Lenspedia Bangla Logo
  • কলকাতা
  • 30℃ Purba Bardhaman

রোনাল্ডোর জন্য ফের খুলছে জাতীয় দলের দরজা! পর্তুগাল কোচের ১৮০ ডিগ্রি বদলে যাওয়া মন্তব্যে বাড়ছে জল্পনা

রোনাল্ডোকে নিয়ে সুর বদল পর্তুগাল কোচের! জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে পর্তুগাল জাতীয় দলে তৈরি হওয়া বিতর্ক কি এবার ধীরে ধীরে মিটতে চলেছে? নরওয়ের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর পর্তুগাল কোচ হোর্হে জেসুসের মন্তব্যে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে। কয়েক দিন আগেও যেখানে পর্তুগালের কোচ স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে দলের একাদশ এবং খেলোয়াড়দের নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র তাঁর, সেখানেই এবার রোনাল্ডোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিলেন না তিনি। বরং পর্তুগিজ মহাতারকার সামনে জাতীয় দলের দরজা খোলা রয়েছে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন জেসুস।

নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ জয়ের পর পর্তুগিজ টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো প্রসঙ্গে জেসুসের বক্তব্যই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে কি আবার পর্তুগাল জাতীয় দলে ডাকা হতে পারে, তখন সরাসরি ‘না’ বলেননি কোচ। বরং তাঁর বক্তব্য, “আমি জানি না কী হবে। তবে আমার দিক থেকে সব কিছুই খোলা।” এই একটি মন্তব্যই নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। কারণ এর আগে রোনাল্ডোকে নিয়ে জেসুসের অবস্থান ছিল অনেক বেশি কঠোর।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রোনাল্ডোর জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তাঁর নিজের হাতে বলে জানিয়েছেন পর্তুগাল কোচ। জেসুসের বক্তব্য অনুযায়ী, “ক্রিসকেই ঠিক করতে হবে, ও কী চায়। সিদ্ধান্তটা তারই। যদি এখনও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চায়, তা হলে অবশ্যই সুযোগ আছে। তবে এই সিদ্ধান্ত আমার হাতে নেই।” ফলে রোনাল্ডো যদি এখনও পর্তুগালের হয়ে খেলতে চান, তাহলে তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি জেসুস এবং রোনাল্ডোর মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব কমছে? কয়েক দিন আগেও যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পর্তুগাল ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল, সেটিই কি এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে? জেসুসের সাম্প্রতিক বক্তব্য অন্তত সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছে না।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল রোনাল্ডোর ম্যাচে খেলার সময় এবং তাঁকে ঘিরে কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে। ওয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচে রোনাল্ডোকে ৬৭ মিনিটে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর নরওয়ের বিরুদ্ধে তাঁকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়। শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালীন তাঁকে গা গরম করানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। এই ঘটনা নিয়েই তৈরি হয় অসন্তোষ।

রোনাল্ডোর মতো একজন অভিজ্ঞ এবং দলের অন্যতম প্রধান তারকাকে কেন মাঠে নামানো হল না, তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে যখন তাঁকে গা গরম করতে দেখা যায়, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন শেষ মুহূর্তে হয়তো মাঠে নামবেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে রোনাল্ডোর হতাশা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল।

এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়েন রোনাল্ডো। এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, জাতীয় দলের কোচের সাংবাদিক সম্মেলন এবং পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েন্সার সঙ্গে আলোচনার পরেই শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, জাতীয় দলের হয়ে তিনি সবসময় নিজের সেরাটা দিয়েছেন এবং কেন দল ছাড়লেন, তা খুব দ্রুত দেশের মানুষের সামনে জানাবেন।

রোনাল্ডোর এই সিদ্ধান্তের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, পর্তুগালের হয়ে এত বছর ধরে অসংখ্য সাফল্য এনে দেওয়া একজন ফুটবলারের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হল? ইউরো কাপ থেকে নেশনস লিগ—পর্তুগালের সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসে রোনাল্ডোর অবদান যে বিশাল, তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।

পর্তুগাল ফুটবলের অন্যতম বড় মুখ রোনাল্ডো। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দীর্ঘ যাত্রা শুধু গোল বা ব্যক্তিগত রেকর্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের জার্সিতে তাঁর নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা এবং বড় ম্যাচে প্রভাব পর্তুগালকে বহুবার উপকৃত করেছে। সেই কারণেই জাতীয় দল থেকে তাঁকে দূরে রাখা বা তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মানেই পর্তুগিজ ফুটবলে বড় আলোচনা তৈরি হওয়া।

এর মধ্যেই জেসুসের আগের মন্তব্যও নতুন করে সামনে আসে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, “আমি কোচ, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও আমার।” তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও ফুটবলারকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ তাঁর অধিকার। প্রয়োজন অনুযায়ী কোনও ফুটবলারকে ৩০ মিনিট খেলানো হতে পারে, আবার প্রয়োজন না হলে এক মিনিটও মাঠে নামানো হবে না। এমনকি কোনও ফুটবলার তাঁর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

রোনাল্ডোকে গা গরম করিয়েও কেন মাঠে নামানো হয়নি, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন জেসুস। তাঁর বক্তব্য ছিল, রোনাল্ডোকে আগেই জানানো হয়েছিল যে ওই দুটি ম্যাচে তিনি খেলবেন না। পরে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে গা গরম করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এতক্ষণ গা গরম করার পরও মাঠে নামতে না পারলে রোনাল্ডোর খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক বলেও স্বীকার করেছিলেন তিনি।

তবে জেসুসের দাবি ছিল, রোনাল্ডো চাইলে তাঁর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু রোনাল্ডো আপত্তি জানালেও তাঁর পরিকল্পনা বদলাত না। এই বক্তব্যই বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। কারণ সমর্থকদের একটা অংশ মনে করেছিলেন, কোচ এবং দলের সবচেয়ে বড় তারকার মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব তৈরি হয়েছে।

রোনাল্ডোর জাতীয় দল ছাড়ার ঘটনায় তাঁর বোন এলমাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রোনাল্ডো সমর্থকদের একাংশও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, পর্তুগালের হয়ে এত সাফল্য এনে দেওয়া রোনাল্ডোকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। যদিও জাতীয় দলের কোচ হিসেবে জেসুস নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।

কিন্তু নরওয়ের বিরুদ্ধে জয়ের পর জেসুসের বক্তব্যে যেন সেই কঠোর অবস্থানের কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেল। এবার তিনি বলছেন, রোনাল্ডোর সঙ্গে বিষয়টি আসলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে এবং সেটি সহজেই মিটিয়ে ফেলা সম্ভব। এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

জেসুসের এই বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—তিনি রোনাল্ডোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা একেবারেই বন্ধ করেননি। বরং বলেছেন, রোনাল্ডো যদি এখনও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে চান, তাহলে তাঁর সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতের দল ঘোষণার আগে রোনাল্ডোর জন্য দরজা খোলা রেখেছেন পর্তুগাল কোচ।

news image
আরও খবর

তবে একইসঙ্গে সিদ্ধান্তের দায়িত্ব রোনাল্ডোর উপর দিয়ে দিয়েছেন জেসুস। এর অর্থ, রোনাল্ডো নিজে যদি মনে করেন যে তিনি এখনও পর্তুগালের হয়ে খেলতে চান, তাহলে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে ফের দেখা যেতে পারে। এখন নজর তাই রোনাল্ডোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

রোনাল্ডো কি আবার পর্তুগালের জার্সি পরবেন? নাকি সাম্প্রতিক ঘটনার পর তিনি জাতীয় দল থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেবেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনই পাওয়া যাচ্ছে না। তবে জেসুসের মন্তব্যের পর অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—পর্তুগাল জাতীয় দলের দরজা রোনাল্ডোর জন্য পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

পর্তুগালের ফুটবলপ্রেমীদের কাছেও এটি স্বস্তির খবর হতে পারে। কারণ রোনাল্ডোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু একটি ম্যাচ বা একটি দল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রোনাল্ডো পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাই তাঁর অবসর বা জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো সিদ্ধান্তও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলে রোনাল্ডোর অভিজ্ঞতা এখনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বড় ম্যাচের চাপ সামলানো, ড্রেসিংরুমে অভিজ্ঞতা এবং গোল করার ক্ষমতা—সব মিলিয়ে তিনি এখনও পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তবে একইসঙ্গে বয়স, ম্যাচের সময় এবং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়টিও কোচকে বিবেচনা করতে হয়।

জেসুসের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই একদিকে রোনাল্ডোর জন্য দরজা খোলা রাখছে, অন্যদিকে কোচের কর্তৃত্বও বজায় রাখছে। তিনি সরাসরি বলেননি যে রোনাল্ডো পরের ম্যাচেই দলে ফিরবেন। বরং বলেছেন, রোনাল্ডো কী চান, সেটিই মূল বিষয়। ফলে বিষয়টি এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে দুই পক্ষের পরবর্তী কথাবার্তা এবং রোনাল্ডোর সিদ্ধান্তের উপর।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—রোনাল্ডো কি জেসুসের সঙ্গে বসে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে চাইবেন? যদি দুই পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়, তাহলে হয়তো খুব দ্রুতই তাঁকে আবার পর্তুগালের জার্সিতে দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি রোনাল্ডো মনে করেন যে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি তাঁর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এনে দিয়েছে, তাহলে পরিস্থিতি অন্য দিকেও যেতে পারে।

তবে জেসুসের বক্তব্যে একটি ইতিবাচক বার্তা অবশ্যই রয়েছে। তিনি আর রোনাল্ডোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করছেন না। বরং বলেছেন, সব কিছু খোলা রয়েছে। এই পরিবর্তিত সুরই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয়।

নরওয়ের বিরুদ্ধে জয় পর্তুগালকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট দিয়েছে, তেমনই ম্যাচের পর জেসুসের মন্তব্য জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু করেছে। কয়েক দিন আগের উত্তেজনার পর এবার যেন সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে প্রশ্ন একটাই—রোনাল্ডোর জন্য কি সত্যিই ফের খুলে যাচ্ছে পর্তুগাল জাতীয় দলের দরজা? জেসুসের বক্তব্য বলছে, দরজা এখনও খোলা। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে রোনাল্ডো আবার প্রবেশ করবেন কি না, শেষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্বয়ং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকেই।

পর্তুগাল সমর্থকদের চোখ এখন তাই পরবর্তী দল ঘোষণার দিকে। রোনাল্ডোর নাম সেই তালিকায় থাকবে কি না, সেটাই হতে পারে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় ফুটবল-জল্পনা। আর যদি সত্যিই জেসুস ও রোনাল্ডোর মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলে যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আরও একবার পর্তুগালের জার্সিতে CR7-কে দেখার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আপাতত বলা যায়, রোনাল্ডো-জেসুস দ্বন্দ্বের দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং নরওয়ের ম্যাচের পর কোচের মন্তব্যে সেই দরজা আবার খানিকটা খুলেছে। এখন শুধু অপেক্ষা—রোনাল্ডো সেই দরজায় ফিরে আসবেন, নাকি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্য কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন?

Preview image