Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

চোখের সাজ নয় স্বাস্থ্যই হোক অঙ্গীকার কৈশোর থেকে বার্ধক্য চোখের যে সমস্যাগুলি নিয়ে সতর্ক হতে হবে মহিলাদের

চোখ সাজাবেন ঠিকই, তবে চোখের স্বাস্থ্যের দিকেও খেয়াল রাখুন। নিয়মিত যেমন কাজল পরেন, তেমনই সময়ান্তরে চোখের পরীক্ষা করানোও জরুরি। কারণ, চিকিৎসকেরাই বলছেন, পুরুষের চেয়ে কোনও মহিলার চোখের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।

চোখ মানুষের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি। পৃথিবীকে দেখার জানালা হল চোখ। মানুষের আবেগ, অনুভূতি, ভালোবাসা, রাগ— সবকিছুর প্রতিফলনও প্রথমে ফুটে ওঠে চোখেই। তাই যুগ যুগ ধরে চোখের সৌন্দর্য নিয়ে মানুষের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে চোখের সাজ বা আই-মেকআপের গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজল, আইলাইনার, মাসকারা, আইশ্যাডো— এই সব প্রসাধনী ব্যবহার করে চোখকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করেন প্রায় সব নারীই। কালো কাজলে টানা চোখের সৌন্দর্য নিয়ে কবিতা, গান, সাহিত্য— সব ক্ষেত্রেই অসংখ্য উল্লেখ পাওয়া যায়।

কিন্তু চোখের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য যতটা সময়, মনোযোগ ও ধৈর্য দেওয়া হয়, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে ততটা সচেতনতা অনেক সময়ই দেখা যায় না। অনেকেই মনে করেন, চোখে পরিষ্কার দেখা গেলেই সব ঠিক আছে। চোখে সামান্য জ্বালা, কড়কড় করা বা শুষ্কতা হলে একটি আই ড্রপ ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। আধুনিক গবেষণা বলছে, নারীরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পুরুষদের তুলনায় চোখের নানা জটিল সমস্যায় বেশি ভোগেন। কৈশোর থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত নারীদের শরীরে যে হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, তার প্রভাব পড়ে চোখের উপরেও। ফলে চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় নারীদের বিশেষভাবে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

নারীদের চোখের সমস্যা বেশি হওয়ার কারণ

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে চোখের নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। এর পিছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।

প্রথমত, নারীদের শরীরে হরমোনের ওঠানামা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। বয়ঃসন্ধি, ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান এবং রজোনিবৃত্তি— জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই হরমোনগত ওঠানামা চোখের অশ্রুগ্রন্থি, কর্নিয়া, রেটিনা এবং অন্যান্য অংশের উপর প্রভাব ফেলে।

দ্বিতীয়ত, অনেক সময় নারীরা চোখের সমস্যা প্রাথমিক অবস্থায় গুরুত্ব দেন না। চোখে সামান্য সমস্যা হলেও অনেকেই তা অবহেলা করেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্যা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

তৃতীয়ত, প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু ঝুঁকি থাকে। নিম্নমানের কাজল, আইলাইনার বা মাসকারা ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণ বা অ্যালার্জির সম্ভাবনা বাড়ে। অনেক সময় প্রসাধনী ঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে চোখের পাতা ও গ্রন্থিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বয়ঃসন্ধির সময় চোখের পরিবর্তন

কৈশোর বা বয়ঃসন্ধির সময় মেয়েদের শরীরে দ্রুত হরমোনগত পরিবর্তন শুরু হয়। এই সময় ত্বক, চুল, হাড়— সব কিছুর পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব পড়ে। অনেক কিশোরী এই সময়ে চোখে শুষ্কতা, চুলকানি বা জ্বালাভাব অনুভব করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটারের অতিরিক্ত ব্যবহারও কিশোরীদের চোখের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে চাপ পড়ে, চোখ শুকিয়ে যায় এবং মাথাব্যথা বা ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এই বয়সে সঠিক অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চোখ বিশ্রাম দেওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে চোখ সুস্থ থাকে।

ঋতুচক্র ও চোখের স্বাস্থ্য

মেয়েদের মাসিক ঋতুচক্রের সঙ্গে শরীরে বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা ওঠানামা করে। বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন চোখের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক নারী মাসিকের আগে বা সময় চোখে শুষ্কতা, অস্বস্তি বা ঝাপসা দেখার সমস্যা অনুভব করেন।

এই সময় কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে। কর্নিয়ার আকার সামান্য পরিবর্তিত হওয়ায় লেন্স পরতে অস্বস্তি হতে পারে। তাই অনেক চক্ষু বিশেষজ্ঞ এই সময়ে চোখের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।

গর্ভাবস্থা ও চোখের সমস্যা

গর্ভাবস্থায় নারীর শরীরে বিপুল হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাব চোখেও পড়তে পারে। অনেক গর্ভবতী নারী চোখে শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা বা আলোতে সংবেদনশীলতা অনুভব করেন।

কিছু ক্ষেত্রে কর্নিয়া সামান্য ফুলে যেতে পারে, যার ফলে কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেক সময় দৃষ্টিশক্তির সাময়িক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্তান জন্মের পর এই সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।

তবে গর্ভাবস্থায় যদি হঠাৎ করে চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া বা আলো ঝলকানি দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

ড্রাই আই বা শুষ্ক চোখ

নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ চোখের সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল ড্রাই আই সিনড্রোম। এই সমস্যায় চোখে পর্যাপ্ত অশ্রু তৈরি হয় না বা অশ্রুর গুণমান ঠিক থাকে না। ফলে চোখ শুষ্ক, জ্বালাপোড়া বা কড়কড়ে অনুভূত হয়।

ড্রাই আইয়ের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • চোখে জ্বালা বা চুলকানি

  • চোখে বালি ঢুকে থাকার মতো অনুভূতি

  • দীর্ঘ সময় পড়াশোনা বা স্ক্রিন দেখলে অস্বস্তি

  • চোখ লাল হয়ে যাওয়া

হরমোনের পরিবর্তন, বয়স বৃদ্ধি, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, দূষণ এবং কিছু ওষুধের প্রভাবে এই সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে রজোনিবৃত্তির পর অনেক নারী ড্রাই আই সমস্যায় ভোগেন।

গ্লকোমা বা চোখের চাপজনিত রোগ

গ্লকোমা এমন একটি রোগ যা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে দিতে পারে। এটি সাধারণত চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে ঘটে। অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের তেমন লক্ষণ দেখা যায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের মধ্যে গ্লকোমার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করলে প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ ধরা পড়তে পারে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ম্যাকুলার ডিজেনারেশন

বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন একটি গুরুতর চোখের সমস্যা। এতে রেটিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত পড়তে, গাড়ি চালাতে বা সূক্ষ্ম কাজ করতে অসুবিধা অনুভব করেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই রোগে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি আক্রান্ত হন। দীর্ঘায়ু হওয়াও এর একটি কারণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

প্রসাধনী ব্যবহারের ঝুঁকি

চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে প্রসাধনী ব্যবহার করা স্বাভাবিক। তবে কিছু সতর্কতা না মানলে তা চোখের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

  • পুরোনো বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত নয়

  • অন্যের প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত

  • শোবার আগে অবশ্যই চোখের মেকআপ পরিষ্কার করতে হবে

  • নিম্নমানের কাজল বা আইলাইনার ব্যবহার করা ঠিক নয়

এই ছোট ছোট সতর্কতাগুলি মানলে চোখের সংক্রমণ বা অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

news image
আরও খবর

ডিজিটাল যুগে চোখের নতুন সমস্যা

বর্তমান যুগে মোবাইল, কম্পিউটার ও টেলিভিশনের ব্যবহার অত্যন্ত বেড়েছে। কর্মক্ষেত্র, পড়াশোনা এবং বিনোদন— সব ক্ষেত্রেই স্ক্রিনের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর ফলে ডিজিটাল আই স্ট্রেন নামে একটি সমস্যা ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে।

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পলক ফেলার সংখ্যা কমে যায়। ফলে চোখ শুকিয়ে যায় এবং ক্লান্তি তৈরি হয়।

এই সমস্যা এড়াতে কয়েকটি নিয়ম মানা যেতে পারে—

  • প্রতি ২০ মিনিটে অন্তত ২০ সেকেন্ড চোখ বিশ্রাম দেওয়া

  • স্ক্রিন থেকে অন্তত ২০ ফুট দূরের দিকে তাকানো

  • পর্যাপ্ত আলোতে কাজ করা

  • চোখে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া

পুষ্টি ও চোখের স্বাস্থ্য

চোখ সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু ভিটামিন ও খনিজ উপাদান চোখের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়।

যেমন—

  • ভিটামিন এ

  • ভিটামিন সি

  • ভিটামিন ই

  • ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড

  • জিঙ্ক

গাজর, পালং শাক, ব্রকোলি, ডিম, মাছ, বাদাম এবং বিভিন্ন ফল চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

চোখের যত্নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস

নারীদের চোখ সুস্থ রাখতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি—

১. বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করা
২. পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া
৩. চোখ পরিষ্কার রাখা
৪. রোদে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার করা
৫. ধুলোবালি থেকে চোখকে রক্ষা করা

উপসংহার

চোখ মানুষের শরীরের এমন একটি অঙ্গ যা শুধু দৃষ্টি দেওয়ার কাজই করে না, বরং মানুষের অনুভূতি, আবেগ এবং ব্যক্তিত্বেরও প্রতিফলন ঘটায়। কারও হাসি, বিস্ময়, রাগ কিংবা ভালোবাসা— সবকিছুই প্রথমে ধরা পড়ে চোখের ভাষায়। তাই যুগ যুগ ধরে চোখকে সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে চোখের সাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজল টানা কালো চোখ নিয়ে অসংখ্য কবিতা, গান, সাহিত্য এবং শিল্পকর্ম সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বাস্তবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— চোখের সৌন্দর্য তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন তার স্বাস্থ্যও সুস্থ থাকে। শুধু বাহ্যিক সাজে চোখ সুন্দর দেখালেই হবে না, চোখের ভেতরের সুস্থতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেক সময় দেখা যায়, চোখের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য যতটা সময় ও যত্ন দেওয়া হয়, চোখের স্বাস্থ্যের দিকে ততটা নজর দেওয়া হয় না।

আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই মনে করেন, চোখে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে মানেই সব ঠিক আছে। চোখে সামান্য অস্বস্তি, জ্বালাভাব বা কড়কড় করলে একটি আই ড্রপ ব্যবহার করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। চোখের অনেক সমস্যাই প্রথম দিকে খুব একটা বোঝা যায় না। ধীরে ধীরে সেই সমস্যাগুলি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং অনেক সময় দৃষ্টিশক্তির উপরও স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরে যে হরমোনগত পরিবর্তন ঘটে, তার প্রভাব চোখের উপরও পড়ে। বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা এবং রজোনিবৃত্তি— প্রতিটি ধাপেই শরীরের ভেতরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তনগুলি চোখের অশ্রুগ্রন্থি, কর্নিয়া এবং রেটিনার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নারীদের মধ্যে ড্রাই আই, গ্লকোমা কিংবা বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের মতো সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

এর পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাত্রার ধরণও চোখের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের সামনে বসে থাকার অভ্যাস এখন প্রায় সবার মধ্যেই রয়েছে। কাজের প্রয়োজনে হোক বা বিনোদনের জন্য— দিনের অনেকটা সময়ই কাটছে স্ক্রিনের সামনে। এর ফলে চোখে ক্লান্তি, শুষ্কতা, মাথাব্যথা এবং দৃষ্টির অস্পষ্টতার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তাই কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা, পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরতি নেওয়া— এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো চোখকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

চোখের প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করলে চোখে সংক্রমণ বা অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ভালো মানের প্রসাধনী ব্যবহার করা, অন্যের মেকআপ শেয়ার না করা এবং শোবার আগে অবশ্যই চোখের মেকআপ পরিষ্কার করা খুবই জরুরি।

পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া দরকার। ভিটামিন এ, সি, ই, ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গাজর, শাকসবজি, মাছ, ডিম, ফল এবং বাদাম নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে চোখ সুস্থ থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সচেতনতা। অনেক সময় আমরা শরীরের অন্যান্য সমস্যার প্রতি যতটা সচেতন থাকি, চোখের ক্ষেত্রে ততটা সতর্ক থাকি না। অথচ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলে তার গুরুত্ব তখনই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি হয়। তাই চোখের প্রতি অবহেলা না করে শুরু থেকেই যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

চোখের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কাজল টানা বা আইলাইনার লাগানো যতটা আনন্দের, তার চেয়েও বেশি জরুরি চোখকে সুস্থ রাখা। কারণ সুস্থ চোখই পারে পৃথিবীর রঙ, আলো এবং সৌন্দর্যকে স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করতে।

অতএব বলা যায়, চোখের সৌন্দর্য আর চোখের স্বাস্থ্য— এই দুই একে অপরের পরিপূরক। শুধু সাজ নয়, যত্নও প্রয়োজন। নারীদের জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে চোখের পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিয়ে যদি নিয়মিত যত্ন নেওয়া যায়, তবে দীর্ঘদিন সুস্থ দৃষ্টি বজায় রাখা সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত চোখই আমাদের পৃথিবীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। জীবনের অসংখ্য সুন্দর মুহূর্ত, প্রিয় মানুষের মুখ, প্রকৃতির রঙিন দৃশ্য— সবকিছুই আমরা অনুভব করি চোখের মাধ্যমে। তাই চোখকে শুধু সৌন্দর্যের উপকরণ হিসেবে নয়, জীবনের অমূল্য সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত।

সচেতনতা, যত্ন এবং নিয়মিত পরীক্ষা— এই তিনটি বিষয় যদি জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে শুধু চোখের সৌন্দর্যই নয়, তার সুস্থতাও দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব। আর সুস্থ চোখ মানেই সুস্থ দৃষ্টি, স্বচ্ছ পৃথিবী এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও গভীরভাবে উপভোগ করার সুযোগ।

Preview image