Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

পুজোয় মেট্রো পরিষেবায় বড় বদল! নবমী পর্যন্ত সারা রাত চলবে ট্রেন, কোন লাইনে কখন শুরু-শেষ পরিষেবা? প্রকাশ্যে সময়সূচি

পুজোর ভিড় সামলাতে মেট্রো পরিষেবায় বড় পরিবর্তন। সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত বাড়ছে পরিষেবার সময়, চলবে রাতভর মেট্রোও। কোন লাইনে কখন থেকে পরিষেবা শুরু এবং শেষ হবে, দেখে নিন বিস্তারিত সময়সূচি।

পুজোয় মেট্রো পরিষেবায় বড় বদল! নবমী পর্যন্ত সারা রাত চলবে ট্রেন, প্রকাশ্যে সময়সূচি

দুর্গাপুজো মানেই কলকাতা ও শহরতলিতে মানুষের ঢল। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুজো মণ্ডপ, বড় বাজার, দর্শনীয় স্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। এই সময়ে যানজট এড়িয়ে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছনোর অন্যতম ভরসা কলকাতা মেট্রো। পুজোর ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এবার মেট্রো পরিষেবাতেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাড়ানো হয়েছে পরিষেবার সময়। পাশাপাশি পুজোর গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে রাত পর্যন্ত এবং নির্দিষ্ট দিনে সারা রাত মেট্রো চালানোর বিশেষ পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

পুজোর সময়ে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ভিড় আরও বাড়ে। বিশেষ করে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর রাতে কলকাতার বিভিন্ন বড় পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। ফলে বাস, ট্যাক্সি বা ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে অনেকেই মেট্রো পরিষেবাকে বেশি নিরাপদ, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য পরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে বেছে নেন। এই কারণেই উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ দিনের তুলনায় আলাদা সময়সূচি তৈরি করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

এবারও পুজোর সময়ে যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বিশেষ পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোন লাইনে কখন প্রথম মেট্রো পাওয়া যাবে, কোন সময়ে শেষ মেট্রো ছাড়বে এবং কোন দিনগুলিতে পরিষেবার সময় সবচেয়ে বেশি থাকবে—এই সমস্ত তথ্য নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে বিশেষ সময়সূচি।

পুজোর সময়ে কেন বদলাচ্ছে মেট্রোর সময়সূচি?

সাধারণ দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মেট্রো পরিষেবা চালানো হলেও দুর্গাপুজোর সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা থাকে। দিনের পাশাপাশি রাতেও কলকাতার রাস্তায় মানুষের চলাচল অত্যন্ত বেশি থাকে। সন্ধ্যার পর পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় ভিড় আরও ঘন হয়।

বিশেষ করে অষ্টমী ও নবমীর রাতে বহু মানুষ রাত জেগে ঠাকুর দেখতে বের হন। ফলে সাধারণ সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রো পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুজোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে পরিষেবার সময় বাড়ানো হয়।

মেট্রোর বিশেষ পরিষেবার ফলে একদিকে যেমন পুজো দেখতে যাওয়া মানুষের যাতায়াত সহজ হয়, অন্যদিকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানবাহনের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত বিশেষ পরিষেবা

পুজোর গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলিতে মেট্রোর পরিষেবা বাড়ানোর অন্যতম লক্ষ্য হল রাতের দর্শনার্থীদের নিরাপদে বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেওয়া। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর রাতে কলকাতার বহু মণ্ডপে রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে।

এই সময় মেট্রো পরিষেবা দীর্ঘক্ষণ চালু থাকলে যাত্রীরা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তুলনামূলক দ্রুত যাতায়াত করতে পারেন। বিশেষ করে উত্তর কলকাতা, মধ্য কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা এবং শহরতলির বিভিন্ন এলাকার মানুষ মেট্রো ব্যবহার করে একাধিক পুজো মণ্ডপ ঘুরে দেখেন।

নবমী পর্যন্ত রাতের বিশেষ পরিষেবা থাকার কারণে শেষ মুহূর্তে বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রেও যাত্রীদের সুবিধা হবে। তবে কোন লাইনে কতক্ষণ পর্যন্ত ট্রেন চলবে, তা লাইভ সময়সূচি ও সংশ্লিষ্ট মেট্রো কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

কোন কোন লাইনে পরিষেবা থাকছে?

কলকাতা মেট্রো নেটওয়ার্ক বর্তমানে একাধিক করিডরে বিস্তৃত। নর্থ-সাউথ বা ব্লু লাইন দীর্ঘদিন ধরেই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো রুট। এর পাশাপাশি গ্রিন লাইন, অরেঞ্জ লাইন, পার্পল লাইন এবং অন্যান্য করিডরও ধীরে ধীরে যাত্রী পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

পুজোর সময়ে কোন লাইনে অতিরিক্ত পরিষেবা থাকবে, কোথায় পরিষেবার সময় বাড়ানো হবে এবং কোন করিডরে রাত পর্যন্ত ট্রেন চালানো হবে—তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করা হয়।

যাত্রীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, সব লাইনে একই সময়ে পরিষেবা শুরু বা শেষ নাও হতে পারে। কোনও লাইনে রাত পর্যন্ত ট্রেন চললেও অন্য লাইনে তুলনামূলক আগে পরিষেবা শেষ হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট লাইনের সময়সূচি দেখে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

রাতভর মেট্রো পরিষেবা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কলকাতার দুর্গাপুজো শুধু দিনের উৎসব নয়। সন্ধ্যা নামার পর থেকেই শহরের আসল পুজোর ভিড় শুরু হয়। রাত বাড়লেও মণ্ডপে মানুষের ভিড় কমে না। বরং সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত অনেক মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত পুজো দেখতে বেরিয়ে থাকেন।

এই পরিস্থিতিতে রাতভর মেট্রো পরিষেবা একটি বড় সুবিধা। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে পুজো দেখতে বের হওয়া মানুষের জন্য গণপরিবহণের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতের সময়ে বাসের সংখ্যা কমে যেতে পারে, ট্যাক্সি বা অ্যাপ ক্যাবের ভাড়া বাড়তে পারে এবং রাস্তার যানজটও দীর্ঘ হতে পারে। মেট্রো পরিষেবা চালু থাকলে সেই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এছাড়া পুজোর সময়ে পার্কিংয়ের সমস্যাও বড় হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে শহরের জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপগুলিতে গেলে পার্কিং পাওয়া কঠিন হতে পারে। ফলে অনেকেই গাড়ি বাড়িতে রেখে মেট্রোয় যাতায়াত করতে পছন্দ করেন।

কোন সময়ে প্রথম মেট্রো?

পুজোর বিশেষ পরিষেবায় শুধু শেষ মেট্রোর সময়ই গুরুত্বপূর্ণ নয়। দিনের শুরুতে প্রথম মেট্রো কখন পাওয়া যাবে, সেটিও যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই ভোরে বা সকালে পুজো মণ্ডপে বেরিয়ে পড়েন। আবার পুজোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বহু মানুষকে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে হয়। তাই বিশেষ দিনগুলিতে প্রথম ট্রেনের সময়সূচিও নজরে রাখা দরকার।

বিভিন্ন লাইনে পরিষেবা শুরুর সময় আলাদা হতে পারে। একই লাইনের দুই প্রান্ত থেকেও প্রথম ট্রেনের সময় ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু ‘মেট্রো কখন থেকে চলছে’ জানলেই হবে না, যাত্রীকে নিজের স্টেশন, গন্তব্য এবং লাইনের দিক অনুযায়ী সময় মিলিয়ে নিতে হবে।

শেষ মেট্রোর সময়ও গুরুত্বপূর্ণ

পুজোর রাতে সবচেয়ে বেশি যে তথ্যটি যাত্রীরা খোঁজেন, তা হল শেষ মেট্রোর সময়। মণ্ডপে ঘুরে রাতের দিকে বাড়ি ফেরার সময় অনেকেই শেষ ট্রেন ধরতে চান।

বিশেষ পরিষেবায় শেষ মেট্রোর সময় সাধারণ দিনের তুলনায় অনেকটা বাড়ানো হতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে রাত গভীর পর্যন্ত পরিষেবা চালু থাকে। আবার বিশেষ দিনে নির্দিষ্ট রুটে আরও দীর্ঘ সময় ট্রেন চলতে পারে।

তবে শেষ মেট্রোর সময় স্টেশনভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। কোনও স্টেশন থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ার সময় এবং সংশ্লিষ্ট লাইনের অন্য প্রান্ত থেকে শেষ ট্রেন ছাড়ার সময় এক নাও হতে পারে। তাই শুধু একটি সময় দেখে স্টেশনে পৌঁছনো উচিত নয়।

পুজোর ভিড়ে যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

পুজোর সময় মেট্রো স্টেশনগুলিতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভিড় হতে পারে। জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপের কাছের স্টেশনগুলিতে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর যাত্রী চাপ বাড়ে।

তাই মেট্রো ব্যবহার করার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

প্রথমত, শেষ মুহূর্তে স্টেশনে না গিয়ে কিছুটা আগে পৌঁছনো ভালো। দ্বিতীয়ত, টিকিট বা স্মার্ট কার্ডের ব্যবস্থা আগে থেকে করে রাখলে ভিড়ের মধ্যে সময় বাঁচানো যায়। তৃতীয়ত, স্টেশনের প্রবেশ ও বেরোনোর নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।

news image
আরও খবর

ভিড়ের সময়ে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ট্রেন আসার সময় হলুদ লাইন বা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সীমার পিছনে দাঁড়ানো উচিত। শিশু ও বয়স্কদের সঙ্গে থাকলে তাঁদের দিকে বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

পুজোর সময়ে মেট্রোই কেন বড় ভরসা?

কলকাতার পুজোর অন্যতম বড় সমস্যা হল যানজট। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় পুজোর সময় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কোথাও গাড়ি চলাচলের দিক পরিবর্তন করা হয়, কোথাও আবার নির্দিষ্ট সময়ে যানবাহন বন্ধ রাখা হয়।

এই পরিস্থিতিতে রাস্তার যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হল মেট্রো। একবার মেট্রো স্টেশনে পৌঁছে গেলে নির্দিষ্ট রুটে তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছনো যায়।

তাই পুজোর সময়ে মেট্রোর সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তনও কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মেট্রো ব্যবহারে পরিকল্পনা জরুরি

পুজোর সময়ে একদিনে অনেকগুলি মণ্ডপ দেখার পরিকল্পনা করেন বহু মানুষ। সেক্ষেত্রে আগে থেকেই কোন মেট্রো স্টেশনে নামবেন, কোন স্টেশন থেকে পরবর্তী গন্তব্যে যাবেন এবং শেষ ট্রেন কখন—এসব ঠিক করে রাখা ভালো।

উদাহরণ হিসেবে, কোনও যাত্রী যদি উত্তর কলকাতার একাধিক পুজো দেখে দক্ষিণ কলকাতার দিকে যেতে চান, তাহলে রাতের শেষ পরিষেবার সময় অবশ্যই আগে থেকে জেনে নেওয়া উচিত। কারণ একটি স্টেশনে দেরি হলে পরবর্তী ট্রেন মিস করার সম্ভাবনা থাকে।

একইভাবে, মেট্রো পরিবর্তন করতে হলে সংযোগকারী লাইনের সময়ও মাথায় রাখতে হবে।

পুজোর রাতে পরিবার নিয়ে যাতায়াত

পরিবারের সঙ্গে পুজো দেখতে বেরোনোর ক্ষেত্রে গণপরিবহণ ব্যবহার অনেক সময় বেশি সুবিধাজনক। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক সদস্য থাকলে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকা সমস্যার কারণ হতে পারে।

মেট্রোতে যাতায়াত করলে রাস্তার যানজটের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকে। তবে পুজোর সময়ে মেট্রো স্টেশন এবং ট্রেনেও প্রচণ্ড ভিড় হতে পারে। তাই পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে রাখা এবং নির্দিষ্ট স্টেশনে ওঠানামার পরিকল্পনা আগে থেকে করে নেওয়া উচিত।

শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাঁদের পরিচয় বা যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখা এবং ভিড়ের মধ্যে হাত ধরে চলা ভালো।

রাতের মেট্রো পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের প্রত্যাশা

পুজোর সময়ে রাতের মেট্রো পরিষেবা বাড়ানো শুধু যাত্রীদের সুবিধাই নয়, শহরের সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। মেট্রো যত বেশি সময় চালু থাকবে, তত বেশি মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্যান্য যানবাহনের পরিবর্তে গণপরিবহণ বেছে নিতে পারবেন।

এর ফলে শহরের রাস্তার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি পুজোর রাতে বাড়ি ফেরার সময় যাত্রীদের বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থাও তৈরি হয়।

তবে রাতের পরিষেবার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং স্টেশন পরিচালনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের নিয়ম মেনে চলা এবং মেট্রো কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

সময়সূচি প্রকাশের পর যাত্রীদের কী জানা দরকার?

বিশেষ সময়সূচি প্রকাশের পর যাত্রীদের কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।

  • নিজের গন্তব্যের মেট্রো লাইন কোনটি।
  • সংশ্লিষ্ট লাইনে প্রথম ট্রেনের সময়।
  • নিজের স্টেশন থেকে শেষ ট্রেনের সময়।
  • ট্রেনের ফ্রিকোয়েন্সি বা কতক্ষণ অন্তর মেট্রো পাওয়া যাবে।
  • অন্য লাইনে পরিবর্তন করতে হলে সেই লাইনের পরিষেবার সময়।
  • পুজোর নির্দিষ্ট দিনে পরিষেবায় কোনও অতিরিক্ত পরিবর্তন রয়েছে কি না।
  • কোনও স্টেশনে প্রবেশ বা বেরোনোর ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশ রয়েছে কি না।

এই তথ্যগুলি আগে থেকে জেনে রাখলে পুজোর ভিড়ে অপ্রয়োজনীয় সমস্যায় পড়তে হবে না।

শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো

পুজোর রাতে মেট্রো পরিষেবা বাড়ানো হলেও যাত্রীদের উচিত একেবারে শেষ ট্রেনের ওপর নির্ভর না করা। কোনও কারণে মণ্ডপ থেকে স্টেশনে পৌঁছতে দেরি হলে শেষ ট্রেন মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাই নির্ধারিত শেষ সময়ের কিছুটা আগেই স্টেশনের দিকে রওনা হওয়া ভালো। বিশেষ করে পরিবার, শিশু বা বয়স্ক সদস্য থাকলে অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা উচিত।

পুজোর মেট্রো পরিষেবা ও কলকাতার উৎসব

দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতা কার্যত একটি বড় উৎসবের শহরে পরিণত হয়। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম—সব দিকেই আলো, মণ্ডপ এবং মানুষের ভিড়। এই বিশাল জনসমাগমকে সচল রাখতে গণপরিবহণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেট্রো সেই ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী মেট্রো ব্যবহার করেন। পুজোর সময়ে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত পরিষেবা চালু করে যাত্রীদের চাপ সামলানোর চেষ্টা করা হয়।

নবমী পর্যন্ত রাতের বিশেষ পরিষেবা সেই পরিকল্পনারই অংশ। যাত্রীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং যাত্রার আগে সর্বশেষ আপডেট যাচাই করা।

যাত্রীদের জন্য শেষ কথা

পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে শুধু কোন মণ্ডপে যাবেন তা ঠিক করলেই হবে না, কীভাবে ফিরবেন সেটিও পরিকল্পনা করা জরুরি। বিশেষ করে সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীর রাতে রাস্তায় ব্যাপক ভিড় থাকায় গণপরিবহণের সময়সূচি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেট্রোর বিশেষ পরিষেবা বাড়ায় পুজোপ্রেমীদের জন্য যাতায়াত অনেকটাই সহজ হতে পারে। তবে কোন লাইনে কখন ট্রেন শুরু হবে, শেষ ট্রেন কখন ছাড়বে এবং কোন দিনে কতক্ষণ পর্যন্ত পরিষেবা থাকবে—এই তথ্যগুলি যাত্রার আগে দেখে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

পুজোর সময়ে মেট্রো স্টেশনে ভিড় বেশি থাকায় যাত্রীদের ধৈর্য ধরে চলাফেরা করতে হবে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানতে হবে এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

সব মিলিয়ে, পুজোর সাত দিনে কলকাতা মেট্রোর বিশেষ সময়সূচি শহরের উৎসবের পরিবহণ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। নবমী পর্যন্ত রাতের পরিষেবা বাড়ানো হলে রাত জেগে পুজো দেখার পরেও বহু মানুষ সহজে বাড়ি ফিরতে পারবেন। তাই পুজোর প্ল্যান করার পাশাপাশি মেট্রোর সময়সূচিও আপনার তালিকায় রাখুন।

Preview image