নতুন প্রজন্মকে ডাকঘরের প্রতি আকৃষ্ট করতে ‘এন জেন পোস্ট অফিস’-এর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ কেন্দ্রের। পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের আধুনিক ডাকঘরের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানালেন চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার।
কলকাতা: সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে পরিষেবা, বদলাচ্ছে মানুষের চাহিদাও। ডিজিটাল যোগাযোগ, অনলাইন কেনাকাটা এবং দ্রুত পরিষেবা পাওয়ার অভ্যাসের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে ডাকঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই জোর দেওয়া হচ্ছে ‘এন জেন পোস্ট অফিস’ বা নেক্সট জেনারেশন পোস্ট অফিস তৈরিতে। পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের আধুনিক ডাকঘরের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের পাঁচটি জায়গায় এই ধরনের পোস্ট অফিস চালু হয়েছে। এবার আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন ডাকঘর খোলার উদ্যোগ নিচ্ছে ডাক বিভাগ।
ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার জানিয়েছেন, রাজ্যে এন জেন পোস্ট অফিসের সংখ্যা আরও বাড়াতে চায় ডাক বিভাগ। সেই উদ্দেশ্যে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, ডাক বিভাগের দক্ষিণবঙ্গ সার্কেলের পোস্টমাস্টার জেনারেল ঋজু গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের পোস্ট অফিস খোলার বিষয়ে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। বিশ্বভারতীর সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
নতুন প্রজন্মের কাছে ডাকঘরকে আরও পরিচিত ও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই পাঁচটি জায়গায় এন জেন পোস্ট অফিস চালু করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে আইআইটি খড়্গপুর, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং হলদিয়ার একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস।
এই পাঁচটি জায়গার নির্বাচন থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ডাক বিভাগের যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক এবং অন্যান্য কর্মীদের নিয়মিত যাতায়াত থাকে। সেখানে আধুনিক পরিষেবাসম্পন্ন ডাকঘর চালু হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে ডাক বিভাগের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হতে পারে।
বিশেষ করে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত পড়ুয়াদের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর। অনলাইন পরিষেবা, ডিজিটাল লেনদেন, ই-কমার্স এবং দ্রুত যোগাযোগের ব্যবস্থা তাঁদের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত ডাকঘরের পাশাপাশি আরও আধুনিক পরিবেশে পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ ডাক বিভাগের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এন জেন পোস্ট অফিসের উদ্দেশ্য কেবল নতুন প্রজন্মের কাছে ডাকঘরকে জনপ্রিয় করে তোলা নয়। সাধারণ ডাক পরিষেবার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা ও সুবিধা এক জায়গায় নিয়ে আসার মাধ্যমেও মানুষের কাছে ডাক বিভাগের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এন জেন বা নেক্সট জেনারেশন পোস্ট অফিস হল এমন এক ধরনের আধুনিক ডাকঘর, যেখানে প্রচলিত ডাক পরিষেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য অপেক্ষাকৃত আকর্ষণীয় পরিবেশ ও অতিরিক্ত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা রাখা হয়। সাধারণ ডাকঘরে চিঠিপত্র পাঠানো, পার্সেল বুকিং এবং সেভিংস অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত পরিষেবা পাওয়া যায়। এন জেন পোস্ট অফিসেও এই ধরনের পরিষেবা থাকে। পাশাপাশি গ্রাহকদের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর দিয়ে কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা রাখা হয়।
এই ধরনের ডাকঘরে ওয়াই-ফাই, টেলিভিশন, বসার জায়গা, আড্ডা দেওয়ার উপযোগী পরিসর, চা বা কফির ব্যবস্থা এবং ম্যাগাজিনের মতো সুবিধা থাকতে পারে। অর্থাৎ, ডাকঘরকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কাজ সেরে বেরিয়ে যাওয়ার জায়গা হিসেবে না রেখে আরও আরামদায়ক ও ব্যবহারবান্ধব পরিসরে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে কোনও পরিষেবা কতটা সহজলভ্য, তার পরিবেশ কতটা স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং সেখানে কী কী সুবিধা রয়েছে, সেই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এন জেন পোস্ট অফিসের ধারণা সামনে এসেছে।
প্রচলিত ডাকঘরের সঙ্গে আধুনিক পরিষেবা ও পরিবেশের এই সমন্বয় ডাক বিভাগের ভাবমূর্তিতেও পরিবর্তন আনতে পারে। ডাকঘর যে শুধুমাত্র চিঠি পাঠানো বা সঞ্চয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়, সেই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে আরও বিস্তৃত পরিষেবার কেন্দ্র হিসেবে তাকে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
ডিজিটাল যুগে যোগাযোগের পদ্ধতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। একসময় ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে চিঠির গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি। এখন মোবাইল ফোন, ই-মেল এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে দ্রুত যোগাযোগ করা অনেক সহজ হয়েছে। ফলে সাধারণ চিঠিপত্রের ব্যবহার আগের তুলনায় কমে যাওয়ার বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ডাক বিভাগের গুরুত্ব শেষ হয়ে গিয়েছে। পার্সেল পরিবহণ, ই-কমার্সের পণ্য পৌঁছে দেওয়া, সঞ্চয়-সংক্রান্ত পরিষেবা এবং অন্যান্য ডাক পরিষেবার ক্ষেত্রে এখনও ডাক বিভাগের ভূমিকা রয়েছে। সময়ের সঙ্গে পরিষেবার ধরন ও গ্রাহকদের চাহিদা বদলেছে। তাই সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিষেবার পরিসর বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এই পরিবর্তনেরই একটি অংশ। তরুণদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ডাক বিভাগের পরিষেবাকে যুক্ত করতে পারলে ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এই পরিষেবাগুলি সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নত গ্রাহক-পরিবেশের মাধ্যমে ডাকঘরের প্রতি আগ্রহও বাড়তে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে এই উদ্যোগের আওতায় আনার পিছনেও রয়েছে বাস্তবসম্মত কারণ। বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে বহু পড়ুয়া এবং কর্মী থাকেন। তাঁদের অনেকেরই পার্সেল পাঠানো, নথিপত্র আদানপ্রদান কিংবা সঞ্চয়-সংক্রান্ত পরিষেবার প্রয়োজন হতে পারে। ক্যাম্পাসে বা তার কাছাকাছি আধুনিক ডাকঘর থাকলে এই পরিষেবাগুলি পাওয়া আরও সুবিধাজনক হতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে এন জেন পোস্ট অফিসের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চিফ পোস্টমাস্টার জেনারেল অশোক কুমার জানিয়েছেন, আরও বেশি সংখ্যক এই ধরনের ডাকঘর চালু করতে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
দক্ষিণবঙ্গ সার্কেলের পোস্টমাস্টার জেনারেল ঋজু গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বভারতীর সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আরও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আধুনিক ডাকঘর চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কবে ডাকঘর চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই ধরনের পরিষেবা চালু হলে পড়ুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরাও উপকৃত হতে পারেন। ক্যাম্পাসে ডাকঘর থাকলে তাঁদের দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে ডাক বিভাগের পরিষেবা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। আলাদা করে দূরের কোনও ডাকঘরে যাওয়ার প্রয়োজনও কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।
তবে নতুন ডাকঘর চালুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা, পরিকাঠামো এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ের গুরুত্ব থাকবে। ফলে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকতে পারে।
এন জেন পোস্ট অফিসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে প্রচলিত ডাক পরিষেবার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আরও কিছু সুবিধা রাখার চেষ্টা করা হয়। পার্সেল বুকিং এবং সেভিংস অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত পরিষেবা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পণ্য পরিবহণ ও ডেলিভারি পরিষেবার গুরুত্বও বেড়েছে। ব্যক্তিগত ব্যবহার থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক প্রয়োজন—বিভিন্ন কারণে মানুষকে পার্সেল পাঠাতে বা গ্রহণ করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে ডাক বিভাগের পার্সেল পরিষেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, ডাকঘরের সঞ্চয়-সংক্রান্ত পরিষেবাও বহু গ্রাহকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত পরিষেবাগুলিকে আধুনিক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ওয়াই-ফাই, বসার জায়গা, টেলিভিশন, ম্যাগাজিন এবং চা-কফির মতো সুবিধা ডাকঘরে আসা মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে পারে। এই পরিকাঠামোর মাধ্যমে ডাকঘরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের কাছে পরিষেবা গ্রহণের পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই ধরনের উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে সব এন জেন পোস্ট অফিসে প্রতিটি সুবিধা একইভাবে থাকবে কি না, তা নির্দিষ্ট কেন্দ্রের পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে পারে।
এন জেন পোস্ট অফিস তৈরির উদ্যোগের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলে বিভিন্ন ধরনের পরিষেবার পরিসর বাড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। ডাক বিভাগের কর্তারা জানিয়েছেন, ই-কমার্স ডেলিভারিসহ বিভিন্ন পরিষেবার বহর বাড়ানোর মাধ্যমে আয়ের পথ সুগম হচ্ছে।
ই-কমার্সের প্রসারের ফলে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচা এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থায় পণ্য বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। ডাক বিভাগের বিস্তৃত পরিষেবা পরিকাঠামো এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
শুধু বড় শহর নয়, বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ডাক পরিষেবার সুযোগ রয়েছে। ফলে ই-কমার্স ডেলিভারি এবং পার্সেল পরিষেবার উন্নয়ন ডাক বিভাগের জন্য আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবার মান বজায় রাখা, সময়মতো পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং পরিষেবার পরিসর বাড়ানোর মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ডাকঘর তৈরির উদ্যোগ এবং ই-কমার্স পরিষেবার সম্প্রসারণ—দুটিই ডাক বিভাগকে সময়োপযোগী করে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ ডাক সার্কেলের আয়ের পরিসংখ্যানও এদিন সামনে এসেছে। ডাক বিভাগের কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছ'মাসে পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। গত অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় আয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৩০ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্ট সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। যদিও আয়ের এই বৃদ্ধির পিছনে কোন পরিষেবা কতটা অবদান রেখেছে, তার পৃথক পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি, তবুও ই-কমার্স ডেলিভারিসহ বিভিন্ন পরিষেবার পরিসর বাড়ানোর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ডাক বিভাগের কর্তারা।
ডাক বিভাগের পরিষেবার বহর বাড়ানো এবং নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা ভবিষ্যতেও আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আয় বৃদ্ধির এই ধারা বজায় রাখতে হলে পরিষেবার মান, গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং পরিবর্তিত বাজারের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
এন জেন পোস্ট অফিসের মতো উদ্যোগ এই বৃহত্তর পরিবর্তনের একটি দৃশ্যমান দিক। আধুনিক পরিষেবা, উন্নত পরিকাঠামো এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ডাক বিভাগের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে এন জেন পোস্ট অফিসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ডাক বিভাগের পরিষেবা ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই ধরনের ডাকঘর চালু হলে পড়ুয়া ও শিক্ষাকর্মীদের কাছে পরিষেবাগুলি আরও সহজলভ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আধুনিক পরিবেশের পাশাপাশি প্রচলিত ডাক পরিষেবা, পার্সেল বুকিং এবং সঞ্চয়-সংক্রান্ত সুবিধা এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ গ্রাহকদের কাছে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। ভবিষ্যতে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবার পরিসর বাড়ানো গেলে ডাকঘরের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।
তবে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে কতগুলি নতুন ডাকঘর চালু হচ্ছে, সেগুলিতে কী ধরনের পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কতটা সেগুলি ব্যবহার করছেন, তার উপর। শুধু আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; পরিষেবার কার্যকারিতা ও গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, নতুন প্রজন্মকে ডাকঘরমুখী করতে এন জেন পোস্ট অফিস তৈরির উদ্যোগে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই পাঁচটি জায়গায় এই ধরনের ডাকঘর চালু হয়েছে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলায় ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স ডেলিভারিসহ বিভিন্ন পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং আয়ের বৃদ্ধি ডাক বিভাগের কাজের পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন নজর, পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ডাকঘরগুলি কবে চালু হয় এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এই আধুনিক পরিষেবা কতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।