পুজোর আগে সোনা ও রুপোর দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মনে। গয়না কেনার ক্ষেত্রে মিলছে খানিকটা স্বস্তির সুযোগ।
পুজোর উৎসব শুরু হওয়ার আগেই সোনা ও রুপোর দামে বড় পরিবর্তন দেখা গেল। গত কয়েক দিন ধরেই দেশের বাজারে মূল্যবান এই দুই ধাতুর দামে ওঠানামা চলছিল। তার মধ্যেই সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, কলকাতার বাজারে আরও কমল সোনা ও রুপোর দাম। ফলে উৎসবের মরশুমে যাঁরা সোনা বা রুপোর গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে এই দাম কমার খবর কিছুটা স্বস্তির হতে পারে।
বাঙালির কাছে পুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি এবং উৎসবের প্রস্তুতি। অনেক পরিবারেই পুজোর সময়ে নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকে। বিশেষ করে বিয়ের মরশুম বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের আগে সোনা কেনার প্রবণতাও দেখা যায়। সেই কারণে পুজোর আগে সোনার দাম কমলে সাধারণ ক্রেতাদের নজর স্বাভাবিক ভাবেই চলে যায় বাজারের দিকে।
আপনার দেওয়া বাজারদর অনুযায়ী, সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কলকাতার বাজারে ২৪ ক্যারাটের পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম কমেছে ৩,৭০০ টাকা। একই দিনে ২২ ক্যারাটের গয়না সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম কমেছে ৩,৫৫০ টাকা। শুধু সোনাই নয়, এ দিন রুপোর দামেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছে। প্রতি কেজি রুপোর দাম কমেছে ৮,৩০০ টাকা।
দিনের শেষে কলকাতার বাজারে ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৭,৭৫০ টাকা। অন্য দিকে, ২২ ক্যারাট গয়না সোনার দাম হয়েছে প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪১,১০০ টাকা। খুচরো রুপোর দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজিতে ২,২৩,৯৫০ টাকা।
অর্থাৎ উৎসবের মরশুম শুরুর ঠিক আগে সোনা ও রুপো—দুই ক্ষেত্রেই ক্রেতাদের জন্য দাম কমার খবর সামনে এসেছে। যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে সোনা কেনার জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তাঁদের কাছে এই পরিবর্তন বিশেষ ভাবে নজরকাড়া।
সোমবারের বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ২৪ ক্যারাট সোনার দামে পতন। এক ধাক্কায় প্রতি ১০ গ্রামে ৩,৭০০ টাকা কমেছে ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার দাম। ফলে কলকাতার বাজারে ২৪ ক্যারাট সোনার দাম হয়েছে ১,৪৭,৭৫০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম।
অন্য দিকে, গয়না তৈরির ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যবহৃত ২২ ক্যারাট সোনার দামও কমেছে। প্রতি ১০ গ্রামে ৩,৫৫০ টাকা কমে ২২ ক্যারাট গয়না সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ১,৪১,১০০ টাকা।
সোনার দাম কমার এই পরিবর্তন বিশেষ করে তাঁদের নজরে পড়তে পারে, যাঁরা পুজোর আগে গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন। তবে বাজারে গিয়ে কোনও দোকান থেকে গয়না কেনার সময় শুধুমাত্র সোনার মূল দাম দেখলেই হবে না। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচও যুক্ত হতে পারে।
সোমবার শুধু সোনাই নয়, রুপোর দামেও বড় পতন হয়েছে। প্রতি কেজি রুপোর দাম ৮,৩০০ টাকা কমেছে। কলকাতার বাজারে খুচরো রুপোর দাম এ দিন দাঁড়িয়েছে প্রতি কেজিতে ২,২৩,৯৫০ টাকা।
রুপোর ব্যবহার শুধুমাত্র গয়না তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রেও রুপোর ব্যবহার রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও অনেক ক্রেতা রুপোর দিকে নজর রাখেন। ফলে রুপোর দামে বড় পরিবর্তন হলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়।
আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে সোনার দাম মোটামুটি ১২,৫০০ টাকা কমেছে। অর্থাৎ সোমবারের পতনের আগে থেকেই সোনার বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।
এক মাসের ব্যবধানে এতটা দাম কমার ফলে উৎসবের মরশুমের আগে সোনা কেনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সোনার দাম প্রতিদিনই পরিবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের মূল্য, চাহিদা-জোগান এবং অন্যান্য বাজারগত কারণের প্রভাবে দাম বাড়া-কমা সম্ভব।
তাই কোনও নির্দিষ্ট দিনে দাম কমেছে বলেই পরের দিনও একই দামে সোনা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
সোনার পাশাপাশি গত এক মাসে রুপোর দামেও বড় পতন হয়েছে। আপনার দেওয়া বাজারতথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে রুপোর দাম প্রায় ২২,০০০ টাকা কমেছে প্রতি কেজিতে।
রুপোর ক্ষেত্রে এই পতনও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ফলে যাঁরা রুপোর গয়না, বাসন বা অন্যান্য সামগ্রী কেনার কথা ভাবছেন, তাঁরাও বর্তমান বাজারদরের দিকে নজর রাখতে পারেন।
তবে রুপোর ক্ষেত্রেও দোকানভেদে চূড়ান্ত দাম আলাদা হতে পারে। কারণ বাজারদরের পাশাপাশি পণ্য তৈরির খরচ, মজুরি এবং অন্যান্য চার্জ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
দুর্গাপুজো বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। পুজোর সময় বহু মানুষ নতুন পোশাকের পাশাপাশি গয়না কেনেন। কারও ক্ষেত্রে পুরনো গয়না বদলে নতুন ডিজাইনের গয়না কেনার পরিকল্পনা থাকে, আবার কেউ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যেও সোনা কেনেন।
এই কারণে পুজোর আগে সোনার দাম কমা সাধারণ ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যাঁদের নির্দিষ্ট বাজেট রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার টাকা দামের পার্থক্য মোট খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, প্রতি ১০ গ্রামে কয়েক হাজার টাকা দাম কমলে বড় পরিমাণ সোনা কেনার ক্ষেত্রে মোট মূল্যের পার্থক্য আরও বেশি হতে পারে। তবে গয়না কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাজারদর দিয়ে মোট বিল হিসাব করা ঠিক নয়।
সোনার বাজারদর এবং গয়নার দোকানে আপনি যে চূড়ান্ত দাম দেবেন—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। কারণ গয়না কেনার সময় সোনার মূল দামের সঙ্গে মেকিং চার্জ, কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ যুক্ত হতে পারে।
বিশেষ করে একই ওজন ও একই ক্যারাটের গয়নার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দোকানে চূড়ান্ত দাম আলাদা হতে পারে। এর অন্যতম কারণ মেকিং চার্জের পার্থক্য।
তাই পুজোর আগে সোনা কিনতে গেলে শুধু ‘আজ সোনার দাম কত’ তা জানলেই হবে না। গয়নার মোট ওজন, সোনার বিশুদ্ধতা, মেকিং চার্জ এবং চূড়ান্ত বিল—সবকিছু দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
২৪ ক্যারাট সোনা সাধারণত সবচেয়ে বেশি বিশুদ্ধতার সোনা হিসেবে পরিচিত। অন্য দিকে, গয়না তৈরির ক্ষেত্রে ২২ ক্যারাট সোনা বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ গয়না তৈরির জন্য সোনার সঙ্গে অন্যান্য ধাতু মেশানো হয়, যার ফলে গয়না তুলনামূলক ভাবে শক্ত হয়।
সোমবারের কলকাতা বাজারে এই দুই ধরনের সোনার দামও আলাদা ছিল।
২৪ ক্যারাট পাকা সোনা — ₹১,৪৭,৭৫০ প্রতি ১০ গ্রাম
২২ ক্যারাট গয়না সোনা — ₹১,৪১,১০০ প্রতি ১০ গ্রাম
তবে গয়না কেনার সময় দোকানে সোনার বিশুদ্ধতা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং হলমার্ক সংক্রান্ত তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
| ধাতু | সোমবারের দাম |
|---|---|
| ২৪ ক্যারাট পাকা সোনা | ₹১,৪৭,৭৫০ / ১০ গ্রাম |
| ২২ ক্যারাট গয়না সোনা | ₹১,৪১,১০০ / ১০ গ্রাম |
| খুচরো রুপো | ₹২,২৩,৯৫০ / কেজি |
এই দামগুলি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কলকাতার বাজারদর হিসেবে আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। বাজারে প্রকাশিত সোনা বা রুপোর বেস রেট এবং কোনও নির্দিষ্ট দোকান থেকে গয়না কেনার সময় দেওয়া চূড়ান্ত দাম এক নাও হতে পারে।
গয়না কেনার ক্ষেত্রে মেকিং চার্জ যুক্ত হতে পারে। তার সঙ্গে প্রযোজ্য কর এবং অন্যান্য খরচও যোগ হতে পারে। আবার এক একটি বিপণিতে মেকিং চার্জের হার আলাদা হতে পারে।
তাই বাজারদর কমেছে শুনে সরাসরি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিয়ে দোকানে গেলে সেই একই দামে গয়না পাওয়া যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
গয়না কেনার আগে দোকানের কাছ থেকে সোনার প্রতি গ্রামের রেট, মোট ওজন, পাথর বা অন্য উপাদানের ওজন, মেকিং চার্জ এবং চূড়ান্ত বিল জেনে নেওয়া ভালো।
উৎসবের মরশুমে সোনা ও রুপোর চাহিদা বাড়তে পারে। অনেক পরিবার পুজোর সময় নতুন গয়না কেনার পরিকল্পনা করে। আবার বিয়ে বা অন্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্যও অনেকে গয়না কেনেন।
এই পরিস্থিতিতে বাজারদরে কয়েক হাজার টাকার পরিবর্তনও ক্রেতাদের নজরে আসে। সোমবার ২৪ ক্যারাট সোনায় প্রতি ১০ গ্রামে ৩,৭০০ টাকা এবং ২২ ক্যারাটে ৩,৫৫০ টাকা কমার বিষয়টি তাই গুরুত্বপূর্ণ।
রুপোর ক্ষেত্রেও প্রতি কেজিতে ৮,৩০০ টাকা কমার ফলে বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
সোনা কেনার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ভাবে ব্যক্তির প্রয়োজন, বাজেট এবং উদ্দেশ্যের উপর নির্ভর করে। শুধু এক দিনের দাম কমার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে দাম কোন দিকে যাবে তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না।
যাঁদের পুজোর জন্য গয়না কেনার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁরা বর্তমান বাজারদর জেনে বিভিন্ন দোকানের চূড়ান্ত মূল্য তুলনা করতে পারেন। একই সঙ্গে মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য খরচও বিবেচনা করা দরকার।
অন্য দিকে, যাঁরা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা বা রুপো কিনতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে বাজারের ঝুঁকি এবং বিনিয়োগের সময়সীমা আলাদা ভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পুজোর আগে সোনা ও রুপোর দামে এই পতন ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে পারে। গত এক মাসের হিসাবেও সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতনের কথা উঠে এসেছে।
তবে মূল্যবান ধাতুর বাজার অত্যন্ত পরিবর্তনশীল। তাই আজকের দাম আগামীকাল একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যাঁরা গয়না কিনবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে স্থানীয় দোকানের চূড়ান্ত মূল্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কলকাতা বাজারে ২৪ ক্যারাট সোনা ১,৪৭,৭৫০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম, ২২ ক্যারাট সোনা ১,৪১,১০০ টাকা প্রতি ১০ গ্রাম এবং খুচরো রুপো ২,২৩,৯৫০ টাকা প্রতি কেজি। পুজোর আগে এই দাম কমার ফলে গয়না কেনার পরিকল্পনা করা ক্রেতাদের মধ্যে স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলি বাজারদর; গয়না কেনার সময় মেকিং চার্জ, প্রযোজ্য কর এবং অন্যান্য খরচ যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত দাম বেশি হতে পারে। দোকান ও বিপণি ভেদে মেকিং চার্জের পার্থক্য থাকায় কেনার আগে সম্পূর্ণ বিল এবং চার্জের হিসাব যাচাই করে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।