Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রুপো সামান্য বাড়লেও ১০ গ্রামে ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি বেড়েছে সোনা আজ কত হয়েছে এই দুই ধাতুর দর

সোনার দামে বড় বৃদ্ধি প্রতি ১০ গ্রামে ১ হাজার ৩০০ টাকারও বেশি বেড়েছে দাম অন্যদিকে রুপোর দর বেড়েছে সামান্য এই পরিবর্তনে গয়না কেনার খরচেও প্রভাব পড়তে পারে আজ সোনা ও রুপোর দাম কত আর আগের তুলনায় কতটা বেড়েছে জেনে নিন দুই মূল্যবান ধাতুর দরের বিস্তারিত

সোনা ও রুপোর দামে ঊর্ধ্বগতি। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রকাশিত দর অনুযায়ী, প্রতি ১০ গ্রাম ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ১,৩৬০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি রুপোর দাম বেড়েছে ৩৫৪ টাকা। এবিপি লাইভ বাংলা জানিয়েছে, এই দরের তথ্য স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির কাছ থেকে পাওয়া। এগুলি প্রতিবেদনে উল্লেখিত ধাতুর দর দোকানের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য আলাদা হতে পারে। সোনার দাম বৃদ্ধির খবর বুঝতে বিশুদ্ধতা ও ওজনের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। কারণ ২৪ ২২ এবং ১৮ ক্যারেট সোনার দর এক নয়। একইভাবে প্রতি গ্রাম ও প্রতি ১০ গ্রামের দাম আলাদা করে দেখলে তুলনা করা সহজ হয়। শুধু সোনা বেড়েছে শুনে সব ধরনের সোনার জন্য একই বৃদ্ধির অঙ্ক ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের হিসাব নিচে দেওয়া হল

ধাতু ও বিশুদ্ধতা ওজন ৯ অক্টোবরের প্রকাশিত দর আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি
২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম ₹১,৪৮,৭৭০ ₹১,৩৬০
২২ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম ₹১,৪১,৩৫০ ₹১,৩০০
১৮ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রাম ₹১,১৬,০৫০ ₹১,০৫০
রুপো ১ কেজি ₹২,২৩,০৯৭ ₹৩৫৪

সারণির তথ্য এবিপি লাইভ বাংলার ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে উল্লেখিত দর ও বৃদ্ধির অঙ্কের ভিত্তিতে তৈরি।এই হিসাব থেকে স্পষ্ট, শিরোনামে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩০০ টাকার বেশি বৃদ্ধির কথা বলা হলেও তা ২৪ ক্যারেট সোনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রতিবেদনে ২২ ক্যারেটের বৃদ্ধি ঠিক ১,৩০০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের বৃদ্ধি ১,০৫০ টাকা বলা হয়েছে। তাই গয়না কেনার হিসাব করার সময় সংশ্লিষ্ট ক্যারেটের দর ব্যবহার করা প্রয়োজন। দামবৃদ্ধি ক্রেতার বাজেটে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে তা একটি উদাহরণে বোঝা যায়। উল্লিখিত ২২ ক্যারেটের বৃদ্ধির হার ধরে ২০ গ্রাম সোনার ধাতুমূল্য আগের দিনের তুলনায় ২৬০০ টাকা বেশি হবে। এটি কেবল ওজনভিত্তিক গণনা। গয়নার নকশা অন্যান্য উপকরণ এবং অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হলে চূড়ান্ত বিলের অঙ্ক আলাদা হবে।

একই কারণে নির্দিষ্ট বাজেটে গয়না কিনতে গেলে শুধু প্রতি গ্রামের দর দেখলেই পুরো খরচ বোঝা যায় না। কত ওজনের গয়না নেওয়া হচ্ছে এবং তার মধ্যে সোনার নিট ওজন কত তা জানতে হবে। পাথর বা অন্য উপকরণ থাকলে সেগুলির মূল্যও আলাদা করে বুঝে নেওয়া সুবিধাজনক। এতে দুটি গয়নার দাম তুলনা করার সময় বিভ্রান্তি কমে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে উল্লিখিত ধাতুর দরের সঙ্গে গয়না কেনার সময় জিএসটি ও মেকিং চার্জ যুক্ত হবে। ফলে সারণির অঙ্ককে সরাসরি গয়নার চূড়ান্ত দাম হিসেবে ধরা যাবে না। কেনার আগে দোকান থেকে খরচের পৃথক হিসাব নেওয়া যেতে পারে। ধাতুর মূল্য মেকিং চার্জ অন্যান্য উপকরণের দাম এবং কর এই অঙ্কগুলি আলাদা থাকলে মোট বিল কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা পরিষ্কার হয়। শুধু মেকিং চার্জে ছাড়ের ঘোষণা দেখার পরিবর্তে চূড়ান্ত প্রদেয় অঙ্ক তুলনা করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। রুপোর ক্ষেত্রেও ওজনের একক খেয়াল করা গুরুত্বপূর্ণ। সারণিতে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে দেওয়া হয়েছে, আর সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে। তাই দুই ধাতুর বৃদ্ধির অঙ্ক সরাসরি তুলনা করলে ভুল ধারণা হতে পারে। একই ওজন অথবা শতকরা পরিবর্তনের ভিত্তিতে তুলনা করলে দামের নড়াচড়া আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। আজকের বৃদ্ধি থেকে আগামী দিনের দামের গতিপথ নিশ্চিত করা যায় না। এক দিনের দরবদল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নয়। তবে যাঁদের এখন কেনাকাটার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের বাজেট তৈরির জন্য এই পরিবর্তন প্রাসঙ্গিক। কেনার সময় সংশ্লিষ্ট দোকানের সর্বশেষ দর এবং সম্পূর্ণ বিলের হিসাব মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর। ৯ অক্টোবরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সোনার বিভিন্ন ক্যারেটেই দাম বেড়েছে, আর রুপোর বৃদ্ধির অঙ্ক তুলনামূলক ছোট। ক্রেতাদের জন্য মূল বিষয় হল নিজের প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধতা, ওজন এবং অতিরিক্ত খরচ ধরে মোট মূল্য হিসাব করা। তবেই বাজারদরের খবরকে বাস্তব কেনাকাটার বাজেটের সঙ্গে সঠিকভাবে মিলিয়ে নেওয়া সম্ভব।

news image
আরও খবর

সোনা বা রুপোর গয়না কেনার সময় বাজারদর জানা প্রয়োজন, তবে শুধু প্রতি গ্রামের দাম দেখেই মোট খরচ বোঝা যায় না। একটি গয়নার চূড়ান্ত মূল্য নির্ভর করে ধাতুর বিশুদ্ধতা, নিট ওজন তৈরির মজুরি পাথর বা অন্যান্য উপকরণের দাম এবং প্রযোজ্য করের উপর। তাই নির্দিষ্ট বাজেটে কেনাকাটা করতে চাইলে এই খরচগুলি আলাদা করে বুঝে নেওয়া সুবিধাজনক। এতে পছন্দের গয়নাটি বাজেটের মধ্যে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হয়। প্রথমেই জানতে হবে গয়নার মোট ওজন এবং তার মধ্যে সোনার নিট ওজন কত। পাথর বসানো গয়নার ক্ষেত্রে মোট ওজনের পুরোটা সোনা নাও হতে পারে। পাথর পুঁতি বা অন্য উপকরণের ওজন যুক্ত থাকলে সোনার মূল্য হিসাব করার ভিত্তি আলাদা হবে। তাই দোকানের দেওয়া হিসাবের মধ্যে ধাতুর ওজন এবং অন্যান্য উপকরণের বিবরণ পৃথকভাবে দেখা প্রয়োজন। একই মোট ওজনের দুটি গয়নার দামও ভিন্ন হতে পারে। একটিতে সোনার পরিমাণ বেশি থাকতে পারে, অন্যটিতে পাথর বা সাজসজ্জার উপকরণ বেশি থাকতে পারে। শুধু দেখতে একই আকারের বলে অথবা ওজন কাছাকাছি বলে দুটি গয়নাকে সমমূল্যের ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তুলনার জন্য নিট ধাতুর ওজন, বিশুদ্ধতা এবং খরচের প্রতিটি অংশ বিবেচনা করতে হবে। সোনার বিশুদ্ধতাও মূল্য নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২২ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট গয়নার ক্ষেত্রে একই দর ব্যবহার করা যাবে না। যে বিশুদ্ধতার গয়না কেনা হচ্ছে তার জন্য দোকান কোন দর ধরে হিসাব করছে তা জানতে হবে। বাজারের খবরের মধ্যে একটি ক্যারেটের দাম দেখে অন্য ক্যারেটের গয়নার খরচ অনুমান করলে হিসাব ভুল হতে পারে। ধাতুর মূল্যের পরে আসে মেকিং চার্জ বা গয়না তৈরির মজুরি। দোকানের কাছে জানতে হবে এই চার্জ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে প্রতি গ্রামে নির্দিষ্ট অঙ্ক হিসেবে, ধাতুর মূল্যের শতকরা হিসাবে, নাকি গয়নার জন্য একটি নির্দিষ্ট মোট অঙ্ক হিসেবে। হিসাবের পদ্ধতি পরিষ্কার থাকলে একই ধরনের গয়নার জন্য বিভিন্ন  তুলনা করা সহজ হবে।

মেকিং চার্জে ছাড়ের বিজ্ঞাপন দেখলেও সম্পূর্ণ বিলের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। ছাড় কত টাকা হচ্ছে, কোন অঙ্কের উপর তা গণনা করা হচ্ছে এবং অন্য কোনও খরচ যুক্ত হচ্ছে কি না তা বুঝে নিতে হবে। শুধু ছাড়ের শতাংশ বেশি হলেই চূড়ান্ত খরচ কম হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তুলনার সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি হল একই বিশুদ্ধতা ও কাছাকাছি নিট ওজনের গয়নার মোট প্রদেয় মূল্য। পাথর বা অন্য উপকরণ থাকলে সেগুলির দামও পৃথকভাবে জানা উচিত। একটি গয়নায় ধাতুর মূল্য কম হলেও পাথরের মূল্য বা তৈরির খরচের কারণে মোট দাম বেশি হতে পারে। আবার সাধারণ নকশার গয়নায় ধাতুর অংশই মোট খরচের বড় অংশ হতে পারে। এই পার্থক্য বুঝলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নকশা ও ওজন বেছে নেওয়া সহজ হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত সোনা ও রুপোর দরকে গয়নার চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য হিসেবে ধরা যাবে না। গয়না কেনার সময় তার সঙ্গে জিএসটি ও মেকিং চার্জ যুক্ত হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে বাজারদর ধরে পাওয়া ধাতুমূল্য এবং দোকানে দেওয়ার মোট অঙ্কের মধ্যে পার্থক্য থাকবে। একটি সহজ হিসাবের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যায়। নিট সোনার ওজনকে সংশ্লিষ্ট ক্যারেটের প্রতি গ্রামের দর দিয়ে গুণ করলে ধাতুর মূল্যের প্রাথমিক অঙ্ক পাওয়া যায়। এরপর মেকিং চার্জ অন্যান্য উপকরণের মূল্য এবং প্রযোজ্য করের হিসাব দেখতে হবে। দোকানের লিখিত মূল্যবিবরণীতে এই অংশগুলি আলাদা থাকলে মোট অঙ্ক কীভাবে তৈরি হয়েছে, তা যাচাই করা সহজ হয়। নির্দিষ্ট বাজেটে গয়না কিনতে গেলে আগে মোট খরচের সীমা ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে। সেই সীমার মধ্যে ধাতুর মূল্য ছাড়াও বাকি খরচের জায়গা রাখতে হবে। পুরো বাজেটকে শুধু সোনার ওজনের হিসাবে ব্যবহার করলে চূড়ান্ত বিল প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই ওজন বাছাইয়ের আগেই দোকান থেকে আনুমানিক সম্পূর্ণ মূল্য জানা সুবিধাজনক।

রুপোর দাম বোঝার ক্ষেত্রেও ওজনের একক গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের প্রতিবেদনে রুপোর দর প্রায়ই প্রতি কেজিতে দেওয়া থাকে, অথচ ছোট গয়না বা সামগ্রী কেনার সময় ওজন গ্রামে উল্লেখ করা হয়। এক কেজি সমান এক হাজার গ্রাম। তাই কেজির দর থেকে গ্রামের দর বের করে সংশ্লিষ্ট ওজনের সঙ্গে মিলিয়ে হিসাব করতে হবে। সোনা ও রুপোর দাম বৃদ্ধির তুলনাতেও একই সতর্কতা প্রয়োজন। সোনার বৃদ্ধি যদি প্রতি ১০ গ্রামে দেওয়া হয় এবং রুপোর বৃদ্ধি প্রতি কেজিতে দেওয়া হয়, তাহলে দুটি অঙ্ক সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। একই ওজনের ভিত্তিতে অথবা আগের দরের তুলনায় শতকরা পরিবর্তন ধরে হিসাব করলে কোন ধাতুর দাম কতটা বদলেছে তা আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। ৯ অক্টোবরের প্রকাশিত তথ্যে সোনার বিভিন্ন ক্যারেটের দাম বৃদ্ধি এবং রুপোর অপেক্ষাকৃত ছোট বৃদ্ধির অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এক দিনের এই পরিবর্তন থেকে আগামী দিনের দাম নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আজ দাম বাড়ার অর্থ আগামী দিনেও বাড়বেই অথবা দ্রুত কমে যাবে কোনও সিদ্ধান্তই শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সম্ভব নয়। যাঁদের এখন কেনাকাটার প্রয়োজন রয়েছে তাঁদের জন্য সর্বশেষ দর ধরে বাজেট তৈরি করা প্রাসঙ্গিক। খবর প্রকাশের সময়ের দর এবং কেনার মুহূর্তে দোকানের দর একই রয়েছে কি না তা মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি যে মূল্য বলা হচ্ছে সেটি শুধু ধাতুর দর নাকি সমস্ত খরচসহ মোট মূল্য তা স্পষ্ট করে জানতে হবে। কেনাকাটার আগে লিখিত হিসাব নেওয়া এবং চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে সেটি মিলিয়ে দেখলে খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বিশুদ্ধতা, নিট ওজন, মেকিং চার্জ, অন্যান্য উপকরণের মূল্য ও করের বিবরণ বোঝার মাধ্যমে বাজারদরের খবরকে বাস্তব বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব। তখন শুধু দাম বেড়েছে বা কমেছে এই তথ্যের বাইরে গিয়ে পছন্দের গয়নাটির জন্য আসলে কত টাকা দিতে হবে, সেই প্রয়োজনীয় হিসাবটি জানা যায়।

Preview image