল জিতিন এমএসের গোলে।

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট মোহনবাগানের

আইএফএ শিল্ড জয়ের পর আইএসএল অভিযানও জয় দিয়ে শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন মোহনবাগান সমর্থকরা। দলের আক্রমণভাগ, মাঝমাঠ এবং অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে প্রত্যাশাও ছিল যথেষ্ট। কিন্তু গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় মোহনবাগানকে। দুই উইং ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেন ছাংতে, ড্র্যাজিচরা। দলের আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উইং প্লে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। পাশাপাশি অভিষেক টেকচামকেও বারবার ওভারল্যাপ করে আক্রমণে উঠে আসতে দেখা যায়।

তবে আক্রমণ তৈরি করলেই যে গোল পাওয়া যায়, এই ম্যাচে তার প্রমাণ মিলল না। মোহনবাগানের ফুটবলাররা বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে ফেললেও শেষ মুহূর্তের পাস এবং ফিনিশিংয়ে ঘাটতি থেকে যায়। গোলের সামনে প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলল।

ম্যাচের শুরুতেই ক্রসবারে নর্থইস্টের শট

গুয়াহাটির মাঠে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই উত্তেজনা তৈরি হয়। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের লি আরউইনের ভলি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বল জালে জড়ালে শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত নর্থইস্ট। কিন্তু ক্রসবারে বল প্রতিহত হওয়ায় রক্ষা পায় মোহনবাগান।

ফুটবলে ম্যাচের শুরুতে পোস্ট বা ক্রসবারে বল লাগাকে অনেক সময় অশনি সংকেত হিসেবে দেখা হয়। এই ঘটনাও মোহনবাগান সমর্থকদের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে সেই মুহূর্তে কেউই হয়তো ভাবেননি, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থাকার পর হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হবে তাঁদের প্রিয় দলকে।

প্রথম দিকের সেই সুযোগের পর মোহনবাগান নিজেদের আক্রমণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। উইং দিয়ে দ্রুত আক্রমণ তুলে এনে নর্থইস্টের রক্ষণ ভাঙার পরিকল্পনা নেয় দল। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে বলকে জালে পাঠানোর ক্ষেত্রে সফল হতে পারেননি সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা।

উইং দিয়ে আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই

ম্যাচের প্রথমার্ধে মোহনবাগানের আক্রমণের অন্যতম ভরসা ছিল দুই উইং। ছাংতে ও ড্র্যাজিচের গতিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে বল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলে। অভিষেক টেকচামও আক্রমণে উঠে এসে দলকে সাহায্য করেন।

কিন্তু আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরেও গোলের দেখা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে সমস্যায় পড়ে মোহনবাগান। শেষ পাসের ক্ষেত্রে অসংগতি, মাঝমাঠে ভুল বোঝাবুঝি এবং মিসপাস দলের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। ফলে যে চাপ প্রথমদিকে নর্থইস্টের রক্ষণে তৈরি হয়েছিল, তা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই মোহনবাগানের আক্রমণে ধার কমতে দেখা যায়। সাহালদের কাছ থেকে যে সৃজনশীল ফুটবলের প্রত্যাশা ছিল, তা পুরোপুরি দেখা যায়নি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল সরবরাহের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতার অভাব ছিল স্পষ্ট।

নর্থইস্ট ইউনাইটেডও অবশ্য পুরো ম্যাচে খুব বেশি বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের একটা বড় সময় দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলতে থাকে। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর প্রশ্নে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যায় নর্থইস্ট।

আলেদাইনকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা পানোসের

নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মরক্কান গোলমেশিন আলেদাইনকে আটকানোর জন্য মোহনবাগান কোচ পানোস বিশেষ কৌশল নেন। তাঁকে সামলানোর দায়িত্বে জেলকোভিচকে অনভ্যস্ত রাইট উইংয়ের ভূমিকায় খেলানো হয়।

ম্যাচের ১৫ মিনিটে আলেদাইন একবার আলবার্তোকে টপকে বেরিয়ে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেন। তবে সেই মুহূর্তে দারুণ দক্ষতায় শট আটকে দেন আলবার্তো। মোহনবাগানের রক্ষণকে বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচান তিনি।

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নর্থইস্টের আক্রমণ সামলাতে মোহনবাগানকে সতর্ক থাকতে হচ্ছিল। তবে প্রতিপক্ষকে আটকানোর পাশাপাশি নিজেদের আক্রমণকে কার্যকর করে তোলাও জরুরি ছিল। সেই কাজেই বারবার ব্যর্থ হয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্তন এনেও লাভ হল না

প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দলকে আরও আক্রমণাত্মক করে তোলার চেষ্টা করেন কোচ পানোস। পরিস্থিতি বুঝে মিগুয়েল, মনবীর এবং লিস্টনদের মাঠে নামানো হয়। দলের আক্রমণে গতি বাড়ানো এবং গোলের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কিন্তু পরিবর্তন করেও মোহনবাগানের সমস্যার সমাধান হয়নি। আক্রমণে কিছুটা তৎপরতা দেখা গেলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা থেকেই যায়। ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলির সদ্ব্যবহার করতে পারেননি ফুটবলাররা।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটে লি আরউইনের কাছে গোল করার অত্যন্ত সহজ সুযোগ আসে। সাহাল প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আরউইনের উদ্দেশে পাস বাড়ান। পরিস্থিতি এমন ছিল যে, গোল করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফাঁকা গোলেও বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন লি।

এই সুযোগ নষ্ট মোহনবাগানের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় গোল পেলে ম্যাচের ছবিটা অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় নর্থইস্টের বিরুদ্ধে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে দল।

ম্যাকলারেনের অভাব অনুভব করল মোহনবাগান?

ম্যাচে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও তা কাজে লাগাতে না পারায় আক্রমণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে লি আরউইনের সহজ সুযোগ নষ্ট করার ঘটনা সমর্থকদের হতাশ করে। দলের আক্রমণে কার্যকর ফিনিশারের প্রয়োজনীয়তা এই ম্যাচে আরও একবার সামনে এল।

এই পরিস্থিতিতে জেমি ম্যাকলারেনের অনুপস্থিতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁকে দ্রুত দলে প্রয়োজন বলে মনে হওয়ার অন্যতম কারণ হল গোলের সুযোগকে গোলে পরিণত করার ক্ষমতা। তবে একজন ফুটবলারের উপস্থিতি থাকলেই যে ম্যাচের ফল নিশ্চিতভাবে বদলে যেত, তা বলা যায় না।

news image
আরও খবর

দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে নামা মিগুয়েল ও লিস্টনও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে আক্রমণভাগে প্রয়োজনীয় ধার তৈরি হয়নি। অন্যদিকে, সুহেলের একটি শট ক্রসবারে লেগে বাইরে চলে যায়। সেটিও মোহনবাগানের জন্য হতাশার মুহূর্ত হয়ে থাকে।

সব মিলিয়ে, সুযোগ তৈরি করা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, এই ম্যাচে তারই মূল্য দিতে হয়েছে পানোসের দলকে।

সংযোজিত সময়ে জিতিন এমএসের জয়সূচক গোল

ম্যাচের নির্ধারিত সময় প্রায় শেষের দিকে। দুই দলই তখন গোলের খোঁজে। এমন পরিস্থিতিতে সংযোজিত সময়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন নর্থইস্ট ইউনাইটেডের জিতিন এমএস।

গোলের আগে নর্থইস্টের হয়ে মোয়ানোর শট মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশালের হাতে লেগে পোস্টে প্রতিহত হয়। ফিরতি বল পেয়ে যান জিতিন। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি তিনি। বল জালে জড়িয়ে দেন নর্থইস্টের এই ফুটবলার। ম্যাচের ফল দাঁড়ায় ১-০।

শেষ মুহূর্তে গোল হজম করার পর মোহনবাগানের পক্ষে আর ম্যাচে ফিরে আসা সম্ভব হয়নি। যে ম্যাচে গোলের সুযোগ নষ্ট করে বারবার পিছিয়ে পড়ছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড, সেই ম্যাচেই শেষ পর্যন্ত নর্থইস্টের এক গোল জয় নিশ্চিত করে দেয়।

জিতিন এমএসের এই গোল নর্থইস্ট ইউনাইটেডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, মোহনবাগানের কাছে এটি ছিল আইএসএল অভিযান শুরুর বড় ধাক্কা।

হারের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা পানোসের

ম্যাচ শেষে মোহনবাগান কোচ পানোসের হতাশা গোপন থাকেনি। তাঁর মতে, গোলের সুযোগ নষ্ট করাই হারের অন্যতম প্রধান কারণ। ম্যাচে দল যে সুযোগ তৈরি করেছিল, সেগুলি কাজে লাগাতে পারলে ফল অন্যরকম হতে পারত।

সমর্থকদের উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে পানোস বলেন, ‘সুযোগ নষ্টেই হার। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি।’

কোচের এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, দলের পারফরম্যান্স এবং ফলাফল নিয়ে তিনি কতটা হতাশ। আইএফএ শিল্ড জয়ের পর যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মোহনবাগান আইএসএলে নেমেছিল, প্রথম ম্যাচের হার সেই আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিল।

তবে মরশুমের শুরুতেই একটি হার মানেই যে পুরো অভিযান ব্যর্থ, এমনটা ভাবার কারণ নেই। সামনে আরও ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচগুলিতে ভুল শুধরে ফিরে আসার সুযোগ থাকবে মোহনবাগানের কাছে। বিশেষ করে ফিনিশিং, মাঝমাঠের পাস এবং আক্রমণের সমন্বয়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

টেলিভিশনে ম্যাচ সম্প্রচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ অনুরাগীরা

মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আইএসএলকে ঘিরে আরও একটি বিষয় নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়। শীর্ষ লিগের টেলিভিশন সম্প্রচার নিয়ে জট অব্যাহত থাকায় দর্শকদের সমস্যায় পড়তে হয়। অ্যাপে ম্যাচ দেখা গেলেও টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়নি।

ফলে যাঁরা টিভিতে বসে প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই হতাশ হন। জনপ্রিয় ফুটবল লিগের ম্যাচ দেখার ক্ষেত্রে সম্প্রচারের সমস্যা দর্শকদের অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলে। মোহনবাগান ও নর্থইস্টের ম্যাচ ঘিরেও সেই অসন্তোষ সামনে আসে।

মোহনবাগানের সামনে এখন কী চ্যালেঞ্জ?

আইএসএলের প্রথম ম্যাচের হার মোহনবাগানের জন্য সতর্কবার্তা। আইএফএ শিল্ডে সাফল্য পাওয়ার পর নতুন প্রতিযোগিতায় একই ধরনের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার পাশাপাশি মাঠে কার্যকর ফুটবল খেলাও জরুরি।

প্রথমত, গোলের সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হবে। লি আরউইনের মতো ফুটবলার সহজ সুযোগ নষ্ট করলে দলের পক্ষে ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, মাঝমাঠে পাসের নির্ভুলতা বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মিসপাস প্রতিপক্ষকে সুযোগ তৈরি করে দেয় এবং নিজেদের আক্রমণের গতি কমিয়ে দেয়।

তৃতীয়ত, আক্রমণভাগের ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়া আরও ভালো করা প্রয়োজন। উইং দিয়ে আক্রমণ তৈরি হলেও বক্সের মধ্যে সঠিক সময়ে বল পৌঁছে দেওয়া এবং ফিনিশিংয়ের দক্ষতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের শেষ মুহূর্তের আক্রমণ সামলাতেও রক্ষণকে সতর্ক থাকতে হবে।

নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ম্যাচে মোহনবাগান যে সুযোগ তৈরি করতে পারে, তার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু সেই সুযোগকে গোলে পরিণত করতে না পারার ফলেই হারতে হয়েছে। আগামী ম্যাচগুলিতে এই দুর্বলতাগুলি কাটিয়ে ওঠাই হবে কোচ পানোসের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

শেষ কথা

আইএফএ শিল্ড জয়ের পর আইএসএলের প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হার মোহনবাগানের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। ম্যাচের শুরুতে আক্রমণ, দ্বিতীয়ার্ধে একাধিক পরিবর্তন এবং গোলের সুযোগ তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত জয় অধরা থেকে যায়। লি আরউইনের সুযোগ নষ্ট, মাঝমাঠের মিসপাস এবং আক্রমণে ফিনিশিংয়ের অভাব মোহনবাগানকে ভুগিয়েছে।

অন্যদিকে, শেষ মুহূর্তে জিতিন এমএসের গোল নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে মূল্যবান জয় এনে দেয়। এই ফলাফল আবারও প্রমাণ করল, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে পর্যন্ত কোনও দলকে জয়ী ধরে নেওয়া যায় না।

এখন মোহনবাগান সমর্থকদের নজর থাকবে পরবর্তী ম্যাচে দলের প্রত্যাবর্তনের দিকে। পানোসের দল কত দ্রুত নিজেদের ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই দেখার। আইএসএলের দীর্ঘ মরশুমে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে মোহনবাগান শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে পারে কি না, তার উত্তর দেবে আগামী ম্যাচগুলি।

খবরের মূল বিষয়: ISL 2026-27, মোহনবাগান বনাম নর্থইস্ট ইউনাইটেড, জিতিন এমএসের গোল, মোহনবাগানের ০-১ ব্যবধানে হার, পানোসের প্রতিক্রিয়া এবং আইএসএল সম্প্রচার সমস্যা।

Preview image