Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

শৌচাগারে এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন! মলত্যাগের সময় কোন কোন নিয়ম মানা জরুরি?

মলত্যাগের সময় কিছু ভুল অভ্যাস অজান্তেই বাড়িয়ে তুলতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস-সহ নানা শারীরিক সমস্যা। দীর্ঘক্ষণ শৌচাগারে বসে থাকা, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া কিংবা মলত্যাগের স্বাভাবিক বেগ চেপে রাখার মতো অভ্যাস শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে শৌচাগারে কোন কোন নিয়ম মেনে চলা জরুরি, তা জেনে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সুস্থ থাকতে খাবারদাবার, শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে নজর দেন অনেকেই। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। তা হল মলত্যাগের অভ্যাস। কখন শৌচাগারে যাচ্ছেন, কতক্ষণ সেখানে থাকছেন, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছেন কি না—এই ছোট ছোট বিষয়গুলিও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। অজান্তেই কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগে কষ্ট এবং অর্শের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মলত্যাগের স্বাভাবিক বেগ চেপে রাখা, শৌচাগারে বসে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ঘাঁটা, অতিরিক্ত জোর দিয়ে মলত্যাগের চেষ্টা করা এবং বসার ভুল ভঙ্গির মতো অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। অনেকেই এই কাজগুলি প্রতিদিন করলেও এগুলির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নন। বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, তাঁদের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন অভ্যাসের পরিবর্তন উপকারি হতে পারে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, প্রত্যেকের মলত্যাগের সময় ও অভ্যাস এক রকম নয়। শুধু প্রতিদিন মলত্যাগ না হলেই কোষ্ঠকাঠিন্য হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। মল শক্ত হয়ে যাওয়া, মলত্যাগে অসুবিধা, অসম্পূর্ণভাবে মলত্যাগের অনুভূতি কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম মলত্যাগের মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শৌচাগারে মলত্যাগের সময় কোন ৪টি ভুল অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন?

১. মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা

কাজের ব্যস্ততা, বাইরে পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের অভাব কিংবা অন্য কোনও কারণে অনেকেই মলত্যাগের বেগ এলেও তা চেপে রাখেন। এক-আধবার এমন হলে সাধারণত বড় কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু নিয়মিত এই অভ্যাস চলতে থাকলে মলত্যাগের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আমাদের বৃহদন্ত্রে মল কিছু সময় ধরে থাকে। এই সময়ে শরীর মল থেকে জল শোষণ করে। মল দীর্ঘক্ষণ অন্ত্রে থেকে গেলে সেটি আরও শক্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ফলে পরবর্তী সময়ে মলত্যাগ করতে অসুবিধা হয় এবং অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে। এভাবেই বেগ চেপে রাখার অভ্যাসের সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

নিয়মিত মলত্যাগের বেগ উপেক্ষা করলে শরীরের স্বাভাবিক সংকেতের সঙ্গে দৈনন্দিন অভ্যাসের সমন্বয়ও ব্যাহত হতে পারে। ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে মলত্যাগের তাগিদ বুঝতে দেরি হতে পারে অথবা শৌচাগারে যাওয়ার স্বাভাবিক রুটিনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কী করবেন?

মলত্যাগের স্বাভাবিক বেগ এলে অকারণে তা আটকে রাখবেন না। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে সকালের খাবারের পরে, কিছুটা সময় নিয়ে শৌচাগারে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন। খাওয়ার পরে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া বাড়তে পারে, যা মলত্যাগে সাহায্য করে।

পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার রাখুন। শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য এবং অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার মলের গঠন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করতে পারে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিডনি বা হৃদ্‌যন্ত্রের অসুখের কারণে চিকিৎসক জল খাওয়ার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দিলে সেই পরামর্শ মেনে চলুন।

২. কমোডে বসে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ঘাঁটা

বর্তমানে অনেকেরই শৌচাগারে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন সঙ্গে নেওয়ার অভ্যাস রয়েছে। কেউ সামাজিক মাধ্যম দেখেন, কেউ ভিডিও দেখেন, আবার কেউ খবর পড়তে শুরু করেন। এতে কয়েক মিনিটের কাজ কখনও কখনও আধ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।

শৌচাগারে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার একটি সমস্যা হল, এতে মলদ্বার ও তার আশপাশের রক্তনালির উপর চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে কমোডে দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং মলত্যাগের সময় বারবার চাপ দেওয়ার অভ্যাস অর্শ বা হেমোরয়েডের সমস্যা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

অর্শের ক্ষেত্রে মলদ্বার ও মলাশয়ের নীচের অংশের রক্তনালিগুলি ফুলে যেতে পারে। এর ফলে মলত্যাগের সময় রক্তপাত, অস্বস্তি, চুলকানি বা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই অর্শ হবে, এমন কোনও সরল সম্পর্ক নেই। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার মতো বিষয়গুলিও বিবেচ্য।

মোবাইল ফোনের আর একটি অসুবিধা হল, এতে সময়ের হিসাব থাকে না। প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলেও অনেকে ফোন দেখতে দেখতে কমোডে বসে থাকেন। ফলে শৌচাগারে থাকার সময় অকারণে বেড়ে যায়।

কী করবেন?

শৌচাগারে যাওয়ার সময় মোবাইল ফোন বাইরে রেখে যাওয়ার চেষ্টা করুন। মলত্যাগের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, ততটুকুই থাকুন। বেগ না এলে দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে জোর করে মলত্যাগের চেষ্টা করবেন না।

কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও মলত্যাগ না হলে উঠে আসুন। পরে স্বাভাবিক বেগ এলে আবার চেষ্টা করতে পারেন। নিয়মিত মলত্যাগে সমস্যা হলে শুধু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার বদলে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

৩. অতিরিক্ত জোর দিয়ে মলত্যাগ করা

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগলে অনেকেই মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেন। মল শক্ত হয়ে গেলে বা সহজে বাইরে বেরোতে না চাইলে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বারবার জোর দিয়ে মলত্যাগ করার চেষ্টা করলে মলদ্বার ও তার আশপাশের অংশে চাপ বাড়তে পারে।

অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার সঙ্গে অর্শের সমস্যা এবং মলদ্বারে ছোট ক্ষত বা অ্যানাল ফিশারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। অ্যানাল ফিশার হল মলদ্বারের আবরণে তৈরি হওয়া ছোট ফাটল, যা মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা বা রক্তপাতের কারণ হতে পারে। শক্ত মল বের করার সময় এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে মলত্যাগের সময় অসম্পূর্ণতার অনুভূতি, পেট ফাঁপা কিংবা পেটের অস্বস্তিও হতে পারে। বারবার অতিরিক্ত চাপ দিয়েও মলত্যাগ করতে না পারলে বিষয়টিকে শুধু দৈনন্দিন অভ্যাসের সমস্যা হিসেবে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

মল শক্ত হওয়ার পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। খাবারে ফাইবারের অভাব, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা এবং কিছু ওষুধের প্রভাব এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। আবার থাইরয়েডের সমস্যা, অন্ত্রের কিছু অসুখ কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

কী করবেন?

প্রথমেই মলত্যাগের সময় জোরে চাপ দেওয়ার অভ্যাস কমানোর চেষ্টা করুন। খাবারে ধীরে ধীরে ফাইবার বাড়ান এবং পর্যাপ্ত জল পান করুন। নিয়মিত হাঁটা বা অন্যান্য শারীরিক কার্যকলাপও অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাহায্য করতে পারে।

news image
আরও খবর

ফাইবার হঠাৎ অনেকটা বাড়িয়ে দিলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনাই ভালো। শুধু জল বা ফাইবার বাড়ালেই সব ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্য সেরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কোষ্ঠকাঠিন্য দীর্ঘদিন চললে, নিয়মিত ব্যথা বা রক্তপাত হলে কিংবা মলত্যাগের অভ্যাস হঠাৎ বদলে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজের ইচ্ছেমতো দীর্ঘদিন জোলাপ বা কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ ব্যবহার না করাই ভালো।

৪. মলত্যাগের সময় ভুল ভঙ্গিতে বসা

মলত্যাগের সময় শরীরের ভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে কমোডে বসার সময় হাঁটু ও নিতম্বের অবস্থান মলত্যাগ সহজ করার ক্ষেত্রে ভূমিকা নিতে পারে।

সাধারণ কমোডে বসলে হাঁটু সাধারণত নিতম্বের সমান উচ্চতায় বা তার কিছুটা নীচে থাকে। অন্যদিকে, পায়ের নীচে একটি ছোট টুল রাখলে হাঁটু নিতম্বের তুলনায় কিছুটা উপরে উঠে আসে। এতে শরীর অনেকটা স্কোয়াট করার ভঙ্গির কাছাকাছি অবস্থানে আসে।

এই ভঙ্গিতে শ্রোণির তলার কিছু পেশি এবং মলত্যাগের সঙ্গে যুক্ত পেশিগুলির অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মল বের করা তুলনামূলক সহজ হয় এবং অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।

তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না। কারও যদি মলত্যাগের সময় পেশির সমন্বয়ের সমস্যা থাকে, তাহলে শুধু পায়ের নীচে টুল রাখলেই সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে বসবেন?

কমোডে বসার সময় পায়ের নীচে একটি মজবুত, স্থিতিশীল ছোট টুল রাখতে পারেন। হাঁটু যেন নিতম্বের তুলনায় কিছুটা উঁচুতে থাকে, সেই অনুযায়ী টুলের উচ্চতা বেছে নিন। সামান্য সামনে ঝুঁকে বসুন এবং পা মেঝে বা টুলের উপর স্থির রাখুন।

এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস আটকে রেখে জোরে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। শরীরকে স্বাভাবিকভাবে মলত্যাগ করতে সাহায্য করুন।

টুল ব্যবহার করার সময় ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা যাঁদের চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে পিছলে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকতে হবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে দৈনন্দিন জীবনে আর কী করবেন?

শুধু শৌচাগারের অভ্যাস পরিবর্তন করলেই সব সময় হজমের সমস্যা দূর হয় না। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সামগ্রিক জীবনযাত্রার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

১. ফাইবারযুক্ত খাবার খান: ফল, শাকসবজি, ডাল, ওটস এবং গোটা শস্যের মতো খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। ফাইবার মলের পরিমাণ ও গঠন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

২. পর্যাপ্ত জল পান করুন: শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করা জরুরি। বিশেষ করে ফাইবারের পরিমাণ বাড়ালে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে চিকিৎসকের দেওয়া তরল গ্রহণের বিধিনিষেধ থাকলে তা মেনে চলুন।

৩. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: হাঁটা, হালকা ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন কাজে সক্রিয় থাকা অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক হতে পারে।

৪. মলত্যাগের নিয়মিত রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন সুবিধাজনক সময়ে শৌচাগারে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে নির্দিষ্ট সময়ে বেগ না এলে জোর করে মলত্যাগের চেষ্টা করবেন না।

৫. ওষুধের প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকুন: কিছু ওষুধের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। কোনও ওষুধ খাওয়ার পর এমন সমস্যা শুরু হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। নিজের ইচ্ছায় নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করবেন না।

কোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

মাঝেমধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তনে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কিছু উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়। মলত্যাগের সময় বারবার রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা মলত্যাগের অভ্যাসে নতুন ও স্থায়ী পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মলের সঙ্গে রক্ত গেলে সেটিকে শুধু অর্শের সমস্যা বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এর পিছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। আবার তীব্র পেটব্যথার সঙ্গে পেট ফুলে যাওয়া, বমি এবং মল বা গ্যাস একেবারেই বেরোতে না পারার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বয়স বাড়ার পর নতুন করে মলত্যাগের সমস্যা শুরু হলে অথবা পরিবারে অন্ত্রের গুরুতর রোগের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

শেষ কথা

মলত্যাগ শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও দৈনন্দিন কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে তা অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। মলত্যাগের বেগ চেপে রাখা, কমোডে বসে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ঘাঁটা, অতিরিক্ত জোর দেওয়া এবং ভুল ভঙ্গিতে বসার মতো অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

প্রয়োজনে পায়ের নীচে ছোট টুল ব্যবহার করা, পর্যাপ্ত ফাইবার ও জল গ্রহণ, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাভাবিক বেগকে গুরুত্ব দেওয়া মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

মনে রাখবেন: সুস্থ অন্ত্রের জন্য শুধু কী খাচ্ছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়; মলত্যাগের অভ্যাস এবং শরীরের স্বাভাবিক সংকেতের প্রতিও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

Preview image