Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রোনাল্ডোর জন্য ফের খুলছে জাতীয় দলের দরজা! কোচ জর্জের কথায় বড় ইঙ্গিত

মেসির শেষ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য মঞ্চ ঘিরে আবেগে ভাসছে আর্জেন্টিনা। নীল-সাদা জার্সিতে ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’-এর প্রস্তুতিতে এলএমটেন, তাঁকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পর্তুগালের জার্সিতে তিনি কি শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন? নাকি আবারও দেশের হয়ে মাঠে দেখা যাবে ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে? নেশনস লিগে নরওয়ের বিরুদ্ধে পর্তুগালের ম্যাচের পর এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবলমহলে। বিশেষ করে পর্তুগালের কোচ জর্জ হেসাসের সাম্প্রতিক মন্তব্য রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নরওয়ের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে মাঠে নামাননি পর্তুগালের কোচ জর্জ হেসাস। ম্যাচের আগে থেকেই রোনাল্ডোকে ঘিরে ছিল নানা আলোচনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্তুগাল কোচের সিদ্ধান্তে তিনি মাঠে নামেননি। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি রোনাল্ডো। ম্যাচের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং কোচের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যান পর্তুগিজ মহাতারকা।

রোনাল্ডোর এই আচরণের পরই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, জাতীয় দলের সঙ্গে কি তাঁর সম্পর্কের ইতি ঘটতে চলেছে? ৪১ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে কি আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো? পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ার কি এবার শেষের পথে? নাকি নভেম্বরের FIFA উইন্ডোতেই ফের জাতীয় দলের হয়ে দেখা যেতে পারে তাঁকে?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোনাল্ডো নিজে অবসর ঘোষণা করেননি। ফলে তাঁর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কোনও সরকারি ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। বরং পর্তুগাল কোচ জর্জ হেসাস এমন একটি মন্তব্য করেছেন, যা রোনাল্ডোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।

হেসাস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, জাতীয় দলের দরজা রোনাল্ডোর জন্য খোলা থাকবে। তবে রোনাল্ডো সেই দরজা দিয়ে আবার ফিরবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ পর্তুগাল কোচ সিদ্ধান্তের দায়িত্ব রোনাল্ডোর উপরই ছেড়ে দিয়েছেন।

জর্জ হেসাসের বক্তব্যের পরেই নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ একদিকে রোনাল্ডোর বয়স ৪১ বছর, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং অবদান এখনও অসাধারণ। পর্তুগালের হয়ে রেকর্ড সংখ্যক ২৩৪টি ম্যাচ খেলে তিনি দেশের ফুটবলের অন্যতম বড় প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারকে তাই সাধারণ কোনও ফুটবলারের কেরিয়ারের সঙ্গে তুলনা করা যায় না।

পর্তুগালের হয়ে রোনাল্ডোর দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড, গোল এবং স্মরণীয় মুহূর্ত। ইউসেবিওর দেশের হয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে। পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর উপস্থিতি শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের বিষয় নয়, বরং দলের মানসিক শক্তি এবং সমর্থকদের আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

এই কারণেই রোনাল্ডোকে ছাড়া পর্তুগালের একটি ম্যাচও আলাদা গুরুত্ব বহন করে। নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রোনাল্ডো মাঠে না থাকলেও পর্তুগাল ম্যাচটি জিতেছে ২-১ গোলে। দলের হয়ে গোল করেন হোয়াও কানসেলো এবং গনসালো রামোস। অর্থাৎ রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতেও পর্তুগাল জয় তুলে নিতে সক্ষম হয়েছে।

এই জয় পর্তুগালের কোচ জর্জ হেসাসের সিদ্ধান্তকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে রোনাল্ডোকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এত সহজে থামার নয়। কারণ তাঁর অনুপস্থিতির পাশাপাশি কোচের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রোনাল্ডোকে ম্যাচে না খেলানোর সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে ফুটবলমহলে নানা আলোচনা চলছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হল, রোনাল্ডো সেই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে তিনি মাদ্রিদে ফিরে যান এবং পরবর্তীতে আল নাসেরের অনুশীলনে যোগ দেন।

আপাতত জাতীয় দলের বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রেখে ক্লাব ফুটবলে মন দিতে চাইছেন রোনাল্ডো। আল নাসেরের হয়ে তাঁর সামনে রয়েছে আরও একটি বড় লক্ষ্য—কেরিয়ারে এক হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। ফুটবলজীবনের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়েও রোনাল্ডোর এই গোলের লক্ষ্য তাঁকে এখনও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সক্রিয় রেখেছে।

তবে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নভেম্বরের FIFA উইন্ডোতে রোনাল্ডো পর্তুগালের জাতীয় দলে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি যদি দলে ফেরেন, তাহলে সাম্প্রতিক ঘটনার পর কোচ জর্জ হেসাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী অবস্থায় থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, রোনাল্ডো যদি জাতীয় দলের হয়ে আর না ফেরেন, তাহলে নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শেষ ম্যাচগুলির অন্যতম হয়ে থাকতে পারে। তবে যেহেতু তিনি নিজে এখনও কোনও অবসরের ঘোষণা করেননি, তাই এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে তাঁর জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে।

জর্জ হেসাসের মন্তব্যও সেই কারণেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কোচ বলেছেন, রোনাল্ডোর জন্য জাতীয় দলের দরজা খোলা থাকবে। কিন্তু রোনাল্ডো ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁকেই নিতে হবে। অর্থাৎ পর্তুগালের পক্ষ থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের রাস্তা বন্ধ করা হয়নি।

news image
আরও খবর

এর মধ্যে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ফুটবল কেরিয়ার নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন পর্তুগাল তাঁর অনুপস্থিতিতেই নরওয়ের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে। ২-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে দল দেখিয়ে দিয়েছে যে রোনাল্ডো ছাড়াও তারা প্রতিযোগিতায় লড়াই করতে সক্ষম। তবে দীর্ঘমেয়াদে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা কতটা, সেটিই এখন দেখার।

রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে লিওনেল মেসির প্রসঙ্গও। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির সম্ভাব্য শেষ অধ্যায়কে ঘিরে যেমন আবেগ তৈরি হয়েছে, তেমনই রোনাল্ডোর ক্ষেত্রেও পর্তুগিজ সমর্থকদের মধ্যে আবেগ তুঙ্গে। দুই মহাতারকার আন্তর্জাতিক কেরিয়ারই এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। ফলে তাঁদের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

মেসির ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে ‘দ্য লাস্ট ড্যান্স’ ঘিরে আবেগ স্পষ্ট। রোনাল্ডোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু রোনাল্ডো এখনও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা করেননি। তাই তাঁর ক্ষেত্রে এখনই শেষ ম্যাচের তকমা দেওয়া ঠিক হবে না।

পর্তুগালের জাতীয় দলের হয়ে রোনাল্ডোর ২৩৪ ম্যাচ খেলা তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের প্রমাণ। এই সময়ের মধ্যে তিনি দেশের হয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছেন এবং বহু রেকর্ড গড়েছেন। ফলে তাঁর বিদায় যদি সত্যিই আসে, তা হলে সেটি পর্তুগিজ ফুটবলের জন্য একটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তিনটি—রোনাল্ডো কি নভেম্বরের FIFA উইন্ডোতে জাতীয় দলে ফিরবেন? জর্জ হেসাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কি স্বাভাবিক হবে? এবং শেষ পর্যন্ত তিনি কি পর্তুগালের জার্সিতেই আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ করবেন?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও অজানা। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—পর্তুগালের দরজা রোনাল্ডোর জন্য এখনও খোলা। এখন বল রোনাল্ডোর কোর্টে। তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই ঠিক করবে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়।

এদিকে নেশনস লিগের অন্যান্য ম্যাচেও ছিল উত্তেজনা। জার্মানি এবং গ্রিসের ম্যাচ গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছে। অন্যদিকে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে নেদারল্যান্ডস। ডাচ দলের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন কুপমেইনার্স এবং জোশুয়া।

তবে অন্যান্য ম্যাচের ফলাফল ছাপিয়ে ফুটবলমহলের মূল আলোচনায় রোনাল্ডোই। কারণ তাঁর মতো তারকার জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সামান্য ঘটনাও বড় খবর হয়ে ওঠে। কোচের সঙ্গে মতবিরোধ, ম্যাচে না নামা, জাতীয় শিবির ছেড়ে চলে যাওয়া এবং তার পরেই কোচের ‘দরজা খোলা’ মন্তব্য—সব মিলিয়ে রোনাল্ডোকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিস্থিতি।

রোনাল্ডো নিজে এখন আল নাসেরের হয়ে ক্লাব ফুটবলে মন দিয়েছেন। কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়েও তিনি নতুন নতুন মাইলফলক ছোঁয়ার চেষ্টা করছেন। এক হাজার গোলের লক্ষ্যে তাঁর যাত্রা এখন তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আকর্ষণ। ফলে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর লক্ষ্য যথেষ্ট পরিষ্কার।

সমর্থকদের অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে রোনাল্ডোর নিজের সিদ্ধান্তের জন্য। তিনি যদি জাতীয় দলের হয়ে ফের মাঠে নামেন, তাহলে সাম্প্রতিক বিতর্ক পিছনে ফেলে নতুন করে শুরু করার সুযোগ থাকবে। আর যদি তিনি আর না ফেরেন, তাহলে পর্তুগালের জার্সিতে তাঁর অবিশ্বাস্য কেরিয়ার শেষ হয়ে যাবে এক দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের মাধ্যমে।

এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সামনে না আসায় রোনাল্ডোর অবসর নিয়ে জল্পনাকে নিশ্চিত খবর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষাই করতে হবে। তবে জর্জ হেসাসের বক্তব্য অন্তত একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে—পর্তুগাল এখনও রোনাল্ডোর জন্য দরজা বন্ধ করেনি।

তাই আগামী নভেম্বরের FIFA উইন্ডোই হতে পারে এই গল্পের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রোনাল্ডো কি আবার নীল-সাদা পর্তুগিজ জার্সিতে ফিরবেন? নাকি আল নাসেরের জার্সিতেই তাঁর কেরিয়ারের শেষ পর্ব কাটাবেন? উত্তর সময়ই দেবে।

রোনাল্ডোর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ, জর্জ হেসাসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, পর্তুগালের নেশনস লিগ অভিযান এবং নভেম্বরের FIFA উইন্ডো—সবকিছুর দিকে এখন নজর ফুটবলবিশ্বের।

Preview image